30/05/2024
বাড়ির কাজ শুরু করবেন?
জেনে নিনঃ
১। মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তায়ালার রহমত কামনা করা।
২। বাবা, মা বেঁচে থাকলে তাদের অনুমতি ও দোয়া নেওয়া। পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের সথে মতামত শেয়ার করা।
৩। জমির যাবতীয় দলিলপত্র ও অন্যান্য ডকুমেন্টস গুলো হালনাগাদ করা।
৪। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ওয়ারিশ গণের প্রাপ্য জমা ভাগের অংশের মূল্য বা জমি প্রদান করে বাটোয়ারা দলিল করে নেওয়া।
৫। হাউজিং এর জমি না হলে, এবং পৈত্রিক জমি হলে, প্রতিবেশীদের সাথে আলোচনা করে রাস্তার সীমা, দিক-পাশ ও প্রশস্ততা নির্ধারণ করে নেওয়া।
আর কেনা জমি হলে, দলিলে রাস্তা ও চৌহদ্দি দিক-পাশ সহ উল্লেখ থাকতে হবে।
৬। দক্ষ সার্ভে ফার্ম বা টিম দিয়ে জমির ডিজিটাল সার্ভে করে এর বাহুগুলোর দৈর্ঘ্য ও কৌণিক দূরত্ব বের করে জমির সঠিক পরিমাপ ও শেইপ জেনে নিতে হবে।
এবং ঐ সকল ডাটা ও ডকুমেন্টস বাড়ি তৈরির ডিজাইনের জন্য খুবই জরুরী। তাই সকল ডাটা ও ডকুমেন্টস গুলো যত্নে সংরক্ষণ করতে হবে।
৭। সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও সেই বিনিয়োগের উৎস + উৎস ব্যায় এবং উক্ত বাড়ির আবশ্যকতা ও তার তুলনায় ব্যায়ের আনুপাতিক সংখ্যার তুলনা করতে হবে।
সহজ করে বলা যায়, বাড়ি যদি সখের হয়, তবে সেই সখের ব্যায় ও প্রয়োজনীয়তার তুলনা করে নিতে হবে।
আর বাড়ি যদি ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে হয়, এক্ষেত্রে অবশ্য ই সেখানকার দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত স্থানীয় সরকারের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যেমন, ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা অথবা সিটি করপোরেশন থেকে বাড়ি ভাড়ার ট্রেড লাইসেন্স করিয়ে নিতে হবে।
এর পর বাড়ি তৈরির জন্য বাজেট এবং এর বিপরীতে আয়ের তুলনামূলক গানিতিক হিসাব অবশ্যই করে নিতে হবে।
৮। দক্ষ ও অভিজ্ঞ ইন্জিনিয়ারিং ফার্ম এর মাধ্যমে ভূমির আয়তন অনুযায়ী হালনাগাদ বিল্ডিং কোড মেনে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ও প্রয়োজন অনুযায়ী গভীরতা পর্যন্ত সয়েল টেষ্ট ও সঠিক রিপোর্ট করাতে হবে।
এক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক নিয়মে সয়েলের স্যাম্পল সংগ্রহ ও এস. পি. টি. কাউন্ট করতে হবে। সয়েল টেষ্ট হচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি টেকনিক্যাল এনালাইসিস ও ডায়াগনোসিস প্রক্রিয়া।
অসুস্থ্য মানুষের রোগ নির্ণয় করতে যেমম সঠিক পদ্ধতিতে ব্লাড বা ইউরিন এর স্যাম্পল প্যারামিটার মেনে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হয়, ঠিক একইভাবে ভূমির লোড সহনীয়তা ও বিল্ডিং এর ডিজাইন ও তার জন্য উপযোগী উপকরণের ও তাদের অনুপাত ও পরিমাণ নির্ধারণের জন্য উক্ত সয়েল টেষ্ট এর রিপোর্ট এর উপর নির্ভর করতে হয়। তা-ই, জমির সয়েল টেষ্ট এর রিপোর্ট করাতে খুবই গুরুত্ব দিতে হবে ইনশা আল্লাহ।
অত্যান্ত দুঃখের বিষয়, আমাদের দেশে বাড়ি তৈরির ক্ষেত্রে এ-ই প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টাকে এখনো অসচেতন ও তাচ্ছিল্য ভরে দেখা হয়।
ফলে, "গোড়ায় গলদ" প্রবাদটি এখানেই জীবন পায় ও উদাহরণ হয়।
ঘটে যায় শাহরিয়ার অথবা রানা প্লাজার মতো ঘটনা।
দোষ দেওয়া হয়, ইন্জিনিয়ারিং ফার্ম ও ঠিকাদারকে 😭
🌹🌷💝🌷🌹
আসুন সয়েল টেষ্ট এর রিপোর্টিং এর জন্য পর্যাপ্ত বাজেট রাখি ও সচেতন হয়ে বাড়ি তৈরির কাজ করি।
৯। এ পর্যায়ে আপনার বাজেট ও চিন্তার বা প্রত্যাশার সমন্বয় করতে পারবেন, অভিজ্ঞ, আন্তরিক এবং পরিপূর্ণ একটি ইন্জিনিয়ারিং ফার্ম বা পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান এর সাথে যাবতীয় শর্তাবলী উল্লেখ করে বাড়ির ডিজাইন করিয়ে নিবেন এবং উক্ত ডিজাইন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে অনুমোদন করিয়ে নিবেন। এবং এ-ই অনুমোদন বা প্ল্যান পাশ এর কপি আপনার বাড়ির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় দলিল / ডকুমেন্ট। তা-ই এর সংরক্ষণ করতে হবে আজীবন। বাড়ির প্রয়োজনে এর পরিবর্তন / পরিবর্ধন / মেরামত/ যথাযথ কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন বা ফায়ার ফাইটিং বা অন্য যেকোনো প্রকারের প্রাকৃতিক দূর্ঘটনা বা ভূমিকম্প জনিত ক্যাজুয়ালটির কারণে ইমার্জেন্সি মোমেন্টে লাগতে পারে। তাই এটি সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে সংরক্ষণ করতে হবে।
এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, ডিজাইনার যাতে আপনার বাজেটের মধ্যে আপনার প্রত্যাশার প্রতিফলিন ঘটাতে পারেন।
আরো উল্লেখ্য যে, উক্ত ডিজাইনার যেনো আপনার বাড়ি নির্মান কাজ চলাকালীন সময়ে পরিদর্শন বা সুপারভিশন করেন এবং সুপারভিশন রেজিস্টার / লেজার খাতায় তারিখ সহ স্বাক্ষর করেন।
১০। ডিজাইনারের সাথে বাড়ির ডিজাইন তৈরির কাজের চুক্তিপত্র সম্পাদন করার সময় ক্সোপ বা কাজের পরিধি অর্থাৎ মোট কতোগুলো কাজ বা বিষয়ের ডিজাইন করবেন সে বিষয় উল্লেখ করে চুক্তিপত্র সম্পাদন করতে হবে।
১১। ডিজাইনের কাজের শুরুতে ইন্জিনিয়ারিং টিম ও তার এসোসিয়েট সহ সরেজমিনে পরিদর্শন করানো উচিৎ। এতে করে আপনার বিনিয়োগ বা বাজেটের মধ্যে সেখানকার প্রাকৃতিক উপকরণ সমূহের ( আলো, বাতাস, পানি, ছায়া ও তাপের ) সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবেন। এবং বাড়িতে সম্ভাব্য বা ভবিষ্যৎ ব্যবহারকারী / বসবাসকারী লোকজনের সাথে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও প্রত্যাশিত সুবিধাদি নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
১২। বড়ো প্রকল্প হলে, একটি ইন্জিনিয়ারিং ফার্মের মাধ্যমে ডিজাইন করিয়ে নেওয়ার পর আরো কোনো একটি ভালো ফার্মের মাধ্যমে ডিজাইন ভেটিং এ দেওয়া উচিৎ। এবং উভয় ফার্মের যৌথ মতামতের ভিত্তিতে সমন্বয় করে মেটেরিয়ালস্ এর অনুপাত নির্ধারিত করে কাজ করা উচিৎ। এক্ষেত্রে অবশ্য ক্লায়েন্টের সাশ্রয় হয় ও কনফিডেন্স বাড়ে।
১৩। ডিজাইন এর কাজ চলাকালীন সময়ে একই সাথে প্রশাসনের অনুমতি বা নো অবজেকশান সার্টিফিকেট, ফায়ারের অনুমোদন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র এবং সিভিল অ্যাভিয়েশন এর ছাড়পত্রের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
১৪। প্ল্যান পাশ এর দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পরামর্শ ও হালনাগাদ বিল্ডিং কোড অনুযায়ী বাড়ির ডিজাইনে প্রয়োজনীয় সংখ্যাক সিড়ি, লিফট ও ফায়ার এক্সিট সিঁড়ি রাখতে হবে।
১৫। ই. জি. এল, কাট অফ লেভেল ও পি. এল. নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিগত বছরগুলোর বণ্যা ও প্রাসঙ্গিক বা আশপাশের এলাকার ভূমির উচ্চতা কনসিডারে নিয়ে নির্ধারণ করতে হবে।
১৬। সম্ভব হলে, ডিজাইনের মডিউল তৈরি করে ই-ট্যাবস্ বা এ ধরনের লেটেস্ট কোনো সফটওয়্যার এর মাধ্যমে লোড এস্টিমেট ও ম্যাটেরিয়েলস্ এর অনুপাত হিসেব করতে হবে। এতে প্রজেক্ট কস্ট-ইফেক্টিভ হবে।
১৭। ডিজাইন করার পূর্বেই ডিজাইনারকে বাড়ির ব্যবহার, সম্ভাব্য ডেড লোড, ভাইব্রেশন, ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি এবং উক্ত যন্ত্রপাতি থেকে নির্গত হিট বা তাপ সম্পর্কে সাম্যক ধারণা দিতে হবে। এতে ডিজাইনার আপনার বাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় মানসম্পন্ন ডিজাইন করতে স্বাচ্ছন্দ্য ও আত্নবিশ্বাসী থাকবেন ইনশাআল্লাহ।
১৮। স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এর সাথে সাথে অন্যান্য ডিজাইন গুলোর বিষয়ে ও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
এবং এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় আর্কিটেক্ট, ইলেকট্রিক্যাল, ও প্লাম্বিং এর ডিজাইনারদের যদি স্ট্রাকচারাল ডিজাইন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা থাকে,, তবেই আপনি আপনার কাজের বিষয়ে আস্থাশীল ও আত্নবিশ্বাসী থাকবেন ইনশা আল্লাহ।
১৯। ডিজাইনের কাজ এভাবে দেওয়া যেতে পারে, যেখানে সকল ডিজাইনার গণ পরস্পরকে তথ্য ও সহোযোগিতায় বিনিময় করে একটি সঠিক, নির্ভুল, টেকসই, সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব ও সুন্দর বাড়ি তৈরি করা যায়।
২০। ডিজাইন শেষে থ্রি ডি প্ল্যান করিয়ে উক্ত থ্রি ডি প্ল্যান এর উপর কাজ করলে বাড়ির বাস্তব ভিউ কেমন হবে এবং সেক্ষেত্রে কোনোকিছু পরিবর্তন বা সংযোজন করার বিষয়ে ইন্জিনিয়ার টিম ও পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে একাধিকবার আলোচনা করে নেওয়া ভালো।
২১। এরপর, যদি সয়েল টেষ্টের রিপোর্টে পাইল সাজেস্ট করে থাকে সেক্ষেত্রে পাইলিং এর ডিজাইন নিয়ে ডিজাইনার ফার্ম ও পাইলিং এর কাজের ঠিকাদার সহ সমন্বিত মিটিং করে কাজের সিডিউল করে নিতে হবে।
আর. সি. সি. পাইলিং এর ক্ষেত্রে করণীয়,,,,
২২। পাইলিং এর কাজের শুরুতে সম্ভব হলে ডিজিটাল লে-আউট দেওয়া উচিৎ। অথবা দক্ষ ইন্জিনিয়ার ও ঠিকাদার এর উপস্থিতিতে সঠিকভাবে লে-আউট দিয়ে ডিজাইন ও জায়গার বুঝ এবং নিয়মতান্ত্রিক সেট-ব্যাক বুঝ করে নিতে হবে। জায়গার সমস্যা থাকলে তা ডিজাইন কারেকশন করে ফাইনাল করে নিতে হবে।
২৩। পাইলিং এর কাজের ঠিকাদার বা লোকজন দিয়ে কথামতো কাজ করিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব বা খুবই কষ্টকর। তাই এ-ই কাজের ঠিকাদারের সাথে সকল বিষয়ে সাক্ষী সহ লিখিত ডিড করে নিতেই হবে। তা না হলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজের শেষে বা মাঝখানে তারা ঝামেলা করবেই।
এক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয়, বাড়ির সম্পূর্ণ ঠিকাদারির কাজ একটি ফার্মের মাধ্যমে করিয়ে নেওয়া। আলোচনা সাপেক্ষে সয়েল টেষ্ট থেকে ডিজাইন সহ কমপ্লিট হ্যান্ডওভার করে দেওয়ার মতো উপযুক্ত ফার্মকে দ্বায়িত্ব দেওয়া উচিৎ হবে।
২৪। পাইলিং শেষে উক্ত পাইলিং এর ঠিকাদারকে শর্ত দিতে হবে, অবশ্য ই বেইজের কাজের সময় লে-আউট অনুযায়ী সঠিক পয়েন্টে পাইলিং এর অবস্থান বুঝিয়ে দিতে। তা না হলে, স্ট্রাকচারাল ডিজাইন অনুযায়ী কাজ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে এবং আপনার বাড়ির কাজটি ফেইল / ফল্ট হতে পারে।
২৫। বাড়ির কাজের সবগুলো অংশ ই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পাইলিং এর কাজ হচ্ছে মূল ভিত্তি এবং এটি ভূল হলে সংশোধন করা প্রায় অসম্ভব। এক্ষেত্রে আপনার উচিৎ হবে পাইলিং এর কাজের উপর অভিজ্ঞতা আছে এমন একজন সৎ ও বিশ্বস্ত সাইট ইন্জিনিয়ার নিয়োগ দিয়ে, তার তত্ত্বাবধানে পাইলিং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়মানুযায়ী কাজ করিয়ে নেওয়া।
২৬। এ সময় আবহাওয়া বা বৃষ্টি -পাত এর সম্ভাবনা খেয়াল রেখে কাজ শুরু করতে হবে। কারণ বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ম্যাটেরিয়ালস প্রাপ্তি কষ্টকর হয় এবং অপচয় হয়। কোয়ালিটিতেও সমস্যা দেখা দেয়।
২৭। পাইল চলাকালে বিভিন্ন কারণে ভূমির উচ্চতা ঠিক থাকে না। তাই ই. জি. এল., পি. এল. ও কাট অফ লেভেল এগুলো কাছাকাছি স্থায়ী কোনো স্থিতিশীল স্থাপনায় রেফারেন্স মার্ক করে রেখে দিতে হবে। যাতে পরবর্তীতে প্রয়োজনে ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
২৮। পাইলের ডায়া ও সে অনুযায়ী ব্যবহৃত ব্লকের ডায়া এবং ট্রিমিং পাইপের ডায়ার অনুপাত দক্ষতার সাথে হিসাব করে নির্ণয় করতে হবে। এ হিসাব ভূল হলে ব্লক ভেঙে যাবে, অথবা ক্লিয়ার কভার সঠিকভাবে থাকবে না। এতে করে পাইলের রডে দ্রুত জং আসবে, এবং একটা সময় তা, বেস হয়ে কলামে ও অন্যান্য অংশে চলে যাবে। ফলে আপনার স্থাপনা টেকসই হবে না।
২৯। ভূমির বা মাটির ধরনের উপর নির্ভর করে কেচিং পাইপের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করতে হবে।
৩০। হাউজ এর সইজ ও গভীরতা এবং চেম্বার সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ। এর উপর আপনার বোরিং এর ওয়াশের কোয়ালিটি অথবা কাজের কোয়ালিটি নির্ভর করবে।
৩১। কমপক্ষে ১ সাপ্তাহ বা ৭ দিন আগে রাউন্ড বা বৃত্তাকার ব্লক বানিয়ে রাখতে হবে। এবং সে ব্লকগুলো ভালোভাবে কিউরিং করতে হবে।
৩২। রড কোনো অবস্থাতেই কাঁদা, পানি বা মাটির সংস্পর্শে রাখা যাবে না।
৩৩। বোরিং এর পর কেয়ার ফুলি ওয়াশ করিয়ে কংক্রিটের মিশ্রণের অনুপাত ঠিক রেখে দ্রুত ঢালাই শেষ করাতে হবে। পাইল এর খাঁচার সাথে মার্কিং এর জন্য রড ঝালাই করে দেওয়া ভালো।
৩৪। প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সিমেন্ট স্টকে রাখা উচিৎ না। এতে সিমেন্টের কোয়ালিটি ঠিক থাকে না। সিমেন্ট রাখার জন্য আদ্রতাশূন্য রুমের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩৫। কাট অফ লেভেল এর উপরের রড পিভিসি বা পিপি পেপার দিয়ে মাস্কিং করে দেওয়া উচিৎ।
রিইনফোর্সড কংক্রিট সিমেন্ট (RCC) পাইলিং প্রক্রিয়ায়, কিছু করণীয় এবং কিছু বর্জনীয় :
করণীয়:
ক. মাটির অবস্থা বোঝার জন্য সঠিকভাবে সয়েল টেষ্ট ও সাইট তদন্ত নিশ্চিত করুন।
খ. কংক্রিট এবং রড / বার সহ উচ্চ-মানের উপকরণ ব্যবহার করুন।
গ. সঠিক ডিজাইন, স্পেসিফিকেশন এবং নির্দেশিকা অনুসরণ করুন।
ঘ. ইনস্টলেশনের সময় পাইলগুলির যথাযথ পয়েন্ট এবং উল্লম্বতা নিশ্চিত করুন।
ঙ. গুণগতমান নিশ্চিত করতে নিয়মিত কংক্রিট মিশ্রণ পরিদর্শন এবং পরীক্ষা করুন।
চ. পাইলসের শক্তি এবং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য পর্যাপ্ত রেস্ট প্রদান করুন।
ছ. সংলগ্ন কাঠামো বা ইউটিলিটিগুলির ক্ষতি রোধ করতে ড্রাইভিং প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করুন।
জ. পাইলিং প্রক্রিয়ায় জড়িত কর্মীদের জন্য নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসরণ করুন।
বর্জনীয়:
ক. পাইল ডিজাইনের আগে মাটি পরীক্ষা এবং বিশ্লেষণকে অবহেলা করবেন না।
খ. খরচ বাঁচাতে উপকরণের মানের সাথে আপস করবেন না।
গ. যথাযথ প্রকৌশল পূনরায় মূল্যায়ন ছাড়া অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুত হবেন না।
ঘ. ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া তাড়াহুড়ো করবেন না; সঠিক প্রান্তিককরণ এবং বসানো নিশ্চিত করতে সময় নিন।
ঙ. কংক্রিট ঢালা এবং নিরাময় করার সময় মান নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাগুলি এড়িয়ে যাবেন না৷
চ. পাইলিং অপারেশনের সময় কর্মীদের এবং আশেপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা উপেক্ষা করবেন না।
ছ. স্থল পরিস্থিতি বা কাঠামোগত অখণ্ডতা সম্পর্কে অনিশ্চয়তা থাকলে পাইলিংয়ের কাছে এগিয়ে যাবেন না।
জ. পাইলিং প্রক্রিয়া চলাকালীন পরিবেশগত নিয়মাবলী এবং বিবেচনা উপেক্ষা করবেন না।
বেইজ করে বিল্ডিং এর ডিজাইন করা হলে করণীয় ঃ
৩৬। বেইজের মাটি কাটার সময় পানি উঠলে, মাটির ভাঙ্গন ঠেকাতে বল্লি, বা জয়েস বা ড্রাম শিট বা শিট পাইলিং করে নিতে হবে।
প্রয়োজনে যোগাযোগ করুনঃ
# 01770-523868
# 01409999800