15/06/2026
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের দুই শিক্ষার্থী—আফিয়া মুরশিদা কুসুম ও মো. শাকিল। একই বিভাগে পড়াশোনার মাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকে বন্ধুত্ব তারপর পরিণয়। রসায়ন বিভাগের ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের (৯৮তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তাঁরা দুজনই ইউনিভার্সিটি অব হিউস্টন থেকে পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, গ্র্যাজুয়েট টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ (Graduate Teaching Assistantship) এবং প্রেসিডেন্সিয়াল আউটস্ট্যান্ডিং স্টুডেন্ট ফেলোশিপ লাভ করেছেন।
মো. শাকিল স্নাতকোত্তরে ৩.৯১ সিজিপিএ অর্জন করে বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। তাঁর মাস্টার্স গবেষণা থেকে দুটি Q1 জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া তিনি Virginia Tech, University of Missouri S&T এবং Louisiana State University থেকেও পূর্ণ অর্থায়নসহ পিএইচডির প্রস্তাব পেয়েছিলেন।
অন্যদিকে আফিয়া মুরশিদা কুসুমের তিনটি Q1 গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। স্নাতকোত্তরে তাঁর সিজিপিএ ছিল ৩.৫৫। তবে তাঁর যাত্রা সবসময় মসৃণ ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে প্রথম বর্ষে তাঁর সিজিপিএ ছিল মাত্র ২.৫৮। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। আত্মবিশ্বাস, কঠোর পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ধাপে ধাপে নিজের ফলাফল ও গবেষণার মান উন্নত করে আজ তিনি পূর্ণ অর্থায়নসহ পিএইচডির সুযোগ অর্জন করেছেন। যারা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতে প্রত্যাশিত ফলাফল করতে পারেন না, তাঁদের জন্য আফিয়ার গল্প এক অনুপ্রেরণার নাম।
তাঁদের এই অর্জন শুধু একাডেমিক উৎকর্ষতার গল্প নয়; এটি স্বপ্ন দেখার সাহস, প্রতিকূলতাকে জয় করার দৃঢ়তা এবং একে অপরের প্রতি অটুট সমর্থনের গল্প। একই বিভাগের সহপাঠী থেকে জীবনসঙ্গী, আর সেখান থেকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণ অর্থায়নে পিএইচডির সুযোগ অর্জন—তাঁদের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে নিষ্ঠা, অধ্যবসায় এবং পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে বড় স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নেয়। তাঁদের গল্প নিঃসন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
উচ্চশিক্ষার এই নতুন অধ্যায়ে শাকিল ও আফিয়া গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা আশা করেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের গল্প ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে। দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও তাঁরা বাংলাদেশের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন...