26/05/2026
বদলে যাচ্ছে কুয়াকাটা: পর্যটন শিল্পে বড় বিনিয়োগে এগিয়ে আসছে দেশীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ
লেখক-তৌফিক চৌধুরী
দৈনিক ভোর
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন নগরী কুয়াকাটা এখন দেশীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সমুদ্রকেন্দ্রিক পর্যটনের প্রসার, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পর্যটকের ক্রমবর্ধমান আগমনের ফলে এখানে আন্তর্জাতিক মানের হলিডে ভিলা,সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট,হোটেল
,মোটেল,রিসোর্ট ও বিনোদনভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে ওঠার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে পাঁচতারকা মানের হোটেল, সমন্বিত রিসোর্ট প্রকল্প, গল্ফ রিসোর্ট এবং পর্যটনভিত্তিক রিয়েল এস্টেটকে ঘিরে কুয়াকাটায় নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। বর্তমানে একাধিক দেশীয় প্রতিষ্ঠান বৃহৎ পরিসরে পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে Century Group-এর অঙ্গপ্রতিষ্ঠান Century Hotel & Resorts Co.Ltd উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠানটি কুয়াকাটার কেন্দ্রীয় জিরো পয়েন্ট এলাকায় Century Gold Coast,Kuakata . International Chain Beach Hotel & Spa” এবং Century Treasure Island,Kuakata.Hotel & Butterfly Park নামে দুটি আন্তর্জাতিক মানের পাঁচতারকা হোটেল ও রিসোর্ট প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন জিরো পয়েন্টে এসব প্রকল্পে শেয়ারভিত্তিক মালিকানার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা মধ্যম আয়ের বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
এছাড়া Century Kuakata Model Town কুয়াকাটার গঙ্গামতী এলাকাকে আধুনিক পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৃহৎ পরিসরের আবাসন ও গল্ফ রিসোর্ট প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
প্রায় ৩০০ একর জমির ওপর পরিকল্পিত এ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের গল্ফ কোর্সের পাশাপাশি আবাসন বানিজ্যিক প্রকল্প,হলিডে ভিলা, এ্যাপার্টমেন্ট,হোটেল,মোটেল, রেস্তোরাঁ, ক্লাব,ফার্মহাউজ ও আধুনিক বিনোদন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ হওয়ায় কুয়াকাটায় পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি পায়রা সমুদ্রবন্দর, সম্ভাব্য বিমান যোগাযোগ এবং মেরিন ড্রাইভ উন্নয়ন প্রকল্প ভবিষ্যতে কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন করিডোরে রূপান্তরে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
কুয়াকাটার অন্যতম বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি বিশ্বের বিরল সমুদ্রসৈকতগুলোর একটি, যেখানে একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করা যায়। এই অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে কুয়াকাটাকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
তবে কুয়াকাটার টেকসই উন্নয়নের জন্য শুধু বিনিয়োগ বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। পরিকল্পিত নগরায়ণ, পরিবেশ সুরক্ষা, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক নাগরিক সুবিধা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত স্থাপনা ও পরিবেশদূষণ ভবিষ্যতে পর্যটন শিল্পের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে দেশে শেয়ারভিত্তিক হোটেল মালিকানা একটি নতুন বিনিয়োগ মডেল হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তুলনামূলক কম মূলধনে বৃহৎ পর্যটন প্রকল্পের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এ ধরনের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পের আইনি বৈধতা, জমির কাগজপত্র, কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা, শেয়ার হস্তান্তর নীতিমালা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি যথাযথভাবে যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Century Group সবসময় বিশ্বাস করে—সঠিক পরিকল্পনা, স্বচ্ছতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিই একটি সফল বিনিয়োগের মূল ভিত্তি। ২০০৯সাল থেকে রিয়েল এস্টেট, পর্যটন, কৃষি,খাদ্য ও পোশাক শিল্প ও সেবাখাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে Century Group বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করেছে।
Century Group শুধু প্রকল্প নির্মাণ করে না; গড়ে তোলে সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান এবং টেকসই ভবিষ্যৎ। প্রতিটি উদ্যোগে আধুনিক পরিকল্পনা, পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, মানসম্পন্ন অবকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার।
পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে কুয়াকাটা আগামী এক দশকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন অর্থনৈতিক অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
তাই সরকার, বেসরকারি খাত এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে কুয়াকাটাকে একটি টেকসই, আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।
#কুয়াকাটা