25/12/2022
আমাদের বাবারা- তেল চিটচিটে রঙে, রোদেপোড়া ম্রিয়মাণ চেহারা। আমরা তাদের রক্ত-ঘামে পরিপাটি। তবুও ভুলে যাই বাবাদের ঋণ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ওসমান গনী। নুন আনতে পান্তা ফুরায়-এমন পরিবার বললেও অত্যুক্তি হবে না। নদীভাঙা, ভূমিহীন। তবুও বাবার সাপোর্ট আর নিজের একাগ্রতায় ছোট্ট গ্রাম থেকে পা রাখতে পেরেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ আঙ্গিনায়।
কিন্তু ফেরি করে কলা বিক্রেতা বাবা বুলু আকন্দ কোনদিন গ্রামের বাইরে পা-ই রাখেননি। বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার হাঁসরাজ গ্রামই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বুলু আকন্দের কাছে। সেই কবে কখন, ওসমানের মনে বাসা বেধেঁছিল ছোট্ট ইচ্ছে-বাবাকে একদিন মস্তবড় ঢাকা শহর ঘুরিয়ে দেখাবেন। দেখাবেন নিজের দ্বিতীয় আবাসস্থল প্রিয় প্রাঙ্গন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
আর এজন্যে বেছে নিয়েছিলেন সমাবর্তনের দিনটিকে। তবে বিধাতা হয়তো ভিন্ন এক উপখ্যান সাজিয়েছিলেন, পরীক্ষা নিয়েছেন স্বপ্ন পূরণে সন্তানের ইচ্ছের-একাগ্রতার। ওসমানের শরীরে অসুখ বাসা বাঁধে ঠিক সমাবর্তনের কিছুদিন আগে। চিকিৎসায় শেষ হয়ে যায় জমানো টাকা।
তবুও বুকের গভীরে গ্রোথিত স্বপ্ন কি আর এত সহজে শেষ হয়।
সমাবর্তনের রেজিস্ট্রেশন না করে বাবাকে নিয়ে আসেন ক্যাম্পাসে। বন্ধুদের থেকে ধার করা গাউনে সাজেন পিতা-পুত্র। এক অন্যরকম ভালোলাগা, ঐশ্বরিক প্রশান্তি। হোকনা তা ধার করা।
আমাদের বাবারা হয়তো জানেনই না সমাবর্তন কি বা গাউন-ই কি, শুধু এটুকু বুঝেন তার সন্তান তাকে সম্মানিত করেছেন। এরপর যে কৃতজ্ঞতার অশ্রুটুকু দেখা যায় তা পৃথিবীর সবচেয়ে দামি জিনিস ।
মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত পরিবারে সৃষ্টিকর্তা পিতা-সন্তানের মধ্যে একটা অলিখিত দূরত্ব রেখে দেন। যেখানে মুখফুটে কখনো বাবাকে “ভালোবাসি” শব্দটাই বলা হয়না।
ওসমানও হয়তো সেই ট্যাবুটা ভাঙতে পারেননি, তবে করে দেখিয়েছেন তার চেয়েও বেশি কিছু।
টুপি খোলা ভালবাসা ওসমান গনী এবং তার বাবার জন্য।
©