18/10/2023
😊
আপনার শিশু আপনার নিকট সবচেয়ে মুল্যবান তাই শিশুর জন্য ঘি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা জেনে নিন।
শিশুর খাবারে ৬ মাসের আগ পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ ছাড়া অন্য কোনো খাবার খাওয়ানো মোটেই উচিত নয়। ৬ মাস হওয়ার পর শিশুর খাবারে যে পুষ্টিকর খাবারগুলো অন্তর্ভুক্ত করা উচিত, সেসব খাবারের মধ্যে ঘি একটি। শিশুর বিকাশে ঘি এর পুষ্টিগুণ অনেক। শিশুর খাবারে ঘি রাখার যত উপকারিতা রয়েছে তা অন্যান্য খাবার থেকে পাওয়া যায় না। কিন্তু আমাদের দেশে শিশুদেরকে ঘি খাওয়ানোর প্রচলন খুব একটা দেখা যায় না বললেই চলে।
কিন্তু আপনার আদরের সন্তানকে ঘি না দিয়ে তার বিকাশে কোনো বাঁধা সৃষ্টি করছেন না তো? জেনে নিন শিশুর খাবারে ঘি এর গুণাগুণ
শিশুর খাবারে ঘি
ঘি হচ্ছে মাখনের উপাদান যার বেশিরভাগই দুধ। গরু, মহিষ ও ছাগলের দুধ থেকে ঘি তৈরি করা হয়। যার প্রায় ৯৯%-ই দুধের উপাদান। দুধে যেমন অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে, ঘি-য়েও তেমন গুণ পাওয়া যায়। ঘি – তে থাকে ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড, ওমেগা-নাইন, লিপিড, প্রোটিন, ভালো মাত্রার ক্যালরি ও দুধ থেকে প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও এন্টিঅক্সিডেন্ট।
এই পুষ্টি উপাদান গুলো শিশুর বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। দরকারী এই পুষ্টি উপাদান গুলো আপনার বাচ্চাকে দিতে চাইলে অবশ্যই তার খাবারে ঘি রাখুন।
শুধু শিশুর খাবারেই নয়, অতীতকাল থেকে ঘি এর বিভিন্ন ব্যবহার চলে আসছে। খাবারের স্বাদ বৃদ্ধিতে, শরীর মালিশের কাজে, রোগের চিকিৎসা সহ বিভিন্ন কাজে ঘি-য়ের সুনাম রয়েছে।
ঘি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশে সহায়ক খাবার। এত পুষ্টি উপাদান যুক্ত খাবারটি শিশুকে খাওয়ানো বাদ দিবেন না।
শিশুর জন্য ঘি এর উপকারিতা গুলো :
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি
অন্যান্য দুধের চেয়ে গরুর দুধের ঘি বেশি উপকারী। কারণ তাতে থাকে লিপিড ও প্রোটিন যা সরাসরি দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় যুক্ত হয়ে ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলে। আরও রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। যার ফলে আপনার কলিজার টুকরা শিশু বিভিন্ন রোগে সহজে আক্রান্ত হওয়ার হাত থেকে দূরে থাকে। এবং আস্তে আস্তে তার দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
হাড় গঠন
কোমল হাড়ের অধিকারী শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য তার দেহের হাড়গুলোর গঠনও সবল হতে হয়। ঘি – তে রয়েছে ভিটামিন-ডি ও ক্যালসিয়াম যা হাড় গঠনে খুবই কার্যকর।
ব্রেইনের বিকাশ
জন্মের পর প্রথম এক বছরে শিশুর ব্রেইন গঠন হতে থাকে। ব্রেইন গঠনে ভিটামিন, ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড, ফ্যাট অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। এই উপাদান গুলো পাওয়া ঘি – তে। ফলে শিশুর মেধা বিকাশে এটি সাহায্য করে।
ওজন বৃদ্ধিতে
কোন বয়সে শিশুর ওজন কত হওয়া উচিত তা জেনে নিন। শিশুর ওজন যদি বয়সের অনুপাতে না হয়, তাহলে শিশুকে অন্যান্য খাবারের সাথে ঘি দিন। ঘি দ্রুত ওজন বাড়াতে কার্যকর। কারণ এতে থাকে ফ্যাট, ভিটামিন, ওমেগা-থ্রি। ওজন বাড়ানোর জন্য ফ্যাট কার্যকর উপাদান।
শিশুর পেট ভালো রাখতে
শিশুর পাকস্থলী থাকে দূর্বল ও ছোট। এই ছোট পাকস্থলীতে সব খাবার সয় না। যার কারণে দেখা যায় কিছুদিন পরপরই শিশু পেটের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে বাঁচাতে তার খাবারে ঘি রাখুন। লিপিড ও ওমেগা-থ্রি ফ্যাটি এসিড পরিপাকতন্ত্র, অন্ত্র, পাকস্থলীর সুরক্ষায় দারুণ কার্যকর। যা আপনি পাবেন ঘি – তে।
শিশুর কাশি থামাতে
প্রায়ই দেখা যায় অনেক শিশু শুকনো কাশিতে খকখক করে কাশছে। যা শিশুর জন্য কষ্টকর। তাকে এই কষ্ট থেকে স্বস্তি দিতে নিয়মিত তাকে ঘি খেতে দিন। কয়েকদিনের মধ্যেই তার এই কষ্ট লাঘব হবে।
মালিশ করতে
বেড়ে ওঠার সময়টুকুতে শিশু হামাগুড়ি, হাঁটাচলা করতে শিখে। হাড় যদি ঠিকমতো শক্ত ও সবল না হয়, তাহলে শিশুর নড়াচড়ায় তা ক্ষতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তার হাড়ের সবলতা ও নমনীয়তা বাড়াতে খাওয়ানোর পাশাপাশি ঘি শরীরে মালিশ করলেও তা হাড়ের জন্য ভালো।
বিভিন্ন ইনফেকশন থেকে মুক্ত রাখতে
যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকে, সে কখনও সহজে কোনো রোগ কিংবা ইনফেকশনে পড়ে না। ঘি যেহেতু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উন্নত করতে কাজ করে, সেহেতু অন্যান্য রোগ থেকেও এটি শিশুকে দূরে রাখতে ভূমিকা পালন করে।
শিশুর ত্বক ভালো রাখতে
ওমেগা-থ্রি, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও কিছু এন্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় শিশুর ত্বক থেকে ব্রণ, ফুসকুড়ি, চামড়া ছিলে যাওয়ার মতো স্কিনের সমস্যা দূরে থাকে। ত্বক হয়ে ওঠে নরম, কোমল ও মসৃণ।
হরমোনের স্বাভাবিকতায়
হরমোনের নিঃসরণ ঠিকমতো না হলে, অস্বাভাবিক মাত্রায় হরমোন কাজ করলে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির উপর খারাপ প্রভাব পড়ে। ঘি – তে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গুলো হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখে।
শক্তি বাড়াতে
ঘি – তে পুষ্টি উপাদান গুলোর পাশাপাশি ভালো মানের ক্যালরি পাওয়া যায়। যা শিশুকে আরও সবল ও শক্তিশালী করে তুলবে।
কৃত্তিম দুধ দিয়ে বানানো ঘি খাওয়ানো হলে আসল ঘি এর পুষ্টিগুণ পাওয়া যাবে না। কৃত্রিম দুধে রাসায়নিক থাকলে তা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।
আমরা সবসময় শিশুর প্রতি যত্নশীল। শিশুর খাবারে ঘি এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেই আমরা ঘি তৈরি করি। তাই আমাদের কাছ থেকে নিশ্চিন্তে ঘি নিতে পারেন।তাই দেরি না করে আজই অর্ডার করে ফেলুন।