13/08/2024
#ফিতনা হত্যার চেয়ে মারাত্মক
وقاتلوا في سبيل الله الذين يقاتلونكم ولا تعتدوا إن الله لا يحب المتعتدين.
واقتلوهم حيث ثقفتموهم واخرجوهم من حيث اخرجوكم والفتنة اشد من القتل ولا تقاتلوهم عند المسجد الحرام حتي يقتلوكم فيه فإن قاتلوكم فاقتلوهم كذلك جزاء الكافرين. (سورة البقرة: 190، 191)
অনুবাদ: যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে তোমরাও আল্লাহর পথে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর; কিন্তু সীমা লংঘন করো না। আল্লাহ সীমালংঘন-কারীগণকে ভালবাসেন না।
যেখানে তাদেরকে পাবে হত্যা করবে এবং যে স্থান থেকে তারা তোমাদিগকে বহিস্কৃত করেছে তোমরাও সেই স্থান থেকে তাদেরকে বহিস্কার করবে। ফিতনা হত্যা অপেক্ষা গুরুতর। মসজিদুল হারামের নিকট তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ করবে না যে পর্যন্ত তারা সেখানে তোমাদের সাথে যুদ্ধ না করে। যদি তারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তবে তোমরা তাদেরকে হত্যা করবে, এটাই কাফিরদের পরিণাম। (সূরা বাকারা: 190-191)
#তাফসীর: গোটা মুসলিম উম্মত এ ব্যাপারে একমত যে, মদীনায় হিজরতের পূর্বে কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল। সে সময়ে অবতীর্ণ কুরআন মাজীদের সব আয়াতেই কাফেরদের অন্যায়-অত্যাচার নীরবে সহ্য করে ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা, ক্ষমা ও উদারতা প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়া হয়। রবী ইবনে আনাস প্রমুখ সাহাবায়ে কেরাম রা. এর উক্তি অনুসারে মদীনায় হিজরতের পর সর্বপ্রথম কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে উপরোক্ত আয়াতটি নাযিল হয়। তবে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা. এর এক বর্ণনা অনুযায়ী কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ সম্পর্কিত এটিই প্রথম আয়াত যথা: أذن للذين يقالتون بانهم ظلموا কিন্তু অধিকাংশ সাহাবী রা. এবং তাবেয়ীন র. এর মতে এ প্রসঙ্গে সূরা বাকারার উপরোক্ত আয়াতই প্রথম আয়াত। হবে হযরত আব বকর রা. যে আয়াতটিকে এ প্রসঙ্গে নাযিলকৃত প্রথ আয়াত বলে মত প্রকাশ করেছেন, সে আয়াতটিকেও এ প্রসঙ্গে প্রথম দিকে নাযিলকৃত আয়াতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে প্রথম আয়াত বলা চলে ।
এ আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, মুসলমানগণ কেবলমাত্র সেসব কাফেরদের সঙ্গেই যুদ্ধ করবে, যারা তাদের বিপক্ষে সম্মুখ-সমরে উপস্থিত হবে। এর অর্থ এই যে, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ধর্মীয় কাজে সংসার ত্যাগী উপাসনারত সন্নাসী-পাদ্রী, প্রভৃতি এবং তেমনিভাবে অন্ধ, খঞ্জ, পঙ্গু, অসমর্থ অথবা যারা কাফেরদের অধিনে মেহনত মজদুরী করে। কিন্তু তাদের সঙ্গে যুদ্ধে শরীক না হয়্- সেসব লোককে যুদ্ধে হত্যা করা জয়েজ নয়। কেননা, আয়াতের নির্দেশ কেবলমাত্র তাদের সঙ্গেই যুদ্ধ করার হুকুম রয়েছে, যারা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। ফেকাহশাস্ত্রবিদ ইমামগণ বলেন, যদি কোন নারী, বৃদ্ধ অথবা ধর্ম প্রচারক বা ধর্মীয় মিশনারীর লোক কাফেরদের পক্ষে যুদ্ধে করে অথবা কোন প্রকার যুদ্ধে তাদের সাহায্য করতে থাকে, তাবে তাদেরকেও হত্যা করা জায়েজ। কারণ, তারা الذين يقاتلونكمযারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে এই আয়াতের অন্তর্ভুক্ত।
পুরো মক্কী জিন্দেগীতে মুসলমানদেরকে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার ব্যাপারে বাধা দান করা হয়েছিল এবং সর্বদা ক্ষমা ও উদারতার শিক্ষা প্রদান করা হয়েছিল। কাজেই উল্লেখিত আয়াত নাযিল হওয়ার সাহাবীগনের ধারণা হয়েছিল যে, হয়তো কোন কোন ক্ষেত্রে কাফেরদিগকে হত্য করা নিষিদ্ধ ও দোষণীয় হয়ে থাকবে। এ ধারনার অপনোদন কল্পে ইরশাদ হলো, والفتنة اشد من القتل এবং ফেতনা বা দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্ঠি করা হত্যা অপেক্ষাও কঠিন অপরাধ।
অর্থাৎ, একথা তো অবশ্যই সত্য ও সর্বজন বিদিত যে, মানুষ হত্যা নিকৃষ্ট কাজ। কিন্তু মক্কার কাফেদের কুফুরি ও শিরকের উপর অটল থাকা এবং মুসরমানদিগকে ওমরা ও হজ্বের মত ইবাদতের পথে প্রতবিন্ধকতা সৃষ্টি করার কারণেই তাদেরকে হত্যা করার অনুমতি প্রদান করা হলো। আলোচ্য আয়াতে উল্লিখিত فتنه শব্দটি দ্বারা কুফর, শিরক, এবং মুসলমানের ইবাদাতে প্রতিবন্ধকতা বুঝানো হয়েছে। (মায়ারেফুল কুরআন)