23/05/2025
১। বয়কট করে লাভ কি?
উত্তরটা খুব সিম্পলঃ
আমরা নির্দিষ্ট কোম্পানিকে নির্দিষ্ট কোনো কারনে বয়কট করছি, এই কথা জানান দেওয়াটাই লাভ।
আর কিছু অর্জন না হলেও সমস্যা নাই। অর্জন হলে তো আলহামদুলিল্লাহ।
২। বয়কটে লাভ-ক্ষতির হিসাব বুঝার জন্য বর্তমান বিশ্বব্যাবস্থা কিভাবে ফাংশন করে তা বোঝা জরুরি। উন্নত বিশ্বের সবকটা দেশে পলিসি গুলো আবশ্যিকভাকে বড় বড় কোম্পনির স্বার্থের অনুগামী হয়। ইন আদার ওয়ার্ডস, দেশগুলো বাধ্য হয় এমন পলিসি তৈরী করতে জনগনের অনিচ্ছা সত্ত্বে। এর কারনটা আমরা ভাল করেই জানি-
টাকা, রাজনীতি আর মোরালিটি এই বিশ্বব্যাবস্থায় আলাদা কিছু না। বরং প্রথমটা বাকি দুইটার নিয়ন্ত্রক। অর্থাৎ, জাস্ট টাকা থাকলে রাজনীতি আপনার পক্ষে যাবে, আবার আপনার অবৈধ কাজের নৈতিক ভিত্তিও দাড় করিয়ে দেওয়া যাবে।
কাস্টোমারের টাকায় গড়ে উঠা জায়ান্ট কোম্পানিগুলো একটি দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, মোরালিটি, পলিসি- সবকিছুতেই সাবস্টেনশিয়াল ভুমিকা রাখে।
এখন আমরা যদি কাস্টোমার বেইসে আঘাত করতে পারি, অর্থাৎ মুল ড্রাইভিং ফোর্সেই ধাক্কা দিতে পারি- এটা আমাদের জন্য লাভজনক হবে কিনা?
খুব সম্ভবত আমরা উত্তর জানি।
বলা হয়ে থাকেঃ
Boycott changes people's consumer habits.
৩। বয়কটকে শুধু বয়কট হিশেবে দেখলে ভুল হবে খুব সম্ভবত। বয়কটকে দেখা জরুরি বিগার পিকচার থেকে। বয়কটকে এক প্রকার নৈতিক পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করাতে পারি।
যাদের হাতে গণহত্যার তাজা রক্ত লেগে আছে, যারা প্রতিবছর নির্দিষ্ট পরিমান সাহায্য একটা দখলদার রাষ্ট্রকে প্রদান করে, যারা অভিশপ্ত সৈন্যবাহিনীকে ফ্রি মিল দিয়েছে-
''আমরা যদি পণ করি আমাদের পকেট থেকে একটা টাকাও তদের কোম্পানির প্রফিটে গিয়ে যুক্ত না হোক''
এটাকে শুধু বয়কট হিশেবে দেখা ভুল হবে।
বয়কটকে বুঝতে হলে আরেকটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, বয়কট হচ্ছে দায়বদ্বতা পুশ করার একটা মাধ্যম। অর্থাৎ, যে কোম্পানিই একটা নির্দিষ্ট পলিটিক্যাল স্ট্যান্স সমর্থন করবে তাকে দায়ববদ্ব রাখা হবে।
বয়কটের আরেকটা দিক হচ্ছে যে কোম্পানি গুলো গণহত্যায় সমর্থন করে ও সাহায্য করে তাদেরকে ক্রিমিনালাইজ করা হয়। আজ মালেশিয়া, লিবিয়া, তুরষ্কের স্টারবাক্স আউটলেটগুলো দেখুন।
৪। আরেকটা জরুরী ব্যাপার হচ্ছে কোনো কাজে সফল হওয়া না হওয়া মুসলিমদের এত কণসার্ন হওয়া কিছু নাই। আমাদের নিয়ত ও চেষ্টা সর্বাধিক গুরত্বপুর্ণ। আমরা নিয়ত করছি, আমাদের টাকা সামান্য অংশ হলে গণহত্যায় ব্যবহৃত না হোক। আমরা সে অনুসারেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
কমসেকম এই নৈতিক দায়মুক্তি আমাদের থাকবে ইনশাআল্লাহ, জ্ঞাতসারে আমাদের টাকা গনহত্যাইয় ব্যবহৃত হচ্ছে না।
বয়কট একটা লংটার্ম প্রসেস। আমরা হয়তো এর ইমিডিয়েট প্রভাব দেখব না, তবে জেনারেশন বাই জেনারেশন এই ধার যদি চলমান থাকে ইনশাআল্লাহ একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। বিডিএস মুভমেন্ট অন্যতম উদাহরন এক্ষেত্রে।
৫। বয়কটের প্রসঙ্গ আসলেই কিছু হাস্যকর প্রশ্ন সামনে আসে, যেগুলোর যৌক্তিক অপনোদন সময়ের অপচয়ের মধ্যে পড়বে কি না এটা একটা বিগ কনসার্ন।
লাইক, ইহুদির তৈরি ফেবু চালাও কেন? এই প্রশ্নটার মুখোমুখি হয়েছি অনেকবার।
কয়েকবার আন্সার দিতে গিয়েও পরে আর দেই নি। যার এতটুকু কমসেন্স নাই তাকে বুঝালেও বুঝবে কিনা আমার সন্দেহ আছে। বিডিএস মুভমেন্ট ওয়েবসাইট থেকে টার্গেটেড বয়কট অংশটা একটু কষ্ট করে পড়ে নিয়েন প্লিজ।
৫। মার্ক্স এন্ড স্পেনসরের প্রসঙ্গ আসায় দেখলা কয়েকজন দেশের প্রসঙ্গ নিয়ে আসছে। বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমান প্রোডাক্ট বানিয়ে নেয় মার্ক্স এন্ড স্পেনসর। বয়কট করলে এই গার্মেন্টসসমুহে কাজ করা মানুষদের কি হবে? দেশের অর্থনীতিতে খারাপ পড়বে না?
এই প্রশ্নটা দেখার পর আসলেই আমি ত হইয়ে গেসি।
কুদসের ভুমির মানুষ না খেয়ে থাকলে এরা পারবে না কেন?
গণহত্যার শিকার হওয়া একটা গোষ্টির পক্ষে জাস্ট স্ট্যান্স গ্রহন করা ও গ্ণহত্যাকারীদের সমর্থনদাতাদের জাস্ট বর্জন করতেও এত লেইম অজুহাত আনতে হবে কেন?
এদের জাতীয়তাবোধ উম্মাহবোধ থেকে বেশি।
Brown Guy