26/06/2026
একজন উদ্যোক্তা শুধু নিজের স্বপ্ন গড়ে তোলেন না, তার সঙ্গে অসংখ্য মানুষের জীবিকা, কর্মসংস্থান এবং ভবিষ্যতের আশাও তৈরি করেন। তাই কোনো উদ্যোক্তা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো উদ্যোক্তা সমাজ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, Mango Lover টিমের অফিসে হামলা, ভাঙচুর এবং প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। যদি এই অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা নয়, বরং দেশের উদ্যোক্তা পরিবেশের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
আজ যদি একজন উদ্যোক্তা নিরাপদ না থাকেন, তাহলে আগামীকাল নতুন কেউ সাহস করে ব্যবসা শুরু করতে চাইবেন না। বিনিয়োগ কমে যাবে, কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হবে এবং দেশের অর্থনীতিও তার প্রভাব অনুভব করবে।
আমাদের বিনীত অনুরোধ, সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন ঘটনাটির নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আইনের ঊর্ধ্বে না থাকে।
আমরা কোনো ব্যক্তির নয়, অপরাধের বিচার চাই। কারণ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই মানুষের আস্থা ফিরে আসবে, আর নিরাপদ পরিবেশেই নতুন উদ্যোক্তারা স্বপ্ন দেখার সাহস পাবেন।
একটা ব্যবসা দাঁড় করানো কখনোই একদিনের গল্প নয়। একটা ছোট্ট আইডিয়াকে ধীরে ধীরে একটি টেকসই ব্যবসায় রূপ দিতে অনেকেরই ৫–৬ বছর, কখনো তারও বেশি সময় লেগে যায়।
এই পথটা শুধু লাভের নয়। এর মধ্যে থাকে অসংখ্য নির্ঘুম রাত, অনিশ্চয়তা, আর্থিক চাপ, ব্যর্থতার ভয়, পরিবারকে সময় না দিতে পারার কষ্ট, আর প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করার সাহস। তিল তিল করে মানুষ তার স্বপ্নকে বড় করে, ঠিক নিজের সন্তানের মতো যত্ন করে।
তারপর যদি একদিন হঠাৎ সেই স্বপ্নের ওপর হামলা হয়, বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়, তাহলে শুধু একটি অফিস বা কিছু সম্পদ নষ্ট হয় না। ভেঙে যায় একজন উদ্যোক্তার মন, আত্মবিশ্বাস আর বেঁচে থাকার ইচ্ছাটাও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীভিত্তিক Mango Lover-এর অফিসে হামলা, ভাঙচুর, নগদ অর্থ লুট এবং কয়েকজন স্টাফ আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। যদি এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং দেশের উদ্যোক্তা সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
একজন উদ্যোক্তার ক্ষতি মানে শুধু একজন মানুষের ক্ষতি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে অনেক পরিবারের জীবিকা, অনেক কর্মচারীর ভবিষ্যৎ এবং অসংখ্য স্বপ্ন।
দিনের পর দিন এমন খবর শুনতে শুনতে সত্যিই প্রশ্ন জাগে, নিরাপদভাবে কাজ করার পরিবেশ আমরা কবে পাব? বিচারহীনতার সংস্কৃতি যদি চলতেই থাকে, তাহলে নতুন উদ্যোক্তারা কীভাবে সাহস করে এগিয়ে আসবেন?
আল্লাহর কাছে আন্তরিক দোয়া করি, তিনি যেন ক্ষতিগ্রস্তদের ধৈর্য, শক্তি এবং আবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করেন। আহতদের দ্রুত সুস্থতা দান করুন এবং সত্যকে প্রকাশ করে প্রকৃত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করুন। ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হোক।
আর একটি কথা, তারা যখন আবার স্বাভাবিকভাবে ব্যবসায় ফিরবেন, ইনশাআল্লাহ আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের কাছ থেকেই অর্ডার করব, আমার প্রয়োজন থাকুক বা না থাকুক। কারণ অনেক সময় একটি অর্ডার শুধু একটি পণ্য কেনা নয়, বরং একজন ভেঙে পড়া উদ্যোক্তাকে আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস দেওয়ার নাম।
আল্লাহ আমাদের প্রিয় দেশকে শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং পারস্পরিক সম্মানে পরিপূর্ণ করুন। আমীন।