মুহাম্মদ মোখতার হোছাইন সিকদার

মুহাম্মদ মোখতার হোছাইন সিকদার সত্যের সন্ধানে নিরন্তর পথ চলা............

09/06/2026
25/05/2026

প্রত্যেক জাতির জন্য আমি কুরবানির নিয়ম করে দিয়েছি,যাতে তারা আল্লাহর নাম স্মরণ করতে পারে।
(সুরা হজ্জ:৩৪)

20/05/2026

ইমাম বুখারীর জীবনে এমন একটি মুহূর্ত আছে — ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের সাথে — যা সিয়ারে বিশেষভাবে বর্ণিত হয়েছে।

বাগদাদের সেই সন্ধ্যায় আকাশে মেঘ জমেছিল। তরুণ বুখারী তখন সবে বাগদাদে পৌঁছেছেন। বয়স বিশের কিছু বেশি। খোরাসান থেকে বের হয়েছেন হাদীসের সন্ধানে — ইরাক, শাম, হিজায ঘুরে এখন বাগদাদে। শহরে ঢুকেই শুনলেন একটি নাম বারবার উচ্চারিত হচ্ছে — আহমাদ ইবনে হাম্বল। মানুষ বলছে, এই শহরে এই মানুষটির মতো আর কেউ নেই।

বুখারী সিদ্ধান্ত নিলেন — যাবেন। কিন্তু সরাসরি যাওয়া ঠিক হবে না। আগে জানতে হবে এই মানুষ কেমন। তাই কয়েকদিন বাগদাদের মজলিসে বসলেন, শুনলেন, দেখলেন। যা শুনলেন তাতে মন আরো টানল।

একদিন সন্ধ্যায় গেলেন ইমাম আহমাদের দরজায়। দরজা খুলল। ভেতরে গেলেন। ইমাম আহমাদ তখন বসে আছেন — সামনে একটি পুরনো কিতাব, হাতে কলম। তাকালেন এই তরুণের দিকে। জিজ্ঞেস করলেন — “কোথা থেকে এসেছ?” বুখারী বললেন — “বুখারা থেকে।” ইমাম আহমাদ একটু থামলেন। তারপর বললেন — “বসো।”

সেই রাতে দুজনে কথা বললেন। ইমাম আহমাদ প্রশ্ন করছিলেন — হাদীসের, রাবীদের, সনদের। বুখারী উত্তর দিচ্ছিলেন। একটি উত্তর শেষ হচ্ছে, আরেকটি প্রশ্ন আসছে। রাত গভীর হচ্ছে, কিন্তু কেউ উঠছেন না। ইমাম আহমাদ যত শুনছিলেন — তত অবাক হচ্ছিলেন। এই তরুণ কেবল হাদীস জানে না — হাদীসের ভেতরে দেখতে পায়। প্রতিটি সনদের দুর্বলতা, প্রতিটি রাবীর অবস্থা — মুখস্থ এবং বিশ্লেষণসহ।

একসময় ইমাম আহমাদ একটি হাদীস বললেন — সনদসহ। তারপর জিজ্ঞেস করলেন — “এই সনদ সম্পর্কে তোমার কী মত?” বুখারী কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তারপর বললেন — “এই সনদে একজন রাবী আছেন যাঁর ব্যাপারে আমার কিছু বলার আছে।” ইমাম আহমাদ সোজা হয়ে বসলেন। বললেন — “বলো।” বুখারী বললেন — “এই রাবী একসময় নির্ভরযোগ্য ছিলেন। কিন্তু বার্ধক্যে তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এই হাদীসটি তিনি সেই দুর্বল সময়ে বর্ণনা করেছেন। তাই এটি সতর্কতার সাথে নিতে হবে।”

ইমাম আহমাদ চুপ হয়ে গেলেন। দীর্ঘ নীরবতা। তারপর বললেন — “তুমি এটা কীভাবে জানলে?” বুখারী বললেন — “আমি সেই রাবীর ছাত্রদের কাছ থেকে জেনেছি — কোন হাদীসগুলো তিনি আগে বর্ণনা করেছেন এবং কোনগুলো পরে। এই হাদীসটি পরের।” ইমাম আহমাদ আবার চুপ হয়ে গেলেন। এবার অনেকক্ষণ। তারপর ধীরে বললেন — “তুমি ঠিকই বলেছ। আমি এই বিষয়টা জানতাম — কিন্তু এভাবে গুছিয়ে ভাবিনি।”

সেই রাতে ইমাম আহমাদ আরেকটি কাজ করলেন যা বুখারী কখনো ভোলেননি। রাত অনেক হয়ে গেছে। বুখারী উঠতে যাচ্ছিলেন। ইমাম আহমাদ বললেন — “থাকো। আজ রাতে আমার ঘরেই থাকো।” বুখারী বললেন — “আমার জায়গা আছে।” ইমাম আহমাদ বললেন — “আমি জানি। কিন্তু আজ রাতে তুমি আমার মেহমান।”

পরদিন ভোরে ফজরের পর ইমাম আহমাদ বুখারীকে বললেন — “তোমার কাছে আমার একটি অনুরোধ আছে।” বুখারী বললেন — “বলুন।” ইমাম আহমাদ বললেন — “তুমি যা জানো — লিখে রাখো। সংকলন করো। তোমার মাথায় যা আছে তা কেবল তোমার মাথায় থাকলে চলবে না — কিতাবে আসতে হবে। কারণ মানুষ মরে যায়, কিন্তু কিতাব থাকে।”

বুখারী সেই কথা মনে রেখেছিলেন। ইমাম যাহাবী লিখেছেন — পরে বুখারী নিজে বলতেন, “ইমাম আহমাদের সেই ভোরের কথাটি আমার কানে সবসময় বাজে। তিনি না বললে হয়তো আমি লেখার কথা এতটা গুরুত্ব দিয়ে ভাবতাম না।”

বাগদাদ ছেড়ে যাওয়ার দিন বুখারী ইমাম আহমাদের কাছে বিদায় নিতে গেলেন। ইমাম আহমাদ তাঁর হাত ধরলেন। বললেন — “খোরাসান ধন্য যে তোমাকে পাঠিয়েছে। আর আমরা গরিব যে তোমাকে রাখতে পারছি না।” বুখারীর চোখ ভিজে গেল। তিনি কিছু বললেন না। শুধু মাথা নত করলেন।

ইমাম আহমাদ পরে তাঁর ছাত্রদের বলতেন — “আমি খোরাসান থেকে আসা সেই তরুণের মতো আর কাউকে দেখিনি। মাথায় যা আছে তার পরিমাণ দেখলে ভয় লাগে — আর যেভাবে বিনয়ের সাথে বলে তা দেখলে ভালোবাসা লাগে। এই দুটো একসাথে বিরল।” ইমাম যাহাবী লিখেছেন — ইমাম আহমাদের এই কথাগুলো ছিল ইমাম বুখারীর জীবনের সবচেয়ে বড় সনদ — কোনো কিতাবের নয়, একজন মানুষের।

বুখারী চলে গেলেন। পেছনে রইল বাগদাদ, আর সেই ভোরের কথাটি — “মানুষ মরে যায়, কিন্তু কিতাব থাকে।” সেই কথাটি বুখারীর বাকি জীবন গড়ে দিয়েছিল। ষোল বছর পরে যখন সহীহ বুখারী পূর্ণ হলো — তখন হয়তো সেই ভোরের কথাটি আবার তাঁর কানে বেজে উঠেছিল।

সূত্র: সিয়ারু আলামিন নুবালা — ইমাম শামসুদ্দিন যাহাবী রাহিমাহুল্লাহ
(খণ্ড ১২ — ইমাম বুখারী ও ইমাম আহমাদের জীবনী অধ্যায়)

পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে দেখার সুযোগ করে দিন এবং ফলো করে সাথে থাকুন।

আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো লাগলো। সাবেক ছাত্র নেতা মুহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম এর মিয়ার বাজারস্থ চৌধুরী নিউমার্কেটের ব্যাবসায়ী...
19/05/2026

আলহামদুলিল্লাহ
অনেক ভালো লাগলো। সাবেক ছাত্র নেতা মুহাম্মদ মোরশেদুল ইসলাম এর মিয়ার বাজারস্থ চৌধুরী নিউমার্কেটের ব্যাবসায়ী প্রতিষ্ঠান "বারাকায়" বাদে মাগরিব কিছু সময় কাটিয়ে। সবাই কে প্রিয় মোরশেদুল ইসলাম এর বারাকায় ভিজিট করতে দাওয়াত। এখানে ভালো মানের পছন্দসই পোষাকের সমাহার রয়েছে। আমরা নিজেদের জন্য বেশ কিছু কেনাকাটা করলাম।
মহান আল্লাহর অপার কৃপা যে প্রিয় মোরশেদুল ইসলাম দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। বলা যায় মৃত্যুর দোয়ার থেকে ফেরত একজন মানুষ।
আজ স্বাভাবিক জীবনের তার পুনরাগমনে মনিবের দরবারে অযুত শোকরানা জ্ঞাপন করছি।
তিনি যেন প্রিয় ভাই কে নেক হায়াত ও বারাকা পূর্ণ সুস্থ জীবন দান করেন আমিন ইয়া রাব্বি।

বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ ৩ টি বই নতুন সংস্করণে প্রকাশিত হলো।১. বার্নাবাসের বাইবেল    আফজাল চৌধুরী ...
18/05/2026

বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ ৩ টি বই নতুন সংস্করণে প্রকাশিত হলো।

১. বার্নাবাসের বাইবেল
আফজাল চৌধুরী অনূদিত
পৃষ্ঠা ২৭২, মূল্য ৪০০ টাকা
যারা ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পঠন- পাঠনের আগ্রহী কিংবা বাইবেলের উপর সাম্যক ধারণা লাভ করতে চান, তাদের জন্য নিঃসন্দেহে আফজাল চৌধুরী অনূদিত 'বার্নাবাসের বাইবেল' প্রচুর তথ্য উপাত্তের উৎস গ্রন্থ হিসেবে পাবেন। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৯৬ সালে।

২. আমার কালের কথা
প্রফেসর আব্দুল গফুর
পৃষ্ঠা ৩২০, মূল্য ৪৪০
‘আমার কালের কথা’ কিছুটা স্মৃতিচারণধর্মী রচনা হলেও সম্পূর্ণ স্মৃতিকথা নয়। লেখকের
শৈশব, কৈশোর এবং প্রথম যৌবনের সেই দিনগুলোতে সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনে যেসব পরিবর্তন সংঘটিত হচ্ছিল, তা স্বাভাবিকভাবেই ব্যক্তি জীবনেও ফেলছিল বিরাট প্রভাব। সেই
চলমান ইতিহাসের অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণই এখানে তিনি কলমবন্ধ করেছেন সাদামাটা ভাষায়। গ্রন্থটি সম্পূর্ণ স্মৃতিচারণ বা জীবনী নয়, আবার ইতিহাস গ্রন্থও নয়। কিন্তু এতে যে ইতিহাসের প্রচুর উপাদান রয়েছে- এ সত্য অনস্বীকার্য। এই গ্রন্থে পরিবেশিত হয়েছে লেখকের শৈশব থেকে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত কালের কথা। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০০ সালে।

৩. চলনবিলের পদাবলী
শফীউদ্দীন সরদার
পৃষ্ঠা ১৭৬, মূল্য ২৫০ টাকা
প্রায় তিনশত বছর আগের চলনবিল এলাকার
সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয়
জীবনের প্রেক্ষাপটে রচিত একটি উপখ্যান ধর্মী
উপন্যাস। এটি একটি ইতিহাস, একটি প্রামান্য
চিত্র। তৎকালীন চলনবিলের একটি হুবহু
প্রতিচ্ছবি। লেখক এখানে একজন ফটোগ্রাফার
মাত্র । তথ্যে, কাহিনীতে ও জনশ্রুতিতে যা
এসেছে, লেখকের কলমে তা-ই প্রতিফলিত
হয়েছে। দেশজ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধারণক্ষম
এরূপ চেতনা থেকেই একটি সুন্দরতর
প্রায়োগিক প্রয়াস চলনবিলের পদাবলী
ঐতিহাসিক উপন্যাসটি। চলনবিলের পদাবলী
উপন্যাসটি পাঠক মাত্রই জাতীয় ঐতিহ্যগত
চেতনায় পুলকিত হবেন বলে আমাদের
সহজাত ধারণা । বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০২ সালে।

বি. দ্র : পর্যায়ক্রমে বুক সোসাইটির গুরুত্বপূর্ণ পুরাতন বইসমূহ নতুন সংস্করণে প্রকাশিত হবে।
#যোগাযোগ নাম্বার 01813-703758

14/05/2026

প্রতিটি শিশু যেন শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়।
রাষ্ট্র ও সমাজ সচেতন স্বাবলম্বীদের দায়িত্ব পালন করা দরকার।

Address

বড়ঘোনা, গন্ডামারা, বাঁশখালী
Chittagong

Telephone

+8801813703758

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when মুহাম্মদ মোখতার হোছাইন সিকদার posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to মুহাম্মদ মোখতার হোছাইন সিকদার:

Share