26/05/2026
ধন্যবাদ Sandwip Barta আমাদের পেইজকে এতো সুন্দর করে তুলে ধরার জন্য 💜
সন্দ্বীপের প্রথম অর্গানিক মেহেদী উদ্যোক্তা তাছলিমার সাফল্যের গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক:
Henna Lifestyle By Taslima এর উদ্যোক্তা তাছলিমার মেহেদী পড়ার শখ ছিলো প্রচুর।কিন্তু বাজারের ক্যামিকেল যুক্ত মেহেদী পড়ে হাতে ইনফেকশন হয়ে যায়। সেই থেকে শখের মেহেদী পড়া বন্ধ।
একদিন হঠাৎ ফেসবুকে দেখলেন অর্গানিক মেহেদীর ভিডিও। যাতে কোনো কেমিক্যাল নাই, ১০০% হালাল এবং সম্পূর্ণ নিরাপদ।তারপর আগ্রহ থেকে অর্গানিক মেহেদী নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে করতে ইচ্ছে জাগলো নিজেই নিজের জন্য মেহেদী বানাবেন।
তখন অনেক খোঁজাখুজি করে তারপর তিনি অর্গানিক মেহেদীর উপর কোর্স করলেন।এরপর তিনি ইচ্ছে পোষণ করলেন তার জন্মভূমি সন্দ্বীপের মেয়েদের জন্যও তিনি এই নিরাপদ ও হালাল মেহেদী বানাবেন।তখন ২০২১ সাল থেকে শুরু শখের বিজনেস।তিনিই সন্দ্বীপে প্রথম অর্গানিক মেহেদীর বিজনেস শুরু করেন।
তাছলিমা সন্দ্বীপ পৌরসভা ০৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।তিনি রহমতপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং সরকারি হাজী আব্দুল বাতেন কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন।বর্তমানে তিনি ডিগ্রীতে পড়াশোনার পাশাপাশি শখের বিজনেসকেই নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
বিজনেস শুরুর পর পরিবারের সাপোর্টে খুব সহজেই তাছলিমা'র শখের মেহেদী সবার কাছে পরিচিতি লাভ করে।ছোট বোন এবং তাদের বান্ধবীরা অনেক মেহেদীর অর্ডার আনতো।প্রথম দিকে অনলাইনে তেমন একটা বিক্রি হয়নি কিন্তু এখন পরিচিতি পাওয়ার পর আস্থা এবং বিশ্বাসে সন্দ্বীপ সহ সারা বাংলাদেশের মানুষ Lifestyle By Taslima থেকে মেহেদী অর্ডার করছেন।
মাত্র ১২ হাজার টাকা পুঁজি তাছলিমার মেহেদী আজ দেশের হাজার হাজার তরুণীর হাত রাঙাচ্ছে। ভালো মানের মেহেদী পাতা এবং খাঁটি এসেনশিয়াল অয়েল আর লেবুর রসের সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় অর্গানিক মেহেদী।
তাসলিম জানান, অর্গানিক মেহেদীতে গাঢ় রঙ পেতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগে।শতভাগ প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হওয়ায় এই মেহেদীতে কোনো প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয় না। ফলে সাধারণ তাপমাত্রায় এটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্য এই মেহেদী ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে হয়।যা ক্রেতার জন্য আরও সুবিধা কারণ এই মেহেদী ৬ মাস পর্যন্ত ডিপ ফ্রিজে রেখে ব্যবহার করা যায়।
তিনি সবসময়ই তার কাস্টমারকে ফ্রেশ অর্গানিক মেহেদী বানিয়ে পাঠান।এজন্য পণ্যের নিখুঁত মান ও স্থায়ী রঙের কারণে অল্প দিনেই মেহেদী সবার খুব প্রিয় হয়ে উঠে।
প্রথম মাসে তাছলিমার মাত্র ১৮ টি মেহেদীর কোণ বিক্রি হয়েছিলো। আর এখন প্রতি ঈদে বা বিয়ের মৌসুমে তার প্রায় ৩ থেকে ৫ হাজার অর্গানিক মেহেদী কোণ বিক্রি হচ্ছে।
নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে তাছলিমা বলেন "অর্গানিক মেহেদীর বিজনেসে কখনোই রাতারাতি সফল হওয়া যায় না।এখানে সফল হতে হলে সবার আগে পণ্যের গুনগত মান রক্ষা করতে হবে। ক্রেতার বিশ্বাস একবার অর্জন করতে পারলে আপনাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।"
তাছলিমার স্বপ্ন ভবিষ্যতে তার দ্বারা আরও অনেক মেয়ের কর্মসংস্থান হবে। তার মেহেদী দেশের সাথে সাথে দেশের বাহিরেও পরিচিতি লাভ করবে।