13/09/2025
NBR প্রত্যেক TIN Holder এর ব্যাংক একউন্ট এর তথ্য চাইছে। যে সকল তথ্য Automatic Accesse পেতে চায় NBR.
১. বাৎসরিক মোট জমা
২. বাৎসরিক মোট উত্তলোন
৩. বাৎসরিক মোট প্রাপ্ত মুনাফা
৪. বাৎসরিক মোট অগ্রীম কর কর্তন
এই তথ্যগুলো করদাতার TIN Number দিয়ে যাচাই করার এখতিয়ার চাইছেন NBR.
সুবিধাঃ
করদাতাগনকে ব্যাংক বিবরনী উত্তোলনের জন্য বার বার ব্যাংকে যেতে হবে না।
অসুবিধাঃ
আমরা দেখি অনেক করদাতা তার সঞ্চয় হিসাব বা চলতি হিসাবে অযাচিত লেনদেন করে থাকেন। অন্যের টাকা লেনদেন করতেও নিজের ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে থাকেন। পরবর্তীতে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে ঐ ব্যাংক হিসাব Hide করে ফেলেন।
সবচেয়ে বিপাকে পরবেন ছোট বা মাঝারি ধরনের ট্রেড লাইসেন্সধারী বা ট্রেড লাইসেন্সবিহীন একক বা অংশীধারী ব্যবসায়ীগন। আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি এই ধরনের ছোট বা মাঝারি একক ব্যবসায়ী বা অংশীদারী ব্যবসায়ীগন ব্যবসায় পরিচালনার জন্য কোন হিসাব বই যেমন- ক্যাশ বই, লেজার বা লাভ-লোকসান এর কোন রেকর্ড সংরক্ষন করেন না। যার ফলস্রুতিতে আমরা আয়কর আইনজীবীরা তাদের ব্যাংক একাউন্টের মোট লেনদেনকে মোট বিক্রয় ধরে Gross Profit এবং Net Profite বের করি। এ ক্ষেত্রে করদাতা মোটা অংকের লেনদেনকারী ব্যাংক হিসাব কে গোপন করে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত করেন। NBR এর এই Automatic Accessse পেয়ে গেলে আর কোন ব্যাংক হিসাব গোপন করার সুযোগ থাকবে না। সেই ক্ষেত্রে অযাচিত লেনদেন এর দায়ভার সম্পূন্য ভাবে নিতে হবে কর দাতাকে। অযাচিত লেনদেনের জন্য বেড়ে যাবে আয় এবং আয়কর। গুনতে হবে মোটা অংকের TAX।
পরার্মশঃ
১) ব্যাক্তি কর দাতাগন অযাচিত ব্যাংক লেনদেন থেকে বিরত থাকুন। বা উপযুক্ত ব্যাখ্যা সংরক্ষন রাখুন।
২) একক বা অংশীধারী ব্যবসায়ীগন আপনার ব্যবসার বাৎসরিক লাভ-লোকসান এর হিসাব সংরক্ষন রাখুন। যা আয়কর রির্টানে আপনার ব্যবসা হতে লাভ-ক্ষতির ঘোষনা দিতে পারেন।
৩) আয়কর রিটার্ন দাখিল একটি আইনী প্রক্রীয়া যথাযথ আইন ও নির্দেশিকা জেনে ও মেনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করুন।
৪) প্রয়োজনে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।
পর্ব 2:
# বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমার সময় আপনি কেমন জীবন যাপন করেন, তা জানাতে হয়। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ৯ ধরনের তথ্য জানতে চায়।
করদাতাকে রিটার্ন আইটি ১১গ (২০২৩)–তে জীবনযাপন–সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের বিবরণী দাখিল করতে হয়। ওই বিবরণীতে করদাতার খাতভিত্তিক খরচ উল্লেখ করতে হবে এবং যে ক্ষেত্রে এ ধরনের খরচের কোনো অংশ পরিবারের অন্য কেউ বহন করে, তা মন্তব্যের কলামে উল্লেখ করা যেতে পারে।
কোন কোন খরচের তথ্য দিতে হবে
৯ ধরনের খরচের তথ্য আয়কর বিবরণীতে উল্লেখ করতে হবে। এগুলো হলো—
# ১. ব্যক্তিগত ও পরিবারের ভরণপোষণ খরচ
এখানে মূল সংসারের বাজার খরচের তথ্য বেশি দিতে হয়। সারা বছর আপনার সংসার চালাতে কত খরচ হলো, তা জানাতে হবে।
# ২. আবাসন খরচ
এখানে বাসাভাড়ার যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। প্রতিবছর আপনি ভাড়া বাবদ কত টাকা খরচ করলেন, বাসাবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণে কত টাকা দিলেন—এসব খরচ এখানে উঠে আসবে। আপনার বেতন বা আয়ের সঙ্গে বাড়িভাড়ার সংগতি আছে কি না, তা দেখতেই এই কৌশল।
# ৩. ব্যক্তিগত যানবাহন
আপনার যদি প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেলসহ যেকোনো ধরনের গাড়ি থাকে, তাহলে এই গাড়ি ব্যবহারে আপনার খরচ কত হলো, তা লিখতে হবে। যেমন গাড়ির জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ, বিভিন্ন ধরনের মাশুলের তথ্য জানাতে হবে। এমনকি আপনার যদি গাড়ি থাকে, তাহলে চালকের বেতন-ভাতার তথ্যও জানতে চান এনবিআর কর্মকর্তারা। এখানেও আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রা যাচাই করতে চান কর কর্মকর্তারা।
# ৪. পরিষেবা খরচ
প্রতি মাসেই করদাতাদের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেটের বিল পরিশোধ করতে হয়। এসবের হিসাব রাখবেন। কারণ, বছর শেষে রিটার্ন ফাইল দেখাতে হবে।
# ৫. শিক্ষা ব্যয়
সন্তানদের স্কুল-কলেজের টিউশনি ফি দিতে হয়। এ ছাড়া কোচিংয়েও অনেক টাকা খরচ করতে হয়। সন্তানদের নামীদামি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াচ্ছেন, কত টাকা খরচ করছেন, তা–ও জানাতে হবে। সব মিলিয়ে পরিবারের সদস্যদের শিক্ষা ব্যয়ের তথ্য সংরক্ষণ করবেন।
# ৬. দেশ-বিদেশ ভ্রমণ ও অবকাশ
দেশে–বিদেশে ঘুরতে গেলেন। নগদের পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডে অনেক খরচ করেছেন। নামীদামি রিসোর্টে থেকেছেন। এসব খরচ জানাতে হবে।
# ৭. উৎসব ও বিশেষ ব্যয়
ঈদ উপলক্ষে আপনি বেতন-ভাতার পাশাপাশি বোনাস পান। হাতে এসেছে বাড়তি টাকা। তাই এবারের ঈদে হয়তো অনেক কেনাকাটা করেছেন। কেনাকাটা করেছেন স্ত্রী-সন্তানের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনের জন্য। ঈদ উপলক্ষে বেশ ভালো বাজার সদাই করেছেন। এ ছাড়া অনেককে নগদ টাকাও দিয়েছেন।
আপনি কি জানেন, ঈদের খরচ আপনার আয়কর নথিতে দেখাতে হবে? আয়কর নথিতে উৎসবের খরচ অংশে এ খরচ দেখাতে হবে।
# ৮. উৎসে কর্তিত ও সংগৃহীত কর
সারা বছর আপনার বিভিন্ন খরচের উৎসে কর কেটে রাখা হয়। এগুলো হিসাব রাখবেন। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর্তিত কর কেটে রাখা হয়। বিগত বছরে রিটার্নের ভিত্তিতে প্রদত্ত আয়কর ও সারচার্জও কত টাকা দিলেন, তা–ও রিটার্নে জানাতে হবে।
# ৯. ঋণের সুদ
ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নানা প্রয়োজনে ঋণ নিতে হয়। এসব ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হয়। সেই সুদ বাবদ কত খরচ করলেন, তা–ও জানাতে হবে।
অযথা জরিমানা এড়াতে বা বিভিন্ন আয়কর মামলা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে বিজ্ঞ কোন আইনজীবী দ্বারা আপনার রিটার্ণ ফাইলটি পূরণ করুন।👍👍👍👍