Bipu's world

Bipu's world Be intelligent pure and unique =Bipu

11/08/2025

এমনি এমনি

29/10/2024
25/10/2024

I found this great deal on Daraz! Check it out! Product Name: Fashionable crossbody/Side hand bag for women/Girls Product Price: ৳310 Discount Price: ৳170

25/10/2024

I found this great deal on Daraz! Check it out! Product Name: Health Gain Milk Shake Natural Food Flavoured milkshake Product Price: ৳500 Discount Price: ৳156.96

17/09/2024

চালু হোক "আইনজীবী সনদনবায়ন " শুদ্ধ হোক আইন অঙ্গন
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #

কোন কিছুর সংস্কার প্রয়োজন হয় তখনই, যখন কোন চলমান পরিস্থিতি তার উপযুক্ততা হারায়। অনুপযুক্ততাপূর্ণ যেকোন কিছুইকেই এক বাক্যে ত্যাগ করা উত্তম। এই ত্যাগ মানে আর ব্যাবহার না করা বা আর কাজে না লাগানো।
সব নিয়মই নিয়ম, কিন্তু নিয়ম অনিয়ম হয় ভুলত্রুটি থাকলে বা ভুলত্রুটি যুক্ত হলে।
সচেতন মানুষ শুদ্ধতামুখী, সুশৃঙ্খলতার জন্য শুদ্ধতার প্রয়োজন, শান্তিপূর্ণতা বজায় রাখা ও থাকার জন্য শুদ্ধতার প্রয়োজন। সুশৃঙ্খলতা, শান্তিপূর্ণতা বজায় রাখা ও থাকার জন্য শুদ্ধতার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সমাধান হিসেবে তৈরী হয়েছে আইন, আর আইনের সুষ্ঠু পরিচালনা ও বাস্তবায়নের জন্য তৈরী করা হয়েছে আদালত ও বিচারব্যবস্থা। সুষ্ঠু প্রতিকার হিসেবে রাখা হয়েছে শাস্তি, জরিমানা, বিচারিক আদেশ, নির্দেশ ও নির্দেশনা।
শুদ্ধতার বাস্তবায়নের জন্য "পরিচালনা জগতের চালচিত্র" কেমন নিয়মনীতিতে নির্দেশিত আছে আর কেমন নিয়মনীতিতে বর্তমানে চলমান আছে সেটার কিছু কিছু নিম্নরুপ।

আদালতের আইনজীবী চেম্বারে যাদের আসা যাওয়া থাকে, তাদের প্রায় সবার আবার কোর্টের আইনজীবী চেম্বার, কোর্ট প্রাঙ্গন, কোর্ট প্রাঙ্গনের বিভিন্ন স্থান যেমন স্টাম্প ভেন্ডার, চায়ের দোকান, কম্পিউটার ও ফটোকপি দোকান, মহুরী টেবিল, কিছু হকার, ভিক্ষুক, দালাল, মক্কেল, পুলিশ,মহুরী, উকিল,পেশকার,সেরেস্তাদার, ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ সহ বিভিন্ন কোর্ট এজলাশ কক্ষের পরিবেশ সম্পর্কে প্রায় সিংহভাগ ধারণা অর্জন হয়ে যায়। হকার আর ভিক্ষুক ছাড়া প্রায় সবাই মামলা মোকদ্দমা, কোর্টের কার্যকলাপ, ও বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় মেতে থাকেন, আসামী, পুলিশ, মহুরী, উকিল,ম্যাজিষ্ট্রেট, জজ ছাড়াও আরও কেহ কেহ আবার মামলার ধারা, ও ফলাফল নিয়েও বলাবলি করতে দেখাযায়। কেন দেখাযায় তার বহু কারন আছে। আর কারনের পেছনে কারন হল আইন অঙ্গনে মারাত্মক অসুষ্ঠুতা বা অসুস্থতা।

অসুস্থতা হল আইনজীবীরা অনেকেই পোশাকে আইনজীবী হলেও যোগ্যতা বৈশিষ্ট্যে আইনজীবী নন। কেহ সনদে আইনজীবী হলেও নিমনীতির বৈশিষ্ট্যে আইনজীবী নন।

নবীন হোক আর প্রবীন হোক কে যে আদর্শ বৈশিষ্ট্যের আইনজীবি তা নির্ণয় করা বেশ কঠিন। কারন আদর্শগত বৈশিষ্ট্যে এমন পরিচয় পাওয়া যায়না। যা দেখাযায় তা আবার মরিচিকায় রূপনেয় একটু গভীর নজরে সামনে এগিয়ে গেলেই।

# আদালত পাড়ায় যা যা দৃষ্টিগোচর হয় তা হল - ফেসভ্যালু। ফেসভ্যালু মানে নামকরা আইনজীবি। ফেসভ্যালু এমন একটা জিনিস যার কারনে জ্ঞান এর ভ্যালুটা নিয়ে সবাই সহজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনা। জ্ঞান এর ভ্যালু নিয়ে যিনি দাঁড়াবেন ওনার আবার ফেসভ্যালুতো দূরের কথা ফেসটাই পচতে শুরু করে। কারন আদালত পাঁড়ায় সবাই বড় উকিল খোঁজে, আর বড় উকিলদের নাম ডাক ভাল থাকায় নামডাকহীন আইনজীবীরা কোন মামলা পরিচালনার জন্য নাম ডাক ওয়ালা আইনজীবীর নিকট ছুটেন। বড় উকিল সাথে নিয়ে শুনানি করা লাগবে তাই মক্কেল থেকে ফি ও বাড়িয়ে নিতে পারেন। আর বড় উকিলের সাথে মামলার টাকার ভাগাভাগি হয় ছোট উকিলের। বিচারকের সামনে শুনানি করেন বড় উকিল, বড় উকিল শুনানি করে শেষ করলে ছোট উকিলের আর কাজ থাকেনা, ঝামেলাও থাকেনা, মক্কেলের সামনে মুখ রক্ষাহয় ছোট উকিলের, মক্কেলও খুশি, উকিলও খুশি। ছোট উকিল খুশি খুশি মনে আরও মামলা পাওয়ার আশায় থাকেন, নির্ভর করেন বড় উকিলতো আছেনই। মামলা জটিল হলে বড় উকিলের সাহায্য নিব। মামলা আসে, মামলার ফি ভাগাভাগিতে মক্কেলের নিকট মুখ রক্ষা আর পকেটে টাকা ঢুকলেই হল। কিন্তু এভাবে দিনে দিনে তিনি নিজেও যে ঘটনা ও কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে বড় উকিলের নিকট সনদধারী দালালে বা মক্কেলে পরিণত হলেন সেটা বুঝতেই পারেননা। আবার বুঝতে পারলেও করার কিছুই নেই কারন এতদিনে তিনি অনেক মামলার ফাইলের ভারে ভারী হয়ে গেছেন। মক্কেলদের নিকট পরিচিতি পেয়ে গেছেন ওনিও একজন মোটামুটি বড় উকিল এবং অনেককে সফল সহযোগিতা করেছেন ও করেন, বড় বড় উকিলের সাথে ওনার চলাচল। জজ, ম্যাজিস্ট্রেটরাও ওনাকে চিনেন ।

এদিকে এই উকিল সাহেব মামলা পেয়েই সিনিয়রের নিকট ছুটতে ছুটতে নিজের সত্য সাহস হাড়িয়ে ফেলেছেন, কারন আইন জানলেও আইনের প্রয়োগ ঠিকমত জানেননা। নিয়ম কানুনতো জেনেও মানেননা। কোন অনাকাঙ্খিত কারন বা ঘটনা ঘটলে এক বড় উকিল বদলিয়ে আরেক বড় উকিল ধরবেন এমনটাই ওনার মনমানসিকতা। কর্মকান্ডগত দিক দিয়ে ওনি একজন আইনজীবিসনদধারী মামলা কালেক্টর।
কারন ওনি নিজের অধীনে থাকা মামলাগুলি নিজে পুরোপুরি পরিচালনা করতে পারেননা। আদালতের আরও দশজন এমন স্বভাবগত উকিলদের আচরনের প্রভাবে ওনি প্রভাবিত। ঠিক তেমনি ওনার থেকে প্রভাবিত আরও অন্যরা।

আদালতে এইরকম মামলা কালেক্টর হিসেবে কাজ করতে দেখা যায় আরও অনেককে যারা আইনজীবি সনদধারী নন, তবে আইনজীবি, ওনারা শিক্ষানবিশ আইনজীবী। তবে তাদের মামলা সংখ্যা খুবই কম। গড়পড়তা হিসেবে নেই বললেই চলে। তবে এই মামলা কালেকশন এর জন্য ওনারা হিংসার শিকার হন এবং রোষানলে পড়েন বাকি সকলের নিকট। ওনাদের মামলা সংগ্রহ করা যাবেনা এই মর্মে বিভিন্ন জেলা বার সমিতির পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা নোটিশ প্রকাশ করা হয়। এবং শাস্তির আওতায় আনা হয়, দালাল বলে প্রচার প্রচারণা দেয়া হয়।
আবার আদালতে এই একইরকম মামলা কালেক্টর হিসেবে কাজ করতে দেখাযায় আদালতে নিবন্ধিত মহুরীদেরকে, তাদেরকে কেহ কোন আইনের আওতায় আনেনা, যদিও সবাই দেখে জানে। কোন কোন মহুরীর অধীনে অনেক সিনিয়র জুনিয়র আইনজীবী আছেন যারা অদৃশ্য নিয়োগে নিযুক্ত। মহুরী সাহেবের সঙ্গে ওনারা ভাল লিয়াজো রাখেন কারন, মামলানওয়ালা মহুরীদের সাথে কোন আইনজীবীর এদিক সেদিক হলে মহুরীসাহেবরা ওইসব আইনজীবীদের মামলা পরিচালনায় নিয়োগ দেননা আবার মক্কেলদের নিকট বড় আইনজীবী বা ভাল আইনজীবী পরিচয়টাও প্রচার করেননা বরং বিরুদ্ধে গেলে সাধারণত মানুষের খারাপ স্বভাব যা হয় মানে অপপ্রচার বা বিরুদ্ধে প্রচার। এখানে চরম বাস্তবতা হল "জিম্মিদশা"। অর্থাৎ জান, আর মানের রক্ষার স্বার্থে সব জেনে বুঝে আর ভোক্তভোগী হয়েও নিশ্চুপ। এর একটা কারন হল মক্কেলরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোন ঝামেলা বা মামলা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেন মহুরীদের নিকট যেয়ে। ফি এর ভয়ে আর পেশাগত ভয়ে উকিলদের থেকে আগে দূরে থাকেন, বুঝ হলে পরে উকিলদের কাছে ভীড়েন। কিন্তু কোন আইনী পরামর্শ করা ও দেওয়া কোন মহুরীর কাজ নয় এই বিষয়ে গুরুত্ব ও খেয়ালে না থাকেন আইনজীবী আবার না থাকেন মহুরী।বিশেষ গুরুত্ব ও খেয়াল রাখার দ্বায়ীত্ব মূলত আইনজীবীদের। কিন্তু আশায় বা হতাশায় বা লোভে বা না বুঝে আইনজীবীরাই হয়ে যাচ্ছেন ওদের নিকট জিম্মি। জিম্মি হওয়ার কারন মহুরীদের একটু কড়াকড়ি দেখালে মামলা চলে যায় অন্য আইনজীবীর অনুকূলে। তাই অনৈতিকতাকে মেনে নেয়াটা তখন ওনাদের জন্য হয় সুবুদ্ধিতা, আর সততায় প্রতিবাদ হয়ে উঠে নির্বুদ্ধিতার পরিচয়। আর এই কর্মকান্ডের সাথে মিলে যাওয়ায় ওনাদেরকে বলা লাগে মামলা চালিয়ে টাকা কামানোর লার্নেড। কারন আইনজীবি সনদ ওনাদের আছে ওনাদের , বৈশিষ্ট্যটা প্রশ্নবিদ্ধ।

আবার আরেকটা মহল আছে যাদের আইনগত কোন পদ পদবি নাই, কিন্তু ওনারাও আদালতে মামলা কালেক্টর হিসেবে কাজ করেন। ওনারা আদালতের সাথে পদ পদবিতে বা কোন কার্যক্রমের সাথে কোন সম্পর্ক না থাকলেও কিছুটা সংযুক্তি থাকে আর সেটা হল প্রথমত ওনারা সম্পূর্ণ বেকার বা অর্ধ বেকার ।আর বেকার হয়েও ওনারা কখনো মামলা খেয়েছেন বলে আদালতে এসেছেন, কেহ আসামীর সহযোগী হিসেবে আদালতে এসেছেন, কেহ পক্ষে বা বিপক্ষে স্বাক্ষী হয়ে আদালতে এসেছেন। এসেই দেখেন এখানে মক্কেল এনে দিলেই কিছু মোটা অংক পকেটে ঢুকে। কোন চিহ্ন প্রমান লাগেনা মক্কেল এনে কিছু সেইরকম মনমানসিকতা সম্পন্ন উকিলদের কাছে আনার পর মক্কেল উকিলকে ফি প্রদানের পরই টাকার একটা অংশ ওনাদের পকেটে ঢুকে যায়।আহ্ উপার্জনে কত আনন্দ। আর সময়ে সময়ে তারিখে তারিখে একটু একটু করে উপার্জন আসতেই থাকে উকিলের আর দালালের। নিয়মিত উপার্জন আর উপার্জনের স্বার্থে তৈরী হওয়া পথটাই তখন ভাল লাগে।ওইসব উকিলসাহেবরা ও দালালসাহেবরা ভুলেযান অর্থ উপার্জনের প্রকৃত নিয়ম। ধর্মের কথা নাহয় বাদই দিলাম ধর্মে আমরা একেকজন একেক ধর্মের অনুসারী যদিও কোন ধর্মই অন্যায় সমর্থন করেনা, কিন্তু আইনজীবীরা আইনের যে নিয়ম কানুন শিখে আসছেন সেখানে নিশ্চয়ই দালাল বা দালালী কর্মকান্ডের পক্ষে কোন সাপোর্ট নেই।কারন একটা আইন অবৈধ কোনকিছুকে সাপোর্ট করতে পারেনা। আর আইনের অনূকূলতা অবশ্যই সব ধর্মের অনুকলতাকে নিয়েই, কোন ধর্মীয় নিয়ম কানুনের একান্ত পক্ষে বা বিপক্ষে বা কোন ধর্মের প্রতিকূলে নয়। কিন্তু দু:খের ও লজ্জার বিষয় হচ্ছে কিছু আইনজীবিরা আইনে যা( দালাল ও দালালী) স্পষ্ট দোষী ও নিষিদ্ধ ভূল এবং অন্যায়টাই বহাল রাখছেন, এবং কিছু আইনজীবীরা সনদধারী হয়েও নিজেরাই কর্মকান্ডের পরিপ্রেক্ষিতে দালাল বনে যাচ্ছেন। আইন রক্ষার স্বার্থে সত্য নিয়ে বললে ওনারাই আবার ক্ষেপে যাচ্ছেন ভুল নিয়ে মুখখোলা ব্যাক্তির প্রতি।

মুখ খোলা ব্যাক্তির প্রতি ক্ষেপে যাওয়াটা ওনাদের স্বাভাবিক কারন ওনারা পরিবার সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে মান রক্ষা ও মানউন্নত করার জন্য পরিবেশ পরিস্থিতির সাথে পাল্লা দিয়ে চলার জন্য বাধ্য হয়েই ভুল বা অন্যায়ের কাঁধে উঠেছিলেন এবং এখনও সেই কাঁধেই আছেন। বাধ্য হয়েই যেহেতু আসা- সেচ্ছায়তো নয়, এখন আবার বাধ্য হয়ে শুদ্ধ বা অশুদ্ধ যা ই হোক নতুন পথে হাটা টা একটা প্রশ্নবিদ্ধতা নয়কি? লজ্জা জনকও হতে পারে। আবার ডানপন্থী বামপন্থীদের মাঝে মতবিরোধ থেকে শুধু বড়সড় দাঙ্গাহাঙ্গামা না আরও ব্যাতিক্রম কিছুও ঘটতে পারে। কারন আমাকে যে গালি দিল তাকে দোষারোপ করি, কিন্তু আমাকেই কেন সে গালি দিল কোন উপযুক্ত কারন আছে কি না সেটা নিজের প্রতি খতিয়ে দেখিনা। নিজের কারনকে জানলে মানে গালি খাওয়ার বৈধতা থাকলে তা থেকে সরতেও পারিনা, এটাই আমাদের প্রায় শতভাগের মাঝেে বিদ্যমান খাঁটি বৈশিষ্ট্য। আর আমাদের আরেকটি সেচ্ছাসেবী পরোপকারী বৈশিষ্ট্য হল আমরা অন্যকে সংশোধন করতে ও দেখতে চাই, নিজের বেলায় ভুলেযাই । আর এই ভুলে যাওয়ার জন্য ক্রমে ভুল বাড়তে বাড়তে ভুলের পাহাড় গড়ছে। আর ভুলের পাহাড় কখনো ন্যায় নয়, অন্যায়ই। অন্যায়কে সহজে দমন ও নিষ্ক্রিয় করার পথ সবসময় আত্মশুদ্ধিতায় ব্যাস্ত থাকা। আত্মশুদ্ধির নিয়মিত চর্চা হলে , আত্মশুদ্ধ হতে হতে একসময় গোটা সমাজটাই শুদ্ধ হবে। তখন একজন আরেকজনকে শুদ্ধ দেখার বা করার জন্য দোষধরার আর দোষবলার সেচ্ছাসেবী দ্বায়িত্বটা অন্তত কমে যাবে বা চলে যাবে। এই দোষধরার আর বলার দ্বায়িত্ব পালন করার জন্য রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন বিভাগ নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত আছে, যা আমাদের সমাজ ব্যাবস্থার চলনে আমরা এসব বিষয়ে অবগত নই । আর এই অবগত না থাকার কারনে আমরা রাষ্ট্রের দ্বায়ীত্ব নিজেই পালন করি শুধু ন্যায় মনেকরে অন্যায় করি। রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় আইনব্যাবস্থা যেখানে বলে রেখেছে "আইন নিজের হাতে তুলে নিও না"। ধর্মীয়৷ শিক্ষায়ও - গীবত অপবাদের মত ঘৃণ্য কাজ গুলিকে নিষেধ করছে। কেন করেছে তার উত্তর খুঁজলে জবাব পাওয়া যায় এসবের ফলে সামাজিক বিশৃঙ্খলার বিভিন্ন অসংগতিপূর্ণ পরিস্থিতি দেখলেই। আসলে আমরা কোথায় থাকার কথা আর আমরা কোথায় আছি?!!" দেহ বৈশিষ্টে আমরা মানুষ আছি ঠিকই কিন্তু আচরণ বৈশিষ্ট্যের বিবেচনায় আমরা কি????আমরাতো ধর্মের আমান্যতা করলাম, আইনের অমান্যতাও করলাম ফলাফল সমাজটা নষ্ট করলাম। আর এই সমাজে আমাদের প্রত্যেকের ব্যাক্তি আচরণ প্রমাণ করে প্রত্যেকের নিজস্ব ব্যাক্তিত্ব। আর আইনজীবীরা যেখানে সোজাসাপটা সর্বোচ্চ শ্রেণীর ব্যাক্তি ও ব্যাক্তিত্ব সেখানে আইনজীবীদের নিখুত হওয়া প্রয়োজন, আইনঅঙ্গন নিখুত হওয়া প্রয়োজন, আইনী কার্যক্রম নিখুত হওয়া প্রয়োজন। কেননা এই অঙ্গনটাই সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যাবস্থার বিভিন্ন স্তরের নিখুত হওয়া ও নিখুঁততা রক্ষার জন্য কাজ করে থাকে। আর আইন অঙ্গনের কর্যক্রম নিখুঁত হওয়ার জন্য প্রত্যেক আইনজীবীদেরকে সবসময়ের জন্য দক্ষ, পারদর্শী ও সাহসী হতে হবে যেমনি করে কামনা করি দেশের বিভিন্ন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী, দেশরক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী, সীমান্ত রক্ষাকারী ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্তাব্যক্তিদের উপর। আর সেজন্য প্রতিবছর আইনজীবী সনদ নবায়ন পরীক্ষা অতিজরুরী।

প্রশ্ন থাকতে পারে - সনদ নবায়ন পরীক্ষা চালু হলে লাভ কি বা উপকার কি? বা সনদ নবায়ন পরীক্ষা চালুকরা জরুরি কেন?
সনদ নবায়ন পরীক্ষা এজন্যই জরুরি যে - প্রতি বছর সনদ নবায়ন চালু হলে প্রত্যেক আইনজীবী দক্ষ হবেন। আর দক্ষতা ও যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে প্রতিবছর আদালতে উকালতি করবেন। কারন এমন অনেক বড় উকিল ও সনদধারী উকিল আছেন যারা ভাল বুঝ জ্ঞানের অভাবে মামলায় হেরে যান ফলে মক্কেল তার জীবন ও সম্পত্তির দিকে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বয়স হলে বা অনেকে রোগাক্রান্ত হলে শারিরীক ও মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে পারেননা। আইনজীবীরাও এমন আছেন যারা বয়স্ক আছেন, রোগাক্রান্ত আছেন তারপরও মামলা পরিচালনা করছেন। অবস্থার কারনে ভুলও করছেন এতে মক্কেল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যা আইনঅঙ্গনের ও আইনজীবিদের প্রতি আস্থা নষ্ট হচ্ছে। খারাপ ধারণার জন্ম হচ্ছে ।কাজেই এই বিষয় বিবেচনায় নিয়েও সনদনবায়ন জরুরি। সক্ষমতার পরিচয়ের পরই আইনঅঙ্গনে আইনী কার্যক্রম পরিচালনায় পুণরায় নিয়োজিত থাকা উচিৎ। আর সনদ নবায়নের পরীক্ষায় কেহ অকৃতকার্য হলে ব্যার্থতার পর থেকে এই আইনজীবীর অধীনের মামলাগুলো পরিচালনা করবেন অন্য আরেকজন সনদ নবায়নকৃত আইনজীবী বা নতুন সনদপ্রাপ্ত আইনজীবি। যেমনি করে একজন আইনজীবীর মৃত্যুর পর বা অসুস্থতাজনিত কারনে কোন আইনজীবী আদালতে অনুপস্থিত থাকলে অন্য আইনজীবীরা মামলা পরিচালনা করেন সেভাবে।আর এসব ক্ষেত্রে মামলা নতুন কারও নিকট হস্তান্তরের জন্য দ্বায়িত্ব পালন করবেন কোর্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। এটর্নি জেনারেল সহ সকল আইনজীবী সনদ নবায়ন পরীক্ষা দিয়ে সনদ নবায়ন করবেন। নিয়ন্ত্রণে থাকবেন জজ ও বিচারপতিরা। কারও কোন অকৃতকার্যতার কারনে মামলা হস্তান্তরের মত এটর্নি জেনারেল থেকে, পিপি, এপিপি, জিপি, এজিপি সব পদের কর্তাব্যক্তিদেরই পরিবর্তন হবে। আর বছর শেষের দিকে শেষ এক সপ্তায় এই হস্তান্তর হবে। এর আগে পরীক্ষা ও ফলাফল হবে। ফলাফল হতে হস্তান্তর পর্যন্ত সময়ে আগের আইনজীবীরাই পূর্বের মত মামলা পরিচালনা করবেন এবং বিভিন্ন কোর্টের প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করবেন। যেন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অন্য আইনজীবীদের নিকট মামলা হস্তান্তরে ভাল সুবিধা পান। এমনটাই একান্ত হওয়া উচিৎ। কেননা - আইনজীবীদের মাঝে কখনো কখনো এমন এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেখতে পাওয়া যায় যাহাতে একেবারে তাজ্জব বনে যাওয়া লাগে। যেমন ইদানীং কালে আগস্ট মাস ২০২৪ ইং সালে পত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। হবিগঞ্জ জেলার পিপি যিনি উকালতি পেশায় আছেন ৩৪ বছর ধরে। কিন্তু এই ৩৪ বছর ধরে ওকালতি করা আইনজীবীর সনদ নেই। বারকাউন্সিল এতবছর কোথায় ছিল?!!!

২০১৯ সালে কুমিল্লা জেলা জজকোর্টে মোটামুটি কম সময়ে ভাল পরিচিতি পাওয়া " কেশব" নামক একজন অতিথি আইনজীবী যিনি অনেক মামলায় অংশগ্রহণ করছেন জামিন শুনানিও বেশ করেছেন। হঠাৎ করেই কোর্টে সেই আইনজীবীর নামে ওয়ারেন্ট নিয়ে হাজির হন পুলিশ কর্মকর্তা কুমিল্লার কোর্ট চেম্বারে । কিন্তু ততক্ষণে সেই অতিথি আইনজীবী কেশব এর অন্যান্য আইনজীবী বন্ধুরা অতিথি আইনজীবী কেশবকে অবাক হয়ে খোঁজতে থাকেন। কারন অতিথি আইনজীবী কেশব সেদিন কোর্ট চেম্বারে আসেননি। পরে পুলিশ কর্মকর্তা থেকে পুরো কোর্ট জুড়ে প্রচার ও প্রকাশ পায় " কেশব" নামের সেই অতিথি আইনজীবী একজন ভূয়া আইনজীবি। সেই বাকপটু ধূর্ত "কেশব" কিশোরগন্জে অধিবাসী। এবং সে প্রকৃতপক্ষে কিশোরগঞ্জ কোর্টের একজন মহূরী। ধর্ষনের দায়ে সেই কেশব ধর্ষণ মামলার একজন পলাতক আসামী। মামলায় পড়ে ধরা পরার ভয়ে পলাতক হয়ে ছদ্মবেশে কুমিল্লা জেলার আইনজীবীদের সাথে কোট, টাই, গাউন লাগিয়ে বিভিন্ন আইনজীবীর সাথে চলাচল করে সখ্যতা গড়ে তোলে কয়েকজন মেটামুটি নাম ডাক ওয়ালা আইনজীবীর সাথে। কেশবের মামলা পরিচালনায় জামিনও হয়েছে মোটামুটি বেশ কয়েকজনের। জামিন নামায় স্বাক্ষর সহ সবই হয়েছে। ভূয়ার উপর ভূয়া হয়ে আইনজীবী সেজে সে মামলা পরিচালনা করে টাকা পয়সাও বেশ ভাল পরিমানে রোজগার করে আবার উধাও হয়ে যায়। আজও সে পুলিশের হাতে আটক হয়েছে কি না জানানেই।
কিন্তু নিয়মের প্রশ্ন থেকে যায় যে এই "কেশব আইনজীবী"ই ভূয়া। সে হিসেবে তার মামলা পরিচালনা ভূয়া, এবং তার পরিচালিত মামলায় যারা জামিন পেয়েছে তা ও ভূয়া, যারা জেল হাজতে গিয়েছে তা ও ভূয়া। এই ভূল ও অন্যায়গুলোর দ্বায়বদ্ধতা কার? নিশ্চয়ই বারকাউন্সিলের। বারকাউন্সিল নিশ্চয়ই এই দ্বায় এড়াতে পারেনা। কেননা তিন ধাপের জটিল নিয়মের পরীক্ষা যেখানে বারকাউন্সিল পরিচালনা করে আইনজীবী সনদ প্রদান করে তাও আবার প্রায় ২ হাজার ৩ হাজার প্রতিবছর। সে হিসেবে তাদের তদারকির দ্বায়িত্ব বারকাউন্সিলের। প্রতি ৩ বছর অন্তর অন্তর বারকাউন্সিল নির্বাচন হয়। জেলা বারের নির্বাচিত কর্তাব্যক্তিরা কি পারেননা ৬ মাসে একবার বা বছরে একবার হলেও আইনজীবী সনাক্তকরণ হালনাগাদ কার্যক্রম পরিচালনা করতে? তাহলে নির্বাচিতদের দ্বায়িত্ব কি? আর প্রকৃত আইনজীবি কি না সেটা যাচাইয়ের দ্বায়িত্ব কার? জেলা বারের নির্বাচন ও বারকাউন্সিলের নির্বাচন কেন হয়? এই দ্বায়িত্বহীনতার জন্যই তো সম্প্রতি আগষ্ট ২০২৪ এ প্রকাশিত ও প্রচারিত জাল সনদে "হবিগঞ্জের পিপি সিরাজুল হক ৭ বছর ধরে পিপি, এবং ৩৪ বছর বছর ধরে স্বনামধন্য আইনজীবী। প্রকৃত আইনজীবী অনেকেই আছে মামলার অভাবে ভাতে মরে। আর শিক্ষানবীশ আইনজীবিরা সব জায়গায় হয়রানির শিকার হয়। হবিগঞ্জের পিপি সিরাজুল হক জাল সনদে ৩৪ বছর আইন পরিচালনা করা এবং ৭ বছর পিপির দ্বায়িত্ব পালন করা চাট্টিখানি কথা নয়। আর সনদ ছাড়া ধর্ষণ মামলার আসামী কুমিল্লার ভূয়া আইনজীবি কেশবের মত মামলা পরিচালনাও চাট্টিখানি কথা নয়।এখন এমন সবই মামলা যদি এমন সহজে ও ভালভাবে সম্পন্ন হতে পারে সিরাজুল হক, ও কেশবের মত অযোগ্য প্রতারকদের মাধ্যমে--
তাহলে বহুবছর ধরে কোর্ট অঙ্গনে চলাফেরা করা শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা সুনিশ্চিত যে অযোগ্য নয়। তাহলে সব নিয়ম মেনে আইনজীবী সনদ পেতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের এত ভোগান্তি কেন?!!! নাকি "আফজাল চাচা"র মাধ্যমে একটা অবৈধ সনদ বানিজ্য করিয়ে সনদ প্রদান করার জন্যই কোনমহলের এই কারসাজি??
সময়ে সময়ে সনদবিহীন ভূয়া আইনজীবি , এবং জাল সনদের আইনজীবী বহুজনই ধরা পড়েছেন এবং টিভি পত্রিকার হেডলাইনও হয়েছেন। আর তখনই হয়েছেন যখন কেহ পিছু নিয়েছে কোননা কোনভাবে প্রতারিত হয়ে বা অন্যের সাথে প্রতারণা হয়েছে বুঝতে পেরেছেন। আর তখনই ভূয়াদের থলের বেড়াল বের হয়ে যায়। কিন্তু এই ভূয়ারা সুযোগে অবৈধ পথে পা দিয়ে বিভিন্ন সহায় সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন যা লোভ সৃষ্টি করেছে, ভুলের দিকে এগিয়ে নিয়েগেছে, ভাল খারাপ উভয় মনমানসিকতার ব্যাক্তিদের। আর দুর্নামে কলঙ্ক দিয়েছে সব সভ্যকে।
দেশের বিভিন্ন বারে এখনও বহু জাল সনদধারী আইনজীবী আছে, এবং আছে ভূয়া আইনজীবি । আর বারকাউন্সিলের সহসচিব "আফজাল চাচা"র দেশের দু:সময়ে সরিয়ে নেয়া বস্তায়তো জাল সনদধারীদের তথ্য আছেই। আরও কতবস্তা কত সুসময়ে সরিয়ে গায়েব করেছেন সে সব বস্তাতো আর গুনে শেষ করা যাবেনা। এগুলোও বুঝা যেতনা যদি সিসিটিভি ফুটেজে ধরা না পড়ত।

শিক্ষানবীশদের সনদহেনস্থার আন্দোলনের বিরোধিতায় অনেকের নামে বেনামে মুখ খুলতে দেখাযায়। তাদের ভেতরে ভেতরে চরম শঙ্কা যে - "" ধরা পড়লে উপায়নাই গোলাম হোসেন""। আর তাই আন্দোলনের বিরুদ্ধে ওনারা ফেসবুক আন্দোলন করেন। কারন ওনারা জানেননা কোথায় কোন বিষয় নিয়ে আবেদন আন্দোলন করা লাগে। সনদ নবায়ন চালু হলে ওনারা সেটাও শিখে যাবেন।

ওনারা আবেদন আন্দোলন করতে পারেননা আদালত পাড়ায় একটা দালালের বিরুদ্ধে, বা কোন মহুরির বিরুদ্ধে। ওনারা একটা নোটিশের জন্য নেজারত শাখার স্টাফদের সাথে লিয়াজো রাখেন। কারন কোথায় কিসের জন্য প্রতিবাদ করা লাগে, কোনটা অধিকার আর কোনটা অধিকার নয়, কোনটা নিয়ম আর কোনটা নিয়ম নয় সেসব বিষয়ে অবগত নন। সনদ পেয়ে গাউন পড়েন টাকা আর সুনামহীন সুনামের চাপাবাজী করার জন্য।
একজন ঘুষ দিয়ে নেজারত শাখা বা জি আর ও শাখা, বা নকল শাখা, বা পেশকার, বা, সেরেস্তাদার এসব স্টাফদের আয়ত্বে এনে স্বার্থ হাসিল করলে - ওনারাও সে পথটাই বেছে নেন। টাকাও খরচ করেন আবার বিবেকও হারিয়ে ফেলেন। আইনজীবি সনদ হলে আইনজীবীগণকে জজসাহেব দাম দিলেও বিভিন্ন স্টাফদের নিকট ওনারা দাম পাননা। ওনারা নিজেরা বলে থাকেন টাকা ছাড়া কেহ নড়েনা। নিজের সনদের পাওয়ারের খাতিরে একবার বলতে পারেননা আমি নিয়ম মেনে এসেছি তুমি ঘুষ চাওয়ার অনিয়ম কেন পালন করতেছ? এমন কোন আন্দোলন, অভিযোগ, আবেদন কিছুই করেননা। কারন ওনারা বুঝেননা ওনাদের স্থান বা মর্যাদা কোথায় বা কত? তাইতো সনদ থাকলেও বিভিন্ন স্টাফরা ওনাদেরকে ব্যাবহারে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলে। ওনারা সনদের উপযুক্ত ব্যাবহার জানেননা বলেই দাম পাননা। ওনারা বুঝেন মামলা থাকলে ওনাদের দাম আছে আর মামলা না থাকলে ওনাদের দাম নাই । দাম তৈরী করতে যেয়ে হয়ে যান সনদধারী দালাল। এসব কারনে স্টাফরা ওনাদের নিকট ঘুষ কামনা করে। নয়তো সনদ কপি হাতে নিয়ে অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও যোগ্য সেবা দেয়না এসব আইনজীবীদের। বরং মহুরীদেরকে তুলনামূলক ভাল সেবা দেয়। অনেক আইনজীবীরা নিজ পকেট খালি করে হলেও ঘুষ প্রদান করে থাকেন এসব বিভিন্ন সেক্টরের স্টাফদের।
কাজেই সনদ নবায়ন পরীক্ষা চালু হলে সকলে সনদের মান বজায় রাখা শিখবে ও সে সাথে নিজের উপযুক্ত মান বজায়ে থাকবে আইনজীবীদের। অনেক আইনজীবীদের দেখাযায় মামলা মোকদ্দমা ভাল বুঝলেও মামলা নাই। সিন্ডিকেটের কারনে মামলা পাওয়া নিয়ে হতাশ। সিন্ডিকেটের কারনে মামলাই পাননা। তখন পেট বাঁচাতে হলেও সিন্ডিকেট এর প্রতি বা দালালের প্রতি মুখিয়ে থাকতে হয় একান্ত না পেরেই পরিস্থিতির শিকার হয়ে। - যেখানে অন্য অনেক আইনজীবীরা মামলা নিয়ে কোর্টে শুনানির জন্য সঠিক সময়ে হাজির হওয়ারই পর্যাপ্ত সুযোগ পাননা, কারন মামলা খুব বেশি। আর মামলা বেশি হওয়ার কারনে কখনো কোনটা ওনি নিজে আর অন্যান্যগুলো ওনার নির্দেশে সাথে থাকা অন্যান্য আইনজীবীরা নিয়ন্ত্রণ করতে উপস্থিত হন। কিন্তু এখানে এই মামলা গুলোই বড়উকিলের সাথে থাকা আইনজীবীদের নিকট সরাসরি আসত, যদি ওনারা সেই বড়আইনজীবির অধীনের মামলায় পরিচালনায় সহযোগিতা না করতেন। আর বড় আইনজীবীকে কেন্দ্র করে যে সিন্ডিকেট তৈরী হয় সেটাও তৈরী হতনা বা ভেঙ্গে যেত। আর তখন বড় আইনজীবি সব মামলা একসাথে পরিচালনা না করতে পারার কারনে ইচ্ছে করেই কিছু মামলা যা সহজ পর্যায়ে পড়ে সেগুলো ছোট আইনজীবীকে প্রদান করতেন। ছোট আইনজীবী তখন এসব মামলা পরিচালনা করে আস্তে আস্তে দক্ষ আইনজীবী হতেন। যখন যে পর্যায়ে বড়আইনজীবির প্রয়োজন হবে তখন বড় আইনজীবীকে মামলা হস্তান্তর করবেন বা ফি দিয়ে বড় আইনজীবী থেকে পরামর্শ নিয়ে মামলা পরিচালনা করবেন। কিন্তু নিজেসহ যৌথভাবে ছোটবড় মিলে মামলা পরিচালনায় অংশনিলে প্রায় অধিকাংশ আইনজীবীর প্রতি এককভাবে ঝুঁকে যাওয়া হয় বা অন্যভাবে বললে বড়আইনজীবি কে দিয়ে অন্যান্য আইনজীবীর প্রতি অবিচার করাহয়।আর এই অবিচার বৈষম্য সমস্যার প্রতিকার হল- বারকাউন্সিল এই নিয়মটা সংশোধন করতে হবে এভাবে যে- একটি মামলায় একসাথে একাধিক আইনজীবী শুনানি কাজে অংশ নিতে পারবেননা।
এতে প্রমাণিত হবে প্রত্যেক আইনজীবীই পরিপূর্ণ দক্ষ, পারদর্শী ও জ্ঞানী। এতে কেহ কাউকে হেয় করার সুযোগ নেই, এতে দালাল সিন্ডিকেটদের প্রতি একটা অটো বিরুধিতা চলবে। কেউ দালাল সিন্ডিকেট এর প্রতি ঝুঁকবেনা। কারন মক্কেলকে কোনকিছু বুঝিয়ে দিতে আইনজীবী অবশ্যই নিজেকে দক্ষ করে নিবেন কঠোর পরিশ্রম করে। নয়তো উকিলসাহেব মামলা চালাতে অপারগতা প্রকাশ করবেন এবং মামলা অন্য কোথাও নিতে পরামর্শ দিবেন । মামলা পাওয়ার আশায় না ঘুরে মামলা দক্ষ পরিচালনায় প্রত্যেকে মনোযোগ দিবেন। যা নিয়মনীতির যথাযথ পালন ঘটাবে। সকলেই মামলা ভাল পরিচালনা করবে অযথা মামলা নিয়ে টানাটানি করে হয়রানি করবেনা। সবাই অবশ্যই সচেতন থাকবে। কোন দলমতের অনিয়ম থাকলে সেটাও ভেঙ্গে যাবে। দক্ষতায় পরিপূর্ণ থাকবে আদালত।দালাল আর না থাকলে মিথ্যা মামলা, ঠুনকো কারনে মামলা এসব না হয়ে অনেকগুলো ঝামেলা পরিবারে আর সমাজেই সীমাবদ্ধ থেকে সমাধান হয়ে যাবে। দালালের লাভ না থাকলে শুধু শুধু দালালীও করবেনা।
সব আইনজীবী দক্ষ পরীক্ষায় সনদ নবায়ন করলে কেহ আর ছোট বড় আইনজীবী হবেননা। ফেসভ্যালুর চেয়ে জ্ঞানভ্যালুর মূল্যায়ন হোক। প্রতিবছর সনদনবায়ন চালুহলে জ্ঞানভ্যালু নিয়ে প্রত্যেক আইনজীবী স্বসম্মানে আইনঅঙ্গনে মাথা উঁচু করে চলতে পারবে। মক্কেলদেরকে আর দালাল বা মহুরীর উপর নির্ভর করা লাগবেনা।

সবাই সনদ নবায়নের জন্য পড়ায় মনোযোগ দিলে অতিরিক্ত মামলা পরিচালনায় অংশগ্রহণ কমবে।
কাজেই সনদ নবায়ন পরীক্ষা ও এককভাবে মামলা পরিচালনা নিয়ম চালু করলে সিন্ডিকেট ভেঙ্গে সবার নিকট মামলা থাকবে ও সুষ্ঠু পরিচালনা হবে। এমন অনেক আইনজীবী আছেন যারা হয় মামলা লোভী বা ওনাদের নিকট মামলা কম, এমন আইনজীবীরা সহজ কথায় মক্কেলকে সমাধান দেয়া বা মামলা না করে পারিবারিক বা সমাজিক সমাধানে আগ্রহী হওয়া উচিৎ এই পরামর্শ না দিয়ে শুধু শুধু মামলা করতে আগ্রহী করেন। যার ফলাফল দাঁড়ায় সামজিক অসঙ্গতি বাড়ে, পাল্লাদিয়ে বাড়ে আরও অনেক ফৌজদারি অপরাধ ও মামলা মোকদ্দমা।
সনদ প্রদান ও নবায়নের এই তিন ধাপের পরীক্ষা বারকাউন্সিল এবং সনদপ্রাপ্তদের মতে খুবই উপযুক্ত। তাই সনদ নবায়নের এই পরীক্ষার প্রতি সব সনদপ্রাপ্ত আইনজীবিদের খুব আস্থা থাকবে এবং এতে সকলেই খুব স্বাচ্ছন্দ বোধ করবেন। সনদপ্রাপ্ত আইনজীবি মানেই উনি পুরোপুরি উপযুক্ত। কাজেই সনদ নবায়ন পরীক্ষাটি নবীন প্রবীণ সব সনদপ্রাপ্ত আইনজীবীদের জন্য একটি উৎসবমুখর পরিবেশের তৈরী করবে। কারন সনদপ্রাপ্ত আইনজীবিরা শিক্ষানবীশদের চেয়ে তুলনামূলক অনেক দক্ষ অভিজ্ঞ ও পারদর্শী। আর বারকাউন্সিলের তিন ধাপের পরীক্ষায় এল এল বি কোর্স করে সার্টিফিকেট অর্জন করা পাঠিত বিষয় এবং মামলা মোকদ্দমায় চলমান বিভিন্ন ধাপ ও ক্রিয়াকলাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। যা সিনিয়র আইনজীবি বা সনদপ্রাপ্ত আইনজীবি মানেই খুব সহজে উত্তর প্রদানে সক্ষম। আর কোচিং সেন্টার পরিচালনাকারী আইনজীবী ও সাজেশন বই লেখক আইনজীবী মানেই বিদ্যুৎ গতিতে উত্তর করতে পারবেন। কাজেই একই প্রশ্নপত্রে সনদ প্রদান ও সনদ নবায়ন তিন ধাপের পরীক্ষাটি সনদপ্রাপ্ত সকল আইনজীবীদের জন্য যেমন উৎসবমুখর তেমনি গর্বের পরীক্ষা ও গর্বের পরীক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিবে। আর সুশীল আইনজীবীদের নজরে এই লেখাগুলো পড়া মাত্রই ওনারা - এই সনদ নবায়ন পরীক্ষার প্রতি আগ্রহ দেখিয়ে ঐক্যমত প্রকাশ করে বারকাউন্সিলে আবেদন করবেন যা প্রকাশের পর গর্বের সাথে সুশীল আইনজীবীদের সবাই উচ্চ সম্মান জানাবে।
আর এই লেখার লেখক ও সমর্থনকারীদের পক্ষ থেকে আগেই আন্তরিক সম্মান রয়ে গেল।

"একই প্রশ্নপত্রে নতুন সনদ ও সনদ নবায়ন " বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলে করবে শুধু জাল জ্বালিয়াতি ও আফজাল চাচা কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত আইনজীবিরা এবং এমন জাল জ্বালিয়াতি ও আফজাল চাচার মাধ্যমে সনদ পাওয়ার পথকে সমর্থন ও অনুস্মরণ করে যারা ভবিষ্যতে চলার জন্য সব পাকাপোক্ত করে রেখেছে ওরা।
এই ভূয়ারা ছাড়া আর কেহই আর একই প্রশ্নপত্রে নতুন সনদ ও সনদনবায়ন পরীক্ষার বিরুধিতা করবেনা। কাজেই এসব ভূয়াদের স্বসম্মানে পরীক্ষার মাধ্যমে সংস্কার করতে একই প্রশ্নপত্রে নতুন সনদ ও সনদ নবায়ন পরীক্ষার বিকল্প নেই।
কেননা এতে আর কেহ সনদ ছাড়া উকালতিতে আর সুযোগ পাবেনা। কারন প্রতিবছরই একজন আরেকজনকে বন্ধুসুলভভাবে বা সচেতনতামূলক নীতির আলোকে জিজ্ঞেস করবে কি খবর আপনার সনদ নবায়ন হয়েছে কি? একটু দেখি? আবার জজ ম্যাজিষ্ট্রেটরাও খোজ নিবে। আর তখনই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। যেখানে একজন আইনজীবী আরেকজন আইনজীবির বন্ধু সেহেতু একজন আরেকজনের সনদ যাচাই করলে কেহ কোন আপত্তি থাকবেনা। কারন কথায় আছে পাপ নাই গায়ে যখন জমের কি ভয়। পিপি সিরাজুল হক, "অথিতি ভূয়া আইনজীবি কেশব" এমন আইনজীবীরা আর সুযোগ পাবেনা।এই সনদ নবায়ন পরীক্ষা প্রতিবছর চালু করলে কেহ আর কাউকে নিয়ে আপত্তি থাকবেনা। আর কেহ বলবেনা তোমাদের পরীক্ষা সহজ হয়েছে, আমাদের কঠিন ছিল। বা আমরা পরীক্ষা দিয়ে সনদ পেয়েছি খুব কষ্ট করে, আর আপনারাতো ভাইবা দিয়েই উকিল হয়েছেন।

আদালত পাড়ায় যারা ভূয়া কাজে জড়িত তারা আর কোন আইনজীবীকে দূর্বল করার সুযোগ পাবেনা। গলা উঁচিয়ে সকলেই কথা বলতে পারবেন।দালাল- ফালাল, ঘুষখোর, সিন্ডিকেট সবই পালাইতে বাধ্য থাকবে।

আর সে সাথে আইন অঙ্গনে বজায় থাকবে সুষ্ঠুতা, সুস্থতা।

কাজেই এটাই হোক আমাদের সবসময়ের একমাত্র স্লোগান-

@@@

সুষ্ঠুতা,সুস্থতা, আর দক্ষতায় ভরা থাকুক আইন অঙ্গন।

চাই প্রতিবছর একই প্রশ্নপত্রে নতুন সনদ ও সনদ নবায়ন।
@@@

লেখক- বিপু চৌধুরী

Address

Mogultoly
Cumilla
3500

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Bipu's world posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Bipu's world:

Share