24/03/2023
তারাবি ৮ রাকাত না ২০ রাকাত ? মাযহাবী ও মিথ্যাবাদীদের বিরুদ্ধে
দলিল প্রমান সহ আহলেহাদীছদের দাত ভাঙ্গা জবাব
বাংলাদেশে মানুষ ২০ রাকাত তারাবীহ পড়ে কিন্তু কেন?
অধিকাংশ মানুষই ২০ রাক‘আত তারাবীহ পড়ে কোন দলিলের ভিত্তিতে?
তারাবী ৮ না ২০ রাকাত?
সত্য জানুন মাযহাবীদের মিথ্যাচারের উচিত জবাব
তারাবীহর রাকআত সংখ্যা ৮ না ২০ বাহাস┇ছহীহ হাদীছের আলোকে ফলাফল
আলোচক :
শায়খ হাফেয আখতার মাদানী
দাঈ. আল-কাছিম দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব
শায়খ শরীফুল ইসলাম মাদানী
সাবকে দাঈ, আল-ফুরক্বান দাওয়াহ সেন্টার, বাহরাইন
উপস্থাপক :
ড. মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন
সম্পাদক, মাসিক আত-তাহরীক
🎴তারাবীহ ৮ রাকাত পড়াই সুন্নত।
অসংখ্য সহি হাদিস রয়েছে ।
📜 তারাবীর স্বলাত ৮+৩=১১ না ২০+৩=২৩ রাকাত
তর্ক নয় আসুন সহীহ হাদীস জানি এবং আমল করি।
৮ রাকাতের পক্ষে ১০০টি সহীহ হাদীস দিলাম। ⤵️⤵️⤵️
আমি আলী বলছি, রাসূল ﷺ এর ক্বিয়ামূল লায়েল, তাহাজ্জুদ (রমজানে তারাবীহ) নিয়মিত সালাত বিতর সহ ১১ রাকআত এবং ফজরের দুই রাকআত সুন্নাত সহ ১৩ রাকআতের বেশি ছিলনা। এ বিষয়ে অনেক সহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
রাক‘আত সংখ্যাঃ রামাযান বা রামাযানের বাইরে রাসূলুল্লাহ ﷺ হ’তে রাত্রির এই বিশেষ নফল ছালাত তিন রাক‘আত বিতরসহ ১১ রাক‘আত ছহীহ সূত্র সমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে। যেমন আয়েশা (রাঃ) বলেন,
مَا كَانَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَزِيْدُ فِيْ رَمَضَانَ وَلاَ فِيْ غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً، يُصَلِّيْ أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُوْلِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّيْ أَرْبَعًا فَلاَ تَسْأَلْ عَنْ حُسْنِهِنَّ وَطُوْلِهِنَّ ثُمَّ يُصَلِّيْ ثَلاَثًا، متفق عليه-
রামাযান বা রামাযানের বাইরে রাসূলুল্লাহ ﷺ রাত্রির ছালাত এগার রাক‘আতের বেশী আদায় করেননি। তিনি প্রথমে (২+২) [1] চার রাক‘আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিনি (২+২) চার রাক‘আত পড়েন। তুমি তার সৌন্দর্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। অতঃপর তিন রাক‘আত পড়েন।[2]
আমি লক্ষ করে দেখলাম عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ أَنَّهُ سَأَلَ عَائِشَةَ كَيْفَ كَانَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللهِ فِي رَمَضَانَ আবি সালামাহ ইবনে আব্দুর রহমান নামে একজন তাবিঈ (আল্লাহ তার উপরে রহম করুন) আয়িশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করছেন যে, রমায্বনে রাসূল ﷺ এর স্বলাত কেমন ছিল?[বুখারী হা/২০১৩]
রমাদ্বানে? হ্যাঁ হ্যাঁ রমায্বনেই। চিন্তা করেন। প্রশ্ন কারী প্রশ্ন করেছেন খাসভাবে রমাদ্বানকে উল্লেখ করে। আর আমাদের মা আয়িশা রাঃ উত্তরে কী বললেন? مَا كَانَ يَزِيدُ فِي رَمَضَانَ وَلاَ فِي غَيْرِهِ عَلَى إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً (রাসুল ﷺ) রমায্বনে অথবা রমায্বনের বাইরে ১১ রাকাতের বেশি স্বলাত আদায় করতেন না। [বুখারী হা/২০১৩]
ভাই যদি এটা তারাবী না হয়ে তাহাজ্জুদ হয় তো খাস করে রমায্বনে কত রাকাত তা জিজ্ঞাসা করা হল কেন?
আর আয়িশা (র)_ই বা কেন বললেন, রমায্বনেই হোক আর অন্য মাসেই হোক তিনি ১১ রাকাতের বেশি স্বলাত আদায় করতেন না?
মানে বিষয়টি একেবারেই সুস্পষ্ট যে যেটাই তারাবীহ সেটাই তাহাজ্জুদ। আলাদা কিছু নয়। আর তা হল ৮ রাকাত আর বিতর ৩ রাকাত দিয়ে মোট ১১ রাকাত। আয়িশা (রা) এটাই পরিস্কার করে দিয়ে গেছেন। আর এই ১১ রাকাত স্বলাত সুন্দর করে আদায় করলেই রমায্বনের ক্বিয়াম আদায় হয়ে যাবে আর তার ফজিলত হাসিল হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
১১ রাকাতঃ- আয়িশাহ(রাঃ) থেকে বিভিন্ন সনদে ও ভংগিতে বর্নিত হয়েছে যে, নাবী(সঃ) রাত্রিকালে ইশার পরের ২ রাকাত ও ফাজরের পূর্বের ২ রাকাত সুন্নাত ছাড়া মোট ১১ রাকাত সলাত আদায় করতেন।এক বর্ননায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ(সঃ) রমাযান ও অন্যান্য মাসেও রাত্রে ১১ রাকাতের বেশী নফল আদায় করতেন না। বুখারী-১১৪৭,১১৩৯,৯৯৪,২০১৩ মুসলিম- সলাতুল্লাইল ওয়াল বিতর-৬/১৬, ১৭ ,২৭
আল্লাহ বলেন,
قُلۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُحِبُّوۡنَ اللّٰہَ فَاتَّبِعُوۡنِیۡ یُحۡبِبۡکُمُ اللّٰہُ وَ یَغۡفِرۡ لَکُمۡ ذُنُوۡبَکُمۡ ؕ وَ اللّٰہُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۳۱﴾
বল, ‘যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তবে আমার অনুসরণ কর, আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’। (আল-ইমরান: ৩১)। অর্থাৎ আল্লাহর ভালবাসা ও নাজাত পেতে মুহাম্মাদ ﷺ এর তরীকায় চলতে হবে। তাঁর তরীকার বাইরে অন্য কোনো নবীর তরীকায় নাজাত থাকতে পারে বলে মনে করাও কুফরী।
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَجِيبُواْ لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمۡ لِمَا يُحۡيِيكُمۡۖ وَٱعۡلَمُوٓاْ أَنَّ ٱللَّهَ يَحُولُ بَيۡنَ ٱلۡمَرۡءِ وَقَلۡبِهِۦ وَأَنَّهُۥٓ إِلَيۡهِ تُحۡشَرُونَ٢٤﴾ [الانفال: ٢٤]
“হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের ডাকে সাড়া দাও; যখন সে তোমাদেরকে আহ্বান করে তার প্রতি, যা তোমাদেরকে জীবন (মৃত্য হৃদয় জীবন করে) দান করে। জেনে রেখো, নিশ্চয় আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় (আল্লাহর অনুমতিতে মানুষ মুমিন ও কাফের) হন। আর নিশ্চয়ই তাঁর নিকট তোমাদেরকে সমবেত করা হবে।” [সূরা আল- আনফাল, আয়াত: ২৪]
আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, এক ধরনের লোকেরা বলে, আমরাই আল্লাহ ও তার রাসূলের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনকারী। অথচ তারা যখন আল্লাহর দীন বা তার দেওয়া শরী‘আত -যা নিয়ে দুনিয়াতে আল্লাহর রাসূল আগমন করেছেন, তাতে এমন কিছু আবিষ্কার করে, যা তার দীনের অংশ নয়, তখন তারা অবশ্যই আল্লাহ ও তার রাসূলের সামনে অগ্রগামী হলো। অথচ আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تُقَدِّمُواْ بَيۡنَ يَدَيِ ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦۖ وَٱتَّقُواْ ٱللَّهَۚ إِنَّ ٱللَّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٞ ١﴾ [الحجرات: ١]
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে অগ্রবর্তী হয়ো না এবং তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন কর, নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ”। [সূরা আল-হুজরাত, আয়াত: ১]
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, 'আমার মনে হয় ওরা ধ্বংস হয়ে যাবে। আমি বলছি, নবী ﷺ বলেছেন’ আর ওরা বলছে, আবু বকর ও উমর বলেছেন।[এটিকে আহমদ প্রভৃতিগণ বর্ণনা করেছেন ও আহমাদ শাকের এটিকে সহীহ বলেছেন]
আল্লাহ তা‘আলা আরও বলেন:
(يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ (20)) ... [الأنفال: 20].
‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না, অথচ তোমরা শুনছ’(সূরা আল-আনফাল:২০)।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَ اَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ وَ لَا تُبۡطِلُوۡۤا اَعۡمَالَکُمۡ ﴿۳۳﴾
হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর। আর তোমরা তোমাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করো না।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿مَّن يُطِعِ ٱلرَّسُولَ فَقَدۡ أَطَاعَ ٱللَّهَۖ وَمَن تَوَلَّىٰ فَمَآ أَرۡسَلۡنَٰكَ عَلَيۡهِمۡ حَفِيظٗا ٨٠﴾ [النساء : ٨٠]
“যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে আল্লাহরই আনুগত্য করল। আর যে বিমুখ হল, তবে আমি তোমাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক (দারোগা) করে প্রেরণ করি নি”। [সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৮০]
তারেক বিন মুযাফফর