24/06/2022
জুমুআর দিনের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ
_________________________
(১) সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করা
জুমার দিনে কুরআন মাজীদের সুরা কাহাফ (১৮ নাম্বার সুরা) তেলাওয়াত করা মুস্তাহাব (উত্তম)। যে ব্যক্তি সুরা কাহাফ পড়বে, পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার দিনগুলো নূরানি (আলোকিত) হয়ে থাকবে। পুরোটা সম্ভব না হলে, অন্তত প্রথম ১০ আয়াত ও শেষ ১০ আয়াত পড়া উচিৎ। যারা পড়তে পারেন না, তারা তেলাওয়াত শিক্ষা করার পূর্বে শুনতে পারেন। যারা পড়তে পারেন তারাও সুরা কাহাফের তেলাওয়াত শুনতে পারেন। তবে, শুনা কখনো পড়ার বিকল্প নয়। সুরা কাহাফ তেলাওয়াত করার সময় হলো বৃহস্পতিবার মাগরিব থেকে শুক্রবার মাগরিবের পূর্ব পর্যন্ত। একবারে পুরোটা পড়তে না পারলে ২-৩ বারে ভাগ করে পড়া যাবে।
সূরা কাহাফের ফজিলত:
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশটি আয়াত মুখস্ত করবে, তাকে দাজ্জালের ফিতনা হতে হেফাজতে রাখা হবে”। [সহিহ মুসলিম]
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেছেন, “যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন তার জন্য এমন একটি নূর হবে, যা তার অবস্থানের জায়গা থেকে মক্কা পর্যন্ত আলোকিত করে দিবে। আর, যে ব্যক্তি এর শেষ দশটি আয়াত পাঠ করবে, তার জীবদ্দশায় দাজ্জাল বের হলেও সে তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।”
[সিলসিলা সহিহাহ: ২৬৫১]
_____
(২) রাসূলের উপর দরুদ পাঠ করা
আল্লাহ তায়ালা বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবির প্রতি সালাত ও সালাম পেশ করেন। হে মুমিনগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পেশ করো এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও।” [সুরা আহযাব, আয়াত: ৫৬]
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমার দিনে বেশি বেশি করে দুরুদ পড়তে বলেছেন। সর্বশ্রেষ্ঠ দুরুদ হচ্ছে ‘দুরুদে ইব্রাহিম’ যা সালাতে পড়া হয়।
দুরুদ পড়ার ফজিলত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আমার প্রতি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার উপর দশবার রহমত করবেন।” [সহিহ মুসলিম: ৩৮৪]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তি সব লোকের চেয়ে আমার বেশি নিকটবর্তী হবে, যে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমার উপর দরুদ পড়বে।” [সুনানে তিরমিযি: ৪৮৪, হাদিসটি হাসান]
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমুআর দিন। সুতরাং ঐদিন তোমরা আমার উপর বেশি করে দরুদ পড়ো। কেননা, তোমাদের দরুদ আমার কাছে পেশ করা হয়।” [আবু দাউদ: ১০৪৭, নাসায়ি: ১৩৭৪, হাদিসটির সনদ সহিহ]
________
(৩) দু‘আ কবুলের বিশেষ সময়টিতে বেশি করে দু‘আ করা
জুমুয়ার দিন সংক্ষিপ্ত একটা সময় আছে, ঐ সময়ে বান্দা যা চায় তাই দেওয়া হয়। অধিকাংশ আলেমের মতে, সেটি আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “জুমুআহর দিনের বারো ঘন্টার মধ্যে একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, তখন কোন মুসলমান আল্লাহর নিকট যেই দুআ করে, আল্লাহ তাই কবুল করেন। তোমরা সেই মুহূর্তটিকে আসরের শেষদিকে অনুসন্ধান করো।”
[সুনানে নাসাঈ, সুনানে আবু দাউদ: ১০৪৮, হাদিসটি সহিহ]
সুতরাং দু‘আ কবুলের সময়টা পাওয়ার জন্য উত্তম হচ্ছে, আসরের সালাত আদায় করে জায়নামাযেই বসে থেকে মাগরিবের সালাতের জন্য অপেক্ষা করা, বিভিন্ন যিকর-আযকার, তিলাওয়াত এবং দু‘আ করতে থাকা। অন্তত মাগরিবের আযানের আধা ঘণ্টা পূর্বে অবসর হয়ে জায়নামাজে বসে যাওয়া।