16/05/2026
Sad
উচ্চশিক্ষা নিয়ে নীতিনির্ধারণী আয়োজন কিন্তু অনুপস্থিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব!!
গত ৫ মে, ২০২৬ শেরাটন এ বোর্ড অফ ট্রাস্টিজদের সংগঠন APUB আয়োজন করে 'Role of Private Universities in Higher Education, Future Directions & Joint Action Plan for Achieving National Goals' শীর্ষক মতবিনিময় সভা। উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রী, শিক্ষা উপদেষ্টা সহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত বোর্ড সদস্য ও ভিসি স্যার রা।
উক্ত অনুষ্ঠানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক নানা সমস্যা ও প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ২০২৪ এর নভেম্বরে প্রদত্ত প্রস্তাবনার সাথে মিল রেখেও কিছু প্রস্তাবনা উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু অদ্ভুত ভাবে যাদের নিয়ে এত এত আলোচনা, যাদের নিয়ে এত এত ভাবনা তাদের অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের একজন প্রতিনিধির ও সেই অনুষ্ঠানে যায়গা হয়নি।
শিক্ষার্থীদের কি সমস্যা, তাদের কি চাওয়া সেটা জানাবার কিংবা জানার আগ্রহ নেই কারও। অবস্থাটা এমন শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলোও যেন যারা শিক্ষার্থীদের নিজেদের মন মত নিয়ন্ত্রণ করতে চান তাদের মুখ থেকেই শুনতে হবে।
গত ১২ মে আবারও মাননীয় প্রধাণমন্ত্রী কে প্রধান অতিথি করে ইউজিসি ঢাবি সিনেট হলে আয়োজন করে ''Transforming Higher Education in Bangladesh : Roadmap to Sustainable Excellence'' শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার। সেখানেও ওই মুখচেনা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক বোর্ড সদস্য কে দেখা গেলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকেও দেখা যায়নাই। না ছিলো শিক্ষক প্রতিনিধিত্ব।
উচ্চশিক্ষার সংস্কার, রুপান্তর ও টেকসই উন্নয়ন যেন উচ্চ শিক্ষা খাতের নেতৃত্বে থাকা কয়েক লক্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নুন্যতম অংশগ্রহণ ও মতামত ছাড়াই অর্জন হয়ে যাবে!!
আমরা অত্যন্ত অবাক হই, যে গণঅভ্যুত্থান এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী বুকের তাজা রক্ত ঢেলে না দিলে আজকের এই সুযোগটিই আসতো না, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর বর্তমান সরকার তো বটেই এবং বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ট্রাস্টি বোর্ড সদস্যরাও সেই শিক্ষার্থীদের শতভাগ দূরে রেখে যেন নিজেদের সুবিধামত সব কিছু বাস্তবায়ন করে নিতে চাইছেন। অনেক বোর্ড সদস্য দখল হয়ে যাওয়া নিজের হাতে গড়া বিশ্ববিদ্যালয় টিও ফেরত পেতেন না এই অভ্যুত্থান এ ছাত্র রা রক্ত না দিলে! ইনফ্যাক্ট ইউজিসির আন্ডারে মাত্র ৫৭ টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবর্তে ১১৪ টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকবার পরেও তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নুন্যতম প্রাধান্য পায়না বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা!!
অন্যদিকে শিক্ষামন্ত্রী যেন আমাবস্যার চাঁদ! বড় বড় প্লেয়ার, বিত্তশালী আর নিজের বলয়ের লোক ছাড়া কেউ তার দেখা পায় না। তার পিএস যেন আরও বড় মন্ত্রী! সে কারও কল পর্যন্ত রিসিভ করেন না। নির্বাচনের আগে ডাক দিলেই উনি চলে যেতেন নানা প্রোগ্রামে আর এখন তাকে গত দুই মাসে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব উপায়ে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা স্পষ্ট করতে চাই, অতীতেও সকল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নুন্যতম মতামত শতভাগ অগ্রাহ্য করে একের পর এক নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সরকারের স্বার্থ ই একপাক্ষিক ভাবে দেখা হয়েছে। যার অন্যতম ফলাফল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ এর মত একটা আইন!! যেখানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নুন্যতম অধিকার রক্ষা করা হয়নি। বর্তমানেও যদি একই ধরনের কোন কিছু চেষ্টা করা হয়, আমরা অবশ্যই সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে তার বিরোধিতা করবো।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে কোন নীতি প্রণয়ন করতে হলে অবশ্যই অবশ্যই সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে, তাদের মতামত নিয়ে তবেই চুড়ান্ত করতে হবে।
------------------------------
Mahfuz Zakaria
প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, PUSAB