28/06/2026
"আজকের সময়ে সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা কোনো দেয়াল নয়, কোনো প্রযুক্তিও নয়; বরং একজন সচেতন, সংবেদনশীল এবং উপস্থিত অভিভাবক।"
কিছুদিন আগেও আমরা ভাবতাম, সন্তানের ভালো স্কুল, ভালো ফলাফল আর প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারলেই দায়িত্ব শেষ। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতা আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। আজকের শিশুরা বড় হচ্ছে এমন এক সময়ে, যেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন প্রভাব, মানসিক চাপ, সহিংসতা, মূল্যবোধের সংকট এবং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ প্রতিনিয়ত তাদের চিন্তা ও আচরণকে প্রভাবিত করছে।
এই পরিস্থিতিতে শুধু অভিভাবক হওয়া যথেষ্ট নয়, সচেতন প্যারেন্ট হওয়াটাই সবচেয়ে জরুরি।
একজন মা বলছিলেন, "আমি আমার সন্তানের সব প্রয়োজন পূরণ করেছি, তবুও সে তার অনুভূতির কথা আমার সাথে শেয়ার করে না।কোনো মনখারাপের সময় সে দরজা বন্ধ করে নিজেকে ঘরবন্ধী করে রাখতে বেশী স্বাচ্ছন্দ বোধ করে। সেদিন তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, সন্তানের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার ভালো রেস্টুরেন্টে খাওয়ানো বা ব্রান্ডের জামা উপহার দেয়া নয়; বরং সময়, মনোযোগ এবং নিরাপদ সম্পর্ক।
বর্তমান সময়ে সন্তানদের শুধু কী পড়ছে তা জানলেই হবে না, বরং—
- তারা কী ভাবছে
-কার সাথে মিশছে
-অনলাইনে কী দেখছে
-মানসিকভাবে কেমন আছে
এসব বিষয়েও সচেতন থাকতে হবে।
আজকের বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্যারেন্টিং কোনো বিলাসিতা নয়, এটি একটি অপরিহার্য দক্ষতা। কারণ ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে উঠবে আজকের শিশুদের হাত ধরে, আর আজকের শিশুরা গড়ে উঠবে আমাদের ভালোবাসা, মূল্যবোধ, সময় ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে।সন্তানকে শুধু বড় করে তোলা নয়, তাকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই হোক আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তানজিলা আক্তার
ডেপুটি ম্যানেজার , পেরেন্টিং
ফিউচার আইকন