19/04/2020
সামনের দিনগুলো আরও কঠিন হবে বলে মনে হচ্ছে!
এমনও হতে পারে যে আপনার কাছে টাকা থাকবে, কিন্তু কেনার মতো সামগ্রী বাজারে থাকবেনা!
তাই আমি অল্প কিছু আইডিয়া ভেবেছি, কিছু আইডিয়া বড়দের কাছে শিখেছি, কিছু আইডিয়া নিজেই পেয়েছি।
যেসব করলে সামনের দিনগুলোতে বিপদে পরলে কিছুটা রেহাই পাওয়া যাবে।
সেসব চেষ্টা করছি আপনাদের সাথে শেয়ার করার।
যাদের সম্ভব তারা এসব করে রাখতে পারেন। আশা করি এতে আপনাদের উপকার হবে।
১. সামনে রমজান মাস, বেশিরভাগ মানুষ চান ইফতারে হরেক রকম আয়োজন হোক। এইবার এইটা করিয়েন না।
চেষ্টা করেন, ভাজাপোড়া এড়িয়ে ফল খেতে। শরবত খান। আর ভারি কিছু খেতে চাইলে রুটি সবজি খেতে পারেন। এতে স্বাস্থ্য ভালো থাকবে, খরচও কম হবে।
২. চেষ্টা করেন শুকনা খাবার গুলো কিছুটা বেশি করে কিনে রাখার। (অবশ্যই আপনার সাধ্যনুযায়ী)
শুকনা খাবার অনেকদিন রাখা যায়, নষ্ট হয়না। যেমন, চাল, ডাল, সুজি, চিড়া...
৩. সবজির দাম অন্যান্য সময়ের চেয়ে কম। কিন্তু বেশি করে কিনতে পারছেন না, কারণ কাচা সবজি বেশিদিন ভালো থাকেনা!
উপায় আছে। শাক বা সবজি কেটে, ধুয়ে সামান্য হলুদ লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে, ঠান্ডা করে জিপলক ব্যাগে ডীপ ফ্রিজে রাখতে পারেন বেশ কিছুদিন!
৪. যারা মাছ খান, তারা চেষ্টা করেন কিছুটা বেশি চিংড়ি মাছ কিনে রাখার।
চিংড়ি মাছ অনেকগুলো তরকারিতে দেয়া যায়। অল্প একটু দিলেই ঘ্রাণ হয়, তরকারি টা মজা হয়। চিংড়ি দিয়ে করলা, মিষ্টিকুমড়া, তরই, পুইশাক সহ আরও অনেক কিছু রান্না করা যায়।
৫. বেচে যাওয়া কোনো খাবার ফেলে দিবেন না! সেটা দিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা করবেন। যেমন ভাত বেচে গেলে, পাত্রে তেল দিয়ে পেয়াজ মরিচ কুচি দেন। সেসব ভাজা হইলে ডিম ভেঙে দেন। ডিম ঝুরি হইলে তাতে ভাত দেন, সামান্য লবণ, গোলমরিচের গুঁড়া দেন, চাইলে সস দেন। ব্যস, ফ্রাইড রাইস রেডি! বাচ্চারাও পছন্দ করবে।
৬. মাংস বেচে গেলে সেটা দিয়ে বুটের ডাল রান্না করে ফেলতে পারেন। (এটা রুমানা আপুর থেকে জেনেছি)
৭. কোনো তরকারি রান্না করে ফ্রিজে রাখতে চাইলে, তরকারি টা ৯০% রান্না হতেই নামিয়ে নিবেন। মানে, গাড় ঝোলের তরকারি করতে চাইলে, ঝোল পাতলা থাকা অবস্থায় নামাবেন।
তাহলে যখন আবার গরম করবেন তখন এক্সট্রা পানি দিতে হবেনা, এক্সট্রা পানি দিলে তরকারির স্বাদ কমে যায়!
৮. চেষ্টা করেন যতটুকু প্রয়োজন কেবল ততটুকুই রান্না করার। এখন সামান্য কিছু বাচলে সামনের দিনে সেটুকুই উপকারে আসবে।
৯. যাদের বাসায় ৩/৪ পদের রান্না হয়, আপনারা আপাতত চেষ্টা করুন ২ পদের মধ্যে রান্না সারতে। এতে সামনের দিনগুলোতে আপনারই সুবিধা হবে মানিয়ে নিতে।
১০. যেসব তরকারিতে আলু ব্যবহার করা যায়, সেসবে চেষ্টা করুন আলু ব্যবহার করতে। আলু একটা লক্ষী সবজি। সবকিছুতে মানায়, খাবারে বরকত দেয়।
এবার সবচেয়ে জরুরি কথা টা বলি, এইসব বললাম তা শুধুমাত্র সাজেশন...
মানা না মানা একান্তই আপনার ব্যাপার! খারাপ লাগলে আমি দুঃখিত।
ভালো লাগলে বা সামান্যতম উপকারে আসলে আমার ভালো লাগবে।
সময় নিয়ে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।