12/04/2026
২২ বছর বয়সে আমরা সাধারণত ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তায় থাকি, কিন্তু ঠিক সেই বয়সেই কেউ একজন তৈরি করে ফেলেছে ৩৫০ কোটি টাকার এক অবিশ্বাস্য ই-কমার্স বিজনেস। গত বছরেই তার নিট প্রফিট ছিল ২০০ কোটি টাকার উপরে। কিন্তু অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এই সাফল্যের পেছনে কোনো জাদু নেই, বরং ছিল কিছু নিখুঁত সাইকোলজিক্যাল স্ট্র্যাটেজি।
সে গতানুগতিক কোনো ব্যবসা শুরু করেনি। সে জানত, মানুষ শখ করে জিনিস কেনে ঠিকই, কিন্তু মানুষের সবচেয়ে বড় তাগিদ হলো তার সমস্যা সমাধান করা। তাই সে র্যান্ডম প্রোডাক্টের পেছনে না ছুটে এমন কিছু খুঁজছিল যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের কোনো 'পেইন পয়েন্ট' বা সমস্যার সমাধান দেয়। তার মূলমন্ত্র ছিল একটাই—“যেখানে সমস্যা আছে, সেখানেই সেল আছে।”
শুরুটা কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না। সে একের পর এক ১০টা, ১৫টা, ২০টা প্রোডাক্ট নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করেছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু সে হাল ছাড়েনি, কারণ সে জানত সফল হওয়ার জন্য মাত্র একটা 'উইনিং প্রোডাক্ট' প্রয়োজন। আর যখন সে সেই কাঙ্ক্ষিত প্রোডাক্টটি খুঁজে পেল, গেম পুরোপুরি বদলে গেল।
সে তার মার্কেটিং সাজিয়েছিল খুব সিম্পল একটা ফর্মুলায়: প্রথমে সমস্যা দেখাও, তারপর সমাধান দাও এবং শেষে রেজাল্ট বা ফলাফল বুঝিয়ে দাও। ছোট ছোট ভিডিও বানিয়ে সে যখন অ্যাড চালানো শুরু করল, সেল আসা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র।
বেশিরভাগ উদ্যোক্তা এখানেই ভুল করে; একটু লস দেখতেই তারা থেমে যায়। কিন্তু সে ছিল আলাদা। সে থামেনি, বরং সে 'স্কেল' করা শুরু করল। সে বুঝতে পেরেছিল, একা কাজ করে হয়তো ১ মিলিয়নে পৌঁছানো সম্ভব, কিন্তু ১০ মিলিয়নে যেতে হলে অন্যের সময় কেনা শিখতে হয়। সে টিম বানালো, ডেলিভারি সিস্টেম দাঁড় করালো এবং অ্যাড ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব ভাগ করে দিল। সে নিজে শুধু ফোকাস করল ব্যবসার গ্রোথ আর আইডিয়াতে।
তার জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা ছিল সফলতার ৮০% ই হলো মাইন্ডসেট, আর বাকি ২০% স্কিলসেট। সুযোগ বা টাকা অনেকের কাছেই আসে, কিন্তু সঠিক মানসিকতা না থাকলে সেই সাফল্য ধরে রাখা অসম্ভব। সে লাকি ছিল না, সে ছিল ফাস্ট। সে অন্যদের চেয়ে দ্রুত টেস্ট করেছে, দ্রুত ব্যর্থ হয়েছে এবং সবচেয়ে দ্রুত শিখেছে।
আজকের এই প্রতিযোগিতার বাজারে প্রশ্নটা এটা নয় যে আপনি কতটা জানেন, বরং প্রশ্ন হলো আপনি কতটা দ্রুত অ্যাকশন নিচ্ছেন। আপনি এখন কোন পর্যায়ে আছেন? এখনো কি শুধু প্রোডাক্টই খুঁজছেন, নাকি অলরেডি নিজের বিজনেসকে স্কেলিং করার জন্য প্রস্তুত?
মানুষ যেমন রক্ত ছাড়া বাঁচে না, ব্যবসাও ক্যাশ-ফ্লো ছাড়া টিকে না। আর এই ক্যাশ-ফ্লো চালু রাখার একটাই
উপায় - সেলস। সেলস বন্ধ মানেই ব্যবসার শ্বাস বন্ধ।
তাই দেরি না করে লেগে যান, কাজ শুরু করুন, ধৈর্য ধরুণ।
©
─সংগৃহিত