13/09/2023
দিনটা ছিল ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮,জীবনের অন্যতম অধ্যায়ের শুরু। ১২ তারিখ অনার্স এর ৪ ঘন্টার পরীক্ষা শেষ করে হল থেকে বের হয়ে দেখলাম সৈকত(দেবর) অপেক্ষা করছে হলের বাইরে।গাড়িতে উঠে সারাসরি শশুরবাড়ি,জিজ্ঞেস করলাম কি ব্যাপার? বললো আম্মু আপনার জন্য ভুড়ি রান্না করছে।।সেখানে পৌছানোর পর খাওয়া শেষ করে মা(শাশুড়ী) বললো ওখান থেকে সারাসরি হাসপাতালে এডমিন কারাতে চায়,যেহুতু আমার কমপ্লিকেশন শুরু হয়েছে ১০ তারিখ থেকে।১১ তারিখে ও ইনজেকশন পুশ করা হয়েছিল। শুধুমাএ পরীক্ষার জন্য দেরি।পরে বললাম মা আমি আম্মুকে ব্যাগ রেডি করে রাখতে বলেছি আগেই, যে পরীক্ষা দিয়ে এসে রাতে এডমিট হবো।আমি বাসা গিয়ে সবার সাথে দেখা করে তারপর রাতে যাবো।
পরে রাতে এডমিট হই।ভোর ৩.৪০ এর দিকে কমপ্লিকেশন বেশি হতে থাকে,ঐ সময় কোনো ডক্টর না থাকায় কিছুই করার ছিল না।আম্মু এবং মা দুজনে সাথেই ছিলেন।অবশেষে দুপুর ১২.০০ দিকে ও.টি তে ঢুকানো হয়।ঐ সময় আম্মু এত কান্নাকাটি করছিলো যে আমি নিজের কান্না চেপে রেখেছিলাম।।যখন ওটিতে ঢুকছিলাম পিছন ফিরে দেখলাম সবাই দাড়িয়ে আছে।
Kazi Sagor তোমায় অনে খুজেছিলাম কিন্তুু কোথাও পাইনি😭।সবকিছু এতো দ্রুত হয়ে গেলো কিছু বলার সময়ই পাইনি।
অতপর ১২.৪৫ এ নার্স কোলে নিয়ে আসে আমায় বললো দেখো তোমার একটা পরীর মত মেয়ে হয়েছে।
আমি ওকে দেখার মত অবস্থায় ছিলাম না,তবে চোখ দিয়ে পানি পরছিল।।
মা আজ তোমার জন্মদিন।। তুমি আজ হাটি হাটি পা পা করে আজ ৬ বছরে পা দিলে।আমার সারাদিন কেটে যেতো তোমার শরীরের ঘ্রাণ নিতে। তোমার প্রথম হাসি,কান্না, উঠে বসা,হাঁটা সবকিছু আমার ভালো থাকার কারন হয়ে উঠেছিল। তোমার মুখের আধো আধো ভাষা কত মধুর ছিল যা শুধু আমিই বুঝতাম।ঘুমানোর সময় তোমার দিকে তাকিয়ে থাকতে মন চাইতো।।
আজ সে আমার মেয়ে থেকে আমার মা হয়ে উঠছে।আমার শরীর খারাপ হলে তার চিন্তার শেষ নেই।হাত পা টিপে দেয়া,মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়া।।আমার মুখের দিকে তাকিয়ে ও বুঝতে পারে আমি ভালো নেই,যেমনটা আমার আম্মু বোঝে, বলে মাম্মি কোনো চিন্তা করো না আমি আছি তো,আমি বড় হয়ে তোমাদের সব কস্ট দূর করে দিব,আল্লাহর কাছে দোয়া করবো তোমার জন্য।
ইভেন আজ ডক্টর এর কাছে গিয়েছিলাম,প্রত্যেকবার রক্ত নেয়ার সময় আমার হাত শক্ত করে ধরেছিল,মাথায় হাত বুলিয়ে বলছিল মাম্মি ভয় পাচ্ছো?ভয় পেয়ো না, আমি আছি,তুমিতো ব্রেভ গার্ল
হয়ে উঠছে আমাদের অভিভাবক, ওর বাবার সাথে কাথা কাটাকাটি হলে বলে,মাম্মি বাবা নো ঝগড়া, এটা ভালো জিনিস না।।মাথা ঠান্ডা রাখো।
বাবা অফিস থেকে আসার পর ঠান্ডা পানি দেয়া,টাওয়াল এগিয়ে দেয়া,ভাত বেড়ে দেয়া,এমনকি আমাকে কাজে সাহায্য করা।।সবই সে শিখেছে।
শুনেছি প্রথম মেয়েরা নাকি মায়ের সব থেকে ভালো বন্ধু হয়।।আসলেই তাই।।
মা আমার অনেক বড় হও,সৎ, সত্যবাদী,ভালো মনের মানুষ হও।।
এভাবেই আমাদের আগলে রাখো তোমার মায়াভরা কোমল হাতে।
আমার আম্মার জন্য সবাই দোয়া করবেন