03/08/2026
আমার শাশুড়ী যেদিন থেকে আমার শাশুড়ী হয়েছেন সেদিন থেকে আমার সাথে দ্বিপাক্ষিক আচরণ করেছেন।
আমাকে একটা সুতা তো দূরে থাক সামান্য আন্তরিকতাও কখনো দেখান নি। অকারণে দোষ ধরে আমার হাজবেন্ড এর কান ভাড়ী করেছেন।
আমি ওনাদের থেকে শত শত মাইল দূরে থাকার পরও উনি আমাকে ট্রমাটাইজড করে রাখেন।
ওনার আরো ছেলের বউ আছে তাদের সাথে কেমন করেন তা জানিনা, কিন্তু কখনো আমাকে আন্তরিকতায় মুড়িয়ে দেননি।
কিছুদিন আগেই অন্য ছেলের বিয়ে দিয়েছেন সামর্থ্য অনুযায়ী সব করেছেন। অথচ আমাকে নানান সময়ে নানান ভাবে ছোট করেছেন অপদস্ত করেছেন।
এমন না যে আমি কোন অবস্থান থেকে কম ছিলাম, নিচু ফ্যামিলির ছিলাম কিংবা কখনো খারাপ আচরণ করেছি।
গত ৬বছরে ওনাকে অগনিত বার ফোন দেওয়ার পরও আমার ফোন রিসিভ করেননি ইচ্ছে করে। আবার ফোন না দিলে আমার হাজবেন্ড এর কান ভাড়ী করেছেন আমি ফোন দেইনা, খোঁজখবর নেই না।
আমার হাজবেন্ড এর ভাইয়ের বউদের সাথে তেমন আন্ডাস্ট্যান্ডিং ছিলো না, তখন বলতো বউ এ বউ এ নাকি মিল থাকি না, ভাইয়ে ভাইয়ে অশান্তি লাগাই আমি। তারপর উনি নিজেই শুরু করলেন একেক ছেলের বিরুদ্ধে পলিটিক্স।
আমার সাথে ওনার কোন ছেলের বউয়ের কথা বলতে দেখলেই আমার নামে সত্য মিথ্যা গল্প বানিয়ে আমার সাথে সম্পর্ক নানান সময়ে নষ্ট করেছে।
অথচ গত ৬ বছরে কখনো আমাকে কবরে গিয়েও জবাব দিতে পারবেনা একটা ফোন দিয়েছেন।
আমার যখন এই বেবিটা হয় তখনও ওনারা কেউ আমাকে একটা ফোন পর্যন্ত দেয়নি,, আমি বারংবার ফোন দিয়েছি রিসিভ করেনি। আমার হাজবেন্ড এর সাথে আবার খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো তার।
যখন শুনলো আমরা ওমরায় যাবো আর্থিক অবস্থা ভালো হয়েছে একে একে সবাই যোগাযোগ করা শুরু করে দিলো। তারপর আমাদের সংসারে আবার অশান্তি শুরু হয়ে গেলো। আমার ছোট বাচ্চা নিয়ে সংসারের কাজ তেমন করতে পারতাম না। আমার চোখের সামনেই সে নাকি অসুস্থ ডাক্তার দেখাতে এসে বলে দিয়ে গেলো 'তুই তো এই বাড়ির কাজের লোক' এই বলে আমার হাজবেন্ড এর মনে বিষ ঢুকিয়ে দিলো।
এই কিছুদিন আগের কথা আমার হাজবেন্ড বললো ফোন দিতে, দিলাম ফোন রিসিভ করলো না। আমার ছোট বোনের নাম্বার থেকে ফোন দিলাম সাথে সাথেই রিসিভ করলো। অথচ সব সময় আমার হাজবেন্ড এর সাথে এমন ভাবে কথা বলে যেনো আমাকে কতো ভালোবাসে কত্ত স্নেহ করে।
যদি ফোন না দিতাম তাহলে বলতো ফোন দেই না। কিন্তু রিসিভ যে করেনা তার কি কোন বিচার হলো? সেই বিষয়ে কি কিছু বলেছেন?
ভদ্রমহিলা অসুস্থ হন তখন যখন আমার হাজবেন্ড এই বিষয় গুলো নোটিশ করে, এই নিয়ে কথা বলবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেই আগেভাগে কিভাবে যেনো অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী হয়ে যান।
অথচ একটা সময় একটা সুখের সংসারের স্বপ্ন ছিলো দুচোখ জুড়ে, আমার সাজানো সংসার কয়েকবার ইন্ধন দিয়ে ভাঙ্গিয়েছেন এই ভদ্রমহিলা।
অসুস্থ মানুষ কক্সবাজার থেকে একদম একা সাথে কাউকে ছাড়াই চলে আসেন। আসার পর দিনরাত এক করে তার সেবাযত্ন করি কিন্তু যাওয়ার আগে ঠিকই কোন না কোন কারণে মনোমালিন্য করে চলে যান,,,,,
যাওয়ার পর খুটিয়ে খুটিয়ে আমার নানান দোষের কথা মনের মাধুরি মিশিয়ে বলেন। আর আমার সংসারে সেই এফেক্ট প্রায় ৩মাস বা তার বেশি থাকে।
আগে আমার হাজবেন্ড এর কথায় বুঝতাম আমি খুব লো মেন্টালিটির মেয়ে ৬বছর পর আমাকে বোঝাতে চায় সব সংসারেই এমন হয়।
কিন্তু এতদিন যে শুধু আমার দোষ ছিলো শুধু? যখন ভিডিও অডিও প্রমাণ সহ সব দেখালাম তার পর থেকে তার কথার সুর বদলে গেলো, এখন বলে সব সংসারেই নাকি এমন হয়।
আমার সংসারে এত অশান্তি লাগানোর একটাই কারণ আমি আবিষ্কার করেছি আমার হাজবেন্ড এর কাছে কারণে অকারণে শুধু টাকা নেওয়া।আমার দোষ বলে দুর্বল করে রেখে শুধু টাকা নিয়ে গেছে। অপ্রয়োজনে নিয়ে বিলাসিতার চাদরে নিজেকে মুড়িয়ে রেখেছে। আর আমি নিজে সব কিছু ছাড়া দিন পার করেছি।
টাকায় কি সুখ মেলেরে পাগলা। সুখ থাকে আন্তরিকতায় সহমর্মিতায়। যা না থাকলে ফেরেশতার সাথে থাকলেও অশান্তিতে থাকবে মানুষ।
আমাকে কথায় কথায় ছোট করে, আমি ঢাকায় জন্মে কক্সবাজার এ ওনার বেকার ছেলেকে বিয়ে করেছি। অথচ আমার সাথে অহংকার দেখায় 🤣 অহংকার করার ন্যুনতম লেভেল থাকা প্রয়োজন তারা এতোটাই অবুঝ নাদান।
একথাগুলো ওনার বা ওনাদের দোষ ধরার জন্য বলছিনা। আমি চাই আমার ছেলেকে আলাদা সংসার করে দিবো। আমার ডিপ্রেশন আমার ছেলের বউকে বংশ পরম্পরায় দিবো না।আমার সাথে যে প্রকার অমানুষিক আচরণ দিনের পর দিন করেছেন তা আমি কখনো আমার ছেলের বউ এর সাথে করবো না। আমার ছেলে বিয়ে করে ফেললে সেই বউকে চাকরানী বানানোর চিন্তা করবো না।
আমার ছেলের কান ভারী কখনো করবোনা যদি বেঁচে থাকি।
©️ কালেক্টেড