15/06/2025
এয়ারপোর্টে শেষবারের মত ছবি তুলেই শেষ হলো একটি পরিবারের যাত্রা।
উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের এক আইটি প্রোগ্রামার, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের দুর্ঘটনায় মৃত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তাদের শেষ মুহূর্তের একটি ছবি পাওয়া গেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তারা বোয়িং ৭৮৭ বিমানে ওঠার ঠিক আগে আনন্দে ভরা অবস্থায় ছিলেন।
৪৮ বছর বয়সী সায়েদমিয়া ইনায়তালি তার ৯০ বছর বয়সী মাকে দেখতে ভারতে গিয়েছিলেন স্ত্রী নাফিসাবানু (৪৬) ও তাদের দুই সন্তান ওয়াকিলি (২৫) এবং তাসকিন (২২)-কে সঙ্গে নিয়ে।
পরিবারের এক সদস্য, ৫২ বছর বয়সী শহীদ ভোরা, যিনি ওয়েম্বলিতে বসবাস করেন, জানান যে তিনি গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে তাদের আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই দুর্ঘটনার খবর পান।
এই দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, এবং মাত্র একজন যাত্রী বেঁচে আছেন।
তিনি মেট্রোকে বলেন:
‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। আমি তো গ্যাটউইকে তাদের আনতে যাচ্ছিলাম। তারা সায়েদমিয়ার মাকে দেখতে গিয়েছিল।
তারা বিমানে ওঠার আগে একটি ছবি তোলে। ছবিতে তাদের হাসিমুখ – তারা খুব খুশি ছিল ঘরে ফেরার জন্য।
আমার সাথে তাদের শেষবার কথা হয়েছিল টেক্সট মেসেজে – গ্যাটউইকে আমি কীভাবে আনব, সেটা নিয়ে। তারপর আর কোনো খবর নেই।
যখন দুর্ঘটনার খবর পেলাম, আমি ভেঙে পড়লাম। আমরা খুব ঘনিষ্ঠ পরিবার – সবাই একসাথে থাকি। আমার জীবন যেন ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।’
তিনি আরও জানান, এই পরিবার খুবই পরিশ্রমী।
তাসকিন ডাক্তার হওয়ার পড়াশোনা করছিল এবং তার ভাই গেমিং প্রোডাক্ট নিয়ে আইটি-তে কাজ করছিল।
শহীদ বলেন:
‘এই পরিবার এমন – যারা সবার জন্য কিছু করতে পারে। খুবই যত্নশীল, উদার, এক কথায় পারফেক্ট পরিবার।
সায়েদমিয়া আর আমি সব কিছু একসাথে করতাম। অনেক সুখের সময় কেটেছে। এখন আমাকে ভারতে যেতে হবে সবকিছু সামলাতে।
ছবিতে দেখুন, কীভাবে তারা হাসিমুখে বিমানে উঠছে – ঘরে ফেরার অপেক্ষায় ছিল।
আমার শেষ টেক্সটের পর কিছুই পাইনি। এরপর এক কল আসে, জানায় দুর্ঘটনার কথা – তখনই ভয় পেয়েছিলাম সবচেয়ে খারাপ খবরটির জন্য।
cp