Law Help Center

Law Help Center A free Law Consultation firm.

05/04/2026

যু/দ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
যারা অবিবাহিত আছেন এখনই হয়তো বিয়ে করার শেষ সময়।

05/04/2026

জেলা কাবিন রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী মাদারীপুর সদরে গত ২০২৪ সালে মোট ২২২৬ টি বিয়ের কার্য সম্পাদন হয়েছে এবং ডিভোর্স হয়েছে ২১৭৭টি!

 #গ্রেফতার  কি এবং গ্রেফতার হলে করনীয় কি? যা আমাদের দেশের একটা কমন প্রক্রিয়া।♦গ্রেফতারঃ বাংলাদেশ প্রেক্ষিত। বাংলাদেশের ম...
26/10/2025

#গ্রেফতার কি এবং গ্রেফতার হলে করনীয় কি?
যা আমাদের দেশের একটা কমন প্রক্রিয়া।

♦গ্রেফতারঃ বাংলাদেশ প্রেক্ষিত।

বাংলাদেশের মানুষ পুলিশের যে কার্য্যক্রমের সাথে সব চাইতে বেশী পরিচিত সেটা হচ্ছে ‘গ্রেফতার’!আসুন একটু জেনে রাখি এই সম্পর্কীত করনীয় কিছু বিষয়।

আপনি কোন অপরাধ না করলে, বা অপরাধটি করেছেন এই মর্মে যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ না পেলে বা বিশ্বাস না করলে পুলিশ আপনাকে সেই অপরাধের জন্য গ্রেফতার করতে পারেনা। তবে আমাদের জেনে রাখা ভাল এখানে ‘অপরাধ’ বলতে আইনের চোখে যা অপরাধ কেবল সেগুলি বোঝানো হচ্ছে, সামাজিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিতে যা অপরাধ তা নয়। আইনের চোখে যা অপরাধ নয়, সেসব আপনি পুলিশের সামনে বসে করলেও পুলিশ অন্ততঃ সে কারনে আপনাকে গ্রেফতারে করতে পারবে না।

★তো পুলিশ চাইলেই কি যে কোন অপরাধের জন্য আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে?
-না তা পারেনা, বাংলাদেশের সব আইন দুই ভাগে বিভক্ত, প্রথম ভাগে আছে এক ধরনের অপরাধ যা করলে বা করার অভিযোগে আপনাকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের কোর্টের আদেশ লাগবে না, পুলিশ আপনাকে যেখানে পাবে সেখানেই পত্রপাঠ গ্রেফতার করতে পারবে (এই ধরনের অপরাধগুলিকে বলা হয় ‘আমলযোগ্য অপরাধ’, ইংলিশে ‘cognizable offence’), বাকী অপরাধগুলির জন্য আপনাকে গ্রেফতার করতে চাইলে পুলিশের ওয়ারেন্ট (কোর্টের আদেশ) লাগবে (এই ধরনের অপরাধ গুলিকে বলা হয় ‘অ-আমলযোগ্য অপরাধ’, ইংলিশে ‘non cognizable offence’’), আপনি যদি অ-আমলযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হন, তাহলে যে পর্যন্ত কোর্ট ওয়ারেন্ট ইস্যু না করছে, লেজে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন, ইচ্ছা হলে থানায় যেয়ে পুলিশের সাথে চা-কফিও খেয়ে আসতে পারেন, পুলিশ আর যাই করুক অন্তত সেই অপরাধের জন্য আপনাকে গ্রেফতার করতে পারবে না।
★এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে জানবেন কোন অপরাধ আমলযোগ্য আর কোনটা তা নয়?

-চলুন চলে যাই মূল কথায়ঃ আপনারা কি জানেন যে গ্রেফতার করলে হাত-পা বাধতেই হবে এমন কোন আইন নেই? হাত-পা বাধার বা আইনের ভাষায় বলতে গেলে ‘দৈহিক ভাবে আটক’ করার কথা তখনই আসে যখন কাউকে গ্রেফতারের আদেশ দেয়ার পরও সে কথা বা কাজের মাধ্যমে গ্রেফতারের আদেশের প্রতি আত্মসমর্পন না করে বরং তাতে বাধা দেয়।
★তো গ্রেফতারের আদেশ পেলে আপনি কি বলে আত্মসমর্পন করবেন?
-সহজ কিছু, যা খুব সহজেই সবাই বুঝতে পারবে এমন কিছু বলুন, ‘ওকে শব্দটা ব্যবহার করতে পারেন’ কিংবা ‘আই সারেন্ডার’ ও বলতে পারেন।
★কি রকম কাজের মাধ্যমে আত্মসমর্পন করা বোঝায়?
-হাত উপরে তুলে সারেন্ডারের ভঙ্গি করতে পারেন, পুলিশ যদি ভ্যান নিয়ে গ্রেফতার করতে বের হয়, সেখানে উঠে বসতে পারেন।(যদিও আমরা এরকম অবস্থায় পালিয়ে বেড়াই বেশির ভাগ সময়ই)

🎯গ্রেফতার করার ক্ষমতার সাথে সাথে আইন পুলিশকে আরেক ভয়ংকর যে ক্ষমতা দিয়েছে, কেউ গ্রেফতার করতে বাধা দিলে বা গ্রেফতার এড়ানোর জন্য পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার জন্য ‘যে কোন প্রকার পদক্ষেপ’ নিতে পারে।

জ্বী, আপনি যদি গ্রেফতার এড়ানোর জন্য পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করেন বা দৌড়ে পালাতে চান, তাহলে বাংলাদেশের পুলিশ আইনসঙ্গত ভাবেই আপনাকে ইচ্ছামত পেটাতে পারে, এমনকি গুলিও করতে পারে, এটুকু শুনে এই ব্যাপারে পুলিশের ক্ষমতার দৌড় এখনো বুঝতে পারলেন না? তাহলে শুনুন, আপনার বিরুদ্ধে যদি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন দন্ড হবে এমন কোন অপরাধের অভিযোগ থাকে, তাহলে আপনার ‘বিরোধের’ কারনে ‘গ্রেফতার কার্য্যকর’ করতে যেয়ে পুলিশ আপনাকে মেরে ফেললেও পুলিশের আইনগতভাবে কিছুই হবেনা।তাই একটু সাবধান!

★আচ্ছা আরেকটা কথা মনে করিয়ে রাখি, কাউকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ আপনার গৃহে বা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তল্লাশী করতে চাইতে পারে, আপনি যদি তখন দরজা জানালা বন্ধ করে বসে থাকেন, তাহলে পুলিশ আইন সঙ্গত ভাবেই আপনার দরজা জানালা ভেঙ্গে প্রবেশ করার আইনগত ক্ষমতা রাখে।তাই যখনই তল্লাশি জন্য পুলিশ যাবেন তাদেরকে তা যথাযথ নিয়ম মেনে করতে দিন।বাকিটা আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করুন।আর এই জন্য লোকমুখে শোনা আইনজীবী নিয়োগ দিলেও কিছুটা যাচাই বাছাই করে তারপর নিয়োগ দিন।

এরপর আসুন আরেকটু খুটিনাটি জানি- গ্রেফতার করার পর পুলিশ আপনাকে তল্লাশী করতে পারে, কিন্তু ধরলেই তল্লাশী করতে পারে বা তল্লাশী করতে হবে এমন কোন আইন নেই, পুলিশ যদি জামিনের বিধান নেই এমন কোন ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেফতার করে বা জামিনের বিধান আছে কিন্তু সে জামিনদার দিতে পারবে না এমন কাউকে গ্রেফতার করে, তাহলে পুলিশ চাইলে, আমি আবার বলছি ‘চাইলে’ তাকে তল্লাশী করতে পারে (মনে রাখা ভাল আমি গ্রেফতারের পর তল্লাশীর কথা বলছি, রাস্তায় সিএনজি থামিয়ে আপনাকে গ্রেফতার না করে তল্লাশীর কথা বলছি না)।

★কোন মেয়েকে তল্লাশী করতে হলে যে আরেক মেয়েকে দিয়ে কঠোর ভদ্রতার মধ্যে দিয়ে করতে হবে সেটা বলা হয়েছে, তবে পুরুষদের তল্লাশীর ক্ষেত্রে কোন প্রকার শালীনতা বজায় রাখার কথা বলা হয়নি।

🎯 পুলিশ এরেস্ট করলেই ঘাবড়ে যাবার কিছু নেই, এরেস্টের ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ আপনাকে কোর্টে উপস্থিত করতে বাধ্য, অনেকে আছেন এরেস্ট করলে একেবারে ভেঙ্গে পড়েন, এত ভেঙ্গে পড়ার কিছু নেই, এরেস্ট হওয়া মানেই অপরাধ প্রমান হয়ে যাওয়া নয়।

আরেকটা কথা, প্রথম দিন যখন কোর্টে দাড়াবেন, আগে থেকে পরিচয় না থাকলে কারো রেফারেন্সে কোন উকিলকে জামিন চাওয়ার জন্য ওকালতনামা দিতে যাবেন না, একবার পাওয়ার দিয়ে দিলে অনেক উকিল আর সেই ক্লায়েন্ট ছাড়তে চায়না, ছাড়াতে গেলে সেই উকিলকে অনেক টাকা দিতে হয়, পুরাই ‘কমলি ছোড়তি নেহি’ অবস্থা! আপনার পরিবারের নিয়োজিত উকিলের জন্য অপেক্ষা করুন, আর কোর্টে হাজিরার একেবারে প্রথম দিন জামিন নাও হতে পারে এই মানসিক প্রস্তুতি রাখুন।

আদতে আমাদের দেশে সচরাচর যা হয়, গ্রেফতারের পর অনেক সময় কিছু অসাধু লোক বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্তের পরিবার হতে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়, অথচ এতে এত ভয়-ভীতির কিছু নেই।কারন হাজতে না খাইয়ে রাখে না, কষ্ট হবে তবে না খেয়ে মারা যাবে না, অসাধু লোকদের টাকা না খাইয়ে পরবর্তী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থার জন্য সেই টাকা সঞ্চয় করে রাখুন, উপকৃত হবেন।আর সঠিক ও বিশ্বস্ত আইনজীবীদের শরণাপন্ন হোন।

#আইনজীবী

আইনজীবী হতে যা করতে হবে।কেউ শখের বশে, কেউ স্বাধীন পেশা হিসেবে, কেউ বা সেবামূলক পেশার কারণে বেছে নিচ্ছেন আইন পেশাকে। একসম...
26/10/2025

আইনজীবী হতে যা করতে হবে।

কেউ শখের বশে, কেউ স্বাধীন পেশা হিসেবে, কেউ বা সেবামূলক পেশার কারণে বেছে নিচ্ছেন আইন পেশাকে। একসময় আইন বিষয়ে পাস করার পর খুব সহজে বার কাউন্সিলের মেম্বার হয়ে উকিল হওয়া যেত। কিন্তু আজকাল এ পেশা প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে আগের চেয়ে বেশি। বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষার আদলে তিন ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পর আইনজীবীর সনদ দেওয়া হয়। কিন্তু এ বিষয়টি ভালো করে না জানার কারণে অনেকেরই সমস্যায় পড়তে হয়। তাই আইনজীবী হওয়ার জন্য কী করণীয়, তা নিচে আলোচনা করা হলো।

আইনজীবী হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তিকে দুই প্রকার শর্ত পূরণ করতে হবে :
প্রথম শর্ত
১. তাকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে;
২. ২১ বছর বয়স পূর্ণ করতে হবে;
৩. নিচের যেকোনো একটি যোগ্যতা অর্জন করতে হবে :
(ক) বাংলাদেশ সীমার মধ্যে অবস্থিত কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে; বা
(খ) বার কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশের বাইরে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকতে হবে; অথবা
(গ) তিনি যদি একজন ব্যারিস্টার অ্যাট ল হয়ে থাকেন।
দ্বিতীয় শর্ত
(১) উপরোক্ত শর্তগুলো পূরণ হলে যে কেউ বার কাউন্সিলের একটি ফরম পূরণ করে জমা দিতে পারবেন। সঙ্গে আরো যা দিতে হবে তা হলো—
(ক) আবেদনকারীর জন্মের সনদের সন্তোষজনক সাক্ষ্যপ্রমাণ;
(খ) অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী যোগ্যতার সন্তোষজনক সাক্ষ্যপ্রমাণ;
(গ) আবেদনকারীর চরিত্র ও আচরণ সম্পর্কে ভালো অবস্থানরত দুজন ব্যক্তির প্রশংসাপত্র;
(ঘ) ফরমে উল্লিখিত তথ্য সত্য ও নির্ভুল মর্মে একটি এফিডেফিট প্রদান করতে হবে;
(ঙ) এক হাজার ২০০ টাকা প্রদানের রসিদ দিতে হবে।
(২) অ্যাডভোকেট হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার আগে তাঁকে একজন ১০ বছরের অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেটের চেম্বারে ধারাবাহিক ছয় মাস শিক্ষানবিশ কাল অতিক্রম করতে হবে।

পরীক্ষার ধাপগুলো
প্রথমে ছয় মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করবেন—এ মর্মে এমন একজন সিনিয়রের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে হবে। তবে সিনিয়রের কমপক্ষে ১০ বছর নিয়মিত ওকালতি করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। তাঁর সঙ্গে থাকবে একটি হলফনামা বা এফিডেভিট। আর থাকবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অনুকূলে নির্ধারিত ফির ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার প্রেরণের রসিদ। আইনে স্নাতক পরীক্ষা বা অন্য কোনো ডিগ্রিপ্রাপ্তির পরীক্ষা প্রদানের পরপরই অনতিবিলম্বে উল্লিখিত চুক্তিপত্র, এফিডেভিট ও ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার প্রেরণের রসিদ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সেক্রেটারি বরাবর পাঠিয়ে দিতে হবে।
আপনার পাঠানো কাগজপত্র বার কাউন্সিল কর্তৃক গৃহীত হওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বার কাউন্সিল আপনার বরাবর একটি রেজিস্ট্রেশন কার্ড ইস্যু করবে। সেখানে আপনাকে একটা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেওয়া হবে। ছয় মাস অতিক্রান্ত হলে অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তির পরবর্তী লিখিত পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে আপনাকে ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কিছু কাগজ সংযুক্তি সাপেক্ষে আবেদনপত্র প্রেরণের আহ্বান জানানো হবে।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের অনুকূলে পরীক্ষার নির্ধারিত ফি বাবদ নির্ধারিত টাকা ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার বা ব্যাংকে বার কাউন্সিলের অ্যাকাউন্টে নগদ জমা দেওয়ার রসিদ। সিনিয়রের কাছ থেকে শিক্ষানবিশ সমাপন-সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্র। পূর্ণ বিবরণসহ পরীক্ষার্থী ও তার সিনিয়রের স্বাক্ষর, সিলমোহর ও তারিখযুক্ত কমপক্ষে পাঁচটি দেওয়ানি ও পাঁচটি ফৌজদারি মামলার তালিকা, যার শুনানিকালে পরীক্ষার্থী নিজে তাঁর সিনিয়রের সঙ্গে আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এগুলোর সঙ্গে থাকতে হবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ, চারিত্রিক সনদ ও ছবি।

পরীক্ষা পদ্ধতি
আবেদন করা প্রার্থীদের প্রথমেই কুইজ বা এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এরপর ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা হবে। এতে পাস নম্বর ৫০। তৃতীয় পর্যায়ে ১০০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। বিচারপতিরা এই মৌখিক পরীক্ষায় প্রশ্ন করে থাকেন। মৌখিক পরীক্ষায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর অধীনে প্রার্থী যে বিষয়গুলো নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তা থেকেই প্রশ্ন করা হয়।
পরীক্ষার বিষয়গুলো
ছয়টি বিষয়ের ওপর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এগুলো হলো ফৌজদারি দণ্ডবিধি, ফৌজদারি কার্যবিধি, দেওয়ানি কার্যবিধি, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, তামাদি ও সাক্ষ্য আইন। প্রতিটি বিষয় থেকে তিনটি প্রশ্ন থাকে এবং একটি উত্তর দিতে হয়।

নিম্ন আদালতে প্র্যাকটিস
মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে আপনি আইনজীবী (নিম্ন আদালতের) হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করলেন। অর্থাৎ আপনি হয়ে গেলেন অ্যাডভোকেট। এ ক্ষেত্রে আপনি পেয়ে যাবেন বার কাউন্সিলের সদস্যপদ। তবে শুধু সনদ পেলেই হবে না, আপনি যে বারে প্র্যাকটিস করতে চান, সেই বারের সদস্যপদও নিতে হবে।
হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস

নিম্ন আদালতে দুই বছর আইনজীবী হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে সনদ নেওয়ার যোগ্যতা হয়। তবে হাইকোর্টে ১০ বছরের বেশি প্র্যাকটিস করছেন এমন এক সিনিয়রের সঙ্গে শিক্ষানবিশ চুক্তি করতে হয়। আর যদি বার অ্যাট ল ডিগ্রি বা এলএলএম পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নম্বর থাকে, তখন বার কাউন্সিল থেকে সনদ পাওয়ার পর এক বছর অতিক্রান্ত হলে আপনি পরীক্ষা দিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে পূর্বশর্ত হলো, সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র অ্যাডভোকেটের অধীনে আপনাকে এক বছর প্র্যাকটিস করতে হবে এবং এ মর্মে আপনার সিনিয়রের একটা প্রত্যয়নপত্র আবেদনপত্রের সঙ্গে দাখিল করতে হবে।

আপিল বিভাগে প্র্যাকটিস
একজন আইনজীবীর হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিসের বয়স পাঁচ বছর হলে এবং হাইকোর্টের বিচারপতিরা যদি তাঁকে এই মর্মে স্বীকৃতি দেন যে তিনি আপিল বিভাগে ওকালতি করার জন্য সঠিক ও উপযুক্ত ব্যক্তি, তবে কিছু আনুষ্ঠানিকতা পালন সাপেক্ষে এনরোলমেন্ট কমিটি তাঁকে আপিল বিভাগে মামলা পরিচালনার সুযোগ দিয়ে থাকে। তবে কাউকে বিশেষভাবে উপযুক্ত মনে করলে এ আনুষ্ঠানিকতা পালন ছাড়াও প্রধান বিচারপতি এবং অন্যান্য হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকরা তাঁকে আপিল বিভাগে প্র্যাকটিসের অনুমতি দিতে পারেন।
#আইনজীবী

20/04/2021

একজন আইনজীবীর কাছে আইডি কার্ড থাকার পরও অযথা জিজ্ঞাসাবাদ এর নামে হয়রানি করেছে পুলিশ।।

কেন আইন পড়বেন?🤔ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, প্রকৌশল...কত রকম বিষয় আছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। কোন বিষয়ে আমি পড়ব, সিদ্ধান...
16/04/2021

কেন আইন পড়বেন?🤔

ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য, প্রকৌশল...কত রকম বিষয় আছে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয়। কোন বিষয়ে আমি পড়ব, সিদ্ধান্ত নেওয়াই কঠিন। স্বপ্ন নিয়ের এই বিভাগে আমরা একেকটি বিষয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই। আজ আইন বিভাগ সম্পর্কে বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রভাষক অর্পিতা শামস মিজান

১. কী পড়ানো হয়?
দেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক কিংবা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েই অন্যতম চাহিদাসম্পন্ন বিষয় আইন। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন কোর্স পড়ানো হয়। তবে সার্বিকভাবে আইন পড়তে হলে কিছু বিষয় একজনকে জানতেই হবে। এর মধ্যে অন্যতম ‘জুরিসপ্রুডেনস’, যা একাধারে আইনের বিজ্ঞান, দর্শন ও ব্যাকরণ। আইনের প্রাথমিক ধারণাগুলো এখানে আলোচনা করা হয়। তা ছাড়া পড়ানো হয় সাংবিধানিক আইন, যা ছাড়া আমরা এ দেশের আইনগুলো বুঝতেই পারব না। বাংলাদেশে পারিবারিক আইনগুলোতে ধর্মীয় আইনের যে গভীর প্রভাব রয়েছে, তা আমরা বুঝি মুসলিম ও হিন্দু আইন পড়তে গেলে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশকে কী কী আইন মেনে চলতে হবে, তা পড়ানো হয় আন্তর্জাতিক আইনে।
তা ছাড়া স্নাতক পর্যায়ে ভূমি আইন, ক্রয়বিক্রয়–সংক্রান্ত আইন, পরিবেশ আইন, ক্রিমিনোলজি, সিপিসি, সিআরপিসি ইত্যাদি সবখানেই পড়ানো হয়। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আরও কিছু বিশেষায়িত বিষয় পড়ানো হয়।
২. ভবিষ্যৎ কী?

আইন খুবই বিস্তৃত বিষয়। তবে এ দেশে পেশাগত ক্ষেত্রে আইনের সঠিক বিকাশ হয়নি বলে মানুষ এখনো কয়েকটি প্রথাগত ক্ষেত্রেই ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ভাবে—আদালতে ওকালতি, বিচারক কিংবা শিক্ষক। তবে এর বাইরে আরও অনেক অনেক কাজ সম্ভব। যেমন আইন পড়ে গবেষকও হওয়া যায়। গবেষণা যে শুধু আইনের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকবে তা নয়। সমাজবিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব, অর্থনীতি, মেডিকেল সায়েন্স সবকিছুর সঙ্গেই আইন নিয়ে গবেষণা সম্ভব। এ কারণে আইনকে আন্তগবেষণা ক্ষেত্রও বলা যায়। পৃথিবী যতই এগিয়ে যাক না কেন, আইন পেশার গুরুত্ব সব সময় থাকবে।
৩. ক্যারিয়ার কোথায়?

প্রথমত, আইনজীবী হিসেবে সফল ক্যারিয়ার গড়ার সম্ভাবনা তো আছেই। কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা যেসব চাকরিতে আবেদনের যোগ্য, আইনের শিক্ষার্থীরাও সেই সব পদে অনায়াসে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। ‘জুডিশিয়াল সার্ভিস’ অর্থাৎ সহকারী জজ ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে ‘সরকারি ফার্স্ট ক্লাস গেজেটেড অফিসার’ হওয়ার সুযোগ আছে, যা শুধু আইনের শিক্ষার্থীদের জন্যই। বিসিএসে পররাষ্ট্র, প্রশাসন, পুলিশ, কাস্টমস ইত্যাদি নন-টেকনিক্যাল ক্যাডারে যোগ দিতে পারবেন।
দেশের প্রায় প্রতিটি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনের শিক্ষকের চাহিদা আছে। কমিশনড অফিসার পদমর্যাদায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীতে স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ‘জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল’ হিসেবে যোগ দেওয়া যায়। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সহকারী আইনসচিব’ হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার কথাও ভাবতে পারেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি দূতাবাস, ব্যাংক ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ‘ল অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া যায়। আদালতে সরকারি আইন কর্মকর্তা বা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ হয়। বিদেশে ইমিগ্রেশন কেস অফিসার বা ল অফিসার হিসেবে কাজ করেন অনেকে। আইনের ডিগ্রিধারীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা—যেমন ইউএনএইচসিআর, ইউএনডিপি, ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, আইওএম, আইএলও ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ। আইনি পরামর্শক বা উপদেষ্টা হিসেবেও ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। তা ছাড়া মানবাধিকার কিংবা নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে যদি কেউ কাজ করতে চান, তবে তাঁর জন্য সেরা প্ল্যাটফর্ম আইনপাঠ।
কেউ যদি একটু ব্যতিক্রম কোনো ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হতে চান, চলচ্চিত্রশিল্পে আইন পরামর্শক বা কোর্টরুম–বিষয়ক চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যকারও হতে পারেন। আইনের বিষয়গুলো গল্পচ্ছলে লিখে হতে পারেন বিখ্যাত ঔপন্যাসিক জন গ্রিশামের মতো লেখকও।

৪. কারা পড়বেন?
বিষয়টা যখন আইন তখন অন্তত এই প্রশ্ন করা উচিত নয় যে কারা পড়বে। আইনপাঠ সবার জন্য জরুরি। অতএব উত্তর একটাই—আইন সবাই পড়বে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা পড়বেন? এ ক্ষেত্রে দুটো ভাগ করা যায়। প্রথমত, গবেষণার প্রবৃত্তি যাঁদের আছে। আইনের শাসন আছে কি না, আইনগুলো সমাজের সঙ্গে খাপ খাচ্ছে কি না—এসব নিয়ে যাঁরা চিন্তাভাবনা করতে ভালোবাসেন, তাঁরাই আইন পড়বেন। আর দ্বিতীয়ত, যাঁরা পেশাগত জীবনে বিচারক বা আইনজীবী হতে ইচ্ছুক।
তবে একজন ছাত্রের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকা দরকার যা আইন পড়তে সাহায্য করবে। গভীরভাবে চিন্তা করতে পারা তার মধ্যে অন্যতম। আইন কখনোই মুখস্থের বিষয় নয়। অনেকের ভুল ধারণা যে আইনের ধারা জানা মানেই আইন জানা। যা মোটেও সত্য নয়। আইন পড়ার প্রথম ধাপ হচ্ছে একটা বিষয়কে বিশ্লেষণ করতে পারা। গভীর চিন্তাশক্তি এ ক্ষেত্রে খুব জরুরি। কেউ প্রশ্ন করতে পারেন, বিজ্ঞান বা ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্রছাত্রীরা আইন কেন পড়বেন? আসলে আইন একটি মাল্টি ডিসিপ্লিনারি বিষয়। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইনের অনেক বিষয় ব্যবসায় শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত—চুক্তি আইন, ব্যবসায়িক আইন, প্রাতিষ্ঠানিক আইন যার মধ্যে অন্যতম। ঠিক তেমনি সম্পর্ক আছে বিজ্ঞানের বিষয়গুলোর সঙ্গে। এনার্জি ল কিংবা ফরেনসিক ল তো তাঁদেরই জন্য, যাঁরা একসময় পদার্থবিজ্ঞান কিংবা জীববিজ্ঞান পড়তে ভালোবাসতেন।
#কেন #আইন #পড়বেন।
গ্রুপ ঃ Law Help Center

মাস্ক না পরে বাহিরে বের হলে ৬ মাস পর্যন্ত জেল অথবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান সংক্রান্...
01/06/2020

মাস্ক না পরে বাহিরে বের হলে ৬ মাস পর্যন্ত জেল অথবা এক লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান সংক্রান্ত আদেশ।

সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪(১), (২) ও ধারা ২৫(১)(ক,খ) এবং ধারা ২৫(২) অনুযায়ী।

~ আইনজীবীর হাতে হাতকড়া ও মোবাইল কোর্ট ~© সাঈদ আহসান খালিদ, সহকারী অধ্যাপক, আইন বিভাগ,চবি।===============================...
05/05/2020

~ আইনজীবীর হাতে হাতকড়া ও মোবাইল কোর্ট ~

© সাঈদ আহসান খালিদ, সহকারী অধ্যাপক, আইন বিভাগ,চবি।
================================

◙ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত মোবাইল কোর্ট কিছুদিন পরপর একেকটা অন্যায়, অবৈধ বিচার করে, দেশজুড়ে প্রতিবাদ হয়, বাংলাদেশ নামের বিশ্ব মানচিত্রের ছোট্ট একটা দেশের ছোট্ট কোন প্রশাসনিক ইউনিটের এই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অনেকে যারা নিজেদের অধিক্ষেত্রে মনেমনে এখনো নিজেদের একেকজন প্রভু, সামন্তরাজা কিংবা মুঘল সম্রাট মনে করেন- তারাই আবার সুপ্রিমকোর্টে হাজির হয়ে সেসব অন্যায় বিচারের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন, অতঃপর আবার 'যাহা লাউ তাহা কদু'। অবশ্য এর অন্যথা হওয়ার উপায় কি আছে? দেশে বিচার ব্যবস্থা বিদ্যমান। তারপরও নির্বাহীরা নিজেরাই বিচারক হতে চান। ফলে যা ঘটার তাই ঘটে চলছে, শুধু ঘটনার স্থান-কাল-পাত্র পরিবর্তন হয়- এই যা।

◙ ছবিতে পুলিশ পরিবেষ্টিত হাতকড়ায় আবদ্ধ মানুষটি একজন আইনজীবী। বরিশালে রাস্তায় টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ঘটনাস্থলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ডেকে আনিয়ে, মোবাইল কোর্ট বসিয়ে, হাতকড়া পরিয়ে, ৭ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে তাৎক্ষণিক এই আইনজীবীকে জেলে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ আনা হয়েছে- তিনি 'সরকারি কাজে বাধা' দিয়েছেন। শাস্তি দেওয়া হয়েছে দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারায়।

◙ আইন যারা পড়ে, পড়ায় এবং পেশাগতভাবে আইনের চর্চা করে- অনিয়ম আর অন্যায়ের 'প্রতিবাদ' করার মানসিকতা তাদের মজ্জাগত। দণ্ডপ্রাপ্ত আইনজীবী টিসিবির পণ্য বিক্রয়ের ঠিক কোন অনিয়মের প্রতিবাদ করেছিলেন- তা এখনো জানি না কিন্তু যে নিয়মে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁকে জেলে পাঠালেন- সেটি স্পষ্টত আইনের গুরুতর বিচ্যুতি এবং অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার। কারণ- আইনের শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক আইন শিক্ষার একেবারে প্রাথমিক স্তরেই আইনের যে রোমান 'ম্যাক্সিম' (আইনের নীতি)'র সাথে পরিচিত হয় তা হচ্ছে- 'de minimis non curat lex'
[The law does not concern itself with Trifles ]

অর্থাৎ, এই নীতি অনুসারে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আইন প্রয়োগ বা বিচার করা যাবে না। এই নীতিটি উদ্ভূত হয়েছে আইনের অনাবশ্যক প্রয়োগ রুদ্ধ করার উদ্দেশ্যে। হতে পারে- ওই আইনজীবীর সাথে কোন বিষয় নিয়ে টিসিবির ওই ব্যক্তির মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছে, বাক-বিতণ্ডা হয়েছে। এই তুচ্ছ তর্কাতর্কির জেরে ফোন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে ডেকে এনে আদালত বসিয়ে একজন মানুষকে হাতকড়া পরিয়ে জেলে পাঠানো ব্যক্তিস্বার্থে মোবাইল কোর্ট আইনের অপপ্রয়োগ, আইনের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক এবং কর্তৃত্ব বহির্ভূত। এই ঘটনার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগের হাতে বিচারিক ক্ষমতার অপব্যবহারের চলমান সমালোচনা আরো সংহত হলো।

◙ মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর ধারা- ৬ এ মোবাইল কোর্টের ক্ষমতার ব্যাপারে বলা আছে- এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক একজন অভিযুক্তকে এই আইনে শাস্তিপ্রদান করতে হলে ঘটনাটি ওই ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে সংঘটিত বা উদঘাটিত হতে হবে। অথচ খবরে জানা গেল- ঘটনাস্থলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন না, তাঁর সম্মুখে এটি সংঘটিত হয়নি, ঘটনা ঘটার পরে ফোনে কল করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে ডেকে এনে আদালত বসানো হয়। এই বিচার আসলে শুধু অবিচারই নয় অনাচার হয়েছে৷

◙ মোবাইল কোর্ট আইনের ধারা-৭ অনুযায়ী- এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শুধু তখনই কারাদণ্ড দেয়ার ক্ষমতা রাখেন যখন অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ লিখিতভাবে স্বীকার করেন। অভিযোগ স্বীকার না করলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাউকে দণ্ড প্রদানের ক্ষমতা রাখেন না, একই আইনের ধারা- ৭(৪) অনুসারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সেক্ষেত্রে দণ্ড আরোপ না করে অভিযোগটি বিচারার্থে উপযুক্ত এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে প্রেরণ করবেন৷

এই উপযুক্ত আদালত কোনটি?

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ধারা- ১৯০(৪) অনুযায়ী এই অভিযোগের বিচার হবে নিয়মিত বিচারিক আদালতে। আলোচ্য ঘটনায় অভিযুক্ত আইনজীবী কি এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সম্মুখে লিখিতভাবে দোষ স্বীকার করেছিলেন? অবশ্য মোবাইল কোর্টের সম্মুখে লিখিতভাবে দোষ অস্বীকার করে কোন অভিযুক্তের খালাস পাওয়া কিংবা বিচার নিয়মিত আদালতে হস্তান্তরিত হয়েছে- এটি বেনজির। অবস্থা এমন- মোবাইল কোর্ট যারেই ধরে সেই দোষ স্বীকার করে- নিয়মিত আদালতের মতো কোন অব্যাহতি, বেকসুর খালাস নেই!

◙ র‍্যাব-পুলিশ পরিবেষ্টিত মোবাইল কোর্টের সামনে কোন অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি লিখিত স্বীকারোক্তি দিয়েও থাকে- সেই স্বীকারোক্তির আইনি বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ এবং সংবিধান পরিপন্থী। এই ধরণের স্বীকারোক্তি সংবিধানের ৩৫(৪) অনুচ্ছেদের লংঘন যেখানে বলা হয়েছে- 'কোনো অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না'।

'Every Person is Presumed to be Innocent Until Proven Guilty.' অর্থাৎ, সাক্ষ্য-প্রমাণ দ্বারা চূড়ান্তভাবে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনের চোখে প্রত্যেক ব্যক্তি নির্দোষ বলে গণ্য। এই 'Presumption of Innocence' - আইন ও বিচারের একটি একেবারে প্রাথমিক ম্যাক্সিম। সাক্ষ্যের সত্যতা যাচাইকরণ বিচার ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা মোবাইল কোর্টের তাৎক্ষণিক বিচারে সম্ভব হয় না।

◙ 'সরকারি কাজে বাধাদান' সংশ্লিষ্ট ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১৮৬ ধারা একটি ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক উত্তরাধিকার। ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ প্রভুরা দেশীয় প্রজাদের যে কোন প্রতিবাদকে ভয় পেতো এবং আইনের বাতাবরণে প্রতিবাদকে অবরুদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছিল। দুঃখের বিষয়- ২০২০ সালেও স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিকেরা প্রভুত্বমূলক ঔপনিবেশিক আইনের প্রেতাত্মা থেকে মুক্ত হতে পারছে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় 'প্রতিবাদ', 'জবাবদিহিতা চাওয়া' আর 'সরকারি কাজে বাধাদান'-কে সমার্থে গ্রহণের সুযোগ নেই।

◙ এই মোবাইল কোর্ট মাসদার হোসেন মামলায় গৃহীত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং 'ক্ষমতার পৃথকীকরণ তত্ত্ব'র সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই কোর্টে যিনি প্রসিকিউটর তিনিই বিচারক যা ন্যায়বিচার এবং Principle of Due Process of Law এর অস্বীকার। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৫(৩) অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ আদালত বা ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক বিচার লাভের অধিকারী। কিন্তু নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ প্রশাসনিক কর্মকর্তা দ্বারা পরিচালিত মোবাইল কোর্ট স্বাধীন বা নিরপেক্ষ কোনো আদালত বা ট্রাইব্যুনাল নয়।

◙ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৩(১) অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তার মনোনীত আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। কিন্তু মোবাইল কোর্টে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বা আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার কোনো অধিকার থাকে না। র‍্যাব-পুলিশ কাউকে ধরে এনে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের দফতরে নিয়ে হাজির করল কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ফলে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত করালো আর তিনি মোবাইল কোর্ট বসিয়ে কোন রকম তদন্ত, জামিন, কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কাউকে জেলে পাঠিয়ে দিল, কাউকে কানে ধরালো, পার্কে প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ে পড়িয়ে দিল- এসব দৃষ্টান্ত সংবিধান, আইন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট ব্যত্যয়, এটি অসভ্যতা এবং পরিত্যাজ্য।

◙ মোবাইল কোর্ট- কনসেপ্ট হিসেবে দারুন। এর উদ্দেশ্য মহৎ। বিচারপ্রার্থী মানুষের দোরগোড়ায় বিচারকাজ নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের আদালতের প্রচলন। এতে বিচারপ্রার্থীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হয়। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম ভারতে প্রথম এ ধরনের কোর্ট চালুর ধারণা দেন। হরিয়ানায় ২০০৭ সালে এটি চালু হয়। ২০১৩ সালে পাকিস্তানের পেশোয়ারে দাতাদের টাকায় চালু হয় মোবাইল কোর্ট। ভারত ও পাকিস্তানে বিচার বিভাগের অধীনেই মোবাইল কোর্টের কার্যক্রম চলছে। সেটিই স্বাভাবিক এবং কাঙ্ক্ষিত। অন্যদিকে, বাংলাদেশে আমলারা সেটি দখল করে রেখেছেন।

যেহেতু মোবাইল কোর্টে তাৎক্ষণিক বিচার করা হয়, যেহেতু এখানে অভিযুক্তের আইনজীবীর পরামর্শলাভের সুযোগ নেই, সেহেতু সহকারি কমিশনার হিশেবে সদ্য সার্ভিস শুরু করা একজন নবীন পেশাজীবীকে ম্যাজিস্ট্রেসির গুরুদায়িত্ব চাপিয়ে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে কলমের এক খোঁচায় কাউকে কারাগারে নিক্ষেপ করার পূর্বে অধিক সতর্কতা জরুরি। আইন এবং বিচারপদ্ধতি সম্বন্ধে শিক্ষাগত ও পেশাগতভাবে স্বচ্ছ- গভীর ধারণার অধিকারী দক্ষ ব্যক্তিদেরকেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সম্পৃক্ত করা উচিত। মোবাইল কোর্টের বিচারের কাজ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের হাতে ছেড়ে দেওয়াই হবে যুক্তিসঙ্গত।

'পাথরের ডিম দিয়ে মুরগি যতোই তা দিক- সেটি পাথরই থাকে; বাচ্চা ফুটে না'- এই সত্য যত তাড়াতাড়ি হৃদয়ঙ্গম করা যাবে তত মঙ্গল।
________________________
০৩ মে, ২০২০
চট্টগ্রাম।

 #গ্রেফতার  কি এবং গ্রেফতার হলে করনীয় কি? যা আমাদের দেশের একটা কমন প্রক্রিয়া।♦গ্রেফতারঃ বাংলাদেশ প্রেক্ষিত। বাংলাদেশের ম...
15/02/2020

#গ্রেফতার কি এবং গ্রেফতার হলে করনীয় কি?
যা আমাদের দেশের একটা কমন প্রক্রিয়া।

♦গ্রেফতারঃ বাংলাদেশ প্রেক্ষিত।

বাংলাদেশের মানুষ পুলিশের যে কার্য্যক্রমের সাথে সব চাইতে বেশী পরিচিত সেটা হচ্ছে ‘গ্রেফতার’!আসুন একটু জেনে রাখি এই সম্পর্কীত করনীয় কিছু বিষয়।

আপনি কোন অপরাধ না করলে, বা অপরাধটি করেছেন এই মর্মে যুক্তিসঙ্গত অভিযোগ না পেলে বা বিশ্বাস না করলে পুলিশ আপনাকে সেই অপরাধের জন্য গ্রেফতার করতে পারেনা। তবে আমাদের জেনে রাখা ভাল এখানে ‘অপরাধ’ বলতে আইনের চোখে যা অপরাধ কেবল সেগুলি বোঝানো হচ্ছে, সামাজিক বা ধর্মীয় দৃষ্টিতে যা অপরাধ তা নয়। আইনের চোখে যা অপরাধ নয়, সেসব আপনি পুলিশের সামনে বসে করলেও পুলিশ অন্ততঃ সে কারনে আপনাকে গ্রেফতারে করতে পারবে না।

★তো পুলিশ চাইলেই কি যে কোন অপরাধের জন্য আপনাকে গ্রেফতার করতে পারে?
-না তা পারেনা, বাংলাদেশের সব আইন দুই ভাগে বিভক্ত, প্রথম ভাগে আছে এক ধরনের অপরাধ যা করলে বা করার অভিযোগে আপনাকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের কোর্টের আদেশ লাগবে না, পুলিশ আপনাকে যেখানে পাবে সেখানেই পত্রপাঠ গ্রেফতার করতে পারবে (এই ধরনের অপরাধগুলিকে বলা হয় ‘আমলযোগ্য অপরাধ’, ইংলিশে ‘cognizable offence’), বাকী অপরাধগুলির জন্য আপনাকে গ্রেফতার করতে চাইলে পুলিশের ওয়ারেন্ট (কোর্টের আদেশ) লাগবে (এই ধরনের অপরাধ গুলিকে বলা হয় ‘অ-আমলযোগ্য অপরাধ’, ইংলিশে ‘non cognizable offence’’), আপনি যদি অ-আমলযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত হন, তাহলে যে পর্যন্ত কোর্ট ওয়ারেন্ট ইস্যু না করছে, লেজে হাওয়া লাগিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন, ইচ্ছা হলে থানায় যেয়ে পুলিশের সাথে চা-কফিও খেয়ে আসতে পারেন, পুলিশ আর যাই করুক অন্তত সেই অপরাধের জন্য আপনাকে গ্রেফতার করতে পারবে না।
★এখন প্রশ্ন হলো কিভাবে জানবেন কোন অপরাধ আমলযোগ্য আর কোনটা তা নয়?

-চলুন চলে যাই মূল কথায়ঃ আপনারা কি জানেন যে গ্রেফতার করলে হাত-পা বাধতেই হবে এমন কোন আইন নেই? হাত-পা বাধার বা আইনের ভাষায় বলতে গেলে ‘দৈহিক ভাবে আটক’ করার কথা তখনই আসে যখন কাউকে গ্রেফতারের আদেশ দেয়ার পরও সে কথা বা কাজের মাধ্যমে গ্রেফতারের আদেশের প্রতি আত্মসমর্পন না করে বরং তাতে বাধা দেয়।
★তো গ্রেফতারের আদেশ পেলে আপনি কি বলে আত্মসমর্পন করবেন?
-সহজ কিছু, যা খুব সহজেই সবাই বুঝতে পারবে এমন কিছু বলুন, ‘ওকে শব্দটা ব্যবহার করতে পারেন’ কিংবা ‘আই সারেন্ডার’ ও বলতে পারেন।
★কি রকম কাজের মাধ্যমে আত্মসমর্পন করা বোঝায়?
-হাত উপরে তুলে সারেন্ডারের ভঙ্গি করতে পারেন, পুলিশ যদি ভ্যান নিয়ে গ্রেফতার করতে বের হয়, সেখানে উঠে বসতে পারেন।(যদিও আমরা এরকম অবস্থায় পালিয়ে বেড়াই বেশির ভাগ সময়ই)

🎯গ্রেফতার করার ক্ষমতার সাথে সাথে আইন পুলিশকে আরেক ভয়ংকর যে ক্ষমতা দিয়েছে, কেউ গ্রেফতার করতে বাধা দিলে বা গ্রেফতার এড়ানোর জন্য পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার জন্য ‘যে কোন প্রকার পদক্ষেপ’ নিতে পারে।

জ্বী, আপনি যদি গ্রেফতার এড়ানোর জন্য পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু করেন বা দৌড়ে পালাতে চান, তাহলে বাংলাদেশের পুলিশ আইনসঙ্গত ভাবেই আপনাকে ইচ্ছামত পেটাতে পারে, এমনকি গুলিও করতে পারে, এটুকু শুনে এই ব্যাপারে পুলিশের ক্ষমতার দৌড় এখনো বুঝতে পারলেন না? তাহলে শুনুন, আপনার বিরুদ্ধে যদি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন দন্ড হবে এমন কোন অপরাধের অভিযোগ থাকে, তাহলে আপনার ‘বিরোধের’ কারনে ‘গ্রেফতার কার্য্যকর’ করতে যেয়ে পুলিশ আপনাকে মেরে ফেললেও পুলিশের আইনগতভাবে কিছুই হবেনা।তাই একটু সাবধান!

★আচ্ছা আরেকটা কথা মনে করিয়ে রাখি, কাউকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ আপনার গৃহে বা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তল্লাশী করতে চাইতে পারে, আপনি যদি তখন দরজা জানালা বন্ধ করে বসে থাকেন, তাহলে পুলিশ আইন সঙ্গত ভাবেই আপনার দরজা জানালা ভেঙ্গে প্রবেশ করার আইনগত ক্ষমতা রাখে।তাই যখনই তল্লাশি জন্য পুলিশ যাবেন তাদেরকে তা যথাযথ নিয়ম মেনে করতে দিন।বাকিটা আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করুন।আর এই জন্য লোকমুখে শোনা আইনজীবী নিয়োগ দিলেও কিছুটা যাচাই বাছাই করে তারপর নিয়োগ দিন।

এরপর আসুন আরেকটু খুটিনাটি জানি- গ্রেফতার করার পর পুলিশ আপনাকে তল্লাশী করতে পারে, কিন্তু ধরলেই তল্লাশী করতে পারে বা তল্লাশী করতে হবে এমন কোন আইন নেই, পুলিশ যদি জামিনের বিধান নেই এমন কোন ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেফতার করে বা জামিনের বিধান আছে কিন্তু সে জামিনদার দিতে পারবে না এমন কাউকে গ্রেফতার করে, তাহলে পুলিশ চাইলে, আমি আবার বলছি ‘চাইলে’ তাকে তল্লাশী করতে পারে (মনে রাখা ভাল আমি গ্রেফতারের পর তল্লাশীর কথা বলছি, রাস্তায় সিএনজি থামিয়ে আপনাকে গ্রেফতার না করে তল্লাশীর কথা বলছি না)।

★কোন মেয়েকে তল্লাশী করতে হলে যে আরেক মেয়েকে দিয়ে কঠোর ভদ্রতার মধ্যে দিয়ে করতে হবে সেটা বলা হয়েছে, তবে পুরুষদের তল্লাশীর ক্ষেত্রে কোন প্রকার শালীনতা বজায় রাখার কথা বলা হয়নি।

🎯 পুলিশ এরেস্ট করলেই ঘাবড়ে যাবার কিছু নেই, এরেস্টের ২৪ ঘন্টার মধ্যে পুলিশ আপনাকে কোর্টে উপস্থিত করতে বাধ্য, অনেকে আছেন এরেস্ট করলে একেবারে ভেঙ্গে পড়েন, এত ভেঙ্গে পড়ার কিছু নেই, এরেস্ট হওয়া মানেই অপরাধ প্রমান হয়ে যাওয়া নয়।

আরেকটা কথা, প্রথম দিন যখন কোর্টে দাড়াবেন, আগে থেকে পরিচয় না থাকলে কারো রেফারেন্সে কোন উকিলকে জামিন চাওয়ার জন্য ওকালতনামা দিতে যাবেন না, একবার পাওয়ার দিয়ে দিলে অনেক উকিল আর সেই ক্লায়েন্ট ছাড়তে চায়না, ছাড়াতে গেলে সেই উকিলকে অনেক টাকা দিতে হয়, পুরাই ‘কমলি ছোড়তি নেহি’ অবস্থা! আপনার পরিবারের নিয়োজিত উকিলের জন্য অপেক্ষা করুন, আর কোর্টে হাজিরার একেবারে প্রথম দিন জামিন নাও হতে পারে এই মানসিক প্রস্তুতি রাখুন।

আদতে আমাদের দেশে সচরাচর যা হয়, গ্রেফতারের পর অনেক সময় কিছু অসাধু লোক বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্তের পরিবার হতে বিশাল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়, অথচ এতে এত ভয়-ভীতির কিছু নেই।কারন হাজতে না খাইয়ে রাখে না, কষ্ট হবে তবে না খেয়ে মারা যাবে না, অসাধু লোকদের টাকা না খাইয়ে পরবর্তী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থার জন্য সেই টাকা সঞ্চয় করে রাখুন, উপকৃত হবেন।আর সঠিক ও বিশ্বস্ত আইনজীবীদের শরণাপন্ন হোন।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Law Help Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share