04/12/2024
হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনী সবচেয়ে কষ্টের দিন...
উহুদের ময়দানে সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর দাঁত মোবারক শহীদ হয়েছিল এবং মুসলিমরা বিপর্যয় পড়েছিল। অবশ্যই রাসূলুল্লাহ সাঃ এর জীবনে ও ইসলামের ইতিহাসে কষ্টের দিন ছিল। কিন্তু সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম এর দৃষ্টিতে এদিনের চেয়ে বেশি কষ্টের দিন ছিল। এই বিষয়ে হাদিসে আছে, তায়েফ সফর বিষয়ে মা আয়েশা রাঃ থেকে বর্ণিত, একদিন তিনি রসুলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, 'ওহুদের দিনের চেয়ে কি বেশি কষ্টের দিন আপনার জীবনে এসেছিল?' জবাবে তিনি বললেন, 'হ্যাঁ।'
তোমার জাতির কাছে যে কষ্ট পেয়েছি, তা ছিল তার চেয়ে বেশি কষ্টদায়ক। আর ছিল (আকাবারে) তায়েফের দিনের আঘাত। যেদিন আমি তায়েফের নেতা ইবনে আবদে ইয়ালিল বিন আবদে কুলালের কাছে ইসলামের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সে তাতে সাড়া দেয়নি।
তখন দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে ফিরে আসার পথে, কারনুস সাআলিব (কারনুল মালাজিল) আসার পর একটু স্বস্তি পেলাম। উপরের দিকে মাথা উঠিয়ে দেখলাম একখন্ড মেঘ আমাকে ছায়া দিয়ে আছে। অতঃপর ভালোভাবে লক্ষ্য করে জিব্রাইল (আঃ)কে দেখলাম জিব্রাইল সে আমাকে সম্বোধন করল,' আপনি আপনার জাতির কাছে যে দাওয়াত দিয়েছেন এবং জবাবে তারা যা বলেছে তা সবই মহান আল্লাহ শুনেছেন।'
এ সময় তিনি আপনার কাছে মালাকুল জীবাল অর্থাৎ ফেরেশতা পাঠিয়েছেন ওই লোকদের ব্যাপারে আপনি যা খুশি তা নির্দেশ দিতে পারেন।
রসুলুল্লাহ সাঃ বলেন অতঃপর মালাকুল জীবন আমাকে সালাম দিয়ে বলেন, হে মোহাম্মদ আল্লাহ আপনার জাতির কথা শুনেছেন। আমি মালাকুল জিবাল, আমাকে আপনার পালনকর্তা আপনার নিকট পাঠিয়েছেন। যাতে আপনি আমাকে যা খুশি নির্দেশ করতে পারেন।
আপনি চাইলে আমি 'আখশাবাইন' (মক্কার আবু কুয়াইস ও কুআইকাআন) পাহাড় দুটিকে তাদের উপর চাপিয়ে দেব।
জবাবে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, 'বরং আমি আশা করি, আল্লাহ তাদের ঔরসে এমন সন্তান জন্ম দিবেন, যারা এক আল্লাহর ইবাদত করবে এবং আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবে না। (বুখারী হাদিস :৩২৩১)ক্ষমা ও সহিষ্ণুতার দৃষ্টান্ত অনুপম দৃষ্টান্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সালাম। মর্মান্তিক নির্যাতনের শিকার হয়েও ক্ষমা করে দেন। ফেরেশতাদের সাহায্য পেয়েও তিনি কোন প্রতিশোধ নেননি। আমরা কি আমাদের জীবনে এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে পারি না?