14/05/2026
স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, রাশিয়া তার কামচাটকা প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঘাঁটিতে (ইউক্রেন থেকে প্রায় ৭,৪০০ কিলোমিটার দূরে) দুটি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী বোরেই-শ্রেণির সাবমেরিন পুরোপুরি অ্যান্টি-ড্রোন নেট দিয়ে ঢেকে রেখেছে।
এটাই প্রথমবার যখন পুরো সাবমেরিনগুলোকে (শুধু সেল বা পিয়ার নয়) এভাবে নেট দিয়ে ঢাকা হয়েছে। প্রতিটি সাবমেরিনে রয়েছে ১৬টি করে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যেগুলোতে একাধিক ওয়ারহেড বহন করার ক্ষমতা আছে।
এই ব্যবস্থা দেখে মনে হয়, রাশিয়া এখন খুব সতর্ক হয়ে গেছে এবং দূরের ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বোরেই-শ্রেণির (Project 955/955A) সাবমেরিন সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ
১. এটি রাশিয়ার সবচেয়ে আধুনিক পারমাণবিক-চালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিন (SSBN), যা পুরোনো Delta ও Typhoon শ্রেণির সাবমেরিনের বদলে তৈরি করা হয়েছে।
২. দৈর্ঘ্য প্রায় ১৭০ মিটার, প্রস্থ ১৩.৫ মিটার। পানির নিচে ওজন প্রায় ২৪,০০০ টন।
৩. প্রতিটিতে ১৬টি RSM-56 Bulava (SS-N-32) আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আছে, যেগুলোতে ৬-১০টি করে MIRV ওয়ারহেড থাকতে পারে।
৪. পানির নিচে সর্বোচ্চ গতি প্রায় ২৯ নট (৫৪ কিমি/ঘণ্টা), সর্বোচ্চ ৪০০ মিটার পানির নীচ দিয়ে চলতে পারে।
৫. এটির জ্বালানী হিসেবে পারমানবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে এটির রেঞ্জ আনলিমিটেড।
৬. পাম্প-জেট ও উন্নত নয়েজ রিডাকশন প্রযুক্তির কারণে এটি আগের সোভিয়েত যুগের সাবমেরিনের চেয়ে অনেক কম শব্দ করে, যা শত্রুর সনাক্তকরণ এড়াতে সাহায্য করে।
৭. রাশিয়ার নৌবাহিনীর পারমাণবিক নিউক্লিয়ার ট্রায়াডের অংশ। এগুলো দূরপাল্লার পারমাণবিক হামলার সেকেন্ড স্ট্রাইক ক্ষমতা নিশ্চিত করে। বর্তমানে রাশিয়ার কাছে এ ধরনের ৮টি মতো সাবমেরিন আছে।
এই সাবমেরিনগুলো রাশিয়ার কৌশলগত প্রতিরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই ড্রোন নেট দিয়ে ঢেকে রাখা দেখে বোঝা যায় তারা কতটা সতর্ক।