18/04/2025
ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল: বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার।
ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল নিয়ে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে যারা দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে চিন্তিত, তাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কারণ, এই সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অনেকেই ভাবছেন, এর ফলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত বড় ক্ষতির মুখে পড়বে। বাস্তবে বিষয়টি সে রকম নয়। বরং এটি বাংলাদেশের জন্য নতুন সক্ষমতা গড়ার এক অসাধারণ সুযোগ হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৩৮.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার আওতায় কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৬২ কোটি ডলারের পণ্য—যা মোট রপ্তানির মাত্র ১.৬১ শতাংশ। অধিকাংশ রপ্তানি পণ্য সমুদ্রপথে চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহার করেই পাঠানো হয়। ফলে, মাত্র ২ শতাংশের নিচে একটি অংশ নিয়ে অতি চিন্তিত হওয়ার চেয়ে আমাদের উচিত নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া।
বর্তমানে আকাশপথে বছরে প্রায় দুই লাখ টনের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়, যার মধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশই ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিবাহিত হয়। বাকি ১৫-২০ শতাংশ এত দিন কলকাতা বিমানবন্দরের মাধ্যমে যেত। মূলত ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ অঞ্চলের পণ্য বেনাপোল হয়ে কলকাতা বিমানবন্দরে যেত এবং সেখান থেকে কয়েকটি দেশে রপ্তানি হতো। এখন সময় এসেছে দেশের অভ্যন্তরে এ ধরনের সক্ষমতা গড়ে তোলার।
বাংলাদেশে বর্তমানে বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর আছে, যেগুলোর ব্যবহার সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। এই সুযোগে এদের মধ্যে একটি বিমানবন্দরকে বিশেষায়িত রপ্তানি বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে ও রপ্তানি কার্যক্রম সহজ করতে এমন একটি বিশেষায়িত বিমানবন্দর সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হবে।
আমরা অতীতে দেখেছি, ভারত যখন গবাদি প্রাণী রপ্তানি বন্ধ করেছিল, তখন অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ফলাফলে দেখা গেছে, এর ফলে বাংলাদেশ নিজেই গবাদি প্রাণী উৎপাদনে প্রায় স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে এবং এই খাতে কর্মসংস্থানও বেড়েছে। তেমনি এবারও, ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল আমাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
তবে এটাও স্মরণে রাখতে হবে—আঞ্চলিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুসম্পর্ক ছাড়া মুক্ত বাণিজ্য সম্ভব নয়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকেও আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। হঠকারী সিদ্ধান্ত, আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া কিংবা বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক প্রচারণা আমাদের এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সুতরাং, দূরদৃষ্টি ও কৌশলী সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে ।