08/07/2020
বাচ্চাদের ফাইনান্স আর ইকোনমিকস এর ধারণা দেওয়া জরুরী।
হ্যাঁ। টাকা চেনানো উচিৎ তাদের। এখনকার বাচ্চারা যদিও টাকার সাথে আগে থেকেই পরিচিত হয় বটে, কিন্তু মানি ম্যানেজমেন্ট টা তারা জানেনা। কিভাবে টাকা কোথায় কাজে লাগালে তা প্রফিটেবল হবে তা তারা জানেনা। সেটা কিভাবেই বা জানবে। জানানোর মতো আছেই বা কে। স্কুল কলেজ তো মুখস্থ গেলাতে ব্যস্ত। আর বাবা-মা হয়তো মিলেনিয়ালস। যারা টাকার কথা ভাবলেও মার খেয়ে বড় হয়েছে। অনেকেই অনেক বয়স পর্যন্ত টাকাও চিনতো না!!
ইয়েস, মিলেনিয়ালস, যারা কিনা অত্যাধিক মানষিক অত্যাচার আর ট্যাবুফোবিয়ার হুমকির মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছে। যাদের কাছে টাকা ছিলো অচ্ছুৎ। যেন টাকা ছুলেই বুঝি বাচ্চা বখে গেল।
একটা নর্ম ছিলো, হাতে টাকা দেওয়া যাবে না। কিছু লাগলে কিনে দাও কিন্তু এক টাকাও হাতে দিও না। এটা অনেক ছেলেপেলে গ্রাজুয়েশন করা অব্দি ফেস করে এসেছে। আমি মিলেনিয়াল দের কথা বলছি। ২০০০ এর আগে যাদের জন্ম। বিশেষ করে মিড ৯০ পর্যন্ত।
এদের মানষিকতা ট্রমাটাইজড করে ফেলা হয়েছে। যেন টাকা কোন লিথাল উইপন, এন্ড এটা হাতে নিলেই সে কোন কোলেট্যারাল ডেমেজ তৈরি করে ফেলবে।
একই সময়ে ওদিকে মেরিকায় ৮০র দশকেই সব বাচ্চারা বড় বড় টেক কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে মিলিয়ন ডলার বানিয়ে বসে আছে। সেসব এখন বিলিয়ন ডলারের প্রতিষ্ঠান।
আর আমাদের বুড়ো খোকা রা তাদের আপেল কেনার সপ্নে দিনযাপন করে আর চাকরির আশায় তাদের অফিস প্রোগ্রাম শিখতে হিমসিম খায়। কেননা, এই খোকাদের তো কোন টেক ইকুইপমেন্ট ছুতেই দেওয়া হয়নি এত বছরে, খোকা নষ্ট হয়ে যাবে বলে!!
ওদিকে মেরিকার বাচ্চা খোকারা সেই টেক ইকুইপমেন্ট গুলোই বানিয়ে বসে আছে। বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়ে বসে আছে! কিন্তু নষ্ট তো হয়নি!!
কিন্তু কিভাবে সম্ভব??
মানেন না মানেন, এই দেশটা গোঁয়াড়দের আস্তানা। যেখানে পুরো সমাজ এবং পারিবারিক ব্যবস্থা গোঁয়ার্তুমিতে চলে। যে যা বোঝে তাই সই। এর বাইরে কিছু নেই ছিলো না। আসবে না। আসতে পারে না। আসতে দেবো ও না। এই মননেই চলে। ফলে কোন স্ট্যান্ডার্ড তৈরি হয়নি। কোন কিছুতেই না।
একটা জাতি স্ট্যান্ডার্ড এবং আইকনিক হতে হলে একটা স্ট্যান্ডার্ড প্রসিডিওর থাকতে হয় জাতি তৈরিতে। যেখানে বলা, চলা, দেখা, ফেরা, আচার, আচরণ, কৃষ্টি, নীতি, নৈতিক শিক্ষা, এগুলো তে সিমিলারিটি থাকে। সেই সিমিলারিটি সব কোনায় প্রায় সেম থাকে। শেখার, শেখানোর ধরনও একই থাকে। এটাকে দেশি মানষিকতায় রোবটিক মনে হলেও, এটাই মুলত ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড। যা এক জাতিকে আরেক জাতি থেকে আলাদা করে।
আমাদের সোনার দেশে সব সোনালী হলেও বিয়ের আগে মেয়ে সোনার সাথে পরিচিত হতে চাইলেও সেটা অসভ্যতা এবং লোভ বলে পরিচিত হয়। এই সোনা হচ্ছে গোল্ড। যা একটা ধাতু। কিন্তু কতজন প্যারেন্টস এটা জানে? বা জানতো?
বাংলাদেশে প্যারেন্টিং বলে যে একটা জিনিস আছে সেটাই বেশিরভাগ বাবা-মা জানেনা। ফলে যে যার যা ইচ্ছা তাই শেখাচ্ছেন। সেভাবেই বড় করছেন বাচ্চাকে। ফলে চোরের বাচ্চা চোরা মানষিকতায় বড় হচ্ছে। ঘুষখোর এর বাচ্চা শিখছে সংসার আলিশান ভাবে চালাতে অরকম সম্মানি নিতে দোষ নাই। টাকাওয়ালার ছেলে বাপের টাকার জোরে সব কিছুকে ধরা জ্ঞান করা শিখে ফেলছে। রাজনৈতিক এর বাচ্চা পিচ্চিকালেই ঝাড়ি দেওয়া শিখে যাচ্ছে।
ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিতে কিন্ত আপনি এটা করতে পারবেন না। আপনার ইচ্ছা হলেই আপনার মতো করে বাচ্চা বড় করতে পারবেন না। ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড ফলো করতে হবে। ফলে সব বাচ্চাই একটা বেসিক শিক্ষা নিয়ে বড় হয়। তাই এদের দেখলেই দ্রুত আইডেন্টিফাই করা যায় যে এরা এই জাতীয়।
কেননা তারা বাচ্চাদের শেখায়,
কোন ভাষা ব্যবহার করতে হবে?
কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ?
কোনটা অন্যায়, কি করলে শাস্তি পেতে হবে? এটিকুয়েট কি। ভদ্রতাজ্ঞান আর আচরণ কিভাবে করতে হবে?
বিনয়ী হয়ে কিভাবে সম্মান রেখে সবার সাথে কথা বলতে হবে?
রাস্তাঘাটে চলাচলের ধরন কি হবে?
বড় ছোট সবাইকে কিভাবে সম্মান করতে হবে?
জ্ঞানীদের কিভাবে এবং কেন সম্মান করা উচিৎ?
কিভাবে এবং কেন কোন ভালো কাজে বা কোন এচিভমেন্ট এ কাউকে অভিবাদন জানাতে হবে বা এপ্রিশিয়েট করতে হবে।
অন্যের ক্ষতি করা কেন খারাপ কাজ?
লোভ করা কেন ভালো না?
হিংসা, গীবত কেন করা উচিৎ না, কেন এটাতে নিজের ক্ষতি সেটা তারা এর মধ্যেই শিখে যায়।
টাকা কি কিভাবে টাকার ব্যবহার করতে হবে। টাকার কাজ কি। টাকার মুল্য কি?
কিভাবে টাকা উপার্জন করতে হবে। সেটা কিভাবে সঠিক উপায়ে খরচ করতে হবে?
কিভাবে সঞ্চয় করতে হবে বা করা যাবে?
এখানে একটা নিস্পাপ ছোট বাচ্চা ছেলে একটা বাচ্চা মেয়ে বা একটা বাচ্চা মেয়ে একটা বাচ্চা ছেলের সাথে কথা বললেই বাবা-মা রা যে সন্দেহের জঘন্য বিষবাষ্প ছড়ায়, তা যে এই বাচ্চাগুলোর মধ্যেও ছড়ায় সেটা সেই বাবা-মা রা ধারণাও করতে পারেন না।
এই বাবা-মা নিয়ে তৈরি সমাজ এসব শিক্ষা দেবে সেটা ভাবাটাও অকল্পনীয়।
কিন্তু ব্যপার টা যেখানে টাকা পয়সার, সেখানে নিজের স্বার্থেই সচেতন হওয়া দরকার। নিজের স্বার্থেই শেখানো উচিৎ।
এই দেশে মানুষ অল্পতেই বুড়ো হয়ে কুযো হয়ে যায়। যে বয়সে শাহরুখ খান রোমান্টিক সিনেমা করে বা টম ক্রুজ বা ড্যায়ানিয়েল ক্রেইগ ন্যাশনাল সিকিউরিটির জন্য সুপারহিট একশন স্টান্ট করে, সে বয়সে এই দেশের প্যারেন্টস টায়ার্ড হয়ে নিজেদের বুড়ো ঘোষণা দিয়ে অবসরে যাবার আশায় থাকে। আর এর একমাত্র শর্ত হচ্ছে, ছেলে (শুধু ছেলেই। মেয়েদের ক্ষেত্রে বিদায় করেই বাঁচে তাই যদি থাকে, ছেলে) ইনকাম করে সংসারের 'হাল' ধরার অপেক্ষা করে।
এটা সেই ছেলেই যাকে বছর খানেক আগেও সেই একই বাবা-মা এক পাই ও হাতে দিতো না ছেলে বখে যাবে বলে! যাকে টোটালি টাকা পয়সা বা অর্থনৈতিক বিষয় থেকে অন্ধকারে রেখে দিয়েছিলো, তার কাছেই এখন অব্যক্ত আশা, কবে সে হাল ধরবে?
এই হাল আবার শুধু চাকরি করেই ধরতে হবে। সেও আবার সরকারি চাকরি হলে ভালো হয়। ব্যবসার নাম ভুলেও না। নইলে প্যারেন্টাল লাইফ ই বৃথা তাদের (সে আরেক আলোচনা)।
অথচ ছেলে হয়তো এখন কেবল ডিগ্রির জন্য পড়ে, বা গতকাল ডিগ্রি শেষ করেছে। ডিগ্রি শেষ মানেই চাকরি বসে আছে তার ডিগ্রি ওয়ালা মুর্খ্য ছেলের জন্য ৫০ হাজার টাকার চাকরি নিয়ে। (যার ফাইনানশিয়াল জ্ঞান ই নেই সে এক পিস কাগজ নিয়ে নিশ্চয়ই শিক্ষিত না)। আর বিসিএস তো দিলেই হয় যায়। অমুক পাড়ার দুর্রসম্পর্কের তমুক বিসিএস ক্যাডার, সে হইলে তোমারেও হইতে হবে।
ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার যে পড়ানো হয়, অনেক কে জোর করে পড়ানো হয় এই জন্য যে, এখানে অনেক টাকা কামাতে পারবে চিন্তা করেই। সরকারি চাকরি তে অনেক টাকা, ঘুষ দিয়েই বাড়ি গাড়ি করা যাবে এই আশায় ই সরকারি চাকরি তে ঢোকার জন্য এত প্রেশার দেওয়া হয়, স্থায়ী চাকরি, কাম নাই কোন, এসব তো ঢাল মাত্র।
ফলে একটা অশান্তি তৈরি হয় চারিদিকে। সামাজিক অসামঞ্জস্যতা তৈরি হয়। আর হিপোক্রেসি উন্মোচিত হয়ে যায়।
টাকা কামাও, অনেক টাকা, যে টাকা গতকাল ও দেখনি। টাকা কামাও, কিন্তু শুধু চাকরি করেই।
টাকা কামাও, কিন্তু ব্যবসা খারাপ জিনিস। ব্যবসা মূর্খ্য দের জিনিস। শিক্ষিত লোকেরা ব্যবসা করে না।
(তারা মুর্খ্যদের আন্ডারে চাকরি করে 🤣🤣🤣)
এই ধরনের ভাষাই প্রমাণ করে সমাজ, পরিবার এবং এর অংশ বাবা-মা রা কতটা মুর্খ্য!!
হ্যাঁ জেনে বুঝেই বলছি। কাউকে অসম্মান বা ইগো হার্ট করা উদ্দেশ্য না, সমাজ, পরিবারের মতো যন্ত্র গুলো যে কি পরিমাণ গোঁয়ার, আর মুর্খ্য এই ইকোনমিক সিস্টেম, ফাইনানশিয়াল সিস্টেম এর ব্যপারে যে তারা এটা ভুলেও জানেনা কিভাবে জব তৈরি হয়, আর কিভাবে একটা দেশের ইকনোমি চলে!
একটা জাতির সব পারিবারিক যন্ত্র যদি শুধু চাকরিজীবী উতপাদন করে তাহলে চাকরি এরা করবে কোথায়? কোন প্রতিষ্ঠানে?? সরকার সব চাকরি দেবে সবাইকে? নাকি? কিভাবে কি চলবে?
প্রত্যেকটা পরিবার যন্ত্র ভাবে তাদের সন্তানকেই সরকারি চাকরি করতে হবে, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে। ব্যবসা অশিক্ষিত রা করবে। অর্থাৎ কেউ না কেউ তো অশিক্ষিত হবেই!!
এটাই গোঁয়ার্তুমি!
একবারও এসব নিয়ে ভাবার মতো বা এই বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য সমাজ বা পরিবারগুলো কাজ করেছে? করেনি।
সেই বৃটিশদের শিক্ষা মগজে গুজে ৫/৭ বা ততোধিক প্রজন্ম পরম্পরায় কাটিয়ে দিলেও এই ঘ্যাচড়ামি থেকে বের হতে পারেনি যে, কেরানি বা চাকর হওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। বৃটিশ আমলের একমাত্র পেশা, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারি বা ওকালতি ছাড়াও অনেক পেশা আছে! আজকের এই আধুনিক যুগে!
আর সে সময়ের চিন্তা এখনো আমাদের মগজে গাথা, ব্যবসা বৃটিশরা ই করুক। আমরা তাদের কেরানি হয়েই থাকি। তারা আমাদের সব বানিয়ে এনে বেচুক, আমরা সেটা কিনে খেয়েই বাঁচি!!!
কি অদ্ভুত!
শত শত বছর ধরে একটা চিন্তাধারা কিভাবে একটা সমাজকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে রেখে পেছন দিকে নিয়ে যায়, আর আমরা হ্যামিলন এর বাশির সুরের মূর্ছনা থেকে আজো অব্দি বের হতে না পেরে অন্ধের মতো বাশির সুরের পথ ধরে অজানায় লাফ দিয়েই যাচ্ছি!!