Masum & Associates

Masum & Associates Income Tax,Vat,Trade license,IRC,ERC,RJSC,Company affairs.

30/12/2024
13/12/2023

GOOD NIGHT

05/12/2023

যেভাবে ভ্যাটের যাত্রা শুরু ।
নিউইয়র্ক ভিত্তিক ফাইনান্সিয়াল মিডিয়া ওয়েবসাইট ইনভেস্টোপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে ভ্যাট বা মূসকের যাত্রা শুরু মূলত ইউরোপে। ফ্রান্সের কর কর্তৃপক্ষ ১৯৫৪ সালে প্রথম দেশ হিসেবে মূসক আরোপ করে। তবে এর প্রায় এক শতাব্দী আগে জার্মানিতে পণ্যের সাপ্লাই চেইনের প্রতিটি ধাপে কর দেয়ার রীতি প্রচলিত ছিল বলেও জানা যায়।
শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন এন্ড ডেভেলপমেন্টের বেশিরভাগ সদস্য দেশেই ভ্যাট ব্যবস্থা চালু ছিল।
বাংলাদেশে ভ্যাট বা মূসক চালুর তোড়জোর শুরু হয় ১৯৮৯ সালের দিকে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে। তখন অর্থমন্ত্রী ছিলেন অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুল হক।
সেসময় ভ্যাট চালু প্রক্রিয়ার সাথে যারা সরাসরি যুক্ত ছিলেন তাদের মধ্যে একজন অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর। তিনি তখন আন্তর্জাতিক মুদ্রা সংস্থার ফিসক্যাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টে যারা কর নীতি এবং সরকারের ব্যয় নিয়ে কাজ করে সেই বিভাগের সিনিয়র ইকোনমিস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মি. মনসুর বলেন, ১৯৮৮ সালে দেশ জুড়ে প্রলয়ংকারী বন্যার পর, দেশের রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য কারিগরি সহায়তা দিতে আইএমএফকে আহ্বান জানিয়েছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী অধ্যাপক ড. ওয়াহিদুল হক।
তার অনুরোধে রাজি হয় আইএমএফ। এর অংশ হিসেবে আইএমএফ এর একটি প্রতিনিধিদল ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সফর করে।
তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ড. ওয়াহিদুল হকের অনুরোধে সেই প্রতিনিধিদলে ছিলেন মি. মনসুর।
তিনি বলেন, সেসময় আইএমএফ থেকে তাকে বলে দেয়া হয়েছিল যে, ভ্যাট ব্যবস্থা বাংলাদেশে চালু করা যায় কিনা সেটা নিয়ে ভাবা এবং সম্ভব হলে সেটি চালু করা।
“সেভাবেই আমি এখানে আসি,” বলেন তিনি।
আইএমএফ-এর এমন উদ্যোগের কারণ হিসেবে মি. মনসুর বলেন, সেসময় বাংলাদেশের জাতীয় আয়ের তুলনায় রাজস্ব আয় অনেক কম ছিল। সেটাকে বাড়ানোটা একটা লক্ষ্য ছিল। একই সাথে ভ্যাট তখন বিশ্বজুড়ে পরিক্ষীত এবং সফল একটি ব্যবস্থা ছিল। বিশ্বের প্রায় ৭০-৮০টি দেশে এই ব্যবস্থা চালু ছিল। যার কারণে বাংলাদেশেও একই ধরণের ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।
আইএমএফ এর প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে এসে সরকারের সাথে কাজ শুরু করে এবং এর অংশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত ও ফিলিপিন্সের মতো ভ্যাট চালু রয়েছে এমন কয়েকটি এশিয় দেশ সফর করে।

দেশের মোট আদায়কৃত রাজস্বের মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশই মূসক থেকে আদায় হওয়া অর্থ।
সফর শেষে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।
“এতে সুপারিশ করা হয় যে, এখানে ভ্যাট চালু করা সম্ভব এবং আমরা করতে চাই,” বলেন তিনি।
এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ভ্যাট চালু করার বিষয়ক পরবর্তী কার্যকলাপ শুরু হয়।
অর্থনীতিবিদ মি. মনসুর বলেন, ভ্যাট চালু করা নিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা শুরুর পর তারা এর বিরোধিতা করে। এমনকি দেশের জনগণও এটা শুরুতে মানতে চায়নি।
এর প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সেসময় এনবিআর বা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবন বেশ কয়েক বার ঘেরাও পর্যন্ত করেছিল।
“দশ-বিশ হাজার মানুষ এসে এনবিআর ঘেরাও করে ‘ভ্যাট চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।”
মি. মনসুর বলেন, “অনেক রকমের প্রতিবন্ধকতা ছিল। এটা স্বাভাবিক। এটা থাকে, এটা নতুন কিছু নয়।”
তবে ভ্যাট চালু করার বিষয়ে তৎকালীন সরকার ইচ্ছুক ছিল বলে কাজ চলতে থাকে। রাজস্ব বোর্ডও তখন এ বিষয়ে ব্যাপক সহায়তা দিয়েছিল। সব মিলিয়ে ১৯৯০ এর দিকে যখন ভ্যাট চালু সংক্রান্ত আইন তৈরির জন্য পার্লামেন্টে তোলার প্রস্তুতি চলছিল তখন জেনারেল এরশাদের সরকার পতন হয়।
এমন অবস্থায় ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে। এই সরকারের রাষ্ট্রপতি হন বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ।
পার্লামেন্ট না থাকার কারণে ভ্যাট সংক্রান্ত বিলটি তখন রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ হিসেবে জারির প্রস্তাব তোলা হয়।
অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ এই প্রস্তাবে রাজি ছিলেন না। তার যুক্তি ছিল, তিনি অস্থায়ী সরকার প্রধান এবং তিন মাস পরেই ক্ষমতা থেকে সরে যাবেন। কিন্তু তিনি এই অধ্যাদেশ জারি করলে সেটি আইনে পরিণত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান থাকবে।
“পরবর্তীতে আমরা তাকে বোঝাতে সক্ষম হই যে এটা আমাদের বাজেটের জন্য খুব দরকার। কেয়ারটেকার গভর্নমেন্ট ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে যদি এটা না করে তাহলে জুলাই মাসে বাজেটের এটা চালু করতে পারবো না। ফলে আমাদের রাজস্ব আয়ে বড় একটা লস হবে।”
মি. মনসুর বলেন, এমন যুক্তির পর তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই আদেশে সই করেন এবং পরে এটি অধ্যাদেশে পরিণত হয়।
পরবর্তীতে বিএনপির নেতৃত্ত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান ভ্যাট অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে ১৯৯১ সালের জুলাই মাস থেকে এটি চালু করেন।

Address

205/5 Albasir Plaza, 3rd Floor. Motijheel
Dhaka
1000

Opening Hours

Monday 09:00 - 21:00
Tuesday 09:00 - 21:00
Wednesday 09:00 - 21:00
Thursday 09:00 - 21:00
Saturday 09:00 - 21:00
Sunday 09:00 - 21:00

Telephone

+8801782962444

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Masum & Associates posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Masum & Associates:

Share