05/09/2024
গণহত্যা শব্দের ইংরেজি পারিভাষিক শব্দ Genocide। এর আরও কয়েক সমার্থক শব্দ হলো Racial Kiliing, Massacre ও indiscriminate killing। সাধারণত গণহত্যা বলতে আমরা Genocide-কেই বুঝে থাকি। গ্রিক শব্দ Genos ও ল্যাটিন শব্দ Cide- দুই ভাষার শব্দ একত্রিত করলে দাঁড়ায় Genocide। Genos শব্দের অর্থ ‘নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা জাতি’ আর Cide শব্দের অর্থ ‘হত্যা’। বিস্তারিত পড়তে এখানে ঘুরে আসুন:
বাংলায় গণহ/ত্যা, ইংরেজিতে Geno-cide। গ্রিক শব্দ Genos ও ল্যাটিন শব্দ Cide- দুই ভাষার শব্দ একত্রিত হয়ে Geno-cide। এখন Genos ও Cide শব্দের অর্থ কি- সেটা জেনে নেওয়া যাক। Genos শব্দের অর্থ ‘নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা জাতি’ আর Cide শব্দের অর্থ ‘হ-ত্যা’। গণহত্যা শব্দটি প্রথম প্রয়োগ করা হয় ১৯৪৪ সালে। আইনি পরিমণ্ডলে ১৯৪৫ সালে শব্দটির প্রথম প্রয়োগ হয়। এখন আমরা জানবো বিংশ ও একবিংশ শতকের গণহ/ত্যার ইতিহাস। চলুন জেনে আসা যাক-
গ্রিক গণহ/ত্যা: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ও তার পরবর্তী সময়কালে এই গণহ/ত্যা সংঘটিত হয়। ১৯১৩-১৯২৩’র মধ্যে গ্রিসে ঘটে যাওয়া এই গণহ/ত্যা ইতিহাসে গ্রিক গণহ/ত্যা হিসেবে সমালোচিত হয়ে আসছে। পন্টাস, ক্যাপাডোসিয়া, আইওনিয়া ও ইস্টার্ন থ্রেসকে লক্ষ্য করে এই গণহ/ত্যা পরিচালনা করে গ্রিকো-তুর্কি সেনাবাহিনী। এই গণহ/ত্যা চলাকালেই শুরু হয় তুরস্কের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন। যার ফলশ্রুতিতে ১৯২৩ সালে উসমানীয় অধীনতা থেকে তুর্কিরা মুক্তি লাভ করে এবং ১৯২৪ সালে সাংবিধানিক চুক্তির মধ্য দিয়ে উসমানীয় খে-লাফত বিলুপ্ত হয়। গ্রিক গণহ/ত্যায় ৩-৯ লাখ বেসামরিক লোকের প্রা-ণহানি হয়।
আর্মেনীয় গণহ/ত্যা: আর্মেনীয় গণহ/ত্যা শুরু হয় ১৯১৫ সালের ২৪ এপ্রিল। শেষ হয় ১৯২৩ সালে। এই গণহ/ত্যা চালায় অটোমান সাম্রাজ্য। এতে ৬ লাখ থেকে ১৫ লাখ লোক নিহ/ত হয়।
দ্য হ-লোকস্ট: দ্য হ-লোকস্ট ইউরোপে ই-হুদি গণহ/ত্যা নামেও সমধিক পরিচিত। হিব্রু ভাষায় ই-হুদিরা হ-লোকস্টকে হা-শোয়া বলে থাকে। দ্বিতীয় বিশ্বযু-দ্ধ চলাকালীন ই-হুদিদের ওপর যে গণহ/ত্যা চালানো হয়েছিল তাকে দ্য হ-লোকস্ট বলা হয়ে থাকে। না-ৎসিবাদী জার্মান ও তাদের মিত্ররা ৬-১১ লাখ ই-হুদিকে হ/ত্যা করে।
‘৭১’র গণহ/ত্যা: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ তথা তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহ/ত্যা চালানো হয়েছিল, তা ‘৭১’র গণহ/ত্যা হিসেবে সমধিক পরিচিত। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন, শেখ মুজিবের ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং পশ্চিম পাকিস্তানের তদানীন্তন শাসকগোষ্ঠীর ক্ষমতালিপ্সার কারণে এই গণহ/ত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলা এই গণহ/ত্যায় ৩০ লাখ লোকের মৃ-ত্যু হয়।
কম্বোডীয় গণহ/ত্যা: ১৯৭৫ সালের ১৭ এপ্রিল কম্বোডীয় গণহ/ত্যার শুরু। ১৯৭৯ সালের ৭ জানুয়ারি এটি শেষ হয়। গণহ/ত্যা শুরু করে খেমার রুজ। ১৯৭৫-১৯৭৯ সময়কালে কম্বোডিয়ার শাসকগোষ্ঠী এই নামে পরিচিত। তারা ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব কাম্পুচিয়ার (সিপিকে) সদস্য। এই গণহ/ত্যায় ১২-২৮ লাখ লোক প্রা-ণ হারায়।
রুয়ান্ডা গণহ/ত্যা: রুয়ান্ডার সংখ্যালঘু টাটসি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ হুটু গোষ্ঠীর মধ্যে ১৯৯৪ সালের ৭ এপ্রিল নির্বিচারে যে গণহ/ত্যা শুরু হয়, তাই ইতিহাসে রুয়ান্ডা গণহ/ত্যা হিসেবে পরিচিত। একই বছর ১৯ জুলাই শান্তি ও নির/স্ত্রীকরণের এক চুক্তির মধ্য দিয়ে এই গণহ/ত্যার সমাপ্তি হয়। রুয়ান্ডা গণহ/ত্যায় ৮-১০ লাখ লোক নিহ-ত হয়।
বসনীয় গণহ-ত্যা: ১৯৯৫ সালে ১১-১৩ জুলাই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় যে গণহ-ত্যা চলে, বিশ্ব ইতিহাসে সেটা বসনীয় গণহ-ত্যা হিসেবে তুমুল সমালোচিত হয়ে রয়েছে। এতে শুধু স্রেব্রিনিকা শহরেই ৮ হাজার ৩৭১ জন প্রা-ণ হারায়। এ ছাড়া বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা জুড়ে চালানো এই গণহ/ত্যায় ২৫ হাজার ৬০৯ থেকে ৩৩ হাজার ৭১ জন নি-হত হয়।
রোহিঙ্গা গণহ/ত্যা: মি-য়ানমারের শাসক গোষ্ঠীর ভয়াবহ নিপী-ড়ন থেকে বাঁচার জন্য ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২০১৭ সালে জানুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে থাকে রো-হিঙ্গারা। বিশেষ করে মি-য়ানমারের সেনা-বাহিনীর অভিযান থেকে রেহাই পেতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের রো-হিঙ্গাদের বড় আকারের ঢল দেখা যায়। সংবাদপত্রের খবরাখবর অনুযায়ী মিয়ানমারের জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রায় ১০ লাখ রো-হিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই গণহত্যায় ২৫ হাজারেরও বেশি রো-হিঙ্গা নিহত হয়।
গা-জা গণহ-ত্যা: ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ফি/লিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হা-মাসের নজিরবিহীন হা-মলার পর থেকে গা-জায় হা-মলা শুরু করতে থাকে ইস-রায়েল। চলমান এই গণহ/ত্যায় ৪০ হাজারেরও বেশি গা*জাবাসী প্রা*ণ হারায়।