27/03/2020
আলহামদুলিল্লাহ,
এখন পর্যন্ত সুস্থ আছি। প্রতি রাতেই মনে হয় এই বুঝি জ্বর আসলো, আজই মনে হয় আক্রান্ত হবো করোনায়। বিগত ৮ দিন যাবত এভাবেই চলছে। আত্মীয় স্বজনরা বার বার ফোন করে বারন করে, বাসা থেকে সবাই রাগারাগি করছিল। যে সকল মানুষগুলি আগে আমার কাজে অনেক উৎসাহ দিতেন তারাও আমাকে নিষেধ করছে। কি করবো ঠিক বুঝতে পারছিলাম না, মনে হচ্ছিল আমরা যেই মানুষদের সচেতন করছি তারাতো করোনা সম্পর্কে জানেনা। অনেক ক্ষুধার্ত মানুষ তো আমাদের অপেক্ষায় থাকবে, আমরা যদি খাবার নিয়ে না যাই তাহলে তারা কি খাবে?
ঠিক তখনই মনে হলো মুক্তিযুদ্ধের কথা, যুদ্ধের সময়তো আমি ছিলামনা তাই আমার মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি। ১৯৭১ সালে তো আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা শতভাগ মৃত্যুর সম্ভাবনা জেনেও যুদ্ধে গিয়েছিলেন। আর আমি দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে নিজের জীবনের ভয়ে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকবো ? তাহলে তো এখন মুক্তিযুদ্ধ হলেও আমি যেতে পারতাম না, একজন মুক্তিযোদ্ধা হতে পারতাম না। নতুন উদ্যমে আবার শুরু করলাম জনসাধারণকে সচেতন করা, বাস-ট্রেনে জীবানু নাশক ছিটানো, হ্যান্ড স্যানেটাইজার ও মাক্স তুলে দেয়া, কিছু শ্রমজীবী ও অসহায় পরিবার কে ১৫ দিনের খাদ্য দ্রব্য দিয়ে তাদের কে ঘড়ে রাখা, যে সকল মানুষ রাস্তায় থাকে তাদের রান্না করা খাবার প্রদান করা। এই কাজগুলি করতে যেয়ে ওদের কষ্ট দেখে বার বার চোখে পানি চলে এসেছে।
আসুন আমরা যে যেখানে আছি সেখান থেকেই ওদের জন্যে কিছু করি। যখন দেখবেন কোন রিক্সাওয়াল খালি রিক্সা নিয়ে ফ্যাল ফ্যাল করে করূন দৃষ্টিতে আপনার দিকে তাকিয়ে আছে, তখন তার হাতে ১০০ টাকা দিয়ে তাকে বলুন ২ কেজি চাল কিনতে। মানুষিক প্রশান্তি পাবেন, যেটি কোটি টাকায়ও মিলবে না।
পোস্ট টি #ভালো_কাজের_বিনিময়ে_আহার এর প্রতিষ্ঠাতা এর প্রোফাইল থেকে সংগ্রহীত।