11/03/2019
11years celebration of My Company.... Praxis Architects
১১বছরে " PRAXIS Architects"।
আমি স্থপতি হিসেবে কাজ শুরু করি ২০০৮ এ। যখন শুরু করি, তখন আমার আব্বু- আম্মু দোয়া আর ভরসা দেয়া ছাড়া আর কোন ইনভেস্টমেন্ট ছিল না হাতে। টিচিং করে যে বেতন পেতাম, সেটায় মাস চলাই দায়, ইনভেস্টমেন্ট অনেক দুরের কথা। উদ্ধারকর্তা হিসেবে উদয় হলেন, আমার একজন ডেভেলপার ক্লায়েন্ট। উনার একটা বিল্ডিং ডিজাইন করতাম, ব্যাংক এর ইন্টেরিওর করতাম, এজন্য মতিঝিল ব্যাংক পাড়া হয়ে গেল ঘরবাড়ি। ক্লায়েন্টের একটা ছোট মিটিং রুম এর একপাশ এ একটা টেবিল আর একটা ছোট ড্রয়ার ছিল অফিসের সম্পত্তি। পরে অবশ্য উনার সাথে একটা আত্মীয়তার সম্পর্কও হয় আমার পরিবারের। উনি কোন টাকা নিতেন না আমার কাছ থেকে। একটা কম্পিউটার কিনে বসলাম ওইখানে। আমার খুব বেশি সপ্ন ছিল না অফিস নিয়ে৷ নিজে কোনমতে চলতে পারলেই হল। দিনে ব্যাংক এ দৌড়াই, আর রাতে বাসে করে সাইট দেখতে যাই, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর এ৷ আমার সাথে আব্বু থাকত মাঝে মাঝে। আমি জায়গা চিনতাম না একেবারেই। একবার এক ব্যাংক এর এমডি বললেন, লোহাগড়া যেতে, আমি রাতে রওয়ানা দিব বলে বের হলাম, আব্বু কে কল করে জিজ্ঞেস করলাম, লোহাগড়া জায়গাটা কোথায়?? আব্বু বল্ল, এইটা চট্টগ্রাম এ, রাতে ঠিকই রওয়ানা দিলাম, পরের দিন সকালে সাইটে। ওইদিন রাতে ফিরে সাইট প্ল্যান একে ফেললাম পরের দিন বিকালে এমডি কে ডিজাইন দেখাতে হবে, আর ২০দিনে কম্পলিট করতে হবে পুরো ব্রাঞ্চ। আমি সুপারভিশন করতে যেতাম প্রতি সপ্তাহে একবার।
যাইহোক, সেই যে ক্লায়েন্ট আমাকে বসার যায়গা দিল, আমি বুঝি নাই সেইটাই একটা পথচলার শুরু, কোন বাধাই আমার এই প্রতিষ্ঠান টা কে থামিয়ে দেয় নাই। পরে আরো ৩বার অফিস বদল করতে হয়েছে, শেষমেষ ২০১৮ সালে ঠিকানা হল, মহাখালি ডিওএইচ এস। ভালোই চলছি আমরা আলহামদুলিল্লাহ।
বিড়ম্বনা হল, ফেইসবুক এ আমি ছবি দেই না অফিসের, লিখি না যে আমি " প্র্যাক্টিস আর্কিটেক্টস " এর সি ই ও হিসেবে আজকে অমুক মিটিং করলাম, এজন্য অনেকেই জিজ্ঞেস করে, আপু আপনার কি অফিস আছে? আপনি কার সাথে কাজ করেন? আপনি কি অমুকের সাথে কাজ করেন? ইত্যাদি ইত্যাদি। ভাই, আমি ফেইসবুক এ নিজের ছবি না দিয়ে কাজের ছবি দিতে পছন্দ করি। আমি নিজেকে এখনো কর্মী মনে করি। ভাব নেয়াটা আমার আসে না। কিছু করার নাই। নিজেকে যাহির করাটা কখনোই আমার ধাতে ছিল না। শুধু কাজ করে যেতে চাই, আল্লাহ যতদিন সামর্থ দেন।
আমার অফিসের ১১ বছর পূর্ণ হল গতকাল। দোয়া করবেন সবাই আমাদের জন্য, " প্র্যাক্সিস আর্কিটেক্টস" এর জন্য৷ কৃতজ্ঞতা জানাই, আমার এই সফরে যারা আমার পাশে ছিলেন, আছেন সবাইকে। আমার পাশে সিনিয়র রা সব সময় ই ছায়ার মত ছিলেন, এজন্য সবসময় কৃতজ্ঞতা। আমি মাঝে মাঝেই জ্বালাই অনেক সিনিয়র দের কে, মানে পরামর্শ চাই, কাজ ও চাই। আরো জ্বালাবো ইনশাআল্লাহ। আর আমি যা পেয়েছি সেটা ছড়িয়ে দেয়ার ইচ্ছা সবার মাঝে। আমাদের দেশের স্থপতিরা আরো অনেক ভাল যায়গায় নিয়ে যাবে দেশটা কে। দেশ থেকে বিদেশী কন্সাল্টেটেন্ট এর আগ্রাসন বন্ধ হবে এই আশা দেখি। আরো বেশী স্থপতি রা বিদেশে না গিয়ে/ ফেরত এসে দেশের কাজে নিবেদিত হবে এমন আশা করি। বিদেশে চাকরি করার চাইতে, দেশের কাজ করাটা সম্মানজনক মনে করবে ( বিদেশে চাকরি করাটা খারাপ এইটা বলি নাই, কেউ মাইন্ড কইরেন না) এমনটাই সপ্ন দেখি।
সপ্ন দেখতে কোন বাধা নেই। তবে সপ্ন সার্থক করার মত মোটিভ নিয়েই সপ্ন দেখি। সামনে এগিয়ে যাই সবাই মিলে এই আশাই করি।