01/10/2023
আয়কর রিটার্ন ঠিক সময়ে জমা না দিলে করের পরিমাণ কয়েনগুণ বেড়ে যাবে
ধরুন জনাব শরিফ সাহেব ট্যাক্সবন্ধুর একজন কর্মকর্তা। তিনি একবছরে মূল- বেতন, বাড়িভাড়া, যাতায়ত ভাতা, বোনাসসহ বছরে মোট ১৩,৫০,০০০ টাকা তার আয় করেছেন। করের দায় কমানোর
জন্য তিনি ২০০,০০০ টাকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেন। নতুন কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী তার কর দায় হবে নিম্মরূপ। প্রথমতঃ চাকরী হতে আয়ের খাতে তিনি ৪৫০,০০০ টাকা অথবা মোট বেতনের তিনভাগের একভাগ আয়কর থেকে অব্যাহতি পাবেন। মানে তাকে এই পরিমাণ টাকার উপর কোন কর দিতে হবে না। এখন (১৩,৫০,০০০-৪৫০,০০০) টাকা =৯০০,০০০ টাকার উপর ট্যাক্স স্লাব অনুযায়ী হিসেব করতে হবে। আমরা জানি, একজন পুরুষের ক্ষেত্রে (৬৫ বছরের কম বয়সী) প্রথম
৩৫০,০০০ টাকা করমুক্ত আয়। তাই, এই টাকার উপর কর দিতে হবে না। এখন তাকে কর দিতে হবে (৯০০,০০০-৩৫০,০০০)=৫৫০,০০০ টাকার উপর। প্রথম ১০০,০০০ টাকার উপর ৫% হারে আসে ৫,০০০ টাকা আয়কর। পরবর্তী ৩০০,০০০ টাকার উপর ১০% হারে আসে ৩০,০০০ টাকা এবং অবশিষ্ট ১৫০,০০০ টাকার উপর ১৫% হারে আসে ২২,৫০০ টাকা। মোট আয়কর আসে ৫,০০০+৩০,০০+২২,৫০০)=৫৭,৫০০ টাকা। এরপর তার অন্য আয় থাকলে সেটা শেষের দিকের স্লাব অনুযায়ী হিসেব করতে হবে। এবার আসি তার বিনিয়োগের কর রেয়াতের হিসেব। তিনি
২০০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করেছেন এবং তিনি বিনিয়োগের উপর কর রেয়াত পাবেন- মোট করযোগ্য আয়ের ৩% মানে ৯০০,০০০ টাকার উপর ৩% করলে হবে ২৭,০০০ টাকা। অথবা বিনিয়োগের ২০০,০০০ টাকার ১৫%=৩০,০০০ টাকা, অথবা ১,০০০,০০০ টাকা যেটা কম। সবচেয়ে
কম হল ২৭,০০০ টাকা।
এখন তার প্রদেয় কর হবেঃ (৫৭,৫০০-২৭,০০০)=৩০,৫০০ টাকা।
কিন্তু তিনি যদি, ৩০ শে নভেম্বরের মধ্যে রিটার্ন দাখিল না করেন তার প্রথম- ৪৫০,০০০ টাকার আয়কর থেকে অব্যাহতি সুবিধা এবং পরবর্তী বিনিয়োগের কর রেয়াতের ২৭,০০০ টাকার সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে।
এবার উপরের একই পদ্ধতিতে হিসেব করলে তার আয়করের পরিমাণ দাঁড়ায়ঃ ১৩৫,০০০ টাকা (বিলম্ব সুদ ব্যতীত)। মানে এখানেই তাকে হিসেবের থেকে ৪.৪ গুন আয়কর পরিশোধ
করতে হবে। মানে- ৩.৪ গুন বেশি কর দিতে হবে।