07/08/2023
যারা গ্রামে বড় হয়েছেন তারা মাছের একটা ব্যপারে বেশ পরিচিত হবেন। বর্ষার শুরুতে যখন নতুন পানিতে চারপাশ ভেসে যায়, বর্ষার পানি খাল-বিল-নালায় নেমে যাওয়া শুরু করে। এসময় একটা ব্যাপার দেখা যায়, নতুন পানির মাছ স্রোতের উল্টোদিকে উঠে আসতে থাকে। ব্যপারটা ছোটবেলা থেকেই অস্বাভাবিক লাগতো, স্রোতের সাথে নেমে যাওয়াই তো বেশি লজিকাল ছিল না? ব্যপারটাকে ইংরেজীতে বলে stotting
একই ব্যাপার ঘটে সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রগুলোর সাথে। তারা জোর করে তাদের কালচার চাপিয়ে দিতে চায় আক্রমণ করা রাষ্ট্রগুলোর উপর। কিন্তু খুব অদ্ভুতভাবে পরাজিত দেশটার কালচারের কিছু ঢুকে পড়ে সেই সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের মধ্যে।
এটা দুই কারণে ঘটতে পারে। প্রথমতঃ পরাজিত দেশটার কালচার হয়ত একটু বেশী শক্তিশালী। যেমন, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার কী জানেন? চিকেন টিক্কা মাসালা, যেটা মূলতঃ ইন্ডিয়ান খাবার। আসলে ব্রিটিশ খাবার পৃথিবীর সবচেয়ে বাজে খাবারগুলোর একটা।
দ্বিতীয়তঃ জুলুমবাজ রাষ্ট্র কিছু কালচার আর কালচারাল ব্যক্তিত্বকে সামনে এনে ধোঁকা দিতে চায়, দেখো, আমরা অতটা খারাপ নই। উদাহরণস্বরুপ, চীনের একদম প্রথম সারির সেলিব্রেটিদের মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য অংশ উইঘুর মুসলিম। আপনি ফ্রান্সের বহু সেলিব্রেটি পাবেন যারা আলজেরিয়ান বংশোদ্ভুত।
***** *****
স*ন্ত্রাসী রাস্ট্রগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কম শাস্তি পেয়েছে ফ্রান্স। এদের অপরাধ আমেরিকা-ব্রিটেনের সমান।
মালেশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মদ বলেছিলেন, "ফ্রান্স মুসলিমদের সাথে যে অন্যায় করেছে, তার প্রতিশোধে কয়েক মিলিয়ন ফরাসী মেরে ফেলার অধিকার মুসলমানদের রয়েছে"।
তবে ফ্রান্স ভুগতে শুরু করেছে। গত এক বছরে আফ্রিকায় তিনটি সেনা অভ্যুথান ঘটেছে, মালি, চাদ ও বুরকিনা ফাসো। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো, এই তিন দেশ থেকেই ক্যু এর পর ফ্রান্স পালাতে বাধ্য হয়েছে।
এই তালিকায় সর্বশেষ যোগ হয়েছে নাইজার। আমরা এই লেখা চলমান এই বিদ্রোহ নিয়েই আলোচনা করবো।
সবার আগে দেখা যাক, ফ্রান্স নাইজারে কীরকম অমানুষিক ডাকাতি করেছে।
এটা একটা মুসলিম দেশ। ১৯৬০ সালে ফ্রান্সের থেকে স্বাধীনতা পায়। কিন্তু তারপর থেকে ফ্রান্স পুতুল সরকার দিয়ে সমস্ত খনিজ সম্পদ চুরি করে আসছে।
নাইজারের ৮০% মানুষ বিদ্যুৎ পায় না। অথচ ফ্রান্সের প্রতি ৩টি লাইট বাল্বের একটি নাইজারে তৈরি।
পুরো পৃথিবীতে যত ইউরেনিয়াম আছে তার ৭.৫%ই রয়েছে নাইজারে (বিশ্বে চতুর্থ)। অথচ এর ৬৩.৪% এর মালিকানা ফ্রেঞ্চ কোম্পানি 'আরেভা'। বাকি অংশও ফ্রান্স নেয়, তবে আরেকটা নাইজেরিয়ান ফ্রাঞ্চাইজির মাধ্যমে।
উল্লেখ্য, ফ্রান্স ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে বেশী পরমাণু ভিত্তিক বিদ্যুত ব্যবহার করে (মোট বিদ্যুতের ৬৮%)।
সোজা কথায়, নাইজার থেকে চুরি করা ইউরেনিয়ামে প্যারিসের লোকজন আর্ট মারায় আর আমাদের সিভিলাইজেশন শেখায়।
নাইজারের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুম, ফ্রেঞ্চ দালাল। এক সপ্তাহ আগে তাকে হঠিয়ে ক্ষমতা দখল করে ৩৫ বছর বয়সী জেনারেল ইব্রাহিম। সাথে সাথে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো হাউমাউ লাগিয়ে দেয়, 'গণতন্ত্র গেলো, গেলো।'
ইব্রাহিম ক্ষমতায় আসার পর সর্বপ্রথম যে কাজটা করেছে তা হলো, ফ্রান্সে ইউরেনিয়াম আর গোল্ড রপ্তানি (পড়ুন ডাকাতি) বন্ধ করেছে।
বাইডেন প্রশাসন বলেছিল, তারা নাইজারে সাহায্য পাঠানো বন্ধ করবে।
নাইজারের নতুন প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম জবাবে বলেছে, 'নাইজারের আগে আমেরিকানদের উচিত নিজেদের হোমলেস সমস্যার সমাধান করা। খয়রাত ঘর থেকেই শুরু হয়।
এই বিদ্রোহে সবচেয়ে বেশী চোখে পড়ছে সাধারণ মানুষ আর ফ্রান্সের প্রতি তাদের ঘৃণা। মানুষ ফ্রেঞ্চ পতাকা পোড়াচ্ছে, ফ্রেঞ্চ দুতাবাসে হামলা করছে।
তবে আরো একটা ব্যপার লক্ষণীয়, লাস্ট তিনটা আফ্রিকান বিদ্রোহেই রাশিয়ান পতাকা দেখা গেছে। তবে রাশিয়া যে মুসলিম দেশগুলোতে ভালো নিয়তে যায় এমনটাও না।
সামনের দিনগুলো বেশ ক্রিটিকাল। ফ্রান্স অলরেডি আক্রমণের প্রস্ততি নিচ্ছে।
তবে যাই ঘটুক, ফ্রান্সের ডাকাতির দিন আস্তে আস্তে শেষ হয়ে আসছে।