H R Patoary & Company

H R Patoary & Company This is a business consultancy firm. We have enough resource person to work as a Company Secretary for foreign and local investors.

We can provide our best services from choosing a profitable business in Bangladesh to run a business being profitable.

17/04/2024

আটলান্টিক কাউন্সিলের প্রতিবেদনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক আইনি ব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে ১৬৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪১তম স্থানে রয়েছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাধীনতা বঞ্চিত |

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং আইনি স্বাধীনতা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের মূল অনুষঙ্গ।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মানীয় ফেলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি না থাকলে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

বাড়িওয়ালাদের আর শেষ রক্ষা হবে না মনে হচ্ছে। আয়কর বিভাগ খুবই বেজার তাদের উপরে।
09/03/2024

বাড়িওয়ালাদের আর শেষ রক্ষা হবে না মনে হচ্ছে। আয়কর বিভাগ খুবই বেজার তাদের উপরে।

02/06/2022

আসছে বাজেট ২০২২–২৩
রিটার্নের রসিদ ছাড়া সরকারি সেবা নয়

আসছে বাজেট ২০২২–২৩
এখন নতুন বিদ্যুৎ–সংযোগ পেতে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) থাকা বাধ্যতামূলক। তা না থাকলে বিদ্যুৎ–সংযোগ মেলে না। বাড়ির নকশা পাস করাতেও রাজউক বা স্থানীয় প্রশাসন টিআইএন দেখতে চায়। কারণ, টিআইএন ছাড়া আপনি বাড়ি করতে পারেন না। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া বা পুনর্নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন জমা দেওয়া এখন বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া গাড়ি নিবন্ধন, ফিটনেস নবায়ন—এসব কাজেও টিআইএন লাগে।
কিন্তু আগামী ২০২২–২৩ অর্থবছর থেকে এই ধরনের সরকারি সেবা নিতে হলে শুধু টিআইএন সনদ জমা দিলেই কাজ হবে না। আপনি বছর শেষে রিটার্ন জমা দিয়েছেন কি না, সেটি দেখাতে হবে। এর প্রমাণ হিসেবে রিটার্ন জমার প্রাপ্তিস্বীকারপত্র জমা দিতে হবে। আসন্ন বাজেটে এই ধরনের সরকারি সেবা পেতে রিটার্ন জমার প্রাপ্তিস্বীকারপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা থাকতে পারে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে ৪০ ধরনের সেবা পেতে টিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক। এর সঙ্গে নতুন বাজেটে সরকারি সেবা পেতে করদাতাকে রিটার্ন জমার প্রাপ্তিস্বীকারপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক করার বিধি আসছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, দুটি ব্যতিক্রম ছাড়া টিআইএন থাকলেই রিটার্ন দিতে হয়। অবশ্য ৭৫ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে বছরে ২৫ লাখের মতো রিটার্ন দেন।
দুই লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ও ডাকঘর সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন লাগে। আবার জাতীয় সংসদ, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হলেও টিআইএন লাগে। এ ছাড়া কয়েক ধরনের ব্যবসা করতে টিআইএন লাগবে। যেমন মুঠোফোন রিচার্জ ব্যবসা, মোবাইল ব্যাংকিং, পরিবেশক এজেন্সি, বিভিন্ন ধরনের পরামর্শক, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ, সিকিউরিটি সার্ভিস ইত্যাদি। বিশেষ কয়েক শ্রেণির পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদেরও টিআইএন থাকতেই হবে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঋণপত্র (এলসি) খোলা; রপ্তানি নিবন্ধন সনদ নেওয়া; সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যবসার লাইসেন্স নেওয়া বা তা পুনর্নিবন্ধন; দরপত্র জমা; অভিজাত ক্লাবের সদস্যপদ গ্রহণ; প্রকৌশলী, হিসাববিদসহ বিভিন্ন ধরনের পেশাজীবী সংগঠনের সদস্য; কোম্পানির পরিচালক, স্পনসর শেয়ারহোল্ডার ইত্যাদি।
জরিমানা কমছে
আয়কর ও ভ্যাট রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানার পরিমাণ কমছে। মূলত ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ও প্রতিষ্ঠানকে তাদের আয়-ব্যয় জানানোয় উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।
বর্তমানে করদাতা রিটার্ন জমা না দিলে বিলম্ব ফি হিসেবে ২ শতাংশ হারে সরল সুদে জরিমানা করা হয়। এটি কমিয়ে ১ শতাংশ করা হতে পারে। আবার রিটার্ন না দেওয়ার জন্য ১ হাজার টাকা কিংবা আগের বছরের করের ১০ শতাংশ—যেটি বেশি হবে, তা প্রযোজ্য হয়। সেখানেও পরিবর্তন আসতে পারে।
এ ছাড়া বর্তমানে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন না দিলে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রয়েছে। আগামী বাজেটে এই জরিমানা অর্ধেকে, অর্থাৎ পাঁচ হাজার টাকায় নামিয়ে আনা হতে পারে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ভ্যাট রিটার্ন না দিলে কর্মকর্তারা যখন-তখন ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে থাকেন।
Collected from Prothom alo, 31-05-2022

যে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর BIN ( বিন) আছে, তাদের জন্য  গণ সচেতনতা মুলুক পোস্ট। সময় মত মূসক -৯.১ বা মাসিক ভ্যাট রিটার্ন দ...
01/03/2022

যে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এর BIN ( বিন) আছে, তাদের জন্য গণ সচেতনতা মুলুক পোস্ট। সময় মত মূসক -৯.১ বা মাসিক ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করুন। ১০,০০০ টাকা জরিমানা এড়িয়ে চলুন।

04/08/2021

সৌদি আরবে বৈধ হবে বাংলাদেশিদের ব্যবসাও

এত দিন বাংলাদেশিদের অনেকে দেশটিতে অন্যের নামে গোপনে ব্যবসা করে আসছিলেন। এখন সৌদি সরকার আইন পরিবর্তন করে সুযোগ দিয়েছে।

যেসব বাংলাদেশি সৌদি আরবে গিয়ে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন, তাঁদের ব্যবসার বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। কর্মী ভিসায় যাওয়া যেসব বাংলাদেশি এত দিন পরিচয় গোপন করে কোনো সৌদি নাগরিকের নামে ব্যবসা করতেন, তাঁদের ব্যবসাকে নিজ নামে নিবন্ধনের সুযোগ দিয়েছে সৌদি সরকার।
নিবন্ধনের জন্য ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন না করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সেই শাস্তি নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে ‘বাণিজ্যিক গোপনীয়তাবিরোধী আইন’ সংশোধন করেছে দেশটির সরকার।
এই সুযোগ শুধু বাংলাদেশিদের জন্যই নয়, সৌদি আরবে বসবাসকারী সব বিদেশি নাগরিকদের জন্য। দেশটিতে অবৈধভাবে যেসব ভিনদেশি ব্যবসা করছেন, সেই ব্যবসাকে বৈধতা দিতে তিন মাস আগে সৌদি সরকার বাণিজ্যিক গোপনীয়তা বিরোধী আইন সংশোধন করেছে। সংশোধিত আইনে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ ব্যবসা কার্যক্রমের বৈধতার কথা বলা হয়েছে। আইনটি সংশোধনের ফলে এখন ব্যবসার তথ্য লুকানোর সুযোগ থাকবে না। এদিকে আইন সংশোধনের পর থেকেই দেশটির সব নাগরিকের কাছে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দ্রুত নিবন্ধনের জন্য মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
সৌদি সরকার বলছে, ২৩ আগস্টের মধ্যে যাঁরা নিবন্ধন করবেন, তাঁরা সব ধরনের শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাবেন। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা তাঁদের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অন্যান্য লাভজনক আর্থিক কার্যক্রমের বৈধ পূর্ণ ও আংশিক মালিকানার সুযোগ পাবেন।
এই আইনের আওতায় সাজাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের সাজা ভোগ শেষে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হবে। ভবিষ্যতে সৌদি আরবে তাঁদের আর প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ যদি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁকে সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। অথবা পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পাশাপাশি সব ব্যবসা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এর আগের আইনে জরিমানার পরিমাণ ছিল মাত্র ৫০ হাজার রিয়াল। অথবা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পাশাপাশি বাজেয়াপ্তের বিধান ছিল ব্যবসা ও সম্পদের ১০ শতাংশ। আইনটি সংশোধন করে এখন কঠোর করা হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে শাস্তি।
সৌদি সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রামরুর চেয়ারপারসন তাসনিম সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনেক সৌদি নাগরিককে দেখেছি নিজে বিনিয়োগ না করেও অর্ধেক মুনাফা নিয়ে যান। কারণ, ব্যবসা তাঁর নামে। কর্মী ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগ যেহেতু নিষিদ্ধ, এই সুযোগ নেন সৌদি নাগরিকেরা। সৌদি সরকার ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমস্যা হবে যদি কর্মী ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যবসা ভিসায় স্থানান্তর করা না হয়। এ জন্য বাংলাদেশি দূতাবাসকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের পর সৌদি সরকার আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করবে। কোনো ব্যবসায়ীর বার্ষিক লেনদেন (টার্নওভার) ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি রিয়ালের বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ মালিকানা তাঁর নামে রাখা হবে। বাকি ২৫ শতাংশ থাকবে সরকারের মালিকানায়। কোনো বিনিয়োগকারীর বার্ষিক লেনদেন যদি ২ কোটি রিয়ালের কম হয়, সেই অনুপাতে তাঁর মালিকানা নির্ধারিত হবে। নিবন্ধনের সময় শেষ হওয়ার পর কেউ যদি অবৈধ ব্যবসার খবর সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়, তখন সন্ধানদাতাকে ওই ব্যবসার ৩০ শতাংশ মালিকানা দিয়ে ৭০ শতাংশ সরকার নিয়ে নেবে। সৌদি আরবে এখন ২৩ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন।
সৌদি সরকার হঠাৎ কেন এত কঠোর
বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিক সৌদি আরবে কর্মী ভিসায় গিয়ে গোপনে অন্য ব্যবসা করছেন—সরকারের কাছে এই খবর অনেক আগে থেকেই রয়েছে। কিন্তু এত বছর সৌদি সরকার ততটা কঠোর হয়নি। কিন্তু এবার এত কঠোর হওয়ার মূল কারণ, দেশটি ‘ভিশন ২০৩০’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ অবারিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। সে জন্য গোপনে যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁদের মূল স্রোতে আনতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সৌদি ন্যাশনাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার জালাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে অনেকে টাকাপয়সা জমিয়ে সৌদি নাগরিকের নামে ব্যবসা শুরু করেন। এসব ব্যবসার মধ্যে রয়েছে নির্মাণ ব্যবসা, সুপারমার্কেট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, গাড়ি, জনশক্তি রপ্তানি। যখন ব্যবসা বেশ বড় ও লাভজনক হয়, তখন ওই সৌদি নাগরিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে বের করে দেন। যেহেতু নিজের নামে ব্যবসার নিবন্ধন নেই, তাই আইনিভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না বাংলাদেশিরা। এখন যদি অবৈধ ব্যবসাকে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে ব্যবসায় নিরাপত্তা থাকবে।–Collected, Prothom-Alo.

এত দিন বাংলাদেশিদের অনেকে দেশটিতে অন্যের নামে গোপনে ব্যবসা করে আসছিলেন। এখন সৌদি সরকার আইন পরিবর্তন করে সুযোগ দিয়েছে।

আরিফুর রহমান,ঢাকা, প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২১,


যেসব বাংলাদেশি সৌদি আরবে গিয়ে বছরের পর বছর অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন, তাঁদের ব্যবসার বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। কর্মী ভিসায় যাওয়া যেসব বাংলাদেশি এত দিন পরিচয় গোপন করে কোনো সৌদি নাগরিকের নামে ব্যবসা করতেন, তাঁদের ব্যবসাকে নিজ নামে নিবন্ধনের সুযোগ দিয়েছে সৌদি সরকার।
নিবন্ধনের জন্য ২৩ আগস্ট পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন না করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সেই শাস্তি নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে ‘বাণিজ্যিক গোপনীয়তাবিরোধী আইন’ সংশোধন করেছে দেশটির সরকার।
এই সুযোগ শুধু বাংলাদেশিদের জন্যই নয়, সৌদি আরবে বসবাসকারী সব বিদেশি নাগরিকদের জন্য। দেশটিতে অবৈধভাবে যেসব ভিনদেশি ব্যবসা করছেন, সেই ব্যবসাকে বৈধতা দিতে তিন মাস আগে সৌদি সরকার বাণিজ্যিক গোপনীয়তা বিরোধী আইন সংশোধন করেছে। সংশোধিত আইনে বিদেশি নাগরিকদের অবৈধ ব্যবসা কার্যক্রমের বৈধতার কথা বলা হয়েছে। আইনটি সংশোধনের ফলে এখন ব্যবসার তথ্য লুকানোর সুযোগ থাকবে না। এদিকে আইন সংশোধনের পর থেকেই দেশটির সব নাগরিকের কাছে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দ্রুত নিবন্ধনের জন্য মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠানো হচ্ছে।
সৌদি সরকার বলছে, ২৩ আগস্টের মধ্যে যাঁরা নিবন্ধন করবেন, তাঁরা সব ধরনের শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাবেন। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকেরা তাঁদের ব্যবসা, বিনিয়োগ ও অন্যান্য লাভজনক আর্থিক কার্যক্রমের বৈধ পূর্ণ ও আংশিক মালিকানার সুযোগ পাবেন।
এই আইনের আওতায় সাজাপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের সাজা ভোগ শেষে সৌদি আরব থেকে বহিষ্কার করা হবে। ভবিষ্যতে সৌদি আরবে তাঁদের আর প্রবেশের সুযোগ থাকবে না।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ যদি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁকে সর্বোচ্চ ৫ মিলিয়ন বা ৫০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হবে। অথবা পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পাশাপাশি সব ব্যবসা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। এর আগের আইনে জরিমানার পরিমাণ ছিল মাত্র ৫০ হাজার রিয়াল। অথবা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পাশাপাশি বাজেয়াপ্তের বিধান ছিল ব্যবসা ও সম্পদের ১০ শতাংশ। আইনটি সংশোধন করে এখন কঠোর করা হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই বাড়ানো হয়েছে শাস্তি।
সৌদি সরকারের উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিবাসীদের নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান রামরুর চেয়ারপারসন তাসনিম সিদ্দিকী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনেক সৌদি নাগরিককে দেখেছি নিজে বিনিয়োগ না করেও অর্ধেক মুনাফা নিয়ে যান। কারণ, ব্যবসা তাঁর নামে। কর্মী ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য ব্যবসা কিংবা বিনিয়োগ যেহেতু নিষিদ্ধ, এই সুযোগ নেন সৌদি নাগরিকেরা। সৌদি সরকার ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সমস্যা হবে যদি কর্মী ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের ব্যবসা ভিসায় স্থানান্তর করা না হয়। এ জন্য বাংলাদেশি দূতাবাসকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধনের পর সৌদি সরকার আইনজীবীর মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করবে। কোনো ব্যবসায়ীর বার্ষিক লেনদেন (টার্নওভার) ২০ মিলিয়ন বা ২ কোটি রিয়ালের বেশি হয়, সে ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ মালিকানা তাঁর নামে রাখা হবে। বাকি ২৫ শতাংশ থাকবে সরকারের মালিকানায়। কোনো বিনিয়োগকারীর বার্ষিক লেনদেন যদি ২ কোটি রিয়ালের কম হয়, সেই অনুপাতে তাঁর মালিকানা নির্ধারিত হবে। নিবন্ধনের সময় শেষ হওয়ার পর কেউ যদি অবৈধ ব্যবসার খবর সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়, তখন সন্ধানদাতাকে ওই ব্যবসার ৩০ শতাংশ মালিকানা দিয়ে ৭০ শতাংশ সরকার নিয়ে নেবে। সৌদি আরবে এখন ২৩ লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন।
সৌদি সরকার হঠাৎ কেন এত কঠোর
বাংলাদেশিসহ বিদেশি নাগরিক সৌদি আরবে কর্মী ভিসায় গিয়ে গোপনে অন্য ব্যবসা করছেন—সরকারের কাছে এই খবর অনেক আগে থেকেই রয়েছে। কিন্তু এত বছর সৌদি সরকার ততটা কঠোর হয়নি। কিন্তু এবার এত কঠোর হওয়ার মূল কারণ, দেশটি ‘ভিশন ২০৩০’ নামে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, যেখানে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ অবারিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। সে জন্য গোপনে যাঁরা ব্যবসা করছেন, তাঁদের মূল স্রোতে আনতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সৌদি ন্যাশনাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজার জালাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশ থেকে কর্মী ভিসায় সৌদি আরব গিয়ে অনেকে টাকাপয়সা জমিয়ে সৌদি নাগরিকের নামে ব্যবসা শুরু করেন। এসব ব্যবসার মধ্যে রয়েছে নির্মাণ ব্যবসা, সুপারমার্কেট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, গাড়ি, জনশক্তি রপ্তানি। যখন ব্যবসা বেশ বড় ও লাভজনক হয়, তখন ওই সৌদি নাগরিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে বের করে দেন। যেহেতু নিজের নামে ব্যবসার নিবন্ধন নেই, তাই আইনিভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেন না বাংলাদেশিরা। এখন যদি অবৈধ ব্যবসাকে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে ব্যবসায় নিরাপত্তা থাকবে।– Collected, Prothom-Alo, 04-Aug-@2021

03/04/2021

বিদেশে বিনিয়োগ করছে পুঁজিবাজারের চার কোম্পানি

বাংলাদেশ ব্যাংক স্থানীয় ১০টি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানকে বিদেশে ইক্যুইটি বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। এই অনুমোদনের ফলে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ৪ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ করেছে দেশীয় মালিকানাধীন ৯টি কোম্পানি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে আকিজ জুট মিলস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও ডিবিএল গ্রুপ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বিদেশে বিনিয়োগ করা দেশি কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত শীর্ষে রয়েছে আকিজ গ্রুপ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আকিজ গ্রুপকে এখন পর্যন্ত দুই কোটি মার্কিন ডলার মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যার পুরোটাই ইতিমধ্যে বিনিয়োগ হয়ে গেছে।
প্রথমবার বাংলাদেশি গ্রুপ হিসেবে ২০১৮ সালে বিদেশে কোনো কোম্পানি অধিগ্রহণ করে আকিজ গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান আকিজ জুট মিলসের মালিকানাধীন মালয় ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি আকিজ রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচডি মালয়েশিয়ার রবিন রিসোর্সেস এসডিএন বিএইচডি ও এর সাবসিডিয়ারি রবিনা ফ্লোরিং এসডিএনবিএইচডি ৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারে কিনে নেয়।
তবে দীর্ঘমেয়াদি এই ঋণের সুদের কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছে কোম্পানিটি। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের আকিজ জুট মিলস মালয়েশিয়ায় কেনা কোম্পানিতে স্থানান্তরের জন্য সহযোগী কোম্পানি শেখ আকিজুদ্দিন লিমিটেড থেকে বৈদেশিক মুদ্রায় ৩২ মিলিয়ন ডলার ঋণ নিতে চায়। ইক্যুইটি স্থানান্তরের রেওয়াজ থাকলেও বাংলাদেশ থেকে এভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার বিধান নেই বলে আকিজ গ্রুপকে জানিয়ে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসকে কেনিয়ায় ওষুধ কারখানা স্থাপনের জন্য ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর মধ্যে কেনিয়ায় কারখানার জন্য ১ কোটি ৫ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে স্কয়ার। তবে ২০১৬ সালে বিনিয়োগ কার্যক্রম শুরু হলেও এখন পর্যন্ত এই কারখানায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়নি। আফ্রিকার ইথিওপিয়ায় ডিবিএল গ্রুপ কারখানা স্থাপনের জন্য ৯৫ লাখ ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন পায়।
সেখানে ডিবিএল ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি, ইথিওপিয়া নামে একটি পোশাক কারখানা স্থাপন করে, যেখানে ২০১৫ সাল থেকে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করেছে। অনুমোদিত অর্থের পুরোটা বিনিয়োগ করলেও উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা যায়নি। ফলে ওই বিনিয়োগ থেকে এখনো কোনো লাভের মুখ দেখেনি ডিবিএল গ্রুপ।
মিয়ানমার ও সিঙ্গাপুরে দুটি সাবসিডিয়ারিতে বিনিয়োগ করেছে এমজেএল বাংলাদেশ লিমিটেড, যেখানে ৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে তারা। এর মধ্যে মিয়ানমারের কোম্পানি থেকে মুনাফা পেলেও সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগে পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে লোকসানে রয়েছে।
স্থানীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে বিদেশে ইক্যুইটি বিনিয়োগ রয়েছে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, স্পেকট্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কনসোর্টিয়াম (প্রা.) লিমিটেড, সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেড, এসিআই হেলথ কেয়ার ও বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস লিমিটেডের। এর বাইরে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও শ্রীলঙ্কায় কারিগরি পরামর্শ ও অন্যান্য সেবার মাধ্যমে বিনিয়োগের অনুমোদন রয়েছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের।
সৌদি আরবের জুবেইল ফার্মা কোম্পানি লিমিটেড ও মালয়েশিয়ার বায়োকেয়ার ম্যানুফাকচারিং এসডিএন কোম্পানিতে কারিগরি ও পরামর্শ সেবার মাধ্যমে যথাক্রমে ৪২ ও ৩০ শতাংশ শেয়ার পেয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। এর মধ্যে জুবেইল ফার্মা কোম্পানি লিমিটেডের ৩০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে ১১ লাখ ২৪ হাজার ডলার দেশে প্রত্যাবাসন করেছে বেক্সিমকো ফার্মা।
এ ছাড়া শ্রীলঙ্কার স্টেট ফার্মাসিউটিক্যালস ম্যানুফাকচারিং করপোরেশন অব শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস সিলন (প্রা.) লিমিটেডের যৌথ বিনিয়োগ প্রকল্পে ৬০ লাখ ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এখনো এ অর্থ স্থানান্তর করেনি বেক্সিমকো ফার্মা।

03/04/2021

বৈদেশিক বিনিয়োগে বাধা দূর করার পরামর্শ চীনা বিনিয়োগকারীদের

অবকাঠামো সঙ্কট, নীতিমালা সংস্কারের অভাব ও নিরাপত্তাহীনতাকে নিবন্ধিত প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে অন্যতম বাধা বলে মনে করছেন চীনা বিনিয়োগকারীরা। ফলে বাংলাদেশে কমে যাচ্ছে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগও (এফডিএ)।
গত সোমবার এক ওয়েবিনারে এফডিএ বাড়াতে সুদের হার কমিয়ে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার মাধ্যমে বিনিয়োগ বাধা দূর করার পরামর্শ দেন চীনা বিনিয়োগকারীরা।
“বাংলাদেশে সুদের হার অত্যন্ত বেশি, নিম্ন সুদের হার বিনিয়োগকারীদের খরচ কমাতে সাহায্য করবে,” বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ওভারসিজ চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশের সভাপতি ঝুয়াং লিফেং।
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং বলেন, বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশের স্বীকৃতি অর্জনের পথে আছে। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা দূর করে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নত করার জন্য কাজ করতে হবে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড চায়নার গ্লোবাল ব্যাংকিং অ্যান্ড কর্পোরেট অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যাংকিং-এর প্রধান জিন লু জানান, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে অবকাঠামোগত প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশকে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মার্কিন ডলারের দর পরিবর্তনের ঝুঁকি এড়াতে বিনিময় মুদ্রা হিসেবে চীনা মুদ্রা আরএমবি চালু করার পরামর্শও দেন তিনি।
বাংলাদেশে ৯.১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের লক্ষ্যে চীনের ৫১২ প্রকল্প নিবন্ধিত রয়েছে। ‘চায়না বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ শীর্ষক ওয়েবিনারে নীতি নির্ধারক ও সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান। এসব প্রকল্প আলোর মুখ দেখলে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে প্রায় সোয়া এক লাখ মানুষের।
এ পর্যন্ত চীন থেকে মোট এফডিআই এসেছে ১.০২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে গত অর্থবছরেই এসেছে ৮০.২৯ মিলিয়ন ডলার। তবে অবকাঠামো খাতকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান প্রধান অতিথি ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ. রহমান বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন। এম এ মান্নান বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চীন বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে কৌশলী ও বিচক্ষণ দেশ। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে চীনের সাথে সম্পর্কের প্রসার চায় বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম সহযোগী দেশ চীন।
অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ- অ্যা ল্যান্ড অব ইনভেস্টমেন্ট অপরচুনিটিস ফর চায়নিজ ইনভেস্টরস’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মো সিরাজুল ইসলাম। সিরাজুল ইসলাম জানান করছাড়, প্রণোদনাসহ বেশ কিছু সুবিধার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদের বিষয়ে সরকারের গৃহীত জিরো টলারেন্স নীতির কারণে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।
মূল প্রবন্ধে বাংলাদেশে চীনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, এফডিআই নিবন্ধন, বাস্তবায়নের অবস্থা এবং বিদেশি বিনিয়োগে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া বিভিন্ন সুবিধা তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশে চীনের পক্ষ থেকে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় ৯ টি খাত তুলে ধরেন সিরাজুল ইসলাম।
বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি বাংলাদেশ উল্লেখ করে তিনি জানান, গত অর্থবছরে মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশে ৫.২৪ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে।
টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য বেসরকারি খাতের সাথে সংযুক্তি, অর্থনৈতিক নীতি সংস্কারের উদ্যোগ ও ১৪.৬২ বিলিয়ন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ।
“বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগের লাভজনক ও নিরাপদ গন্তব্যস্থল বাংলাদেশ, পুনরায় বিনিয়োগের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।” বলেন তিনি। এফডিআই’র অর্ধেকের বেশিই পুনবিনিয়োগ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
“গ্রিনফিল্ড, ব্রাউনফিল্ড ও যৌথ উদ্যোগসহ অন্যান্য নানা ধরনের সীমাহীন ব্যবসায়িক সুবিধা আছে এখানে। ব্যাকগ্রাউন্ড লিঙ্কেজের সুবিধাসহ আপনাদের কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রস্তুত এখানকার শিল্পখাত।” যোগ করেন তিনি।
২০১৯-২০ অর্থবছরে ১২.০৯ বিলিয়ন ডলার মূল্যের দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে পৌঁছেছে দেশ দুটি। ১১.৪৯ বিলিয়ন ডলার আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে চীনে মাত্র ৬০০.১১ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়েছে। ১০.৮৯ বিলিয়ন ডলারের বিরাট এ বাণিজ্য উদ্ধৃত্ত মূল্য চীনা বিনিয়োগকারীদের এদেশে বিনিয়োগের সুযোগ করে দেবে এবং চীন ও অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানির সুবিধা দেবে।
১০১৯.৫৩ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের এফডিএ-তে শক্তিখাত পেয়েছে ৩৪২.০৬ মিলিয়ন ডলার। টেক্সটাইল খাত ২৬৫.৩৫ মিলিয়ন, লেদার খাত ১০৬.৩৮ মিলিয়ন ও বাণিজ্য খাত ৪৪.৭৫ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিনিয়োগের সহায়ক পরিবেশ থাকায়, বাজারে প্রবেশাধিকার উন্মুক্ত থাকায় এবং বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ ন্যায্যতা থাকায় বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা তুলনামূলক সহজ। জাতীয়তাবাদের বাইরে গিয়ে বিদেশি বিনিয়োগের স্বার্থরক্ষা নিশ্চিত করা হয় এদেশে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অসংখ্য খাত খোলা আছে। তৈরি পোশাক খাত, লেদার, ফার্মাসিউটিক্যালস, এপিআই ও মেডিক্যাল সরঞ্জামাদি, সফটওয়্যার ও আইটি পরিষেবা, কৃষি/খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, কৃষি সরঞ্জামাদি, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক পণ্য, অটোমোবাইল ও জাহাজ নির্মাণ খাতের কথা উল্লেখ করেন সিরাজুল ইসলাম।
তিনি আরও বলেন, দেশে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখা ও প্রতিষ্ঠানের লাভের কথা বিবেচনায় আকর্ষণীয় সুযোগ দিচ্ছে সরকার। এরমধ্যে আছে নির্দিষ্ট কিছু খাতে ৫-১০ বছরের আয়কর কমানো, ১০ বছর অবধি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড),রপ্তানি আয়ের কর অব্যাহতি, মূলধনের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির আমদানি শুল্ক কমানো।
বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে মাতারবাড়ি ও পায়রা দ্বীপ সমুদ্র বন্দর, ঢাকা বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল, পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, ঢাকায় বাস র্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কের কথা উল্লেখ করেন সিরাজুল ইসলাম।
চীনে নিয়োজিত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব উজ জামান চীনা উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের অনুরোধ জানান। বিডাকে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের লক্ষ্যে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
এফবিসিসিআই এর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশ সন্তোষজনকভাবে কোভিড-১৯ সঙ্কট মোকাবেলা করেছে। তৈরি পোশাক খাত, ম্যাশিনারি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, টেক্সটাইল, সাইবার নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট খাত ও জাহাজ নির্মাণ খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে চীনা উদ্যোক্তাদের।
সালমান এফ রহমান অনুষ্ঠানে বলেন, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার অবকাঠামো খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। গত দশকে দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় ছিল, তবে গত বছর কোভিড-১৯ এর আঘাতে তা কিছুটা বাধাগ্রস্থ হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ নীতিকে উন্মুক্ত রেখেছে। নির্দিষ্ট কিছু দেশের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ব্যবস্থাও করেছে বাংলাদেশ। এ উদ্যোগে চীনও অন্তর্ভুক্ত আছে বলে জানান তিনি।
দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার সমান সুবিধার ব্যবস্থা রাখছে এবং স্থিতিশীল দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নীতি ও বিদেশি লেনদেন নীতির ব্যবস্থা আছে বলে জানান তিনি। বিডা ওএসএস-এর মাধ্যমে অনলাইনে ৪১টি পরিষেবার ব্যবস্থা করেছে এবং এবছরের মধ্যে এসব পরিষেবার সংখ্যা ১৪৬-এ উন্নীত করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক বেল্ট অ্যান্ড রোডের জ্যানেট মিং অনুষ্ঠানে বলেন, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের পূর্বাভাস বলছে এই অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৫.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। আগামী অর্থবছরে এ হার ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক চায়নার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেরি চ্যান, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান পাবন চৌধুরীও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।
(Collected)

23/04/2019

যত দুর্নীতি, তত কম কর

• আইএমএফের প্রতিবেদন
• দুর্নীতি সবচেয়ে ক্ষতি করে অর্থনীতির
• প্রতিরোধে সবচেয়ে বেশি দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছার
• মানুষ কর দিতে আগ্রহী হয় না
• অর্থের অপচয় করে দ্বিগুণ
• বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এক-তৃতীয়াংশ কম

একই ধরনের অর্থনীতির দুটি দেশ। একটি দেশ অন্যটির তুলনায় দুর্নীতি কমাতে পারলে মোট জিডিপির হিসাবে ৪ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় বাড়াতে পারবে। কেননা, যত বেশি দুর্নীতি, তত কম কর আদায় হয়।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিশ্বের ১৮০টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ তথ্য দিয়েছে। এই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও আছে। চলতি মাসে এ নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক এই সংস্থা আরও বলেছে, পৃথিবীতে দুর্নীতিমুক্ত দেশ বলতে কিছু নেই। কোথাও বেশি, কোথাও কম। তবে যে দেশ যত বেশি দুর্নীতি কমাতে পারবে, দেশটির জনগণ তত বেশি উপকৃত হবে।

প্রতিবেদনের শুরুতেই আইএমএফ বলেছে, ব্যক্তিগত লাভের আশায় সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার সরকারের ওপরেই বিশ্বাস নষ্ট করে, এতে সরকারের নীতির কার্যকারিতা কমে যায় এবং করদাতাদের দেওয়া অর্থ স্কুল, হাসপাতাল ও রাস্তা থেকে অন্যত্র চলে যায়। আর এই যে অর্থের অপব্যবহার, তার মূল্য অনেক বেশি। কেননা, অর্থের সঠিক ব্যবহার অর্থনীতিকে আরও ভালো করে। তবে এ জন্য শক্তিশালী ও স্বচ্ছ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা জরুরি এবং এ জন্য দরকার সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

অর্থ নষ্ট করে দুর্নীতি

প্রতিবেদনে আইএমএফ বলেছে, উচ্চ দুর্নীতি কর আদায় কমিয়ে দেয়। কারণ, মানুষ তখন কর ফাঁকি দিতে ঘুষ দেয়। মানুষ যখন জানে সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত, তখন তারা কর দিতেও আগ্রহী হয় না। আবার সরকারি কর্মকর্তারাও মনে করে, সবাই যেহেতু ঘুষ খায়, সে–ও নিতে পারে। এসব দেশে সরকারও অনেক সময় প্রভাবশালীদের জন্য নানা কর ছাড় দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে দেশে দুর্নীতি কম, সে দেশে সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্পের অর্থের অপচয়ও কম। দুর্নীতিগ্রস্ত উঠতি অর্থনীতির একটি দেশ অন্য দেশের তুলনায় অর্থের অপচয়ও দ্বিগুণ বেশি করে। দুইভাবে সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্পে দুর্নীতি হয়। যেমন প্রাক্কলনের তুলনায় প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায় এবং সরকারি কেনাকাটায় দরপত্রের জালিয়াতি করে কাজ দেওয়া হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতি একটি দেশের সরকারের অগ্রাধিকারও নষ্ট করে দেয়। যেমন দেখা গেছে বেশি দুর্নীতির একটি দেশের বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এক-তৃতীয়াংশ কম থাকে। আবার সামাজিক খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার কার্যকারিতাও কম হয়। যেমন সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায়ও কম নম্বর পায়, শিক্ষক ও চিকিৎসকেরা অনুপস্থিত থাকেন। আবার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ করে এমন রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির প্রভাব অত্যন্ত খারাপ। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর এ ধরনের প্রতিষ্ঠান অনেক কম দক্ষ। প্রাকৃতিক সম্পদ আছে এমন দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানেরও দক্ষতা কম হয়। এসব দেশের দুর্নীতিও প্রকট।
তাহলে কী করতে হবে
আইএমএফ মনে করে, দুর্নীতি কমাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে জরুরি। কেননা, দুর্নীতি রোধ করতে হলে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। এভাবে কিছু দেশ দুর্নীতি কমাতে পেরেছে। এ ক্ষেত্রে আইএমএফ তিনটি দেশের উদাহরণ দিয়েছে। যেমন কলম্বিয়া, কোস্টারিকা ও প্যারাগুয়ে এমন একটি অনলাইন কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে সব সরকারি প্রকল্পের আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতির বিবরণ দেওয়া থাকে। সাধারণ নাগরিক তা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। তবে আইএমএফ মনে করে, মুক্ত গণমাধ্যম হচ্ছে সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি তৈরির সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। এ ছাড়া, জনপ্রশাসনে বড় ধরনের সংস্কার এবং সরকারের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় বা ডিজিটালাইজেশন দুর্নীতি কমানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশে কি হয়

প্রতিবেদনে দুর্নীতি কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে এমন কিছু দেশের উদাহরণ দেওয়া আছে। তবে বাংলাদেশের নাম নেই। পরিসংখ্যান অংশে অবশ্য বাংলাদেশ প্রসঙ্গ রয়েছে। এর মধ্যে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর কর-জিডিপি হারের একটি তালিকা দেওয়া আছে। আর সেই তালিকা হচ্ছে যত বেশি দুর্নীতি, তত কম কর আদায়ের একটি বড় উদাহরণ।
তালিকা অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের দেশগুলোর মধ্যে কর-জিডিপি অনুপাত সবচেয়ে কম যুদ্ধবিধ্বস্ত সোমালিয়ায়, ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এরপরেই আছে বাংলাদেশ, ১০ দশমিক ১ শতাংশ। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখিয়েছে, বাংলাদেশে ৬৮ শতাংশ সামর্থ্যবান মানুষ আয়কর দেন না।
এদিকে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দের দিক থেকেও এশিয়ায় নিচের দিকে আছে বাংলাদেশ। শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ও স্বাস্থ্য খাতে ২ শতাংশ। এ ছাড়া, ২০০৭ সালে ১০ হাজার ১৬১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে যে পদ্মা সেতু তৈরির অনুমোদন পেয়েছিল, তা এখন দফায় দফায় বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আইএমএফের প্রতিবেদনের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই মিল আছে বাংলাদেশের। (Collected from Prothom-Alo newspaper)

25/02/2019

রিটার্ন দাখিল না করা টিআইএনধারীর সন্ধানে এনবিআর

করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) রয়েছে, অথচ দীর্ঘদিন ধরে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দাখিল করেন না এমন টিআইএনধারীদের সন্ধানে নেমেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়কর বিভাগ। এ লক্ষ্যে রিটার্ন জমা না দেওয়া ই-টিআইএনধারীদের খোঁজ নিতে রাজস্ব প্রশাসন মাঠ পর্যায়ের অফিসগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছে। এর আলোকে শিগগিরই এ ধরনের টিআইএনধারীদের সন্ধানে নামবেন কর কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে এনবিআরের আয়কর বিভাগের সদস্য মো. মেফতাহ উদ্দিন খান বলেন, ‘কয়েক বছর আগে যাঁরা টিআইএন নিয়েছেন অথচ রিটার্ন দাখিল করেন না, তাঁদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য আমরা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি। তাঁরা প্রতি সপ্তাহে একটা নির্দিষ্টসংখ্যক ফাইল চেক করে দেখবে যে কারা দীর্ঘদিন ধরে রিটার্ন দাখিল করছেন না। তবে আমাদের এই উদ্যোগ কোনোভাবেই তাঁদের ওপর জরিমানা, কর ধার্য করা বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের জন্য নয়।’ শিগগিরই কর কর্মকর্তারা রিটার্ন জমা না দেওয়া টিআইএনধারীদের সন্ধানে কাজ শুরু করবে বলে তিনি জানান।

রাজস্ব প্রশাসনের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ৩৮ লাখ টিআইএনধারী রয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যে ৪৩ থেকে ৪৫ শতাংশ রিটার্ন দাখিল করেন না। রিটার্ন জমা না দেওয়া টিআইএনধারীর মধ্যে একটা অংশ মারা গেছেন কিংবা বিদেশে আছেন। আর একটা অংশ আছেন যাঁরা বাড়ি বা গাড়ির কেনার জন্য টিআইএন নিয়েছিলেন কিন্তু রিটার্ন দাখিল করেন না। অন্যদিকে কর প্রদান করছেন অথচ রিটার্ন দাখিল করছেন না এমন একটা অংশও রয়েছে। তিনি দাবি করেন, যাঁরা রিটার্ন দাখিল করছেন না অবশ্যই এর মধ্যে করযোগ্য একটা অংশ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো রিটার্ন দাখিল না করা করযোগ্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের কর প্রদান এবং সময়মতো রিটার্ন দাখিলের বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা। দেশের নাগরিক হিসেবে কর প্রদান করা তার নৈতিক দায়িত্বও, এ বিষয়টি আমরা তাঁদের বোঝাতে চাই। উন্নয়নের স্বার্থে তিনি যেন এই দায়িত্ব পালন করেন। এনবিআর সূত্র জানায়, রিটার্ন জমা না দেওয়া ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ের কর কর্মকর্তারা নতুন করদাতার সন্ধানে জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছেন। চলতি অর্থবছরে সাড়ে ৭ লাখ নতুন করদাতা খুঁজে বের করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজস্ব প্রশাসনের।

ইরানে ব্যাংক দুর্নীতির দায়ে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদব্যাংক জালিয়াতি ও দুর্নীতি করায় ‘সুলতান অব বিটুমিন’ নামের এক ব্যবসায়ীর শির...
24/12/2018

ইরানে ব্যাংক দুর্নীতির দায়ে প্রকাশ্যে শিরশ্ছেদ

ব্যাংক জালিয়াতি ও দুর্নীতি করায় ‘সুলতান অব বিটুমিন’ নামের এক ব্যবসায়ীর শিরশ্ছেদ করেছে ইরান। আজ শনিবার প্রতারণা ও বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য কালোবাজারির অভিযোগে তাঁর শিরশ্ছেদ করা হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা মিজান অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়।

এএফপির খবরে জানানো হয়, এবারের গ্রীষ্মে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে ইরান। হামিদরেজা বাঘেরি দারমানি নামের ওই ব্যবসায়ীসহ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে তিনজনের শিরশ্ছেদের ঘটনা ঘটল।

Eprothom Aloমিজানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সবচেয়ে বড় অপরাধ পার্থিব দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার জাতিয়াতি, প্রতারণা ও ঘুষের অভিযোগ আনা হয়। ২০১৪ সালের আগস্টে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাষ্ট্রীয় ব্যাংক থেকে ভুয়া রিয়েল এস্টেট ব্যবসার কাগজপত্র দেখিয়ে ঋণ নিয়েছিলেন তিনি।

এরপর তিনি ইরানের লাভজনক বিটুমিন ব্যবসাকে সামনে আনেন। আরেক বড় ব্যবসায়ী বাবাক মোর্তেজা জানজানির সঙ্গেও সম্পর্ক ছিল তাঁর। ২০১৬ সালে বাবাক মোর্তেজার বিরুদ্ধেও অভিযোগ এনেছে ইরান।

দারমানির শিরশ্ছেদের খবর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে নাটকীয়ভাবে প্রচার করা হয়। ব্যাকগ্রাউন্ডে অ্যাকশন মুভির সাউন্ডট্র্যাক ও পুরো অপরাধের ডকুমেন্টারি দেখানো হয়। দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থনৈতিক খাতে বাধা সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের বিষয়টি দেখাতে এ ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটি।

গত মে মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকে দেশটি অর্থনৈতিক দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

18/12/2018

জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান কমছে

টাকা। প্রতীকী ছবিমোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ১ শতাংশ অবদানও নেই দেশের বিমা খাতের। অথচ দেশে সাধারণ বীমা করপোরেশন ও জীবন বীমা করপোরেশন নামে রাষ্ট্রমালিকানাধীন বড় দুটি সংস্থা রয়েছে। আর বেসরকারি ও বিদেশি মিলিয়ে রয়েছে আরও ৭৬টি কোম্পানি।
জিডিপিতে অবদানের দিক থেকে বিমা খাত যে শুধু পিছিয়ে আছে, তা নয়। c
বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) খসড়া প্রতিবেদনে বিমা খাতের এই চিত্র উঠে এসেছে। দেশের পঞ্চম বাণিজ্যনীতি পর্যালোচনা (৫ম ট্রেড পলিসি রিভিউ) কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ নিয়ে গত মাসে বৈঠক করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত সচিব কামরুন্নাহার আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জেনেভায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নিযুক্ত ইকোনমিক মিনিস্টার সুপ্রিয় কুমার কুন্ডু, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের উপসচিব সাইদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ডব্লিউটিওর খসড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিডিপির তুলনায় বিমা খাতের অবদান খুবই কম। গোটা বিশ্বে তো বটেই, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও এটি বেশ কম, ১ শতাংশের কম। জীবনবিমা ও সাধারণ বিমা মিলিয়ে জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান মাত্র দশমিক ৯ শতাংশ। এর মধ্যে জীবনবিমার অবদান দশমিক ৭ শতাংশ এবং সাধারণ বিমার অবদান দশমিক ২ শতাংশ।
বৈঠকে বলা হয়, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে জিডিপিতে বিমা খাতের অবদান ৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে গেলে বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে (আইডিআরএ) শক্তিশালী করতে হবে। জোরদার করতে হবে সংস্থাটির তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিকেও।
প্রিমিয়ামের হতাশাজনক চিত্র
ডব্লিউটিওর প্রতিবেদনে জিডিপির তুলনায় মোট প্রিমিয়ামের হতাশাজনক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছয় বছর ধরেই প্রিমিয়ামের হার কমছে। ২০১২ সালে জীবনবিমা ও সাধারণ বিমার মোট প্রিমিয়ামের হার ছিল মিলিয়ে জিডিপির দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর মধ্যে জীবনবিমার ছিল দশমিক ৬২ শতাংশ এবং সাধারণ বিমার দশমিক ২১ শতাংশ।
প্রতিবছর কমতে কমতে ২০১৭ সালে এসে সাধারণ বিমা ও জীবনবিমা মিলিয়ে জিডিপিতে অবদান দাঁড়িয়েছে দশমিক ৫৫ শতাংশ। এর মধ্যে জীবনবিমা দশমিক ৪০ শতাংশ এবং সাধারণ বিমা দশমিক ১৫ শতাংশ।
বিমা খাতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) সংগঠন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি এবং পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সিইও বি এম ইউসুফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, বিমা খাতের মূল সমস্যা ভাবমূর্তির। আগের বিমা অধিদপ্তর বিলুপ্ত করে সরকার যখন আইডিআরএ গঠন করল, ভাবমূর্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে সেটাই বড় একটি অর্জন হলো।
জানতে চাইলে আইডিআরএর চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান পাটোয়ারী গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় বিমা খাতের অবদান কমছে এটা ঠিক। তবে বিমা খাত যে বড় হচ্ছে, তা-ও অস্বীকারের উপায় নেই। বলা যেতে পারে যে জিডিপির আকার যত বড় হচ্ছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিমা খাতের গতি বাড়ছে না।’
শফিকুর রহমান পাটোয়ারী অবশ্য বিমা খাত নিয়ে আশাবাদী বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এ খাতকে চলতে হয়েছে এবং এখনো চলতে হচ্ছে। তবে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে। সমস্যা থাকবে না। খাতটির ভাবমূর্তিও আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অনেক বাড়বে।
বিমা দাবি নিষ্পত্তি কমেছে
প্রতিবেদনে বিমা দাবি নিষ্পত্তির হারের ৯ বছরের একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই হারও আগের তুলনায় কমছে। জীবনবিমার চেয়ে সাধারণ বিমার নিষ্পত্তির হারের অবস্থা খুবই খারাপ। ২০০৯ সালে ৭৭ শতাংশ বিমা দাবি নিষ্পত্তি হয়েছিল। ওই বছর জীবনবিমার নিষ্পত্তির হার ৮১ শতাংশ, আর সাধারণ বিমার নিষ্পত্তির হার ৬৫ শতাংশ।
২০১৭ সালে এসে দুই ধরনের বিমা মিলিয়ে নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। ৯ বছর আগের তুলনায় জীবনবিমায় এ হার সামান্য বেড়ে ৮৯ দশমিক ৫ শতাংশ হলেও সাধারণ বিমায় এ হার অর্ধেক কমে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৯ শতাংশ।
সাধারণ বীমা করপোরেশন এবং জীবন বীমা করপোরেশনের প্রবৃদ্ধিও পাঁচ বছরের ব্যবধানে অনেক কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে অবশ্য বলা হয়, বিমা খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ বিমা খাত উন্নয়ন প্রকল্প (বিআইএসডিপি) নামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে আইডিআরএ এবং দুই করপোরেশনের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানির করপোরেট কর ৪০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত বিমা কোম্পানির করপোরেট কর ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ইনস্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বি এম ইউসুফ আলী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের ইতিবাচক প্রচারণা থাকলে খাতটির অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলো নিজেদের মতো করে প্রচারণা চালায়, কিন্তু সরকারের প্রচারণাটা বেশি জরুরি। এতে মানুষ আস্থা পায়। Collected from Prothom-Alo

Address

263 Malibagh, Mahi-Hasan Tower (2nd Floor)
Dhaka
1217

Opening Hours

Monday 09:00 - 19:00
Thursday 09:00 - 19:00
Sunday 08:30 - 19:00

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when H R Patoary & Company posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share