29/10/2019
'শীতকাল' — মুমিনদের ইবাদতের মৌসুম
মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু তা'আলার শত কোটি নিয়ামতের একটি নিয়ামত হচ্ছে বিভিন্ন ঋতু। আমাদের দেশের ঋতু পরিবর্তন অনেক বর্ণীল। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ পেরিয়ে হেমন্ত কালেই শীতের জন্ম হয়। মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু তাআলা মানুষের কল্যাণের জন্যই প্রকৃতির এ পরিবর্তণ ঘটিয়ে থাকেন। মহান আল্লাহ্ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, "আল্লাহ দিন ও রাত্রির পরিবর্তন ঘটান। এতে অর্ন্তদৃষ্টি-সম্পন্ন গণের জন্যে চিন্তার উপকরণ রয়েছে।" [সূরাহ আন-নূর, আয়াত : ৪৪]
ক্যালেন্ডারের হিসেব অনুয়ায়ী শীতকাল আসতে এখন ও বেশ কিছুদিন দেরী থাকলেও যথারীতি অনেক আগে থেকেই দিন ছোট হওয়া শুরু হয়েছে। আর গ্রামেগঞ্জে রাতের কুয়াশা আর ভোরের শিশির নেমে এসে শীতের আমেজ জানিয়ে দিয়েছে। এই ঢাকাতে ও ভোররাতের শীত শীত আমেজ বলে দিচ্ছে শীত আসছে।
শীতকালের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দিন ছোট আর রাত বড়। দিনের বেলা সাধারণত মানুষ ঘরে বাইরে বেশি কর্মব্যস্ত সময় কাটায়। রাতের বেলা ঘরে ফিরে বিশ্রাম নেয়। শীতকালে তাই যথানিয়মে কর্মঘণ্টা বাইরে কমে গিয়ে ঘরে বিশ্রামের সময় বেড়ে যায়। আর ঘরের বিশ্রামের বাড়তি সময়কে অর্থাৎ দীর্ঘ রাতগুলোকে আমরা ইবাদতের কাজে ব্যয় করতে পারি। অন্যদিকে দিনের ছোট সময়টাকে কাজে লাগাতে পারি সিয়াম রেখে। শীতকালীন ছোট দিনের সিয়াম পালন অপেক্ষাকৃত কম কষ্টকর। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি সব অনেকটাই কম অনুভূত হয় শীতের আমেজ থাকার কারণে ও দিন ছোট হওয়ার কারণে।
ইবাদতের এ বিশেষ সুযোগের জন্য শীতকালকে মুমিন বান্দাদের জন্য গণিমত বলা হয়েছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "শীতকাল মুমিনের জন্য গণীমতস্বরূপ। শীতকালীন রাত লম্বা হয়। তাতে মুমিন বান্দা রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগিতে অতিবাহিত করতে পারে। আর দিন ছোট হয়; তাতে মুমিন বান্দা সিয়াম পালন করতে পারে।"
আমের ইবনু মাসউদ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
“শীতকালীন সওম হচ্ছে ঠাণ্ডা গনিমত।” (অর্থাৎ কষ্টহীন পূণ্য)।
শীতকালে দিন ছোট হওয়ায় সিয়াম পালন করা যেমনি সহজ হয়; আবার রাত দীর্ঘ হওয়ায় নফল সালাত, কুরআন তিলাওয়াতসহ দীর্ঘ সময় ইবাদত-বন্দেগি করে ও পর্যাপ্ত পরিমাণ সময় ঘুমানো যায়। মুসলিম উম্মাহর জন্য যা আল্লাহ সুবহানাহু তা'আলার এক বিশেষ নিয়ামত। [বায়হাকী, আস-সুনান, হাদিস নং ৪/২৯৪]
শীতকাল এলেই সালাফরা খুশি হয়ে যেতেন। নিজেদের কিভাবে ইবাদতে ব্যস্ত রাখা যায়, সময়গুলোকে কিভাবে আল্লাহর পথে ব্যয় করা যায় তা অনুসন্ধান করতেন। উবায়েদ ইবন 'উমায়ের (রহ.) বলতেন, “হে কুরআনের অনুসারীগণ। কুরআন পড়ার জন্য তোমাদের রাত দীর্ঘ হয়েছে। অতএব তোমরা কুরআন পাঠ কর। সিয়ামের জন্য দিন ছোট হয়েছে। অতএব তোমরা সিয়াম রাখ।”
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে অন্যত্র বলেছেন, “তিনটি আমল পাপমোচন করে, প্রথমতঃ সংকটকালীন দান, দ্বিতীয়তঃ গ্রীষ্মের সিয়াম ও শীতের অযু।" [তাবরানী, কিতাবুদ দু’য়া, হাদিস নং ১৪১৪]
তাই বোঝা যাচ্ছে ইবাদতের জন্য শীতে কষ্ট করে অযু করাটা ও কতটা ফযিলতপূর্ণ আমল সুবহানআল্লাহ্! আর শীতকাল ইবাদতের কাজে ব্যয় করাটা কতটা তাৎপর্যপূর্ণ!
শীত না এলে ও দিনগুলো কিন্তু ছোট হয়ে গেছে। তাই আমরা আমাদের এই দিনগুলো যেন ইবাদতের মৌসুম হিসেবে কাজে লাগাতে পারি ; শীতকাল যেন আমাদের জন্য যথার্থ- ই ইবাদতের মৌসুম হয়ে উঠতে পারে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার কাছে দুআ করবো তিনি যেন আমাদের সে সুযোগ করে দিন।
আমরা এই ছোট দিনগুলোতে সিয়াম পালন করা শুরু করি; অন্ততঃ প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার। কারণ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সপ্তাহের এ দুদিন সিয়াম পালন করতেন। তাছাড়া যেসব বোনের ফরয ক্বাযা সিয়াম বাকী আছে তারা ও এই ছোট দিনগুলোর যথাযথ সদ্ব্যবহার করতে পারেন।
শীতকাল যেন হয়ে ওঠে আমাদের জন্য হয়ে ওঠে ইবাদতের বসন্তকাল।
▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂▂
লেখাঃ ইসমত কনক (আল্লাহ্ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন!)
(Y) শেয়ার করুন, বন্ধুদের সাথে ইন শা আল্লাহ !
(ওহী থেকে সংগৃহীত)