07/04/2014
প্রাথমিকে শিক্ষক বদলিতে নতুন নীতিমালা
নিবারণ বড়ুয়া
এখন আর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদানের তিন বছরের মধ্যে অন্য স্থানে বদলি হওয়া যাবে না। সহকারী শিক্ষকরাও দুই বছরের মধ্যে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে বদলি হতে পারবেন না। যেসব বিদ্যালয়ে চারজন বা তার কমসংখ্যক শিক্ষক রয়েছেন সে ক্ষেত্রে আগে প্রতিস্থাপন না করে কোনো শিক্ষককে বদলি করা যাবে না। এ ছাড়া বদলির আদেশ পাওয়ার পরেও অন্য শিক্ষক যোগদান না করা পর্যন্ত বদলি হওয়া শিক্ষককে অবমুক্ত করা যাবে না। মহিলাদের ক্ষেত্রে বিবাহের পরে পদ শূন্য থাকলে স্বামীর ঠিকানায় বদলি হয়ে যাওয়া যাবে। এ ধরনের নির্দেশনা রেখে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বদলিতে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রণীত খসড়াটি নিয়ে গতকাল আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় আলোচনা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে নীতিমালাটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। নতুন বদলি নীতিমালার খসড়ায় রয়েছে- বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান অব্যাহত রাখতে প্রতিষ্ঠানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিজ কর্ম এলাকায় জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুমোদনক্রমে শিক্ষক বদলি করতে পারবেন। তা ছাড়া প্রশাসনিক প্রয়োজনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় যে কোনো সময় যে কোনো বদলি করতে পারবে। সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়া নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের যে কোনো উপজেলায় শিক্ষক বদলি করবেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক। তবে জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং পার্বত্য অঞ্চলের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার ক্ষেত্রে এ বদলি নীতিমালা প্রযোজ্য হবে না। নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে- শূন্যপদ পূরণে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়োগবিধি, ১৯৯১-এর ৭(১)(খ) ধারায় নিজ উপজেলা বা জেলা ও বিভাগের বাইরে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা নিজ উপজেলা বা জেলায় পদ শূন্য থাকলে বদলি হয়ে আসতে পারবেন। এ ছাড়া মহিলাদের ক্ষেত্রে বিবাহের পরে পদ শূন্য থাকলে স্বামীর ঠিকানায় বদলি হয়ে যাওয়া যাবে। তবে এ ধরনের আবেদনে শূন্যপদের বিপরীতে চাকরির জ্যেষ্ঠতা বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া বছরের শুরু থেকে মার্চের মধ্যে একই উপজেলা বা আন্তঃজেলা ও আন্তঃবিভাগে বদলিসংক্রান্ত কাজ শেষ করতে হবে। তবে এ সময়ের মধ্যে বদলির কাজ শেষ না হলেও মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে কাজটি সম্পন্ন করা যাবে। এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, শিক্ষকদের ভোগান্তি কমিয়ে আনতে নতুন এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নীতিমালাটি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।