15/04/2026
#হাম নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য:
হাম নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে এটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। খুব অল্প কথায় হাম সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানানো হলো।
প্রথমত, সব জ্বর মানেই হাম নয়। অনেক সাধারণ ভাইরাল জ্বরের সাথেও হামের মতো উপসর্গ থাকতে পারে, তাই অযথা ভয় পাওয়ার দরকার নেই। তবে হামের জ্বরের কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
✅হামের ক্ষেত্রে সাধারণত:
✔️জ্বর থাকে এবং তা অনেক বেশি (১০৪–১০৫°F পর্যন্ত হতে পারে)
✔️কাশি থাকে
✔️নাক দিয়ে পানি পড়ে
✔️চোখ লাল হয়ে যায় এবং পানি পড়ে (কনজাংটিভাইটিস)
🖕🖕এই চারটি লক্ষণ একসাথে থাকলে হাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
এরপর আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ দেখা যায়:
১। শরীরে র্যাশ (লালচে ফুসকুড়ি)
২। মুখের ভেতরে ছোট সাদা ফুসকুড়ির মতো দাগ (যাকে Koplik spots বলা হয়)
🖕🖕বিশেষ করে Koplik spots থাকলে প্রায় নিশ্চিতভাবে এটিকে হাম হিসেবে ধরা হয়।
র্যাশ সাধারণত প্রথমে হেয়ারলাইন থেকে শুরু হয়, তারপর ধীরে ধীরে মুখ, গলা, বুক, পেট, হাত ও পায়ে ছড়িয়ে পড়ে। সেরে যাওয়ার সময়ও একইভাবে উল্টো দিক থেকে মিলিয়ে যায়। র্যাশের রং প্রথমে লালচে, পরে বাদামি এবং শেষে কালচে হয়ে শুকিয়ে যায়।
✅হাম কীভাবে ছড়ায়:
👉হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাল রোগ। এটি মূলত কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত শিশুর আশেপাশের প্রায় ৯০% মানুষ সংক্রমিত হতে পারে।
👉এছাড়া ভাইরাসটি বাতাসে কিছু সময় ভাসতে পারে বা বিভিন্ন পৃষ্ঠে (যেমন টেবিল) থাকতে পারে। সেখান থেকে হাতের মাধ্যমে নাক বা মুখে গেলে সংক্রমণ হতে পারে।
👉একজন আক্রান্ত শিশু গড়ে ১২–১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে, যা এর উচ্চ সংক্রমণ ক্ষমতা নির্দেশ করে।
✅সংক্রমণের সময়কাল:
🔹ভাইরাস শরীরে ঢোকার পর সাধারণত ১০–১৪ দিন পর উপসর্গ দেখা দেয়।
🔹উপসর্গ শুরুর ৪ দিন আগে থেকে এবং শুরুর ৪ দিন পর পর্যন্ত মোট ৮ দিন রোগটি সংক্রামক থাকে।
এই সময়ে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
✅টিকার গুরুত্ব:
হাম প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত কার্যকর। শুধু নিজের শিশুকে টিকা দিলেই হবে না, আশেপাশের সকল শিশুকেও টিকার আওতায় আনতে হবে।
যখন প্রায় ৯৫% শিশু টিকা পায়, তখন সমাজে হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হয় এবং হাম নিয়ন্ত্রণে আসে।
সাধারণত টিকা দেওয়া হয়:
• ৯ মাস বয়সে
• ১৫ মাস বয়সে
টিকা নেওয়ার ২৮ দিনের মধ্যে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়।
✅কাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি:
কিছু শিশুদের ক্ষেত্রে টিকা নেওয়ার পরও সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি নাও হতে পারে, যেমন,
• অপুষ্টিতে ভোগা শিশু
• দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা আছে
• জন্মগতভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (ইমিউন ডেফিসিয়েন্সি)
তবে টিকা নেওয়া শিশুরা আক্রান্ত হলেও রোগের তীব্রতা অনেক কম হয়।
✅জটিলতা:
টিকা না নেওয়া শিশুদের ক্ষেত্রে হাম মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন,
• নিউমোনিয়া
• ডায়রিয়া
• এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের সংক্রমণ)
⭕কেন ৯ ও ১৫ মাসে টিকা দেওয়া হয়?
মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডি সাধারণত শিশুকে ৬–৯ মাস পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। এরপর সেই সুরক্ষা কমে যায়, তাই ৯ মাসে প্রথম টিকা দেওয়া হয়।
বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে ৬ মাসের পর থেকেই সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে, তাই অনেক দেশে ৬ মাসের পর শিশুদেরও টিকার আওতায় আনা হচ্ছে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে।
© Collected
#হামের