05/09/2013
এমএলএম আইনের গেজেট প্রকাশ
ঢাকা: মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার এ গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে বলে আইন মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্রেতা, ক্রেতা-পরিবেশক ও ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতি এ অধ্যাদেশ জারি করেন। অধ্যাদেশটির নামকরণ করা হয়েছে ‘মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ২০১৩’।
অধ্যাদেশে ‘মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম’ বলতে কোনো পণ্য বা সেবা দুই বা ততোধিক স্তর বিশিষ্ট নেটওয়ার্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট কমিশন বা লভ্যাংশ বা অন্য কোনো সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির আওতায় পরিচালিত বিপণন কার্যক্রমকে বোঝানো হয়েছে।
‘সুবিধা’ অর্থে যে কোনো কমিশন, বোনাস, লভ্যাংশ, বাট্টা প্রত্যর্পণ, পুরস্কার, উৎসাহ বা অন্য কোনো অর্থ প্রদান বা এ উদ্দেশ্যে যে কোনো প্রকারের লাভ বা লাভের প্রতিশ্রুতি বোঝানো হয়েছে।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স গ্রহণ ব্যতিত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। গৃহস্থালী পণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য, প্রসাধন ও টয়লেট্রিজ পণ্য, হারবাল পণ্য, টেলিযোগাযোগ সেবা বা এতে ব্যবহারযোগ্য পণ্য, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত পণ্য ও সেবা এবং কৃষিজ ও কৃষিজাত পণ্য বা সেবার ক্ষেত্রে লাইসেন্সের অধীন মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। তবে সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা পণ্য বা সেবার তালিকা সংশোধন করতে পারবে।
মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য লাইসেন্স প্রদানের একক এখতিয়ার থাকবে সরকারের এবং লাইসেন্সের জন্য সরকারের কাছে নির্ধারিত পদ্ধতি ও ফরমে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রাপ্তির ৩০ দিনের মধ্যে সরকার আবেদনে উল্লেখিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন ও তদন্ত করবে এবং প্রাপ্ত তথ্যাবলী পরীক্ষার পর লাইসেন্স মঞ্জুর অথবা নামঞ্জুর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। সরকারের পূর্বানুমোদন ছাড়া কোনো লাইসেন্স বা এর অধিনে অর্জিত স্বত্ব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হস্তান্তর করা যাবে না।
মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যক্তিকে এ অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে এ অধ্যাদেশের বিধান অনুসারে লাইসেন্সের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে হবে। এ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর কোনো ব্যক্তি মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। পাশাপাশি মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যক্তি অধ্যাদেশ কার্যকর হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে লাইসেন্সের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে ব্যর্থ হলে অনূর্ধ্ব ১০ বছর এবং ন্যূনতম ৬ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি লাইসেন্স ছাড়া মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করলে অনূর্ধ্ব ১০ বছর এবং ন্যূনতম ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেয়া যাবে। সরকারের অনুমোদন ছাড়া লাইসেন্স বা এর অধিনে অর্জিত স্বত্ব সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে হস্তান্তর করলে অনূর্ধ্ব ২ বছর এবং ন্যূনতম ১ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং কার্যক্রম পরিচালনার আওতায় পিরামিড সদৃশ বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনার অপরাধে অনূর্ধ্ব ১০ বছর এবং ন্যূনতম ৫ বছর কারাদণ্ড এবং ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। কোনো ব্যক্তি মোড়কজাতকরণ ছাড়া মাল্টি-লেভেল পদ্ধতিতে পণ্য বিপণন করলে অনূর্ধ্ব ২ বছর এবং ন্যূনতম ১ বছর কারাদণ্ড এবং ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন। পণ্যের মূল্য অযৌক্তিক বৃদ্ধি করার অপরাধে অনূর্ধ্ব ৩ বছর এবং ন্যূনতম ১ বছর কারাদণ্ড এবং ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।
অন্যদিকে নিম্নমানের পণ্য বা সেবা বিপণনের অপরাধে অনূর্ধ্ব ৫ বছর এবং ন্যূনতম ২ বছর কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে উল্লেখিত কোনো অপরাধের জন্য কোনো ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ করলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে উক্ত দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডনীয় হবেন। এ অধ্যাদেশের অধীন অপরাধগুলো আমলযোগ্য ও অজামিনযোগ্য হবে।
কোনো মাল্টি-লেভেল কোম্পানির ব্যবসা এর পাওনাদার, শেয়ারহোল্ডার বা অন্য কোনো ব্যক্তিকে প্রতারণার জন্য পরিচালিত হচ্ছে অথবা এর প্রশাসনিক কার্যক্রম প্রতারণা বা অবৈধ উদ্দেশ্যে বা কোনো সদস্যকে হয়রানির উদ্দেশ্যে অথবা কোম্পানিটি প্রতারণা বা অবৈধ উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে বলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতীয়মান হলে সরকার লিখিতভাবে কারণ লিপিবদ্ধ করে সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা নির্দিষ্টকৃত সময়ের জন্য ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারবে। এ উদ্দেশ্যে সরকার উক্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ রহিত করে এক বা একাধিক প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও লাইসেন্সবিহীন কোম্পানি উভয় ক্ষেত্রেই এ বিধান প্রযোজ্য হবে। প্রশাসকের যোগ্যতা, মেয়াদ, কর্মপরিধি ও অন্যান্য বিষয়াদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে বলে গেজেটে বলা হয়েছে।
বাংলামেইল২৪ডটকম/এসআর/কেকে/ ১৫৪০ ঘণ্টা, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩