AL-AMIN SOHAG

AL-AMIN SOHAG ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।

@@@ রাজনীতির মূল অর্থ ও সিয়াসাহ শারইয়্যাহ: ইসলামী রাষ্ট্রদর্শন, সমসাময়িক রাজনীতি ও মুসলিম সমাজের দায়িত্ব-রাজনীতি মানুষ...
20/08/2026

@@@ রাজনীতির মূল অর্থ ও সিয়াসাহ শারইয়্যাহ:

ইসলামী রাষ্ট্রদর্শন, সমসাময়িক রাজনীতি ও মুসলিম সমাজের দায়িত্ব-রাজনীতি মানুষের সামগ্রিক জীবন পরিচালনার অন্যতম মৌলিক মাধ্যম। ইসলামের দৃষ্টিতে রাষ্ট্র ও রাজনীতি কোনো ধর্মনিরপেক্ষ বা বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং আল্লাহর জমিনে তাঁর একচ্ছত্র সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ ও দ্বীনের হেফাজতের একটি অপরিহার্য আমানত।
রাজনীতি ও শরীয়াহর তাত্ত্বিক ভিত্তি
* রাজনীতির পাশ্চাত্য উৎস গ্রিক শব্দ Polis (নগররাষ্ট্র), যার লক্ষ্য নাগরিকের পার্থিব কল্যাণ। অন্যদিকে ইসলামে রাজনীতি হলো ‘সিয়াসাহ শারইয়্যাহ’ (سِيَاسَة شَرْعِيَّة)—যার অর্থ জনগণের ইহকালীন ও পরকালীন উভয় কল্যাণ নিশ্চিত করে ন্যায়ভিত্তিক শাসন পরিচালনা করা।
* একচ্ছত্র সার্বভৌমত্ব (حَاكِمِيَّة):
চূড়ান্ত আইনদাতা ও সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক মহান আল্লাহ (সূরা ইউসুফ: ৪০)। মানুষ পৃথিবীতে কেবল আল্লাহর খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে এই আমানত পরিচালনা করে (সূরা আল-বাকারা: ৩০)।
* শরয়ী স্তর ও ভারসাম্য:
ব্যক্তিগত আমল (নামাজ, রোজা ইত্যাদি) যেমন 'ফরজে আইন', তেমনি ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সামগ্রিক অর্থে 'ফরজে কিফায়া'। রাষ্ট্রচিন্তা আত্মশুদ্ধি (তাযকিয়া) ও মৌলিক ইবাদতের বিকল্প নয়, বরং তাকওয়ার ওপর ভিত্তি করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠে।

ইসলামের মানদণ্ডে প্রচলিত রাষ্ট্রচিন্তা ও মতাদর্শ:

ধর্মনিরপেক্ষতা (Secularism) রাষ্ট্র, আইন ও সমাজ পরিচালনা থেকে ধর্মের সম্পূর্ণ পৃথকীকরণ। ইসলাম কেবল ব্যক্তিগত আচার নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ ও অবিভাজ্য জীবনব্যবস্থা।

সমাজতন্ত্র (Socialism) উৎপাদনের উপায়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানা ও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ। ইসলাম ব্যক্তিমালিকানা স্বীকার করে, তবে সুদ ও পুঁজিবাদী শোষণ নিষিদ্ধ করে যাকাতভিত্তিক সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে।

জাতীয়তাবাদ (Nationalism) ভাষা, রক্ত বা ভৌগোলিক সীমানার ভিত্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব ও আনুগত্য। | ইসলাম বিশ্বজনীন উম্মাহ ও তাকওয়ার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করে; অন্ধ গোত্রবাদ ও উগ্র জাতীয়তাবাদ ইসলামে নিষিদ্ধ।

উদার গণতন্ত্র (Democracy) সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছা ও আইনসভা।
সংখ্যাধিক্যের ভিত্তিতে আল্লাহর সুস্পষ্ট বিধান পরিবর্তন করা যায় না; মানবীয় আইন ঐশী কাঠামোর অধীন।

প্রচলিত আইনি কাঠামো বনাম ইসলামী শরীয়াহ:

আইন প্রণয়ন ও সার্বভৌমত্ব: পার্লামেন্ট বা জনপ্রতিনিধিরাই আইনের চূড়ান্ত ক্ষমতার অধিকারী। চূড়ান্ত সার্বভৌমত্ব ও হালাল-হারামের সীমারেখা নির্ধারণ আল্লাহর অধিকার। মৌলিক সাংঘর্ষিকতা: ঐশী বিধানের বিপরীতে আইন তৈরির সুযোগ ইসলামে নেই।

অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: সুদের ওপর প্রতিষ্ঠিত ব্যাংকিং ও পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক কাঠামো। সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ; যাকাত, সাদাকাহ ও অংশীদারিত্বভিত্তিক অর্থনীতি। সরাসরি সাংঘর্ষিক: সুদের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক নির্ভরশীলতা বর্জনীয়।

পারিবারিক ও দেওয়ানি আইন: বিয়ে, তালাক ও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত নিজস্ব ব্যক্তিগত আইন। কুরআন-সুন্নাহ নির্ধারিত অংশীদারিত্ব ও ফারায়েজ বিধান। সামঞ্জস্যপূর্ণ: অধিকাংশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজে শরীয়াহর বিধান গৃহীত।

প্রশাসনিক নিয়মাবলী: নাগরিক নিবন্ধন, ট্রাফিক আইন, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষা নীতি। জনশৃঙ্খলা ও জনকল্যাণে প্রণীত নিয়ম মান্য করা ওয়াজিব। সামঞ্জস্যপূর্ণ: এগুলো ইসলামে বৈধ প্রশাসনিক ইজতিহাদ (মাসলাহাহ মুরসালাহ)।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমি ও ইসলামপন্থী ধারার বাস্তবতা:

* ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক কাঠামো: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মতো দলগুলো সংবিধানে ইসলামি মূল্যবোধ বা রাষ্ট্রধর্মের কথা উল্লেখ রাখলেও তাদের মূল রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক কাঠামো পশ্চিমা উদার গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা অথবা ভূখণ্ডভিত্তিক জাতীয়তাবাদের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

* ইসলামপন্থী ধারার চ্যালেঞ্জ: শরীয়াহর বাস্তবায়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করলেও সমসাময়িক সাংবিধানিক কাঠামো, নির্বাচনী সমীকরণ এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে সমন্বয় করতে গিয়ে এসব দল নানামুখী বাস্তব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
মুসলিম তরুণদের বিভ্রান্তি ও বাস্তবমুখী সংস্কারের রূপরেখা

* রাজনৈতিক বিচ্যুতির কারণ: ক্ষমতা ও প্রভাবের আকর্ষণ, ক্যারিয়ার গড়ার সহজ পথ, পারিবারিক দলীয় ঐতিহ্য এবং ইসলামী রাষ্ট্রদর্শনের সুনির্দিষ্ট জ্ঞানের অভাব তরুণদের অন্ধ দলান্ধতার দিকে ধাবিত করে।

* আকীদা ও আমানতের শিক্ষা: রাজনীতি কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা পেশীশক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্র নয়; এটি জবাবদিহিতামূলক একটি কঠিন আমানত—এ বোধ তরুণদের মধ্যে জাগ্রত করা।

* অন্ধ আনুগত্য পরিহার: কোনো ব্যক্তি বা দলীয় লেবেলের অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং সমর্থন ও বিরোধিতার একমাত্র মাপকাঠি হতে হবে সত্য, সততা ও ইনসাফ।

* ইতিবাচক বিকল্প নির্মাণ: সমাজসেবা, যুবকল্যাণ, দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক উদ্যোগ ও দাওয়াহ কার্যক্রমে তরুণদের সম্পৃক্ত করে তাদের মেধা ও শক্তির ইতিবাচক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
ইসলাম কোনো নির্দিষ্ট মানবসৃষ্ট দলীয় লেবেলকে সমর্থন করাকে ঈমানের মাপকাঠি বানায়নি। একজন সচেতন মুসলিমের মূল লক্ষ্য হলো যেকোনো অবস্থানে থেকে ন্যায়ের আদেশ ও অন্যায়ের নিষেধ (আমর বিল মারুফ ওয়া নাহি আনিল মুনকার) কায়েম রাখা এবং ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকওয়া ও ঐশী নির্দেশনার প্রতিফলন ঘটানো।

চরফ্যাশন ও মনপুরার মৌলিক উন্নয়ন প্রশ্নে জনপ্রতিনিধি ও বিরোধী দলের দায়িত্ব:-ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও ...
09/08/2026

চরফ্যাশন ও মনপুরার মৌলিক উন্নয়ন প্রশ্নে জনপ্রতিনিধি ও বিরোধী দলের দায়িত্ব:-

ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক থেকে ভোলা-৪ (চরফ্যাশন ও মনপুরা) উপকূলীয় বাংলাদেশের এক অনন্য সম্ভাবনাময় অঞ্চল। এখানকার মাটি ও মানুষের রয়েছে নিজস্ব জীবনসংগ্রাম ও অপার সম্ভাবনা। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন নেতৃত্বের আত্মপ্রকাশের পর চরফ্যাশন-মনপুরাবাসী এক নতুন ভোরের প্রত্যাশা করেছিল। ভোলা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এক হেভিওয়েট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তবে স্থানীয় জনগণের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে—এত প্রভাবশালী ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতা সংসদ সদস্য হওয়া সত্ত্বেও কি এলাকার কাঙ্ক্ষিত ও দৃশ্যমান উন্নয়ন অর্জিত হচ্ছে?

দৃশ্যমান উন্নয়ন ও বাস্তবতার অমিল:-
হাটে-বাজারে টোল ফ্রি করে দেওয়া অবশ্যই একটি প্রশংসনীয় ও জনবান্ধব উদ্যোগ, যা সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও প্রান্তিক মানুষকে স্বস্তি দিয়েছে। কিন্তু কেবল বাজার ঘাট ফ্রি করে দেওয়াই কি একটি সংসদীয় আসনের মূল এবং চূড়ান্ত উন্নয়ন?
বর্তমানে চরফ্যাশন ও মনপুরার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো তীব্র বিদ্যুৎ সংকট বা লোডশেডিং। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে জনজীবন অচল হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাজনৈতিক অর্জনই সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারবে না।
ভোলা-৪ আসনের টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ
চরফ্যাশন ও মনপুরাকে সমৃদ্ধ অঞ্চলে পরিণত করতে অবিলম্বে নিচের মৌলিক ক্ষেত্রগুলোতে জোর দেওয়া প্রয়োজন:

১. বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন
ভোলা একটি কৃষি ও মৎস্যপ্রধান অঞ্চল। পূর্বে এখানে একটি টেকনিক্যাল বা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে আলোচনা ছিল, তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার তরুণ প্রজন্ম কারিগরি ও আধুনিক কৃষিশিক্ষায় দক্ষ হতে পারবে।

২. পর্যটন শিল্পের আধুনিকায়ন
মনপুরা দ্বীপ এবং চরফ্যাশনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য (যেমন: জ্যাকব টাওয়ার, তারুয়া বিচ, কুকরি-মুকরি) বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার যোগ্য।
* উন্নত যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।
* মানসম্মত রিসোর্ট ও ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্র স্থাপন করা।
* মনপুরার সাথে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ সুগম করতে নিরাপদ ও দ্রুতগতির নৌ-পরিবহন নিশ্চিত করা।

৩. কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব দূরীকরণ
* নদী ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদভিত্তিক হিমাগার (Cold Storage) ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন করা।
* বেকার যুবক ও নারীদের ফ্রিল্যান্সিং, কারিগরি ও আইটি খাতে দক্ষ করে তুলতে হাই-টেক ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা।
* স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা।

৪. চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার
উপকূলীয় ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপ অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
* চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বাড়ানো।
* বিশেষ করে মনপুরার নদীবেষ্টিত মানুষের জন্য সার্বক্ষণিক 'নৌ-এ্যাম্বুলেন্স' (Sea Ambulance) সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া।
* বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও পর্যাপ্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা।

বিরোধী দল ও নাগরিক সমাজের রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা:-

রাজনীতিতে কেবল ক্ষমতাসীন বা নির্বাচিত সংসদ সদস্যই একা দায়ী নন; বিরোধী দলের ভূমিকাও সেখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোলা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের ভোট পেয়েছে। যদিও তাদের গত নির্বাচনের প্রার্থী ইন্তেকাল করেছেন এবং আগামী নির্বাচনের প্রার্থীর বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি, তবুও হাজার হাজার ভোটারের প্রতিনিধিত্বকারী একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের নিছক সাংগঠনিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।
জনগণ যে রাজনৈতিক শক্তিকে বিশ্বাস করে ভোট দেয়, তাদের প্রতি ঐ দলের সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।
* এলাকার বিদ্যুৎ সংকট, স্বাস্থ্য খাতের বেহাল দশা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের দাবিগুলো একত্রিত করে এমপির নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে স্মারকলিপি প্রদান করা উচিত।
* একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল বা নাগরিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নির্দিষ্ট 'উন্নয়ন প্রস্তাবনা' পেশ করে এলাকার স্বার্থে কাজ করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা রাজনৈতিক সংস্কৃতির শুভ সূচনা হতে পারে।

শেষ কথা:
চরফ্যাশন ও মনপুরার মানুষ আর কোনো রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বা আংশিক সুবিধায় সন্তুষ্ট থাকতে চায় না। কেন্দ্রীয় পর্যায়ের হেভিওয়েট নেতৃত্ব থেকে শুরু করে বিরোধী দল—সবার দায়িত্ব সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন মৌলিক অধিকার ও স্থায়ী উন্নয়নের প্রশ্নে সোচ্চার হওয়া। বিদ্যুৎ সংকট নিরসন, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের আধুনিকায়ন এবং পর্যটন ও কর্মসংস্থানের স্থায়ী সমাধানই এখন সময়ের দাবি।

'গুপ্ত' ধারণার রাজনীতি, মনস্তত্ত্ব এবং সামাজিক বাস্তবতা:-গুপ্ত শব্দটি কেবল একটি আভিধানিক অর্থ বহনের পাশাপাশি রাজনীতি, সম...
09/08/2026

'গুপ্ত' ধারণার রাজনীতি, মনস্তত্ত্ব এবং সামাজিক বাস্তবতা:-

গুপ্ত শব্দটি কেবল একটি আভিধানিক অর্থ বহনের পাশাপাশি রাজনীতি, সমাজবিদ্যা ও গোয়েন্দা বিজ্ঞানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ধারণা।
রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় ‘গুপ্ত’ বা ‘গোপন’ শব্দটি প্রায়শই সংবেদনশীল একটি বিষয়। সাধারণ কথ্য ভাষায় শব্দটি নিয়ে নানা বিভ্রান্তি থাকলেও, ইতিহাস ও সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে গোপন সংগঠন ও এদের কাজের নিজস্ব গতিপথ রয়েছে।

১. ‘গুপ্ত’ শব্দের আভিধানিক ও প্রায়োগিক অর্থ
‘গুপ্ত’ শব্দটি একটি সংস্কৃতিমূল শব্দ, যার আভিধানিক অর্থ লুকায়িত, গোপন, অদৃশ্য, আবৃত বা অপ্রকাশিত।
তবে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিভাষায় ‘গুপ্ত’ বলতে এমন কোনো ব্যক্তি, দল বা নীতিকে বোঝায়, যা সাধারণ নজরদারির বাইরে থেকে অন্তরালে তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও কৌশল পরিচালনা করে। ইতিহাসে গুপ্ত শব্দকে কেবল নীতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হয়নি; অনেক ক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা এবং নিরাপত্তার স্বার্থেও গোপনীয়তা অবলম্বন করা হয়েছে।

২. বিশ্বজুড়ে ‘গুপ্ত’ শব্দের ব্যবহারিক প্রয়োগ
পৃথিবীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বা 'গুপ্ত' নীতির বহুল ব্যবহার রয়েছে:
* সামরিক ও গোয়েন্দা ক্ষেত্র: দেশের নিরাপত্তা সুসংহত করতে 'গুপ্তচর' বা 'গুপ্ত তথ্য' সংগ্রহ সামরিক কৌশলের অন্যতম মূল ভিত্তি।
* রাজনীতি ও বিপ্লব: স্বৈরতান্ত্রিক বা প্রতিকূল শাসনব্যবস্থায় নিজেদের টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় গোপনে সংগঠন পরিচালনা করে।
* বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: সাইবার দুনিয়ায় ডাটা এনক্রিপশন, ক্রিপ্টোগ্রাফি (Cryptosystem) ও গোপন কোডিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

৩. বিশ্বব্যাপী এবং বাংলাদেশের গুপ্ত বা গোপন সংগঠন
ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে বিশ্বে অসংখ্য গোপন সংগঠন (Secret Societies) গড়ে উঠেছে।

* বিশ্ব প্রেক্ষাপট: ইউরোপ ও আমেরিকায় ‘ইলুমিনাতি’ (Illuminati), ‘ফ্রিম্যাসন’ (Freemasonry), ‘স্কাল অ্যান্ড বোন্স’ (Skull and Bones)-এর মতো ঐতিহাসিক ও সামাজিক গোপন সংগঠনের নাম পরিচিত। এছাড়া কৌশলগত কাজের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশেষ গোপন গোয়েন্দা সংস্থা (যেমন: সিআইএ, মোসাদ, এমআইসিক্স) বা রাজনৈতিক গোপন উইং কাজ করে।

* বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় নিবন্ধিত একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা (যেমন: এনএসআই, ডিজিএফআই, ডিবি ইত্যাদি) রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে নিজস্ব আইনি কাঠামোর ভেতর কাজ করে। এর বাইরে, ঔপনিবেশিক আমল থেকেই বাংলায় বিপ্লবী রাজনৈতিক দলগুলো (যেমন: অনুশীলন সমিতি, যুগান্তর দল) গোপনে সংগঠন পরিচালনা করে সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।

৪. বাংলাদেশের মূলধারার রাজনীতি ও ‘গুপ্ত’ কৌশল
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় দলগুলো—আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী—প্রত্যেকটি দলই বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক প্রতিকূলতা কাটাতে বা নির্দিষ্ট লক্ষ্য হাসিলে প্রকাশ্য রাজনীতির পাশাপাশি গোপন ও অপ্রকাশ্য কৌশল অবলম্বন করেছে।
* আওয়ামী লীগ: স্বাধীনতাযুদ্ধ-পূর্বকালে কিংবা সাম্প্রতিক সময়ে রাষ্ট্রক্ষমতা হারানোর পর দলটি বিভিন্ন স্তরে গোপনে সাংগঠনিক যোগাযোগ ও কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করেছে।
* বিএনপি: বিগত দেড় দশকে রাজনৈতিক দমন-পীড়নের মুখে টিকে থাকতে দলটির নেতাকর্মীদের বড় অংশকে আত্মগোপনে গিয়ে বা গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে রাজপথের কর্মসূচি পরিচালনা করতে দেখা গেছে।
* জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির: দীর্ঘ সময় ধরে নিষিদ্ধ হওয়া এবং আইনি জটিলতার মুখে পড়া জামায়াত ও শিবিরের বিরুদ্ধে মূলধারার মিডিয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো ‘গুপ্ত রাজনীতি’ বা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড কার্যক্রম’-এর অভিযোগ তুলে ধরেছে।

৫. 'গুপ্ত' থেকে বিপ্লব: ইতিহাস কী বলে?
ইতিহাসের পাতায় নজর দিলে দেখা যায়, বিশ্বের বড় বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পেছনে গোপন সংগঠন বা কৌশলের বড় ভূমিকা ছিল।
* রুশ বিপ্লব (১৯১৭): বলশেভিক দল দীর্ঘ সময় গোপনে কাজ করে সংগঠিত হয়েছিল।
* ফরাসি ও আমেরিকান বিপ্লব: তৎকালীন গোপন সামাজিক সংঘ ও বিপ্লবী উইংগুলোর অন্তর্বর্তী কৌশল বিপ্লবকে সফল হতে সাহায্য করেছিল।
* বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১): মুক্তিযুদ্ধের মূল যুদ্ধক্ষেত্র গঠন ও গেরিলা কৌশলগুলো অত্যন্ত নিপুণ গোপন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল।
অতএব, বিশ্ব ইতিহাসে গোপন কাঠামোর মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা বিপ্লব ঘটানোর উদাহরণ বিরল নয়।

৬. 'শিবিরকে গুপ্ত বলা': ক্রেডিট নাকি ডিমোশন?
রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে যখন তাদের বিরোধীরা 'গুপ্ত সংগঠন' বা 'গুপ্ত ক্যাডার' বলে আখ্যা দেয়, তখন বিষয়টি একটি দ্বিধাভিত্তিক বিতর্কের জন্ম দেয়:
১. মনস্তাত্ত্বিক দিক (বিরোধীদের দৃষ্টিতে): শত্রুপক্ষ বা প্রতিপক্ষ যখন কোনো দলকে 'গুপ্ত' বলে, তখন তারা সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের ভয় ও নেতিবাচক ধারণা তৈরির চেষ্টা করে। প্রকাশ্য জনসমক্ষে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড না করে অন্তরালে থাকা কোনো দলকে মূলধারার গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ হিসেবে না দেখানোর জন্যই এটি বলা হয়। ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা এই কারণে বিষয়টিকে একটি 'অপপ্রচার' বা ট্যাগ হিসেবে দেখে ক্ষুব্ধ হন।
২. কৌশলগত ও সাংগঠনিক দৃষ্টিকোণ (ক্রেডিট সংক্রান্ত আলোচনা): অন্য দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, একটি দেশে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বহু শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থার সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকা সত্ত্বেও যদি একটি দল তাদের প্রকাশ্য বা অন্তরালের সাংগঠনিক অস্তিত্ব রক্ষা করে বৈপ্লবিক বা বড় কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা তা দেখে তাদের কৌশলগত সক্ষমতা স্বীকার করতে বাধ্য হন।

কাজেই, 'গুপ্ত' শব্দটি রাজনৈতিক ভাষার টেবিলে বিরোধীদের দিক থেকে ডিমোশন বা নেতিবাচক ট্যাগ হিসেবে ছোড়া হলেও, সাংগঠনিক দক্ষতা ও সক্ষমতার জায়গায় তা দিনশেষে এক ধরণের অদৃশ্য শক্তিরই ইঙ্গিত দেয়।

23/06/2026

**দেশের মানচিত্রটা রক্তের বিনিময়ে কেনা, কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রের কাছে লিজ দেওয়ার জন্য নয়!** 🇧🇩
বড় অদ্ভুত লাগে যখন দেখি এদেশের বাতাসে নিশ্বাস নিয়ে, এদেশের অন্ন-বস্ত্র খেয়ে একদল মানুষ বুক ফুলিয়ে ভিনদেশের দালালি করে। নিজের দেশের সার্বভৌমত্ব, নিজের দেশের মানুষের অধিকার আর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে যারা অন্য দেশের স্বার্থরক্ষা করতে ব্যস্ত থাকে, তাদের মেরুদণ্ড বলতে আসলেই কিছু নেই।
মনে রাখবেন, কোনো দেশপ্রেমিক কখনো নিজের দেশের ক্ষতি চেয়ে অন্য দেশের পা চাটতে পারে না। দল-মত, রাজনীতি ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু যখনই প্রশ্ন আসবে **বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের**, তখন শতভাগ আনুগত্য কেবল এই লাল-সবুজ পতাকার প্রতিই থাকতে হবে।
যারা এদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে অন্য দেশের দালালি করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে শুধু এটুকুই বলার— ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় প্রভুরা হয়তো সাময়িক পিঠ চাপড়ে দেয়, কিন্তু দিনশেষে বিশ্বাসঘাতকদের কেউ বিশ্বাস করে না।
আসুন, দল-মত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা সবাই একতাবদ্ধ হই।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (IBBL)-এর বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষোভের বিষয়টি অত্যন্তউদ্বেগের এবং...
02/06/2026

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (IBBL)-এর বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষোভের বিষয়টি অত্যন্ত
উদ্বেগের এবং নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলো।

# ইসলামী ব্যাংকের অস্তিত্ব রক্ষা: আমানতকারীদের আস্থা ও নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংক হলো ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’। কোটি কোটি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আমানত, ধর্মীয় আবেগ এবং বিশ্বাসের ওপর ভর করে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। কিন্তু বিগত কয়েক বছরের অনিয়ম, বেনামী ঋণ এবং লুণ্ঠনের কারণে ব্যাংকটি যে গভীর সংকটে পড়েছে, তা আজ আর কারও অজানা নয়। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যেখানে প্রয়োজন ছিল সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য, সম্পূর্ণ বিতর্কহীন এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব, সেখানে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যা সাধারণ আমানতকারীদের মনে নতুন করে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। একজন সাধারণ ও সচেতন গ্রাহক হিসেবে আমি এই বিতর্কিত নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং বর্তমান চেয়ারম্যানের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করছি।

# # # কেন এই অপসারণের দাবি?
**১. স্বার্থের সংঘাত ও নৈতিকতার প্রশ্ন:**
গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিকটাত্মীয়ের (স্ত্রীর) বিরুদ্ধে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যে ব্যাংকের প্রধান সমস্যাই হলো 'খেলাপি ঋণ', সেই ব্যাংকের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পদে এমন একজনকে বসানো কতটা যৌক্তিক, যাঁর পরিবারের বিরুদ্ধেই খেলাপি ঋণের অভিযোগ রয়েছে? এটি স্পষ্টতই স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) এবং নৈতিকতার পরিপন্থী।

**২. অতীত কর্মজীবন ও আস্থার সংকট:**
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে মো. খুরশীদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যতই একে 'মব জাস্টিস' বলে হালকা করার চেষ্টা করুক না কেন, সাধারণ গ্রাহকদের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়—যাঁর অতীত নেতৃত্ব বিতর্কিত এবং যিনি চাপের মুখে পদ ছেড়েছিলেন, তিনি কীভাবে দেশের বৃহত্তম ব্যাংকের এই নজিরবিহীন আর্থিক সংকট ও প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার করবেন?

**৩. গ্রাহকদের চরম অসন্তোষ ও তারল্য সংকট:**
এই নিয়োগের পর থেকেই দেশজুড়ে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক (Panic) ছড়িয়ে পড়েছে। মিরপুর, কারওয়ান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় গ্রাহকরা দলে দলে টাকা তুলতে ভিড় করছেন। ব্যাংকিং ব্যবসা চলে সম্পূর্ণ 'আস্থা' বা বিশ্বাসের ওপর। যে চেয়ারম্যানের ওপর খোদ গ্রাহকদেরই আস্থা নেই, তাঁর অধীনে ব্যাংক কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? শক্তি প্রয়োগ বা পুলিশি প্রহরায় কখনো ব্যাংকের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায় না।

# # # আমাদের দাবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান
আমরা ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে চাই। আমাদের কষ্টার্জিত টাকা কোনো ব্যক্তির পরীক্ষাগারের উপাদান হতে পারে না। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবি:

* **বিতর্কিত চেয়ারম্যানের অপসারণ:** অবিলম্বে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে অপসারণ করে একজন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ এবং ব্যাংকিং খাতের সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য পেশাদার ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হোক।
* **গ্রাহকদের মতামতের মূল্যায়ন:** আমানতকারী এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের (যেমন: সচেতন গ্রাহক ফোরাম) যৌক্তিক দাবিগুলোকে প্রধান্য দিয়ে ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করতে হবে।
* **স্থায়ী ও যোগ্য এমডি নিয়োগ:** ব্যাংকের প্রশাসনিক শূন্যতা দূর করতে দ্রুততম সময়ে একজন যোগ্য ও স্বাধীন মানসিকতার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

**উপসংহার:**
ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি দেশের ৩ কোটি আমানতকারীর আমানতের দুর্গ। এই দুর্গকে রক্ষা করতে হলে আমানতকারীদের মনস্তাত্ত্বিক আস্থাকে সম্মান জানাতে হবে। আমরা কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চাই না, আমরা চাই আমাদের আমানতের নিরাপত্তা এবং ব্যাংকের সুশাসন। আর তার প্রথম পদক্ষেপ হতে হবে বিতর্কিত নেতৃত্বের অপসারণ।
**"ইসলামী ব্যাংক বাঁচলে, দেশের অর্থনীতি বাঁচবে।"**

02/06/2026

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (IBBL)-এর সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন (Audited Financial Statements) অনুযায়ী, ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের (শ্রেণীকৃত বিনিয়োগ) পরিমাণ দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

* **সর্বমোট খেলাপি ঋণ:** ২০২৫ সালের ডিসেম্বর ভিত্তিক চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে **৯৪,৩২২ কোটি টাকা**। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একক কোনো ব্যাংকের সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণের রেকর্ড।

# # # বড় বড় খেলাপি গ্রুপ
নিরীক্ষা প্রতিবেদন (Audit Report) অনুযায়ী, খেলাপি ঋণের একটি বড় অংশই এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া। যেমন:
* **এস আলম ভেজিটেবল অয়েল:** ১৪,৮৯৯ কোটি টাকা।
* **এস আলম সুপার এডিবল অয়েল:** ১২,৯৮৩ কোটি টাকা।
* **এস আলম স্টিলস এবং রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ:** ১০,৩৯৪ কোটি টাকা।

02/06/2026

ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ (Non-Performing Loans - NPL) আদায় করা যেকোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্যই একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং চ্যালেঞ্জিং প্রক্রিয়া। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যেখানে খেলাপির পরিমাণ অনেক বেশি, সেখানে প্রচলিত এবং বিশেষ—উভয় ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য মূলত তিন স্তরের (আইনি, প্রশাসনিক ও কৌশলগত) ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে:

# # ১. আইনি ও বিচারিক ব্যবস্থা (Legal Measures)
আইনি জটিলতার কারণে বাংলাদেশে ঋণ আদায় প্রক্রিয়া সবচেয়ে বেশি দীর্ঘায়িত হয়। এটি কাটিয়ে উঠতে নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া যায়:
* **অর্থঋণ আদালতে মামলা:** অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ অনুযায়ী খেলাপি গ্রাহকদের বিরুদ্ধে দ্রুত মামলা দায়ের করা এবং অভিজ্ঞ প্যানেল আইনজীবীদের মাধ্যমে তা নিয়মিত তদারকি করা।
* **বন্ধকী সম্পত্তি (Mortgaged Property) বাজেয়াপ্ত ও নিলাম:** ব্যাংক-কোম্পানি আইনের ধারা অনুযায়ী, আদালতের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা না করে বন্ধক রাখা জমি, কারখানা বা ভবন দ্রুত নিলামে তুলে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা।
* **দেউলিয়া ঘোষণা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা:** ইচ্ছাকৃত বড় খেলাপিদের দেউলিয়া আদালতের মাধ্যমে 'দেউলিয়া' ঘোষণা করা এবং ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা।
* **বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন:** মেগা-খেলাপি বা বড় বড় গ্রুপের (যেমন এস আলম গ্রুপ বা অন্যান্য বড় ঋণগ্রহীতা) মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের সমন্বয়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল বা ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা।

# # ২. প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা (Administrative Measures)
ব্যাংকের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালা ব্যবহার করে কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়:
* **রিকভারি এজেন্ট বা বিশেষ স্কোয়াড নিয়োগ:** সাধারণ ব্যাংক কর্মকর্তাদের রুটিন কাজের বাইরে শুধু ঋণ আদায়ের জন্য দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে 'স্পেশাল রিকভারি টাস্কফোর্স' বা থার্ড-পার্টি রিকভারি এজেন্সি গঠন করা।
* **অনাপত্তি ও লাইসেন্স বাতিল:** খেলাপিদের ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স, এলসি (LC) খোলার সুবিধা, এবং আমদানী-রপ্তানি পারমিট (IRC/ERC) সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিল করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে চিঠি দেওয়া।
* **সম্পদ অবলোপন (Write-off):** যেসব ঋণ দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী এবং আদায়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ, সেগুলো কঠোর শর্তে ব্যাংকের মূল ব্যালেন্স শিট থেকে আলাদা বা অবলোপন (Write-off) করে আলাদা আইনি প্রক্রিয়া চালু রাখা।

# # ৩. কৌশলগত ও সমঝোতামূলক ব্যবস্থা (Strategic & Amicable Measures)
সব ক্ষেত্রে আইনি লড়াইয়ে না গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে কৌশলগত উপায়ে টাকা উদ্ধার করা বেশি কার্যকর হয়:
* **ওয়ান-টাইম সেটেলমেন্ট (OTS):** গ্রাহক যদি একসাথে বা দ্রুততম সময়ে একটি বড় অঙ্কের টাকা ফেরত দিতে রাজী হন, তবে ব্যাংকিং নিয়মের মধ্যে থেকে সুদ বা মুনাফার কিছু অংশ মওকুফ করে মূল টাকা আদায়ের চুক্তি করা।
* **পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলীকরণ (Restructuring & Rescheduling):** যেসব ব্যবসা আসলেই কোনো যৌক্তিক সংকটে (যেমন বৈশ্বিক মন্দা বা কাঁচামালের সংকট) পড়েছে, তাদের ব্যবসার ধরণ বিবেচনা করে ডাউনপেমেন্ট সাপেক্ষে ঋণের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া। তবে এটি যাতে "ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের" পার পাওয়ার হাতিয়ার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
* **সম্পদ রূপান্তর (Asset-to-Equity Conversion):** বড় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে, ব্যাংকের পাওনার বিপরীতে ওই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বা মালিকানা ব্যাংকের নামে লিখে নেওয়া এবং পরবর্তীতে তা অন্য কোনো সফল গ্রুপের কাছে বিক্রি করে টাকা তুলে নেওয়া।

# # ৪. সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ (Social & Public Pressure)
ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের সামাজিকভাবে বয়কট এবং রাষ্ট্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব:
* **ঋণখেলাপির তালিকা প্রকাশ:** শীর্ষ ঋণখেলাপিদের নাম, ছবি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ করা।
* **রাষ্ট্রীয় সুবিধা কর্তন:** খেলাপিদের ভিআইপি (VIP) মর্যাদা বাতিল করা, রাষ্ট্রীয় কোনো কমিটিতে রাখা নিষিদ্ধ করা এবং তাদের ক্রেডিট কার্ড ও বিলাসবহুল নাগরিক সুবিধাগুলো সীমিত করা।

*খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রধান শর্ত হলো **"রাজনৈতিক সদিচ্ছা"** এবং **"কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আপোষহীন অবস্থান"**। প্রভাবশালী বা বড় গ্রুপগুলোকে কোনো ধরনের বিশেষ ছাড় না দিয়ে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে খেলাপি ঋণ দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব।

12/02/2026
12/02/2026

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when AL-AMIN SOHAG posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share