02/06/2026
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি (IBBL)-এর বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষোভের বিষয়টি অত্যন্ত
উদ্বেগের এবং নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হলো।
# ইসলামী ব্যাংকের অস্তিত্ব রক্ষা: আমানতকারীদের আস্থা ও নতুন চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবি
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় শরিয়াহ-ভিত্তিক ব্যাংক হলো ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’। কোটি কোটি সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আমানত, ধর্মীয় আবেগ এবং বিশ্বাসের ওপর ভর করে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠেছে। কিন্তু বিগত কয়েক বছরের অনিয়ম, বেনামী ঋণ এবং লুণ্ঠনের কারণে ব্যাংকটি যে গভীর সংকটে পড়েছে, তা আজ আর কারও অজানা নয়। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যেখানে প্রয়োজন ছিল সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য, সম্পূর্ণ বিতর্কহীন এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব, সেখানে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে এমন একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যা সাধারণ আমানতকারীদের মনে নতুন করে আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। একজন সাধারণ ও সচেতন গ্রাহক হিসেবে আমি এই বিতর্কিত নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং বর্তমান চেয়ারম্যানের অবিলম্বে অপসারণ দাবি করছি।
# # # কেন এই অপসারণের দাবি?
**১. স্বার্থের সংঘাত ও নৈতিকতার প্রশ্ন:**
গণমাধ্যম ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের নিকটাত্মীয়ের (স্ত্রীর) বিরুদ্ধে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ঋণখেলাপির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যে ব্যাংকের প্রধান সমস্যাই হলো 'খেলাপি ঋণ', সেই ব্যাংকের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পদে এমন একজনকে বসানো কতটা যৌক্তিক, যাঁর পরিবারের বিরুদ্ধেই খেলাপি ঋণের অভিযোগ রয়েছে? এটি স্পষ্টতই স্বার্থের সংঘাত (Conflict of Interest) এবং নৈতিকতার পরিপন্থী।
**২. অতীত কর্মজীবন ও আস্থার সংকট:**
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তৎকালীন কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে মো. খুরশীদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যতই একে 'মব জাস্টিস' বলে হালকা করার চেষ্টা করুক না কেন, সাধারণ গ্রাহকদের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়—যাঁর অতীত নেতৃত্ব বিতর্কিত এবং যিনি চাপের মুখে পদ ছেড়েছিলেন, তিনি কীভাবে দেশের বৃহত্তম ব্যাংকের এই নজিরবিহীন আর্থিক সংকট ও প্রায় ৯৪ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনরুদ্ধার করবেন?
**৩. গ্রাহকদের চরম অসন্তোষ ও তারল্য সংকট:**
এই নিয়োগের পর থেকেই দেশজুড়ে ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক (Panic) ছড়িয়ে পড়েছে। মিরপুর, কারওয়ান বাজারসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শাখায় গ্রাহকরা দলে দলে টাকা তুলতে ভিড় করছেন। ব্যাংকিং ব্যবসা চলে সম্পূর্ণ 'আস্থা' বা বিশ্বাসের ওপর। যে চেয়ারম্যানের ওপর খোদ গ্রাহকদেরই আস্থা নেই, তাঁর অধীনে ব্যাংক কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে? শক্তি প্রয়োগ বা পুলিশি প্রহরায় কখনো ব্যাংকের ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা যায় না।
# # # আমাদের দাবি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আহ্বান
আমরা ইসলামী ব্যাংককে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে চাই। আমাদের কষ্টার্জিত টাকা কোনো ব্যক্তির পরীক্ষাগারের উপাদান হতে পারে না। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ও বর্তমান সরকারের প্রতি আমাদের সুনির্দিষ্ট দাবি:
* **বিতর্কিত চেয়ারম্যানের অপসারণ:** অবিলম্বে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমকে অপসারণ করে একজন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, সৎ, দক্ষ এবং ব্যাংকিং খাতের সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য পেশাদার ব্যক্তিকে ইসলামী ব্যাংকের দায়িত্ব দেওয়া হোক।
* **গ্রাহকদের মতামতের মূল্যায়ন:** আমানতকারী এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের (যেমন: সচেতন গ্রাহক ফোরাম) যৌক্তিক দাবিগুলোকে প্রধান্য দিয়ে ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন করতে হবে।
* **স্থায়ী ও যোগ্য এমডি নিয়োগ:** ব্যাংকের প্রশাসনিক শূন্যতা দূর করতে দ্রুততম সময়ে একজন যোগ্য ও স্বাধীন মানসিকতার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (MD) নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
**উপসংহার:**
ইসলামী ব্যাংক কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়; এটি দেশের ৩ কোটি আমানতকারীর আমানতের দুর্গ। এই দুর্গকে রক্ষা করতে হলে আমানতকারীদের মনস্তাত্ত্বিক আস্থাকে সম্মান জানাতে হবে। আমরা কোনো সংঘাত বা বিশৃঙ্খলা চাই না, আমরা চাই আমাদের আমানতের নিরাপত্তা এবং ব্যাংকের সুশাসন। আর তার প্রথম পদক্ষেপ হতে হবে বিতর্কিত নেতৃত্বের অপসারণ।
**"ইসলামী ব্যাংক বাঁচলে, দেশের অর্থনীতি বাঁচবে।"**