18/06/2026
সময় ২০২৬ এর ১৭ই জুন। দেশজুড়ে চলছিল ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে মাতামাতি, দিগ্বিদিকে লাগানো হচ্ছিল তথাকথিত আর্জেন্টিনা/ব্রাজিলের পতকা। পতাকা টানাতে গিয়ে একের পর এক দেখা যাচ্ছিল মস্তিষ্কশুন্য কিছু আজব প্রকৃতির প্রাণী—যারা নিজেদের ভিটা মাটি বিক্রি করে মাইল ব্যাপী পতকা টানানোর আশ্চর্যরকম চমক দেখিয়ে বিশ্ব উন্মাদনায় এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছিল।
এছাড়াও ফুটবলারদের গোল আর হার–জিতের উল্লাসে
দশদিক মাতিয়ে নিরপরাধ ক্লান্ত মানুষগুলোর
রাতের ঘুম উড়েয়ে দিচ্ছিল বারবার।
প্রসঙ্গেক্রমে আরেক মাথামোটার নাম না বললে বোধহয় গল্পের প্রাণ মাঠেই উড়ে যাবে। সেটা হলো—জামাই তার স্ত্রীর নামে অর্ধশত হাজার টাকা ঋণ নিয়ে আর্জেন্টিনার রঙ্গে রাঙ্গিয়ে নিলো তার ১০ হাজার টাকার ভেন গাড়ি। এদিকে হয়ত বউ শেষ কবে ঠিক মত ভরপেট খাবার খেয়েছে ভুলেই গেছে।
আচ্ছা সে যাইহোক—
তখন রাত গভীর। নিঝুম রাতে কোথাও কেউ নেই।
তাদের আর্জেন্টিনা/ব্রাজিল নিয়ে মাতামাতির উপর ঘৃণার দৃষ্টি ফেলে কিছু সচেতন, সুস্থ মস্তিষ্কের খোদাপ্রেমিক নিজস্ব উদ্যোগে ঢাকা যাত্রাবাড়ির ফ্লাইওভার জুড়ে উড়িয়ে দিলো ইসলামের প্রধান শব্দ "লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ" অঙ্কিত সাদাকালো পতাকা। মুহূর্তেই যেন বাংলাদেশের আকাশ বাতাসে পবিত্রতার ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ার জোগাড়। আর পরিবেশ ছিল যেন ফুল বাগানে উড়া ভোমরার দল। ঠিক কবি নজরুলের কবিতার মত “নিশীথে যাইও ফুলবনে, ও ভোমরা”
নিশিথের পর্দা সরিয়ে উদিত হলো নতুন দিন।
আজ ভোরের হাওয়ায় ভিন্ন রকম অনুভূতি, এক নতুন সম্ভাবনার আবাস। চলাচলের রাস্তায় পথযাত্রীরা উপভোগ করছিল এমন সুন্দর দৃষ্টিনন্দন চিত্র। একের পর এক প্রশংসা কুড়িয়ে নিচ্ছিল তামিম, হামিদী, এনাম, বায়জিদ, ফারাজি ও রিহাব সহ একঝাঁক দুর্দমনীয় তরুণ।
ইতিমধ্যেই ঘটনাটি অনলাইন-অফলাইনসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আনন্দের মোড় ঘুরে বসে এই জায়গাতেই। এমন অপ্রীতিকর দৃশ্য দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলোনা কেউ। সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত সেই খবরকে কেন্দ্র করে কালিমার প্রতি বিদ্বেষ লালন করা কিছু কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষরূপী সত্তা—বৃষ্টিভেজা বিকেলে এসে, জনসম্মুখে একে একে খুলে নিয়ে যায় শত কষ্টে স্থাপিত সেই পতাকাগুলো। নিমিষেই যেন তরুণ স্বপ্নগুলো মাঠের বুকে নিথর হয়ে মৃত্যুর কোলে লুটিয়ে পড়ে।
(ধারণা করা হচ্ছে, তারা বিজাতীয় মেসি-নেইমারদের অবৈধ ঘরের কোন বৈধ সন্তান, কিংবা পিতৃ পরিচয়হীন কোন সম্ভ্রান্ত ব্যাক্তিবর্গ।)
নিঃশব্দে তাকিয়ে থাকা, অশ্রু ঝরানো আর বাংলার বুকে জন্ম নেওয়ার অপরাধে নিজেকেই ধিক্কার দেওয়া ছাড়া সে সময় বোধহয় আর কিছুই করার ছিল না।
শুধু ভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রকম্পিত কন্ঠে কবিতা আওড়ানো ছাড়া—
যদি রুহের জগতে খোদার কাছে
আবদার করার সুযোগ হতো,
তাহলে বলতাম যেন আমার জন্ম
বাংলাদেশে না হয়।
এখন জন্ম নেওয়ার পরে যদি আবার
রুহের জগতে ফিরে যাওয়া যেতো,
তাহলে সকল অনাগত রুহ গুলোকে নিয়ে
বাংলাদেশে জন্ম না দেওয়ার জন্য
খোদার দরবারে দরখাস্ত লেখতাম।
দরখাস্তের সুপারিশ মঞ্জুর করার জন্য
প্রয়োজনবোধে মুস্তফার নামে পড়ে যেতাম
শতাব্দী বছর দূরুদ।
তবুও বাংলাদেশে জন্মানোর মত দূর্ভাগ্য নিয়ে পৃথিবীর মুখ দেখতে চাইতাম না।
: কালিমার পতাকা
: আব্দুর রহমান মাহমুদী
১৮/৬/২০২৬