18/05/2026
অনেক মানুষ Direct Selling বা Forever বিজনেস নিয়ে negativity ছড়ায় কেন???
সবাই মনযোগ দিয়ে পুরোটা পড়বেন।।।
প্রধান যে কারণগুলোর জন্য মানুষ নেতিবাচকতা ছড়ায়, সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. কিছু মানুষের "দ্রুত বড়লোক" হওয়ার ভুল মানসিকতা:
অনেকেই মনে করেন নেটওয়ার্ক মার্কেটিংয়ে আসলেই রাতারাতি লাখ লাখ টাকা ইনকাম করা যাবে। তারা এটাকে কোনো সিরিয়াস বিজনেস না ভেবে একটা "লটারি" বা "শর্টকাট" মনে করে চলে আসেন। কিন্তু যখন তারা দেখেন যে এখানে সফল হতে হলে পরিশ্রম, ধৈর্য এবং স্কিল লাগে—তখন তারা হাল ছেড়ে দেন। আর নিজের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য কোম্পানির ওপর দোষ চাপিয়ে নেতিবাচকতা ছড়ান।
২. কিছু ডিস্ট্রিবিউটরের ভুল বা অতিরঞ্জিত উপস্থাপনা:
কোম্পানির সিস্টেম বা প্রোডাক্টের কোনো দোষ না থাকলেও, মাঠপর্যায়ে কিছু ডিস্ট্রিবিউটর বা মেম্বার অতি-উৎসাহী হয়ে ভুলভাবে মার্কেটিং করেন। যেমন:
প্রোডাক্ট নিয়ে এমন কিছু দাবি করা যা অলৌকিক শোনায় (যেমন—সব রোগ ভালো হয়ে যাবে)।
ইনকাম নিয়ে অতিরিক্ত বাড়িয়ে বলা।
যখন কোনো সাধারণ মানুষ এই অতিরঞ্জিত কথার ফাঁদে পড়ে আসেন এবং বাস্তবতার মুখোমুখি হন, তখন তাদের বিশ্বাস ভেঙে যায় এবং তারা পুরো সিস্টেমটার ওপরই নেতিবাচক হয়ে যান।
৩. ডিরেক্ট সেলিং সম্পর্কে সাধারণ ধারণা ও অতীত অভিজ্ঞতা:
আমাদের দেশে বা উপমহাদেশে অতীতে অনেক ভুয়া, অবৈধ বা "হায় হায়" কোম্পানি (যেমন—ডেসটিনি, যুবকের মতো স্কিম) মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ওই কোম্পানিগুলো মূলত ছিল "মানি সার্কুলেশন" বা পনজি স্কিম, যেখানে কোনো মানসম্মত প্রোডাক্ট ছিল না।
সাধারণ মানুষ ফরএভার-এর মতো আন্তর্জাতিক ও প্রোডাক্ট-বেইজড লেজিটিমেট কোম্পানি এবং ওইসব ভুয়া কোম্পানির পার্থক্য বোঝে না। তারা সব কোম্পানি কে একই পাল্লায় মাপে।
৪. রিজেকশন বা 'না' শোনার ভয় এবং ইগো:
এই ব্যবসায় সফল হতে হলে মানুষকে ইনভাইট করতে হয়, এবং রিজেকশন (না) শুনতে হয়। সবার ইগো বা মানসিকতা এক থাকে না। অনেকেই দুই-চারটা 'না' শুনেই ভেঙে পড়েন এবং মনে করেন "এই কাজ মনে হয় হবে না, এটা ফালতু কাজ"। তখন তারা অন্যদেরও এই কাজে আসতে নিরুৎসাহিত করেন।
কিন্তু প্রত্যেক বিজনেসেই প্রথমে না শুনতে হয়।।।
আপনি কোটি টাকা খরচ করে একটা চমৎকার শাড়ির শোরুম দিলেন।
দিনে হয়তো আপনার দোকানে ১০০ জন কাস্টমার ঢুকবে। তারা শাড়ি উল্টেপাল্টে দেখবে, কাপড়ের মান যাচাই করবে, দামাদামি করবে।
কিন্তু দিনশেষে দেখা যাবে ১০০ জনের মধ্যে হয়তো ১০ বা ১৫ জন শাড়ি কিনবে। বাকি ৮৫-৯০ জনই শাড়ি না কিনে, শুধু "আচ্ছা পরে দেখব" বা "পছন্দ হলো না" বলে দোকান থেকে বের হয়ে যাবে।
শাড়ির দোকানে মানুষ লাখ লাখ টাকা ইনভেস্ট করে বসে থাকে, তাই ৮৫ জন 'না' বললেও দোকানদার দোকান ছেড়ে পালায় না। কারণ তার পকেটের টাকা খাটানো আছে, তাকে ধৈর্য ধরতেই হবে।
কিন্তু ফরএভার বা ডিরেক্ট সেলিংয়ে যেহেতু প্রথাগত ব্যবসার মতো বড় কোনো ক্যাপিটাল বা দোকান ভাড়ার ঝুঁকি থাকে না, তাই মানুষের হারানোর ভয় কম থাকে। এখানে যখন নতুন কেউ এসে ২-৪ জন বন্ধুর কাছে 'না' শোনে, তখন সে ধরে নেয় ব্যবসাটাই খারাপ! সে ভুলে যায় যে এটা একটা পিওর বিজনেস,
আর দুনিয়ার সব বিজনেসেই "No" (না) শোনার পরেই "Yes" (হ্যাঁ) আসে।
৫. প্রোডাক্টের প্রাইসিং নিয়ে ভুল ধারণা:
ফরএভার-এর প্রোডাক্টগুলো আন্তর্জাতিক মানের এবং অ্যালোভেরার পিউরিটির জন্য বিশ্বজুড়ে সার্টিফাইড। স্বাভাবিকভাবেই এর উৎপাদন খরচ ও মান অনুযায়ী দাম কিছুটা প্রিমিয়াম। অনেকেই সাধারণ বাজারের সস্তা কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্টের সাথে এর দাম তুলনা করে বলেন, "প্রোডাক্টের অনেক দাম, এগুলো চলবে না"। তারা প্রোডাক্টের কোয়ালিটি বা ভ্যালু না বুঝেই নেতিবাচক মন্তব্য করে বসেন।
সংক্ষেপে বলতে গেলে: > মানুষ যেটা বোঝে না বা যেটায় নিজে সফল হতে পারে না, সেটা নিয়ে নেতিবাচক কথা বলাটা মানুষের সহজাত স্বভাব।
যারা সঠিক গাইডলাইন মেনে, স্কিল ডেভেলপ করে একটা রিয়েল বিজনেস হিসেবে এটাকে সময় দেয়, তারা ঠিকই সফল হয়। আর যারা শর্টকাট খোজে তারাই মূলত নেতিবাচকতা ছড়ায়।