06/04/2025
নেতাদের কথা চিন্তাভাবনা করে বলা উচিত, যেমনটি করছেন ড. ইউনূস। তিনি বেশি কথা বলেন না, কাজেই বিশ্বাসী। তাঁর বক্তব্যে থাকে ভার ও গভীরতা।
ড. ইউনূসকে বিপদে ফেলতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নানা ধরনের চেষ্টা করেছেন। তার কূটনৈতিক পদক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রেই অনভিজ্ঞ ও অগ্রহণযোগ্য ছিল। তবে ড. ইউনূস এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেননি। তিনি নিজের ওপর আস্থা রেখে নীরবে কাজ করে গেছেন। ভারতের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে গেছেন। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক তারই ফল।
বৈঠকে মোদি ড. ইউনূসকে যে সম্মান জানান, তাতে সম্মানবোধ থাকলেও কিছুটা অস্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে তাঁর মুখে। অথচ কিছুদিন আগেই ইউনূসকে “অবৈধ ও অনির্বাচিত সরকারপ্রধান” বলা হয়েছিল। আজ সেই মোদি-ই তাঁর স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছেন। এমনকি অতীতে ইউনূসকে মৌলবাদী বা জ*ঙ্গি বলেও অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তাঁকে নানা চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা হয়েছে, যা ছিল অবিশ্বাস্য এবং দুঃখজনক।
অন্যদিকে শেখ হাসিনা ও তাঁর দল দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত নেতাদের আশ্রয় ও পুনর্বাসন দিয়ে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ভেঙে ফেলেছেন মোদি । এছাড়া বাংলাদেশের জনগণ সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে, যা শিষ্টাচারের সীমা অতিক্রম করেছে।
ব্যাংককে দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানান, মোদি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং বাংলাদেশ সরকারকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখতে বলেছেন।
তবে ড. ইউনূস এ বিষয়ে কী বলেছেন তা এখনও জানা যায়নি। তবে আমার মতে , সংখ্যাগরিষ্ঠ বা সংখ্যালঘু নয়, মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখা উচিত। ভারত তো কিছু মানুষকে মানুষই মনে করেন না , তাদের মধ্যেই উঁচু নিচু জাত ভেদের পার্থক্য প্রবল ।
এদিকে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কোটি কোটি ডলার খরচ করে ড. ইউনূস ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হয়েছে। ভারতীয় টিভি চ্যানেল পর্যন্ত ভাড়া করে এই প্রচারণা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে লবিং করেও কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি।
সম্প্রতি ভারতের বৃষ্টির পানি ছেড়ে দেয়ার কারণে ফেনীসহ দেশের একটি বড় অংশ পানিতে প্লাবিত হয়েছে, ক্ষতি হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকা।
ভারত ভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের ব্যবহার করে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে। তবে ড. ইউনূস দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
কাক, ময়ূখ, নিউইয়র্ক টাইমস, বিবিসি, রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করানো হয়েছে। এমনকি সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনের ভারতীয় কর্মকর্তারাও এ প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন। বড় ধরনের রাজনৈতিক খেলায় তারা সফল হয়নি।
মিটিং এ মোদি ও ড. ইউনূসের শারীরিক ভাষা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, ড. ইউনূস কতটা আত্মবিশ্বাসী ও শক্ত মানসিকতার। মোদির মুখভঙ্গিতে ছিল অপরাধবোধের ছাপ।
প্রতিবেশী দেশের সম্পদ বা অধিকার সহজে দখল করা যায় না। বাংলাদেশের মতো আরও অনেক ছোট দেশ আজও মাথা উঁচু করে বড় শক্তির বিপরীতে টিকে আছে।
তবে এই বৈঠক মানেই সম্পর্কের উন্নতি—এমন ভাবার সুযোগ নেই। উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে থাকবেন। ড. ইউনূসকে থাকতে হবে সতর্ক। কারণ, তাঁকে ঘিরে বড় ধরনের কূটনৈতিক খেলার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশকে অশান্ত রাখার অপচেষ্টা চালিয়ে যাবে ওরা —এটাই ইতিহাস, এবং এটিই চলবে।
#বাংলাদেশ