31/08/2025
📜 ঢাকার মিরপুরের ইতিহাস ও নামকরণ ||
ঢাকার উত্তরাংশে অবস্থিত মিরপুর আজ আধুনিক শহুরে রূপ নিলেও, এর অতীত ইতিহাস মুঘল আমল থেকে শুরু করে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমল পর্যন্ত বিস্তৃত।
---
🏛 মিরপুর নামকরণের ইতিহাস:----
“মিরপুর” নামের উৎপত্তি ফার্সি শব্দ “মীর” (অভিজাত, সৈন্য কর্মকর্তা) এবং “পুর” (শহর/আবাস) থেকে। ধারণা করা হয়, মুঘল আমলে ঢাকার উত্তরাংশে মীর শ্রেণির অভিজাত ও সৈন্য কর্মকর্তাদের বসতি গড়ে উঠেছিল—সেখান থেকেই এর নাম মিরপুর।
কেউ কেউ বলেন, একে একসময় “শাহ আলী পুর” বলা হতো, কারণ এখানে অবস্থিত হযরত শাহ আলীর মাজারকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের পরিচিতি ছড়িয়েছিল।
“মীর” শব্দটি ফার্সি, যার অর্থ হলো নেতা, অভিজাত ব্যক্তি বা প্রশাসনিক পদবী।
“পুর” শব্দের অর্থ “নগর” বা “শহর।”
তাই "মিরপুর" নামটি অর্থাৎ "নেতার/বিশিষ্ট ব্যক্তির শহর" বা "মহান ব্যক্তির জায়গা"—এমন কোনো অভিজাত মীরের জীবিকা বা জমি ছিল, সে সূত্রেই নামকরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হয় ।
ঢাকা শহর প্রতিষ্ঠার (১৬১০ খ্রিস্টাব্দ) প্রাক্কালে মিরপুর ছিল তুরাগ নদীর একটি শান্ত গ্রাম। নৌযাত্রীদের জন্য এটি ছিল একটি টোলঘাট বা খেয়াঘাট, যেখানে ঢাকায় প্রবেশের জন্য অন্যদের নামে "মীর"দের জমির আশ্রয় নিতে হতো—এ কারণেই এই নাম চলে এসেছে বলে জানা যায় ।
---
🕌 মোগল ও ব্রিটিশ আমলে মিরপুর
মোগল আমলে মিরপুর ছিল গ্রামীণ কৃষিভিত্তিক এলাকা, বনজঙ্গল ও নদী দ্বারা বেষ্টিত।
শাহ আলীর আগমনের পর এখানে ইসলাম প্রচার ও বসতি স্থাপন শুরু হয়।
ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদার ও ইংরেজ প্রশাসকরা জমির মালিকানা নেন, তবে এলাকাটি তখনো শহুরে রূপ পায়নি।
---
🇵🇰 পাকিস্তান আমলে মিরপুর
১৯৫০–৬০ এর দশকে মিরপুরে আবাসিক পরিকল্পনা শুরু হয়।
১৯৪৭-এর দেশভাগ ও ১৯৭১-এর মুক্তি-যু-দ্ধের পর প্রচুর উর্দুভাষী বিহারী এখানে বসতি স্থাপন করে। এ কারণে মিরপুরে আজও বিহারী ক্যাম্প বিশেষভাবে পরিচিত।
পাকিস্তানি সেনাদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ছিল মিরপুর সেনানিবাস। মুক্তি-যু-দ্ধের সময় এ সেনানিবাস ছিল প্রতিরোধের অন্যতম কেন্দ্র।
---
🕌 হযরত শাহ আলী মাজার
মিরপুর-১ এ অবস্থিত হযরত শাহ আলীর মাজার এই এলাকার আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। তিনি ছিলেন ১৫শ শতকের সুফি সাধক ও ধর্মপ্রচারক, যিনি ইরাক থেকে এসে মিরপুরে ইসলাম প্রচার করেন। তাঁর মাজারে আজও হাজার হাজার মানুষ মানত করতে আসে। প্রতিবছর তাঁর উরস উপলক্ষে এলাকাজুড়ে উৎ