21/02/2026
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পরিকল্পনা অগ্রবর্তী পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিকল্পনায় ইরানের ব্যক্তিবর্গকে হামলার নিশানা করা এমনকি দেশটির শাসন পরিবর্তনের পদক্ষেপও রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই তা বাস্তাবায়ন করা হবে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে দেশটির সঙ্গে গুরুতর সংঘাতের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এর সর্বসাম্প্রতিক লক্ষণ হল বিকল্প হিসাবে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া।
গত সপ্তাহে রয়টার্স প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে জানিয়েছিল, তাদের সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে একটি দীর্ঘস্থায়ী, সপ্তাহব্যাপী অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এই অভিযানে হামলা চালানো হতে পারে ইরানের নিরাপত্তা স্থাপনাসহ পারমাণবিক অবকাঠামোতেও।
দুই মার্কিন কর্মকর্তা সর্বশেষ যে তথ্য জানিয়েছেন, তাতে ইরান নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের আগে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরও পোক্ত এবং উচ্চাকাঙ্খী পরিকল্পনাই সামনে এসেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তারা অভিযান পরিকল্পনার অগ্রগতির খবর জানালেও ইরানের কোন নেতারা হামলার নিশানা হতে পারেন কিংবা মার্কিন সামরিক বাহিনী কিভাবে বড় কোনও স্থলবাহিনী ছাড়াই দেশটির শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে তা বলেননি।
ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল শক্তিবৃদ্ধি করেছেন। কিন্তু তার লড়াই করার সক্ষমতা বেশিরভাগই সীমাবদ্ধ আছে রণতরী এবং জঙ্গিবিমানের মধ্যে। কোনও বড় ধরনের বোমা হামলা অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোমারুদের সহায়তা দরকার পড়তে পারে।
ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে নিশানা করে হামলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাশেম সোলাইমানির ওপর হামলার নির্দেশ দিয়ে। সোলাইমানি ছিলেন ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের প্রধান।
ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের আইআরজিসি-কে বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসাবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ২০১৯ সালে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা উল্লেখ করেন যে, গতবছর জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের নেতাদেরকে নিশানা করে হামলা চালিয়ে সফল হয়েছিল।
সে সময় আঞ্চলিক সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছিল যে, ইরানের অন্তত ২০ জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ছিলেন সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরি।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ পরিচালনায় থাকা ব্যক্তিদেরকেই খুঁজে খুঁজে বের করে মেরেছিল ইসরায়েল। তাদের নজর ছিল সেদিকেই।
তারপরও মার্কিন ওই কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ব্যক্তিবর্গকে হামলার নিশানা করতে হলে অতিরিক্ত গোয়েন্দা তথ্য দরকার হয়।
তার কথায়, একজন সামরিক কমান্ডারকে মারার মানে, তার সঠিক অবস্থান জানতে হবে এবং অভিযানে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেটিও বুঝতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে যেসব নেতাদেরকে নিশানা করতে পারে, তাদের সম্পর্কে কতটা তথ্য মার্কিন গোয়েন্দাদের হাতে আছে তা রয়টার্সকে স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউজ এবং প্রতিরক্ষা সদরদপ্তর পেন্টাগনও তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।