02/05/2026
হাদিস ও ইসলামের প্রশাসনিক নীতি অনুযায়ী, কোনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বা রাষ্ট্রীয় পদের জন্য কেবল 'সততা' (তাকওয়া) যথেষ্ট নয়, বরং সেই কাজের জন্য 'যোগ্যতা' ও 'দক্ষতা' (কুওয়াত) থাকা অপরিহার্য।হাদিসের আলোকে এর সপক্ষে প্রধান যুক্তিগুলো নিচে দেওয়া হলো:
১. হজরত আবু জর (রা.)-এর হাদিস:হজরত আবু জর (রা.) ছিলেন অত্যন্ত জাহিদ এবং সৎ সাহাবী। তিনি একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে একটি প্রশাসনিক দায়িত্ব চেয়েছিলেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) তার বুকে হাত রেখে বলেছিলেন:"হে আবু জর! তুমি দুর্বল (শারীরিক বা প্রশাসনিক কৌশলে), আর এই পদ হলো একটি আমানত। কিয়ামতের দিন এটি লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়ার কারণ হবে, তবে তার জন্য নয় যে এর হক আদায় করেছে।" (সহিহ মুসলিম: ১৮২৫)এখানে স্পষ্ট হয় যে, ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত সৎ হওয়া সত্ত্বেও প্রশাসনিক দূরদর্শিতা বা 'চাতুর্য' না থাকলে তাকে গুরুদায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।
২. যোগ্যতা ও আমানতদারি:কুরআনে ইউসুফ (আ.)-এর ভাষায় বলা হয়েছে, "আমাকে রাজ্যের ধনভাণ্ডারের দায়িত্বে নিযুক্ত করুন; আমি তো একজন বিশ্বস্ত রক্ষক ও সুবিজ্ঞ (জ্ঞানী)।" (সূরা ইউসুফ: ৫৫)। এখানে 'বিশ্বস্ততা'র পাশাপাশি 'জ্ঞান' বা প্রজ্ঞাকে শর্ত করা হয়েছে।
৩. বোকামির পরিণাম:যদি কোনো ব্যক্তি সৎ কিন্তু বোকা হন, তবে ধূর্ত ও অসাধু ব্যক্তিরা তাকে ব্যবহার করে জাতির বা প্রতিষ্ঠানের বড় ক্ষতি করে ফেলতে পারে। ইসলামের দৃষ্টিতে অযোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া কিয়ামতের আলামত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:"যখন অযোগ্য লোকের হাতে দায়িত্ব সোপর্দ করা হবে, তখন তুমি কিয়ামতের অপেক্ষা করো।" (সহিহ বুখারি: ৫৯)
সারসংক্ষেপ:ইসলামের বিধান হলো, কোনো পদের জন্য এমন ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া যিনি 'কাভি' (শক্তিশালী/দক্ষ) এবং 'আমিন' (বিশ্বস্ত/সৎ)। কেবল সৎ কিন্তু নির্বোধ ব্যক্তি আমানত রক্ষা করতে হিমশিম খাবেন, যা পরোক্ষভাবে দুর্নীতির পথ প্রশস্ত করতে পারে।