Abdullah Yousuf Jihad

Abdullah Yousuf Jihad Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Abdullah Yousuf Jihad, Kishoreganj, Dhaka.

28/05/2026

# ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ঈদুল আজহা: আত্মশুদ্ধি ও খোদাভীতির এক অনন্য উৎসব
**আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।**
**তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম।**
সম্মানিত সুধী,
ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ও আত্মশুদ্ধির বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এবং তাঁর পরিবার আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যে অতুলনীয় ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত মুসলিম উম্মাহর জন্য এই দিনটিকে উপহারস্বরূপ নির্ধারণ করেছেন।
আমরা আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পশু কোরবানি করছি। এটি আল্লাহর কত বড় দয়া ও অপার মহিমা যে, কোরবানিটি হচ্ছে একমাত্র তাঁরই নামে, অথচ সেই পশুর গোশত খাওয়া এবং তা অভাবী ও আত্মীয়দের মাঝে বণ্টন করাকে আল্লাহ আমাদের জন্য হালাল ও বরকতময় করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন:
> **فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ**
> "অতঃপর তোমরা তা থেকে আহার করো এবং দুস্থ-দরিদ্রদের আহার করাও।" *(সূরা হাজ্জ, আয়াত: ২৮)*
>
# # # এক মধুর পরীক্ষা ও অলৌকিক ইতিহাস
আজ থেকে হাজার বছর আগে এক কঠিন অথচ মধুর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল মুসলিম মিল্লাতের পিতা হযরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) এর। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর প্রিয় খলিলকে স্বপ্নযোগে নির্দেশ দিলেন, *"হে ইব্রাহিম! তোমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুটিকে আমার নামে কোরবানি করো।"*
আল্লাহর ইচ্ছায় ও আদেশে তিনি যখন তাঁর কলিজার টুকরো সন্তান হযরত ইসমাইল (আলাইহিস সালাম)-কে কোরবানি দিতে উদ্যত হলেন, তখন সমগ্র বিশ্বভূমণ্ডল, ফেরেশতাকুল এবং সমস্ত কুল-কায়িনাত অবাক বিস্ময়ে এই চরম আত্মসমর্পণ অবলোকন করছিল। যখনই ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) তাঁর স্নেহের পুত্রের গলায় ছুরি চালাতে গেলেন, তখন আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের কুদরতে জান্নাত থেকে একটি দুম্বা এসে ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) এর স্থলাভিষিক্ত হলো। হযরত ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর পরীক্ষায় পূর্ণরূপে উত্তীর্ণ হলেন।
পবিত্র কোরআনে এই ঐতিহাসিক ঘটনাকে তুলে ধরে আল্লাহ বলেন:
> **فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ ۝ وَনَادَيْنَاهُ أَن يَا إِبْرَاهِيمُ ۝ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْইَا ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ**
> "যখন তারা উভয়েই আনুগত্য প্রকাশ করল এবং ইব্রাহিম তাঁর পুত্রকে উপুড় করে শুইয়ে দিল (জবেহ করার জন্য), তখন আমরা তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহিম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করে দেখালে। নিশ্চয়ই আমরা সৎকর্মশীলদের এভাবেই পুরস্কৃত করে থাকি।" *(সূরা ছাফফাত, আয়াত: ১০৩-১০৫)*
>
# # # কোরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য: লোকদেখানো নয়, তাকওয়া
আজকে আমরা যে পশু কোরবানি করছি, তার আসল সার্থকতা তখনই আসবে যখন আমাদের নিয়ত হবে সম্পূর্ণ খাঁটি ও নিষ্কলুষ। কোরবানি কোনো সামাজিক লৌকিকতা বা প্রতিযোগিতা নয়। আল্লাহর দরবারে পশুর রক্ত বা গোশত পৌঁছায় না, পৌঁছায় কেবল আমাদের অন্তরের অন্তস্তলের 'তাকওয়া' বা খোদাভীতি। মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন:
> **لَن يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَٰكِن يَنَالُهُ التَّقْوَىٰ مِنكُمْ**
> "আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের ভেতরের তাকওয়া (পরহেজগারি)।" *(সূরা হাজ্জ, আয়াত: ৩৭)*
>
যদি আমাদের কোরবানি একমাত্র আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য এবং সঠিক পদ্ধতিতে হয়, তবে এর প্রতিদান অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে সওয়াবের সুসংবাদ দিয়েছেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে:
> সাহাবিগণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই কোরবানিগুলো কী? তিনি বললেন, "তোমাদের পিতা ইব্রাহিম (আ.)-এর সুন্নত।" তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন, এতে আমাদের কী সওয়াব রয়েছে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, **"পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি রয়েছে।"** *(সুনানে ইবনে মাজাহ)*
>
# # # আমাদের করণীয় ও আজকের আহ্বান
আসুন, এই পবিত্র দিনে আমরা আমাদের মনের সব অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ ও লোকদেখানো মানসিকতা কোরবানি করি। আমাদের নিয়তকে করি সহিহ ও একমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদিত। আমরা যেন শুধু পশু জবেহ না করি, বরং আমাদের ভেতরের পশুবৃত্তিকে জবেহ করে প্রকৃত 'ইখলাস' বা নিষ্ঠার অধিকারী হতে পারি।
মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের দরবারে বিনীত প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদের প্রত্যেকের এই ত্যাগ, কোরবানি এবং ইবাদতকে কবুল ও মঞ্জুর করে নেন। আমাদের জীবনকে তাঁরই সন্তুষ্টির রঙে রাঙিয়ে দিন।
আপনাদের সবাইকে আবারও পবিত্র ঈদুল আজহার আন্তরিক শুভেচ্ছা।
**ঈদ মোবারক!**

28/05/2026

+8801618131661

15/05/2026

# # # **পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ ও মুসলিম উম্মাহর ভবিষ্যৎ: একটি পর্যবেক্ষণ**
**আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।**
সম্মানিত সুধী,
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের তিনদিকেই ভারতের অবস্থান। সেহেতু আমাদের ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে গভীর লক্ষ্য রাখতে হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনীতি ও ক্ষমতার পরিবর্তন কীভাবে অগ্রসর হচ্ছে, সেদিকে নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি। সাম্রাজ্যবাদী ও কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি যেভাবে ভারতে নিজ সাম্রাজ্য কায়েম করেছে, তাতে মুসলিম উম্মাহর অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর জয়লাভ আমাদের জন্য গভীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের প্রচারণাকালে এই বিজেপি নেতা মুসলমানদের বিষয়ে যে ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, তা সবার জানা। এরই ধারাবাহিকতায়, শপথ গ্রহণের পূর্বেই পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম নিধন ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়ে গিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বিজেপি যেহেতু মুসলমানদের চিরশত্রু হিসেবে গণ্য করে, তাই পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি মুসলিমকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার একটি সুগভীর পাঁয়তারা চলছে।
কট্টর হিন্দুত্ববাদী বিজেপি নেতা ও কর্মীরা নির্বাচনে জেতার পর থেকেই ‘শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়ে মুসলিমদের দোকানপাট ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরসহ নানাবিধ নিপীড়ন শুরু করেছে। এটি আমাদের গুজরাটের সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, যেখানে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদে মুসলিম নিধন চলেছিল—যার কারণে তাকে ‘কসাই মোদি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী আশ্রয়ের খোঁজে বাংলাদেশের দিকেই পা বাড়াবে। কোটি কোটি মুসলিমের এই ঢল বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য একটি বড় আশঙ্কার বিষয়।
তারা আমাদেরই দ্বীনি ভাই-বোন; ঈমানি দায়িত্ববোধ থেকে আমরা তাদের আশ্রয় দিতে বাধ্য। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এই অতিরিক্ত চাপের ফলে দেশের পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা সহজেই অনুমেয়। বিশেষ করে দেশে ইসলামী হুকুমত কায়েম না থাকায় আমরা সরাসরি কোনো যুদ্ধের ঘোষণা দিতে পারি না। আজ বড় আফসোস হয়—যদি ইসলামী হুকুমত কায়েম থাকতো, তবে সাম্রাজ্য যত বড়ই হোক না কেন, মুসলিম মুজাহিদরা এই পাষণ্ডদের আস্ফালন চূর্ণ করে দিত।
হিন্দুত্ববাদী বিজেপি বা কট্টর হিন্দুদের সাথে মুসলিমদের এই শত্রুতা ঐতিহাসিক। তারা মোহাম্মদ বিন কাসিম, সুলতান মাহমুদ গজনবী ও মুহাম্মদ ঘুরীর বীরত্বগাথা আজও ভোলেনি। কয়েকশ বছর এই ভারতবর্ষে মুসলিম সালতানাত শাসন করেছে—যা তারা আজও হিংসা করে। মুসলিম মিল্লাতের ত্যাগ ও মহিমা তারা অনুভব করে বলেই আমাদের দমিয়ে রাখতে চায়, যাতে ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ প্রতিষ্ঠিত না হতে পারে। তারা ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজীর বীরত্বের কথাও জানে।
শুভেন্দু অধিকারীর সরকার যদি মুসলমানদের ওপর হাত তোলে, তবে মুসলিম মিল্লাত ও তরুণ প্রজন্ম তা মুখ বুজে সহ্য করবে না। আমরা ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-এর আদর্শিক সন্তান এবং মোহাম্মদ বিন কাসিমের শক্তিতে শক্তিমান। শত্রুতা করলে ১৭ বছরের সেই টগবগে যুবকের ন্যায় মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হিন্দুত্ববাদকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। ‘গাজওয়াতুল হিন্দ’ অতি শীঘ্রই কায়েম হবে এবং বিজেপির পতন অবধারিত—এটি কেবল সময়ের ব্যাপার।
বর্তমানে মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা ছাড়া আমাদের আর কোনো গত্যন্তর নেই। সেই মহাপরাক্রমশালী রবের নিকট আমরা অনুগ্রহ কামনা করছি। হে আল্লাহ, আমাদের মুসলিম মিল্লাতের ওপর দয়া করুন এবং আমাদের বাহুকে শক্তিমান করুন। আমরা আপনার হুকুমের অপেক্ষায় আছি। যেদিন চূড়ান্ত ফয়সালা হবে, সেদিন সকল অপশক্তি নস্যাৎ হয়ে যাবে। হে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মালিক, আমাদের ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং আমাদের ভারতীয় মুসলিম ভাই-বোনদের ওপর চলমান এই নিপীড়ন বন্ধ করুন। আমাদের ওপর শান্তি বর্ষণ করুন এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আপনার কুদরতি হাতে হেফাজত করুন।
**আমীন।**

10/05/2026

**ইসলামী হুকুমত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: একটি পর্যালোচনা**
**বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম**
**আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।**
**সম্মানিত সুধী,**
বর্তমানে আমরা লক্ষ্য করছি যে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এক নাজুক অবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় হিসেবে একটিই পথ খোলা রয়েছে—তা হলো দেশে শরীয়াহ আইন তথা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করা। তবে অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমাদের কিছু বিষয় অনুধাবন করতে হয়, যা মুসলিম উম্মাহর পতনের জন্য যথেষ্ট।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মুসলিম নেতৃত্ব, বিশেষ করে ওলামায়ে কেরাম, পীর-মাশায়েখ এবং বিভিন্ন তরিকা ও মানহাজের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে ইসলামী হুকুমত বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাগদাদের পতন থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রতিটি বিপর্যয়ে ওলামাদের মধ্যকার মতাদর্শিক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করেছে। হালাকু খাঁ যখন বাগদাদ ধ্বংস করেন, তার পেছনেও তৎকালীন ওলামাদের অনৈক্য ও দ্বন্দ্ব বিদ্যমান ছিল। ফলশ্রুতিতে ক্রমান্বয়ে ইসলামী শাসনব্যবস্থা বিলুপ্তির পথে গিয়েছে এবং বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অ-মুসলিম শক্তির শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট চিন্তা করলে দেখা যায়, একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে যেখানে মুসলিম মুজাহিদ ও ধর্মপ্রাণ যুবকদের আধিক্য রয়েছে, সেখানে বছরের পর বছর নারীদের শাসন ও নেতৃত্ব ওলামায়ে কেরাম কীভাবে মেনে নিয়েছেন, তা সত্যিই বোধগম্য নয়। এরপরও আমরা সেই বিতর্কিত গণতন্ত্রের পথেই হাঁটছি। বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৬ বছরের অধিক শাসনের পর প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে প্রফেসর ইউনুস বিদায় নিয়েছেন এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শাসন করছেন। এই ধরণের শাসনব্যবস্থা বহাল থাকা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এই সব ব্যর্থতার দায়ভার কেন ওলামা হযরতের ওপর আসবে না? ইসলামের সেই সিংহরা আজ কোথায়? আমরা আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের কাছে কী জবাব দেব? বোখারা ও সমরকন্দের পতনের ইতিহাস আমাদের জানা। সেখানেও ওলামায়ে কেরামের মতভেদ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলই ধ্বংস ডেকে এনেছিল। একই ভুল আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও হয়েছে, যার ফলে দেশটি দীর্ঘকাল কমিউনিজম এবং পরবর্তীতে আমেরিকার হাতে নিষ্পেষিত হয়েছে। তবে বর্তমান আফগানিস্তানের পরিবর্তন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, একমাত্র ইসলামী হুকুমত কায়েমের মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা সম্ভব।
দেশের এই অস্থিতিশীলতা নিরসনে একমাত্র সমাধান হলো ইসলামী শাসনব্যবস্থা। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা এখনো জামায়াতে ইসলামী, আহলে হাদিস কিংবা সুন্নি নেতৃবৃন্দকে এক কাতারে দেখতে পাচ্ছি না। এটি আমাদের ঈমানি দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। আজ আমি কেবল এর সূচনা করলাম, পরবর্তীতে বিস্তারিত আলোচনা করব।
ওলামা হযরত আজ কেন লাঞ্ছিত? এর কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এক শ্রেণির আলেমদের আপসকামী ও তোষামোদপূর্ণ আচরণই তাদের মর্যাদাহানি ঘটিয়েছে। তারা নিজেরা যেমন হুকুমত প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হচ্ছেন না, তেমনি যারা উদ্যোগ নিচ্ছেন তাদের কাজেও বাধার সৃষ্টি করছেন। বড় কষ্টের বিষয় হলো, সেই যৌথ ঐক্যজোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বের হয়ে গেল, যার ফলাফল আমাদের সবার সামনে দৃশ্যমান।
পরিশেষে, আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আমাদের সচেতন হওয়ার তৌফিক দান করুন। ওলামায়ে কেরামকে সঠিক রাহবার হিসেবে কবুল করুন এবং মুসলিম যুবকদের নেতৃত্বে দেশে ইসলামী হুকুমত কায়েমের পথ সুগম করে দিন। আমিন।

10/04/2026

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
সম্মানিত সুধী, বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি এক চরম বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত বৈশ্বিক স্থিতিশীলতায় গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার অবস্থান বিশ্বজুড়ে নতুন করে বিপদের আশঙ্কা তৈরি করেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপট এতটাই জটিল যে, আমেরিকার জন্য এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই উত্তাল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মাঝেই বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচনের পর একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করেছে, মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে এবং সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছে। এটি দেশের জন্য একটি নতুন সূচনার ইঙ্গিত দিলেও সংসদীয় কার্যক্রমে আমরা কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় প্রত্যক্ষ করছি।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লব—যার ত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই পরিবর্তন—সেই চেতনাকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবজ্ঞা করা হচ্ছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিরোধী দলীয় নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যগণ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন সরকারকে এটি মনে করিয়ে দিতে যে, এই ক্ষমতা প্রাপ্তি সেই মহান বিপ্লবেরই কৃতিত্ব। অথচ আমরা লক্ষ্য করছি, বিগত স্বৈরাচারী শাসনের দোসরদের গোপনে বা প্রকাশ্যে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে, যা আমাদের অজানা নয়।
বিশেষ করে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেবের বক্তব্যে এমন কিছু প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে যা আমাদের পূর্ববর্তী নেতিবাচক শাসনের কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের মনে রাখতে হবে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং নাহিদ ইসলামের মতো তরুণ নেতৃত্ব যখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে বিপ্লবের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন, তখন অনেক অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতাই শঙ্কিত ছিলেন। আজ ক্ষমতায় আসীন হয়ে সেই বিপ্লবের সাথে বা জুলাই সনদের সাথে কোনো প্রকার বিশ্বাসঘাতকতা করা হলে দেশের সচেতন যুবসমাজ তা মেনে নেবে না। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে যারা দায়িত্বে আছেন, তাদের চেয়ার রক্ষা করা তখনই সম্ভব যখন তারা বিপ্লবের চেতনার প্রতি অনুগত থাকবেন।
পরিশেষে আমার আহ্বান, বিশ্ব রাজনীতির এই নাজুক পরিস্থিতি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ প্রত্যাশা অনুধাবন করে ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের জন্য কাজ করুন। প্রতিবেশী দেশের আধিপত্যবাদী নীতির কাছে নতি স্বীকার না করে সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সচেষ্ট হোন। আসুন, দল-মত নির্বিশেষে আমরা দেশের কল্যাণে ঝাঁপিয়ে পড়ি এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে সংকল্পবদ্ধ হই।.

21/03/2026

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।
তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম। ঈদ মোবারক!
আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আমাদের পুরো এক মাস সিয়াম সাধনার তৌফিক দান করেছেন এবং উপহার দিয়েছেন পবিত্র ঈদুল ফিতরের এই মহিমান্বিত দিন।
তবে এই আনন্দের মাঝেও একটি গভীর সত্য আমাদের ভাবিয়ে তোলে। সময় বয়ে যাচ্ছে, আর প্রতিটি বছরের সাথে আমাদের জীবন থেকে একেকটি বসন্ত হারিয়ে যাচ্ছে। সময় কারো জন্য থেমে থাকে না; দিন যত যাচ্ছে, আমাদের হায়াত ততই ফুরিয়ে আসছে। গত হওয়া প্রতিটি সেকেন্ড আর কখনো ফিরে আসার নয়। একদিকে ঈদের আনন্দ, অন্যদিকে প্রিয় রমজানকে বিদায় দেওয়ার বেদনা—এই দুইয়ের মাঝে আমাদের প্রাপ্তি কতটুকু? আমরা কি পেরেছি নিজেদের গুনাহগুলো মাফ করিয়ে নিতে? এটাই আজ আমাদের বড় ভাববার বিষয়।
দুনিয়ার এই কঠিন পথে আল্লাহর মেহেরবানিই আমাদের একমাত্র ভরসা। তাই আজকের এই দিনে আসুন সব ভেদাভেদ ও ফিতনা-ফাসাদ ভুলে গিয়ে একনিষ্ঠ চিত্তে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। আনন্দ ভাগাভাগি করি সবার সাথে।
দোয়া করি, আল্লাহ আমাদের যতদিন বাঁচিয়ে রাখেন, ঈমানী দৌলত দিয়ে যেন আমাদের অন্তরকে সমৃদ্ধ রাখেন।
সবাইকে আবারো পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক!

02/03/2026

ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আজকে লিখছি। বর্বর আমেরিকা ও ইসরাইল মুসলিম ইতিহাসের এক মহানায়ক, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করেছে, শহীদ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ছিলেন এক বিশ্বখ্যাত বীর, যিনি কারোর রক্তচক্ষুকে ভয় পেতেন না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচাইতে ভয়ের কারণ ছিলেন এই নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ভাবতে পারছেন, ৩৬ বছর টানা একটি দেশের নীতি নির্ধারক ছিলেন তিনি। বয়স ছিল ৮৭, তবে জ্ঞান ও প্রজ্ঞায় বিশ্ব রাজনীতির এক জ্বলন্ত অগ্নিগিরি ছিলেন তিনি। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে হত্যা করার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টার পর, বিশ্লেষকদের ধারণা মতে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে এই অবশ্যম্ভাবী নেতাকে হত্যা করিয়েছেন। যে বাসভবনে তিনি ছিলেন, সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র মেরে তাকে শহীদ করে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরান এখন বেপরোয়া, হয় মরবে নয়তোবা মারবে, প্রতিশোধ নিতে চায় তারা। আরব বিশ্ব এক নতুন ইতিহাসের সম্মুখীন হচ্ছে, হয় ইরান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে নয় আমেরিকা ও ইসরাইলকে নাকানিচুবানি খাওয়াবে। যুদ্ধাবস্থা নিয়ে পরে লিখব, কিন্তু আজকে শুধু কষ্ট ও শোক প্রকাশের জন্যই এসেছি। আহা, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, বীর সেনানী, আল্লাহর সৈনিক এই নোংরা রাজনীতি থেকে বিদায় নিলেন। আমেরিকার ধ্বংস হবে, ইসরাইল ধ্বংস হবে, বেশি দেরি নয়। যখন মুসলিমরা আহ্বান করবে, ঘুমন্ত সিংহকে ডাকতে হবে। মুসলমান কি সিংহ আছে এখনো? যাক, পুরাটাই শোক, পুরাটাই দুঃখ, পুরাটাই ভারাক্রান্ত মন। এক আবেগ, এক অনুসরণীয় ব্যক্তি, এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের শহীদ। বিশ্ব রাজনীতি এক অন্যতম নেতা, মুসলিমদের মুখ, তাদের হারিয়ে যাওয়া গর্জন-গৌরব তার মধ্যে ছিল। আল্লাহ তাআলা উনাকে ক্ষমা করুন, জান্নাতে উচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করুন। আমীন।

28/02/2026

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও টেকসই সংস্কারের আহ্বান
আসসালামু ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
একটি দেশের স্থিতিশীলতা নির্ভর করে তার অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা এবং জনগণের জীবনযাত্রার মানের ওপর। সম্প্রতি সরকারি পর্যায়ে 'ফ্যামিলি কার্ড' বিতরণের যে উদ্যোগটি আলোচনায় এসেছে, তা নিয়ে জনমনে যেমন প্রত্যাশা আছে, তেমনি রয়েছে গভীর সংশয়। বিশেষ করে ৫ কোটি পরিবারের হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার যে বিশাল কর্মযজ্ঞ, তার উৎস এবং স্থativity নিয়ে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
আমাদের দেশ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। বিগত সরকারের আমল থেকে চলে আসা অর্থ পাচার এবং বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস টানছে। পবিত্র রমজান শুরুর আগেই লেবুর মতো নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নির্দেশ করে যে, বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর।
অর্থনীতিবিদ না হয়েও একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন জাগে—জনগণের পকেট থেকে উচ্চমূল্যে কেটে নেওয়া টাকা কি আবার জনসেবার নামে 'ফ্যামিলি কার্ড' বা ভাতার মাধ্যমে ফেরত দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে? যদি তাই হয়, তবে এটি কোনো টেকসই সমাধান নয়, বরং অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বনাম কার্যকর পদক্ষেপ
অতীতের উদাহরণ টেনে বর্তমানের ব্যর্থতা আড়াল করার প্রবণতা কাম্য নয়। আমরা চাই না দেশ আবার সেই সংকটে পড়ুক যেখানে সব দায় 'পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকার সব লুটে নিয়ে গেছে'—এই তকমা দিয়ে এড়িয়ে যাওয়া হবে। জনগণের দাবি কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বরং দৃশ্যমান পরিবর্তন।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও আমাদের প্রত্যাশা
আমরা ভুলে যাইনি জুলাই বিপ্লবের সেই উত্তাল দিনগুলোর কথা। শহীদ ওসমান হাদী ভাইসহ হাজারো শহীদের রক্ত বৃথা যেতে পারে না। এই বিপ্লব কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য ছিল না, এটি ছিল একটি বৈষম্যহীন এবং দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয়। যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা আমাদের হৃদয়ে এক জ্বলন্ত অগ্নগিরির লাভা জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন—যা অন্যায়ের মুখে কখনোই নীরব থাকবে না।
উত্তরণের পথ ও সরকারের প্রতি আহ্বান
বর্তমান সরকারের প্রতি আমার বিনীত এবং জোরালো আহ্বান থাকবে:
* সমন্বিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ: এককভাবে দেশ পরিচালনা না করে বিরোধী দল বিশেষ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দেশপ্রেমিক দলগুলোর সাথে কার্যকর সমন্বয় করুন।
* বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: রাজনীতির বাইরে যারা দেশের বরেণ্য অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের সঠিক পরামর্শ নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রাস্ফীতি রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিন।
* স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি: বৈদেশিক চুক্তি বা সংস্কারের ক্ষেত্রে দেশের সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিন।
মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের এই প্রিয় জন্মভূমিকে সমস্ত দুর্নীতি থেকে রক্ষা করুন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব অটুট রাখার তৌফিক দান করুন।

23/02/2026

দেশ ও জাতির কল্যাণে এক উদাত্ত আহ্বান
সম্মানিত সুধী ও প্রিয় দেশবাসী,
দীর্ঘ ত্যাগ আর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের নবজাত স্বাধীনতা। বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দল হিসেবে সংসদে গঠনমূলক ভূমিকা পালনের দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশ এবং তাদের সুবিধাভোগী দোসরেরা আবার নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনা কি আমরা ভুলে যাব?
মনে রাখতে হবে, জুলাইয়ের সেই গণবিপ্লব কেবল কোনো সাধারণ পরিবর্তন ছিল না; এটি ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত আকাক্সক্ষার এক বজ্রনির্ঘোষ। এই আন্দোলন শুধু ছাত্রদের ছিল না, এটি ছিল গোটা জাতির আত্মমর্যাদার লড়াই। যে স্বৈরাচারী শক্তির কবর এদেশের মানুষ রচনা করেছে, তাদের পুনরায় রাজনৈতিক মূলধারায় ফিরিয়ে আনার যেকোনো পরিকল্পনা হবে শহীদের রক্তের সাথে চরম বিশ্বাসঘাতকতা।
সরকার ও প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ:
আমরা লক্ষ্য করছি, পতিত স্বৈরাচারের দোসররা আবারও তাদের দপ্তর গোছাতে শুরু করেছে। তারা হয়তো ভাবছে অতীতের মতো এবারও ‘নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা আপসের মাধ্যমে তারা পার পেয়ে যাবে। কিন্তু মনে রাখবেন, এই জাতি এখন অনেক বেশি সচেতন। যারা খুনিদের আশ্রয় দেবেন বা তাদের পুনর্বাসের চেষ্টা করবেন, তাদের ইতিহাস ক্ষমা করবে না।
আমাদের অঙ্গীকার:
আওয়ামী লীগের দুঃশাসন আজ ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। তাকে কবর থেকেই বের করার চেষ্টা করা মানে দেশকে পুনরায় অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। দেশের শান্তি রক্ষা এবং একটি স্বৈরাচারমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমরা বদ্ধপরিকর। আমরা দেশের সমৃদ্ধি চাই, স্থিতিশীলতা চাই। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, আমরা ঘাতকদের আস্ফালন নীরবে সহ্য করব।
পরিশেষে, মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই দেশ ও জাতিকে রক্ষা করার তৌফিক দান করুন। সত্যের জয় হোক, মিথ্যার বিনাশ ঘটুক।

15/02/2026

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
মহাসম্মানিত ও মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার দরবারে সিজদাবনত হয়ে শুকরিয়া আদায় করছি। আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার লক্ষে আল্লাহ তায়ালা ১১ দলীয় ঐক্যজোটকে মনোনীত করেছেন।
গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোট তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মোট ৭৬টি আসনে বিজয় অর্জন করেছে, যা মহান আল্লাহর এক বিশেষ দান। পাশাপাশি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর একজন সম্মানিত আলেম বরগুনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।
আমার পূর্ববর্তী বিবৃতিতে আমি নির্বাচনের কিছু নেতিবাচক দিক তুলে ধরেছিলাম, যা সচেতন মহলের কাছে স্পষ্ট। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো বিষয় জনগণের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে চাইলে সচেতন জনতা তা আর গ্রহণ করবে না; বিগত গণবিপ্লব আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছে।
এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা। সংসদে এখন ইসলামের অনুসারী ব্যক্তিত্বগণ জোরালো ভূমিকা রাখবেন। ইনশাআল্লাহ, তারা সংসদীয় কার্যক্রমে দুর্নীতি, ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড, রাষ্ট্রদ্রোহী কার্যকলাপ, অর্থ পাচার, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার অশেষ রহমতে এটি আমাদের এক বিশাল অর্জন। আসুন, এই অভাবনীয় বিজয়কে পাথেয় করে আমরা নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করি এবং ইসলামের বিজয়কে সমুন্নত রাখি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে মতভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।

Address

Kishoreganj
Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Abdullah Yousuf Jihad posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share