16/04/2026
আল্লাহকে চেনার পর আমার সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় আল্লাহকে আবার ভুলে যাওয়া। সেইটা আমি হোক বা অন্য কেউ, কারণে হোক কিংবা অকারণে, সুখে হোক বা যন্ত্রণায়।
যেই মেয়েটা মাত্রই হিজাব পরতে শুরু করলো আর আমি তাকে খোঁচা মারলাম, আগে কী ছিলে তা কী জানি না! যেই মেয়েটা হয়তো সবে ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় শুরু করছে, আর আমি তাকে বললাম "খালি নামাজ পড়লেই হয় না, অমুক অমুক গুনাহ তো ঠিকই করো।" যেই মানুষটা মাত্রই হালাল-হারাম নিয়ে সচেতন হচ্ছে আর আমি তাকে নিয়ে মক করতে শুরু করলাম। এরপর আস্তে আস্তে সে সরে যেতে থাকলো এই পথ থেকে। ভাবতে লাগলো তার গুনাহ এতো বেশি যে তাওবা আর তার কোনো কাজে আসবে না। ধীরে ধীরে সে ইসলামকেই অপছন্দ করতে শুরু করলো।
আমার ওই একটা ঠাট্টা, একটা বিশ্রী হাসি, একটা খোঁচা, একবারের টিটকারির জন্য আমি কী আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসিত হবো না?
আল্লাহ কী আমাকে ধরবেন না? কেনো তাঁর পথে এগিয়ে আসা বান্দার হাত টেনে না ধরে তাকে আরো দূরে ঠেলে দিলাম?
কেনো আমার স্পর্ধা হলো কারো আমলের হিসেব নিকেশ করার?
আমার তো কথা ছিলো মুশরিককেও আল্লাহর পথ চেনানোর। কথা ছিলো অপমান মেনে নিয়ে বারেবার, বারেবার হাসিমুখে কালিমার কথা স্মরণ করানোর। কোন সাহসে আমি উল্টো মানুষকে সরায়ে দিলাম?
কীসের বড়াইয়ে?
আমার ভাঙাচোড়া ঈমানের দাপটে?
শুধু ওয়াক্তমতো সালাত আদায়ের বড়াইয়ে?
লেবাসে দ্বীন জড়ানোর অহমে?
কীসের বড়াইয়ে আমি অন্যকে তুচ্ছ করার সাহস পেলাম?
তার হিসেব আমাকে দিতে হবে না?
সেদিন আমার জবাব কী হবে?
মুদ্রার উল্টো পিঠও ভাবি।
আল্লাহ না করুক, কখনো যদি আমি আল্লাহকে পুরোপুরি ভুলে যাই, জাহিলিয়্যাতে ডুবে যাই, আল্লাহ আমাকে জিজ্ঞেস করে "কেনো তুমি চেনা পথ থেকে হারিয়ে গেলে?" আর আমি তাঁকে বলি;
আমাকে তো টেনে উঠানোর কেউ ছিলো না, সেজন্য আমি আবারও হালাল-হারামের সীমারেখা ভুলে গেছি৷
দ্বীন মানার জন্য অমুক দিন তো আমাকে অমুক ভাবে অপমানিত হতে হয়েছে, তাই আমি সরে গিয়েছি।
অমুক তো দ্বীনের লেবাস পরা ছিলো, আমি তাকে বিশ্বাস করেছি কিন্তু সে আমাকে ঠকিয়েছে, তাই আমি সরে গেছি।
মুসলিমরা তো এখন মুখোশ পরে আছে, তাই ইসলামের প্রতি আমার মন উঠে গেছে, আমি সরে গেছি।
তারা সবাই আমাকে ঠেলে ঠেলে আমার চেনা পথ থেকে সরিয়ে দিয়েছে।
তবে সেদিন কী এইসব উত্তর আমার কোনো কাজে আসবে? আমার রব্ব কী আমাকে ক্ষমা করে দিবেন?
আমি কী জানতাম না এই পথ আমার একার? একাই আমাকে চলতে হবে? আমি কী জানতাম না এই পথ স্রোতের বিপরীত মুখে। ঢেউ এসে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে সব, তছনছ করে ফেলবে, আমাকে তবু হাবুডুবু খেতে খেতে এগিয়ে যেতে হবে ভিন্নমতে? কথা কী ছিলো কেউ এসে হাত ধরে টেনে তুলবে? যদি তুলে তবে কী তা এক্সট্রা পাওনা না? সেটা কী আমার নেয়ামত না? কথা কী ছিলো আমি মুসলিমদের আচরণের ওপর ভিত্তি করে দ্বীন মানবো? তারা ভালো হলে আমি অনুসরণ করবো আর তারা খারাপ হলে আমি ইসলামকে অপছন্দ করতে শুরু করবো? আল্লাহ কী পথপ্রদর্শক হিসেবে তাঁর রাসূলকে ﷺ আমাদের নিকট পাঠাননি? কারো জবানের দ্বারা ক্ষত-বিক্ষত হলে আমি কী আমার রব্বকে ছেড়ে দেবো? নাকি আরো শক্ত করে তাঁকে আঁকড়ে ধরবো?
আমার এইসব অযুহাত সেইদিন কি আমাকে বাঁচাতে পারবে?
ইদানীং আমরা এই বিষয়টা খুব নরমালাইজ করে ফেলতেছি। আমাকে টেনে ধরার কেউ নাই, আমাকে শেখানোর কেউ নাই, ইসলামের মুখোশ পরে অন্যেরা তো খারাপ কাজ করছে, প্রতারণা করছে, বাজে ভাষায় আক্রমণ করছে, নাসীহাহ দিতে গিয়ে কষ্ট দিচ্ছে। এই সব সত্যিই খুব কষ্টজনক। কিন্তু তাতে কী আমি পথ ভুলে যেতে পারি? এইসব অযুহাতে সেইদিন কী আমি ক্ষমা পাবো আমার রব্বের?
দুনিয়ার সবার ওপর যদি আমার দ্বীন রক্ষার দায়িত্ব দিয়ে বসি, তবে আমার কাজ কী? আমার পরীক্ষা কোথায়? নাকি বিনা পরীক্ষায় আল্লাহ আমাকে জান্নাতের নিয়ামাহ দিয়ে দিবেন?
বলেন, দিবে কী?