06/05/2026
পাওয়ার অফ অ্যাটর্নির মাধ্যমে চেকের মামলা (NI Act) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রায়: 56 DLR (AD) 17
মামলার পটভূমি:
আসামি হাসিবুল বাশার তার আত্মীয় আনোয়ারুল ইসলামের কাছ থেকে ৩০,৭৭,০০০ টাকা ধার নিয়েছিলেন। এই টাকা পরিশোধের জন্য তিনি ৩টি চেক প্রদান করেন। কিন্তু চেকে উল্লিখিত টাকা ব্যাংকে না থাকায় বা পেমেন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় চেকগুলো বারবার ডিজঅনার হয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়ার পরও টাকা পরিশোধ না করায় আনোয়ারুল ইসলামের নিয়োজিত অ্যাটর্নি (পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি প্রাপ্ত ব্যক্তি) গুলজার রহমান ঢাকার সিএমএম আদালতে এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন।
আসামি পক্ষের বক্তব্য:
আসামিপক্ষ মামলাটি বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে (৫৬১এ ধারা অনুযায়ী) কোয়াশমেন্টের আবেদন করেন। তাদের প্রধান যুক্তি ছিল:
১. এনআই অ্যাক্টের ১৪১ ধারা অনুযায়ী, মামলাটি সরাসরি 'পেয়ী' (Payee) বা যার নামে চেক তাকেই করতে হবে।
২. যেহেতু আনোয়ারুল ইসলামের বদলে তার অ্যাটর্নি মামলা করেছেন এবং জবানবন্দি দিয়েছেন, তাই এই আইনি প্রক্রিয়া অবৈধ।
হাইকোর্ট বিভাগের রায়:
হাইকোর্ট বিভাগ বিভাগ রুলটি খারিজ করে অভিমত দেন যে, পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি দ্বারা চেকের মামলা চলতে আইনি কোন বাধা নেই।
আপিল বিভাগের পর্যবেক্ষণ:
* পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি আইন অনুযায়ী, একজন আমমোক্তার (Attorney) তার দাতার পক্ষে মামলা করা বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন।
* পূর্বের নজির (যেমন- ১৯৯৬ BLD (AD) ২০৬) টেনে আদালত বলেন, পেয়ীর পক্ষে তার অ্যাটর্নি মামলা দায়ের করলে এবং আদালত ২০০ ধারায় ওই অ্যাটর্নির জবানবন্দি গ্রহণ করে আমল (Cognizance) নিলে তা সম্পূর্ণ বৈধ।
ফলাফল:
আপিল বিভাগ হাসিবুল বাশারের লিভ টু আপিল পিটিশনটি খারিজ করে দেন এবং হাইকোর্ট বিভাগের রায় বহাল রাখেন।
নজির:
চেক ডিজঅনারের মামলায় মূল পাওনাদারের পরিবর্তে তার আইনগত প্রতিনিধি বা পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি প্রাপ্ত ব্যক্তি মামলা করতে পারবেন এবং তা আইনের পরিপন্থী নয়।
Collected