Olpo Olpo Golpo Kotha

Olpo Olpo Golpo Kotha শরীরের সব থেকে দামী অংশ হলো হৃদয়,সেখানে থাকার যোগ্যতা সবার থাকে না।🌸

-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অধ্যায়ের_সূচনাপর্বঃ৪৩সুন্দর একটি নতুন সকালের শুরু!প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখলে মনে হয় ,এই জীবন টাই স্বার্থক!পাখির কিচিরম...
20/02/2026

অধ্যায়ের_সূচনা
পর্বঃ৪৩
সুন্দর একটি নতুন সকালের শুরু!প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য দেখলে মনে হয় ,এই জীবন টাই স্বার্থক!পাখির কিচিরমিচির শব্দে তুশির ঘুম পাতলা হয়ে এলো।চোখমুখ কুচকে পিটপিটিয়ে তাকাতে চাইলো।এবারেও চোখ টা মনের সাথে বেইমানী করে বসলো! দেখে বুঝায় যাচ্ছে,বড় জোর ঘুমিয়েছে ঘন্টা দুয়েক!বহু কষ্টে তুশি চোখের পাতা খুলে চারদিকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করলো ,সে আসলে আছে টা কোথায়? মাথায় একটু চাপ দেওয়ার ফলে কালকে রাতের কীর্তিকালাপ খুব সুন্দর করে চোখের সামনে এলইডি স্ক্রিন আকারে জ্বলজ্বল করে উঠলো! চোখ বড় বড় করে সিলিং এর দিকে তাকালো। হুট করে উঠতে চাইলে বুঝতে পারলো সে কারো বাহুবন্ধনে আবদ্ধ! পাশে তাকিয়ে দেখলো মাহিদ তাকে আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রেখে আরামে ঘুমোচ্ছে।মাহিদের মুখের দিকে তাকিয়ে তুশির নিজেকে শীতল মনে হল! ঘোরের মধ্যেই এক হাত মাহিদের গালে রেখে আবেশে তাকিয়ে রইলো।

কি নিস্পাপ!! কেউ বলবেই না কাল রাতে এত পাগলামি করা লোকটা মাহিদ।এখন দেখে তো মনে হয় নিস্পাপ একটা বাচ্চা! ঘোরের মধ্যেই নিজের ঠোঁট দুখানা মাহিদের কপালে ঠেকালো।আস্তে আস্তে দুগালে বেশ সময় নিয়ে চুমু খেল!সকালের এই মিষ্টি অনুভূতি থেকে মাহিদ বাদ থাকলো না।নড়েচড়ে উঠতেই তুশি ছিটকে দূরে চলে গেল।আস্তে করে নামার চেষ্টা করতেই বুঝলো গায়ে একটা সুতাও নেই!কাঁদো কাঁদো চেহারা নিয়ে সে মাহিদের দিকে তাকালো!

মাহিদ চোখ পিটপিট করে তাকিয়ে দুষ্টু হাসি দিয়ে দুই ভ্রু সমান তালে নাচালো-অথাৎ কি ব্যপার? হাওয়া শেষ? "

তুশি চোখ মুখ খিচে ফেললো। এই বধ লোক এতক্ষণ জেগেই ছিল!ইচ্ছে করেই ঘুমের ভান ধরে ছিল!মাহিদ আচমকাই তুশিকে নিজের দিকে টান দিল।তুশি টাল সামলাতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পড়লো মাহিদের বুকে!মাহিদ এক হাতে কোমড় সমেত জড়িয়ে আরেক হাতে গাঢ়ে হাত দিয়ে মুখ বরাবর টেনে আনলো-

_"কপাল,গাল তো হল!ঠোঁটের টা এখনো বাকি আছে! ফাস্ট ফাস্ট দাও! বিয়ে বাড়িতে অনেক কাজ ,যেতে হবে তো!!"

একে তো টাল হারিয়ে সে সোজা মাহিদের উপরে।দুজনের গায়ে সুতো অবধি নেই।শরীরের অঙ্গপ্রতঙ্গ গুলো একে অপরের সাথে মিলেমিশে আছে।তার উপরে এমন বেলাজ কথাবার্তা! সে ক্ষনে ক্ষনে শুধু ঢোক গিলছে!

বউয়ের এমন নাজেহাল অবস্থা দেখে বেচারা মাহিদের অবস্থা আরো খারাপ-
_"বউ! এমন করে ঢোক গিললে এক্ষুনি না আমার আবার মোড এসে যায়!তাহলে আজকে আর ভাইয়ের বিয়ে এটেন্ড করা লাগবে না!!"

_"অসভ্য লোক!ছাড়ুন আমায়!লাজলজ্জা সব বেঁচে দিয়েছে!!"

তুশির অস্থিরতা মাহিদ ভালোই বুঝতে পারছে।ঘড়িতে বেলা গড়িয়েছে ভালোই। ৮ টা বেজে গেছে সত্যিই উঠতে হবে।তাই আর বউকে না জ্বালিয়ে চাদর সমেত তুশিকে পেছিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে পড়লো। তুশি চেচিয়েও থামাতে পারে নি!!"

__🌸

আজকে অন্যান্য দিনের তুলনায় শাফিন ব্যস্ত সময় পার করছে।যদিও এইসব কাজ সব সময় মাহিদ দেখাশোনা করে তবুও যেহেতু কাল ভাইকে নিজে একটু স্পেচ দিয়েছে তাই সকাল বেলা তাকে আর না গাটিয়ে সব কিছু নিজে দেখাশোনা করছে।এই দিকে বাড়ির অকর্মার ঢেকির কাজে হাত দেওয়ার ব্যাপারটা সকলেই কেমন বাঁকা চোখে দেখে চলেছে!জোবেদা বেগম কোথা থেকে এসে শাফিনের পাশে দাড়ালো।শাফিন তখন দত্তের জিনিস পত্র বের করে গাড়িতে রাখছিল-
_"শাফিন! বাবা দেখতো আজকে কি সূর্য উঠেছে?
মায়ের এমন আজগুবি কথার ধাত শাফিন ঠিকি বুঝতে পেরেছে।তাই দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল-
_"মা!! উঠে যাবে সূর্য! "

জুবেদা বেগম আড়চোখে ছেলেকে দেখে ঠোঁটে ঠোঁট টিপে হাসলেন -
_"না! আসলে আসেপাশের পরিস্থিতি খুব একটা ভালো না বুঝলি! কখন আবার তুফান ধেয়ে আসে বলা যায় না!!"

শাফিন আর এক মুহূর্তও দাঁড়ালো না।হনহন করে বাহিরে চলে গেল।এই দিকে জুবেদা বেগম অট্টহাসিতে ফেঁটে পড়লেন।পিছন থেকে মহিমা বেগম পাশে এসে দাঁড়ালেন-
_"আর কাজ নেই না তোমার? ছেলেটা কে জ্ব্বালাচ্ছ কেন?"

_"আরে আজ একটু সুযোগ পেয়েছি! এমন কর্মীক ছেলেকে তো পাওয়া যায় না!!"

দুই জা একে অপরের দিকে তাকিয়ে হেসে ফেললো। তারপর তাড়া দিয়ে ভিতরের দিকে গেল।এখনো কত কাজ বাকি!

__🌸

_"ব্যাপার কি বল তো? আমাদের বৌমনির কোন খবর নাই কেন?"

তুষিকার কথায় মিষ্টি হাতের চিরুনি চালানো থামালো।তারপর কপাল কুচকে একবার ঘড়ির দিকে তাকালো। ৯টা বাজলো বলে।এবার খানিক তারও চিন্তা হচ্ছে।কিন্তু ভাইয়ের দরজায় কড়া নাড়ার মতন অবস্থার কথাও চিন্তা করা যাচ্ছে না!সে তুষিকার দিকে ফিরে বলল,
_"কি করা যায় বল তো আপু? আমারও চিন্তা হচ্ছে!নিচে না গেলে বাড়ির মানুষ এটাকে ভালো চোখে দেখবেনা!"

তুষিকাও মাথা দোলালো। যদিও তাদের বাড়ির মানুষ সম্পুর্ণ ভিন্ন!তবুও মাহিদের বিয়েটা স্বাভাবিক না তাই সবারই নরমাল হতে সময় লাগছে!সে উঠে দাড়িয়ে বলল,
_"চল!আমরা আগে একবার নিচের পরিস্থিতি দেখে আসি।তারপর কিছু একটা বলে ম্যানেজ করা যাবে!"

মিষ্টি ও ভাবলো এটাই ভাল উপায়।তাই সে চুল গুলো হাত খোপা করে তুষিকার পিছন পিছন নিচের দিকে হাটা ধরলো!

_"বাহ! বাহ! কেয়া বাত হে! উপরে বসে আমরা তোমার চিন্তায় অস্থির হচ্ছি।আর তুমি এখানে কপি বানাচ্ছো?"
পিছন থেকে তুষিকার গলার আওয়াজ শুনে তুশি চমকে উঠলো।তড়িঘড়ি করে পিছন ফিরে ভ্যাবলা মার্কা একটা হাসি দিল।তারপর আমতাআমতা করে বলল,
_"আরে তোমরা? ক-কপি খাবে নাকি? দিব?"

খুব সূক্ষ ভাবে মিষ্টি তুশিকে দেখলো।তুশি যে নার্ভাস সেটা সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে।পাশে খেয়াল করে দেখলো তুশির চুলের পানির কারনে উড়নার পিছন সাইড ভিজে গেছে।আর উড়না তুশি দুই পেচ দিয়ে গুরিয়ে পড়েছে। যার কারনে মুখটা ছাড়া আর কিছুই দেখা যাচ্ছে না।তবে চুল ভিজার কারনে উড়নাও ভিজে যাচ্ছে।মিষ্টি ইশারায় তুষিকাকে সেটা দেখালো!

তুষিকা দুই ভ্রু নাচিয়ে অবাক হওয়ার ভান করে বলল,
_"আল্লাহ বৌমনি!! তোমার চুল ভিজা কেন? এত সকালে কেন গোসল করেছ?"

মিষ্টি কোনরকমে নিজের হাসি টা আটকে রেখেছে!তুশি তড়িঘড়ি করে তুষিকার মুখ চেপে ধরলো! কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে বলল,
_"একদম আমার লেকফুল করবে না বলে দিলাম!!"

মিষ্টি আর তুষিকা অট্টহাসি তে ফেঁটে পড়ল।মিষ্টি পিছন থেকে গলা জড়িয়ে বলল,
_"ঠিক আছে করব না যাহ! নাস্তা মনে হয় করিস নি।টেবিলে যা আমি নাস্তা দিচ্ছি!!"

তারপর আর কি! তুশি একটুও কথা বাড়াতে চাইলো না।কারন সে জানে ,যত এখন কথা বাড়াবে এরা ততবেশি তার পিছনে লাগবে।তাই নিজের সেফটি আগে।রিস্ক নেওয়া যাবে না!সে সুন্দর করে হাতের কফি মগ টা নিয়ে ডাইনিং এ বসলো।তুষিকা ঠোঁট টিপে হাসলো।সে আর কিছু না বলে উপরে চলে গেল।আর মিষ্টি তুশিকে খাইয়ে নিজেও খেয়ে নিল।"

দুপুরের আগ সময়ে মোটামোটি সবাই তৈরী। ভ্যানুতে আগেই সবাই পৌঁছে গিয়েছে।শুধু শলকের একটি গাড়ি এখন যাবে।শলকের সাথে বন্ধুরা আর ভাইয়েরা আছে।রিদভিক আগেই যেতে চেয়েছে,শলক জোর করে ধরে রেখেছে।আজকের দিনে ভাইয়ের মন খারাপ করানোর ইচ্ছে নাই বলে এক বাক্যে মেনে নিয়েছে।নাহলে রিদভিক কি আর সবার কথা শোনার পাত্র নাকি?"

অবস্থান এখন ভ্যানুর গেইটে!এই পাশে পাত্রসহ পাত্রের সাঙ্গপাঙ্গ! জোরকদমে পাত্রকে ডাকাতির হাত থেকে বাঁচানো তাদের মূল লক্ষ!অপরপাশে পাত্রির বোনেরা দাঁড়িয়ে। লক্ষ একটাই! যেকোনো মূল্যে নিজেদের দাবি আদায় করা!এক পক্ষ অপর পক্ষের দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে আছে,যেন চোখ দিয়েই গিলে ফেলবে।

রিদভিক তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে।তবে তার চোখ নির্দিষ্ট এক জায়গায়!মিষ্টির অবস্থা ছেড়ে দে মা কেন্দে বাঁচি!এই লোক তার দিকে এমন করে তাকিয়ে আছে কেন?সে কি করেছে?সে কি এখানে আসতে চেয়েছে নাকি?সে কোন রকমে একটু হাসার চেষ্টা করলো! তাতে লাভ হল কিনা বোঝা গেল না!তবে আজরাইলের গলা ঠিকি শোনা গেল-

_"কি ব্যাপার ছেলের বোন হয়ে তোরা ফিতার ওই পাশে কি করছিস?"

রিদভিকের এমন গমগমে গলা শুনে মিষ্টির গলা শুকিয়ে এল।গলার মধ্যে চৈত্রের খরা দেখা দিয়েছে!এই মুহুর্তে একটু পানি না ফেলে ,এই গলা যেকোন সময় ফেটে দুই ভাগ হয়ে যাবে।তবে ভয়ে নড়তে অবধি পারছেনা!তবে অহশি ভাবেলেশহীন ভাবে তাকিয়ে আছে।পাত্তা দেওয়ার টাইম কোথায়,
_"মেয়েরা হচ্ছে কচু পাতার মত! বুঝলে! যেই পাত্রে রাখা হয় ,সেই পাত্রের রঙ ধারন করে!যেহেতু আমরা আগে ভ্যানুতে আসছি,সেহেতু আমরা এখন মেয়ে পক্ষ!"

এমন উল্টাপাল্টা লজিক শুনে ছেলেরা তাজ্জব বনে গেল!শাফিন তো কিচ্ছুক্ষন হা করে তাকিয়ে ছিল।তারপর দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
_"বাড়ি চল আগে ,তারপর বোঝাবো কচু পাতায় কত ধরনের পোকা থাকে!
তারপর বাকা হেসে বলল,
_"বিশেষ করে জোঁক!!"

এই বিশেষ প্রানীটির নাম শুনে মেয়েদের গা গুলিয়ে এল।অহশি তো পারে না ফিতে ডিঙিয়ে শাফিনের মাথায় একটা ইটের বাড়ি দিতে।নেহাৎ এখানে দাদান আছে!নাহলে আজকে এসপার নাহলে অসপার!"

অনেক বাকবিতন্ডার পর অবশেষে মেয়েদের খুশি করে ফিতে কাটার কেঁচি টা হাতে পাওয়া গেছে।এই যুদ্ধ জয় করতে গিয়েই একেক জন বুকে হাত দিয়ে হাপাচ্ছে।শলকের পাশ থেকে পৃথক বলল,
_"এই মেয়েদের থেকে,সামান্য ফিতে কাটার কেঁচি নিতে আমাদের এই অবস্থা ভাই!আর আপনি ভাই ,বাকি জীবন এদের বোনের সাথে কাটাবেন? আমার তো ভেবেই কিডনি এট্যাক আসতেছে!আপনার জন্য ধৈর্য্য কামনা করছি ভাই!!"

মেয়েরা প্রথমে চোখ গরম করে তাকাতে গিয়েও হেসে ফেলল। তারপর এখানে সরবত আপ্যায়ন সেরে বর নিয়ে সবাই ভিতরের দিকে গেল।মিষ্টি বেখেয়ালি ভাবে হেটে পিছন ঘুরতে গিয়ে খেল এক উষ্ঠা!কোন রকম ককিয়ে পিছন ফিরতেই দেখলো রিদভিক দাঁড়িয়ে! সে চোখ বড় বড় করে তাকালো। কোনো রকমে বিড়বিড় করে বলল-
_"ইন্নালিল্লাহ!!এই আজরাইল এখানে কি করে?"

তারপরে কোন রকমে হেসে পালানোর চেষ্টা করলো।দুই কদম হেটেই থেমে গেল।পিছন থেকে রিদভিক ডেকে উঠলো,
_"দাঁড়াও!!

_"জ্বি ভা-ভাইয়া!

রিদভিক হেটে সামনে এল।তারপর চোখ ঘুরিয়ে বলল,
_"তোমার জন্য কালকে ডক্টর এর কাছে একটা এপ্যায়েন্টমেন্ট নিব!"
মিষ্টি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল।আশ্চর্য! তার কি কোন অসুখ পড়েছে নাকি? সে কেন ডাক্তার দেখাবে? নেহাত তার এত সাহস নাই কিছু বলার!তাই কোন রকমে বলল
_"কেন ভাইয়া?"

_"দুইটা সমস্যা তোমার!এক ,যেখানে সেখানে উষ্ঠা খাই পড়!আর দুই অকারণে শুধু বিড়বিড় কর!দুইটাই খুবি জটিল সমস্যা!!"তার ডক্টর কনসাল্ট করা খুবই জরুরী!! "

নিজের বক্তব্য শেষ করে আর দাড়ানোর প্রয়োজন মনে করলো না রিদভিক।লম্বা কদম ফেলে ভিতরে চলে গেল।এই দিকে মিষ্টি এখনো হা করে তাকিয়ে আছে!এই লোক কি তাকে কোনভাবে অপমান করলো? করলো মনে হয়? করলেই বা কি? তার কি এত সাহস আছে,ওই আজরাইল কে কিছু বলার!!

সে কাঁদো কাঁদো মুখ নিয়ে দাঁড়িয়ে রইল!!"

চলবে........!

(অনেক দিন পর🙂কেউ কিছু বইলেন না🔪)
Olpo Olpo Golpo Kotha

অধ্যায়ের_সূচনাপর্বঃ৪২(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত -১৮+ এলার্ট)মেয়ের বাড়িতে হলুদ এর ডালা নিয়ে শাফিন গিয়েছে।যেহেতু মেয়েক...
19/02/2026

অধ্যায়ের_সূচনা
পর্বঃ৪২
(প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উন্মুক্ত -১৮+ এলার্ট)

মেয়ের বাড়িতে হলুদ এর ডালা নিয়ে শাফিন গিয়েছে।যেহেতু মেয়েকে আগে পার্লারে যেতে হবে,সেহেতু জিনিসপত্র আগেই প্রয়োজন পড়বে!তাই দ্বায়িত্ব নিয়ে জুবেদা বেগম শাফিন কে দিয়ে সব জিনিসপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।দুপুরে খাওয়ার পর পরই মেয়েরা সাজতে বসে গিয়েছে।এর মধ্যে অহশি গিয়ে ধরে বেধে মা সমাজদের সাজগোজ করিয়ে দিয়েছি।যদিও এই নিয়ে এক প্রকার ছোটপাট করেছে মায়েরা! তবে মেয়েদের কারনে বিশেষ লাভ হয়ে উঠে নি!হলুদের অনুষ্ঠানের জন্য সবাই একসাথেই ভ্যানুতে যাবে।ছেলেরা কেউই নেই,সবাই অনেক আগেই ভ্যানু তে চলে গেছে!

আজকের ড্রেস কোড হিসেবে মেয়েরা সবাই লেহেঙ্গা পড়েছে।অহশি আর মহল এর চুল গুলো কোমড় এর নিচ অবধি।এর বেশি বড় দুবোন সামলাতে পারে না। তাই রাখা হয় না।মাঝখানে সিথি করে লম্বা চুল গুলো ছেড়ে দেওয়া।দুবোন কে অপরুপ লাগছে।সবার লেহেঙ্গার সাথে আজকের সাজ সবাই একি রকম রেখেছে।সবার চুল ছেড়ে দেওয়া থাকলেও মিষ্টির চুল কোন ভাবেই খোলা রাখতে পারেনি।সে দেই নি।অহশি অনেক জোর করেও কোন লাভ হয়নি।এখন মুখ ফুলিয়ে বসে আছে।মিষ্টি কিছুক্ষণ মানানোর চেষ্টা করেও লাভ হয়নি-
_"বনু আমার এমন করছিস কেন?চল না সোনা!!"

অহশি নিরুত্তর হয়ে বসে রইল।তুশির মেজাজ খারাপ হল বেশ।এই মেয়েকে এত রিকোয়েস্ট করেও কিছু হল না।সে রাগি স্বরেই বলল-
_"তোর কি সমস্যা? মেয়েটা কত আশা নিয়ে তোকে সাজিয়েছে।আজকের দিনে চুলটা খোলা রাখলে মহাভারত অশুদ্ধ হই যাবে?"

মিষ্টি ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলল।এই তুশি টাও ওদের সাথে বাচ্চামো করছে।সে আস্তে করে অহশি কে একপাশ দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলল-
_"আচ্ছা বাবা রাগ করতে হবে না! আমার চুলে তুই যেমন ইচ্ছা হেয়ার স্টাইল করে দে।তবে শেষে খোপা টা করে দিস!! আসলে সময়ের অভাবে আমি চুল কাটতে পারি নি কয়েকমাস।চুল এখন মাটি ছুই হয়ে গেছে।তাই আমি চুল ছেড়ে রাখতে পারবো না সোনা!!বিয়েটা মিটে গেলে আমি চুল কেটে ফেলবো!! "

প্রথম দিকের কথা শুনে খুশি হলেও চুল কাটার কথা শুনে মহল অহশি আতকে উঠলো।মহল দৌড়ে এসে বলল-
_"কি বলছ আপাই? এত সুন্দর চুল তুমি কেটে ফেলবে?

অহশিও কাঁধো কাঁধো স্বরে বলল-
_" আপাই তুমি রাগ করে এমন করবে? আচ্ছা যাও তোমায় চুল খোলা রাখতে হবে না,তবুও তুমি চুল কেটো না!!"

দুবোনের উদিগ্ন কথা শুনে মিষ্টি হেসে দিল। দুহাতে দুজন কে জড়িয়ে ধরল -
_"না সোনারা!! চুল কেটে হাটু অবধি করবো যাতে আমার সামলাতে অসুবিধা না হয়।আমি কয়েক মাস পরপরই চুল কাটি!!"

তুহিকা এসে বলল-
_"হয়েছে হয়েছে!এখানেই সব টাইম খেয়ে ফেললে খালামনি কিছুক্ষণ পর ঝাড়ু নিয়ে দৌড়ানি দিবে।উঠ সবাই এখন!!"

সবাই একসাথে হেসে দিল।তারপর ব্যস্ত হাতে অহশি মিষ্টির চুলে সিম্পল একটা হেয়ার স্টাইল করে দিল।পাশাপাশি তুষিকাও সাহায্য করেছ।সবাই বোনেরা মিলে একসাথে ভ্যানুর উদ্দেশ্যে বের হল।

___🌿🌸❤️

বড় ভাইয়ের বিয়েতে সব চাইতে ব্যস্ত বোধহয় মাহিদ।সে বেচারা এত ব্যস্ত যে বউকে এক নজর ভালো করে দেখার সুযোগ অবধি পাচ্ছে না।তার মধ্যে সকালের ঘটনা তার কানে এসেছে।শুনেই প্রচুর মেজাজ খারাপ হয়েছে! অনেক কিছু বলতে চেয়েও বড় মার মুখের দিকে তাকিয়ে আর বলা হল না।আর দুই দিন।দাঁত কামড়ে পড়ে থাকলে সময় চলে যাবে।তবে বউ টাকে কাছে পাওয়ার জন্য মনটা আকুপাকু করছে।বউ টাও বোধহয় অভিমান করেছে! আশেপাশে খুব একটা ঘেসে না।এত ভাবনার মধ্যে বেসুরো গলার গানে মাহিদের ধ্যান ভাঙলো-

কারো লাগে গয়না গাটি,কারো লাগে টাকা~
আমারও তো তুমি ছাড়া দুনিয়াটা ফাকা~
না পাইলে তোমাই আমি জান কারে ডাকবো~
আমার শুধু তোমাদেরই লাগবো~

প্রথম লাইনগুলো জোরে গাইলেই শেষের লাইনটা আস্তে গাইলো শাফিন।মাহিদ গাড় বাকিয়ে পিছনে তাকিয়ে দেখলো এক দল মেয়ে শাফিনের দিকে তাকিয়ে লজ্জা লজ্জা মুখ করে আছে!এই বার ব্যাপারটা বুঝা গেল! পাশে তাকিয়ে দেখলো শাফিনের হাতে একটা ফুলের স্টান্ড! কিন্তু ওটার আসলে এখানে কোন কাজই নাই।লোকজনকে দেখাতে হবে না সে এখানে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতেছে!!মাহিদ একটু এগিয়ে এল-
_"কি হচ্ছে এসব? ফ্লাট করছিস?"

শাফিন পাশের মেয়ে গুলোর এক ফলক তাকিয়ে ভেটকি মেরে বলল-
_"ওয়াহিদ ভিলায় এত গুলো হট ছেলে থাকতে মেয়ে গুলো কেমন মনমরা হয়ে ঘুরছিল!আমি তো জাস্ট একটু বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম!!"

অভ্র হেটে এসে মাহিদ এর গলা জড়িয়ে ধরল।শাফিন এর হাত থেকে স্টান্ড টা রেখে দিতে দিতে বলল-
_"তা ভাই মাহিদ! শলক ভাইয়ার বিয়েতে তোরা বিনোদনের জন্য জোকার রেখেছিস আগে বললিনা কেন?"

মাহিদ ফিক করে হেসে দিল।শাফিন দাঁত কিড়মিড় করে বলল-
_"শালা আমি জোকার? দাড়া তুই!"
অভ্র কে আর পায় কে!সে তো বলেই ভৌঁ দৌড়! শাফিন পিছে পিছে দৌড়াচ্ছে। অভ্র এক লাফে গেইটের দিকে চলে গেল-
_"এসব শালা টালা বলে লাভ নাই।তোমার কাছে আমি বোন বিয়ে দিব না! জোকার হিসেবে খুব একটা সুবিধার না তুমি!!"

একজন আরেকজন কে দৌড়াতে দৌড়াতে গেইটের বাইরে চলে গেল।সেই সময়ই বাড়ির মেয়েরা এসে গেইটের কাছে থামলো।শাফিন আর বেশি দূর আগাতে পারেনি।গেইটের দিকেই হা করে তাকিয়ে আছে সে! দুনিয়ার আর সব কিছুই তার কাছে নস্যি মনে হচ্ছে!!এই এক জায়গায় সে বহু আগেই আটকা পড়েছে! আজকে আরও একবার এই রুপে গায়েল হল!! পিছনে শাফিনকে আসতে না দেখে অভ্র দাঁড়িয়ে গেল।শাফিন হা করার কাহিনী বুঝে এসে বন্ধুর গলা জড়িয়ে ধরল -
_"কি ব্যাপার বন্ধু? চোখে কি সব ধোঁয়া ধোঁয়া লাগছে নাকি?"

হঠাৎ অভ্র ধরাতে শাফিন হকছকিয়ে গেল।তার পর মাথা চুলকে হেসে ফেলল সে-
_"এই রমনী সামনে থাকলে সব কিছুই ধোঁয়াসাই লাগে!! সে ছাড়া কিছু দেখতেই ইচ্ছা করে না!!"

_"তো এই ভাবে আর কতদিন চুপ করে থাকবা? বলে দাও মনের কথা!"

অভ্রের কথায় শাফিন উদাস হল।রমনী ততক্ষণে গেইট পেরিয়ে ভ্যানুতে চলে গেছে-
_"এখন তো চোখের দেখা দেখতে পারছি! ভয় হয় বলার পর যদি আর কোনদিনও চোখের সামনে না আসে!"

শাফিনের চোখে মুখে আতঙ্ক দেখা দিল-
_"এই ভয়ে কোনদিন বলা হবেনা আমি তাকে ঠিক কতখানি ভালোবাসি!!"

অভ্র ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলল -
_"হ্যাঁ!! তুমি ভয় পেয়েই বসে থাকো।এরপরে আরেক বেডা তোমার ধোঁয়াসা রে নিয়ে চলে যাক!আর তুমি পিছন দিয়া যাইবা ,আর এক গড়ানি খাইবা মাটির মধ্যে। তারপরে পেপসির বোতল নিয়া গান ধরবা-

প্রেমের সমাধি ভেঙে মনের শিকল চিড়ে ,
পাখি যায় উড়ে যায়~
অভ্র সুন্দর করে বুক পকেট হাতড়ে চশমা টা বের করে চোখে পড়ে গানের দু-লাইন গাইতে গাইতে ভ্যানুর দিকে হাটা ধরলো।আর শাফিন!! বেচারা আর কি করবে! রাগে দুঃখে উল্টো দিকে হাটা দিল।

___🌸❤️

নাচগান হই হই এত মধ্য দিয়ে গায়ে হলুদ প্রায় শেষ পর্যায়ে।আনুমানিক সময় এখন রাত ১২টা।সন্ধ্যা থেকেই মাহিদ নানা ভাবে তুশিকে ইশারা দিয়েছে।নিজে তো একবার আসলোই না তার উপরে মাহিদ যতবার কাছে ঘেঁষেছে ততবারই অন্য বাহানা দিয়ে সাইডে কেটে পড়েছে।বউয়ের যে বেশ ভালো অভিমান হয়েছে মাহিদ বুঝে ফেলেছে!এখন কি করে এই অভিমান ভাঙাবে কাছে না আসলে!বেশ চিন্তার বিষয়!! '

অনেকক্ষণ ধরে এদের কাহিনী দেখে চলেছে শাফিন আর অভ্র।দুই বন্ধু গলাগলি করে মাহিদ এর কাছে গেল-
_"ভাই মাহিদ! কি ব্যাপার বউ কি পাত্তা দিচ্ছে না?"

দুই বিচ্ছুর আগমনে মাহিদ এবার আর বিরক্তি দেখালো না।এখন এদের সাহায্য নিতে হবে।এ ছাড়া আর উপায় নাই!সে অসহায় হয়ে শাফিনের দিকে তাকালো। শাফিন পাত্তা দিল না-
_"এ ভাবে তাকিয়ে লাভ নাই! তোকে পাত্তা না দেওয়াই উচিত।গত তিনদিনে তুই মেয়েটার কোন খোজই নিসনি!তার উপরে আজ সকালে যা হয়েছে সেটা বলার আর অপেক্ষা রাখে না!!"

অভ্রও বেশ সিরিয়াস হল।সকালে সেই ব্যাপারটা কারোরই ভালো লাগেনি।সে ও একি স্বরে মাহিদ কে বলল-
_"হ্যাঁ মাহিদ!! সকালের এই সিচুয়েশনে তোর উচিত ছিল তুশির পাশে থাকা!এটা তুই অন্যায় করেছিস।তুই ওর দিকে খেয়াল রাখলে এমন কিছুই হত না!!"

শাফিনের চোখ মুখ ইতিমধ্যেই লাল হয়ে গিয়েছে।শুধু মাত্র মায়ের দিকে তাকিয়ে সে সকালে কিছু বলে নি।নাহলে একটা তুলকালাম বেধে যেত আজকে।মাহিদের মুখটাও গম্ভীর হয়ে গেছে।আপন মানুষের মুখের দিকে তাকিয়ে যে কিছু বলতে পারছেনা,অভ্র সেটা ভালোই বুঝলো।পরিবেশ টাকে হালকা করার জন্য অভ্র কথা ঘুরিয়ে ফেলল-
_"এখন তুশির রাগ কিভাবে ভাঙাবি সেটা চিন্তা কর!!"

শাফিন ও আর কিছু বলল না।মাহিদের ব্যাপারটা তো সে জানে।তাই এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলো না সে-
_"চাইলে কিন্তু ব্যবস্থা করা যায়!!"
মাহিদ এবার শাফিন কে জড়িয়ে ধরলো-
_"ঘন্টা খানেক সময় হলেই হবে!ব্যবস্থা করে দে ভাই আমার!!"

_"তুই সিয়র ঘন্টা খানেক হলেই হবে? বাড়তি সময় চাইনা তোর?"

অভ্র এবার চোখ ছোট ছোট করে তাকালো-
_"তোর মতলব কি বলতো? ঝেড়ে কাশ ভাই!!"

শাফিন এবার রহস্যময় হাসলো-
__" বাসরের জন্য কত টাকা নেওয়া যায় বলতো অভ্র?"তার উপরে যদি চোরা বাসর হয় ,ডিমান্ড টা একটু বেশি হওয়া উচিত না?"

মাহিদ হতভম্ব হয়ে গেল-
_"কি বলছিস এসব? এত মানুষ বাড়িতে! মাথা খারাপ তোর?"

শাফিন বিরক্ত হল! বাসর এরেঞ্জ করার উপলক্ষে এই বেটা খুশিতে নাচানাচি করবে ,তা না! মানুষ নিয়ে চিন্তা করছে-
_"বাড়ি যাওয়ার সময় একাউন্ট থেকে টাকা পঞ্চাশ উঠাই নিয়ে যাবি।ক্যাশ নিব আমি! আর বউকে আজ রাতের জন্য পেয়ে যাবা।বাকি চিন্তা আমার!!"

কথা শেষ করেই অভ্র কে নিয়ে শাফিন হাটা ধরলো। এই দিকে মাহিদ হা করে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।সব চিন্তা বাধ দিয়ে সে আপাতত ভ্যানুতে গেল।সবাইকে নিয়ে বাড়ি পৌঁছাতে হবে।

__
এত ভারী লেহেঙ্গা এতক্ষণ মানুষ কি করে থাকে মিষ্টি এটাই বুঝতে পারছিল না।সে রীতিমতো বিরক্ত! যত তাড়াতাড়ি এখান থেকে যাওয়া যায় ততই ভালো।উফ!!

বেখায়ালি হাটতে হাটতে সামনে ধরাম করে এক খাম্বার সাথে ধাক্কা খেয়ে সে উল্টো পড়তে পড়তে কোন রকমে রেলিং ধরে বেচেছে!মেজাজ টা চটে গেল! আঙুল ঘুরিয়ে যেই না কিছু বলবে! সামনে রিদভিক দাঁড়িয়ে আছে।মিষ্টি কে আঙুল উঠাতে দেখে দুই ভ্রু নাচালো-
অথাৎ কিছু বলবে!"
মিষ্টি আঙুলটা চট করে নামিয়ে জোর করে একটু হাসলো।আমতা আমতা করে বলল-
_"স্যরি ভ-ভাইয়া!!"

চট করে পাশ কাটিয়ে নেমে গেল।এই বেটার সামনে বেশিক্ষণ থাকা যাবেনা।কি না কি বলে ফেলে! মুখের কোন আড়া বেড়া নাই!!সকালে এতজন মানুষের সামনে কি বলল-
"ছি!ছি! আস্তাগফিরুল্লাহ!!"

বিরবির করা কথাগুলো পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা রিদভিক এর কানে ঠিকি গেল।সে কপাল কুচকে পিছনে ঘুরে তাকালো।ততক্ষণে মিষ্টি নিচে! বিরবির করে বলল-স্টুপিড একটা!!"

মিষ্টি নিচে নামতেই শাফিন ওকে টেনে ধরলো-
_"চল তোর সাথে আমার কথা আছে!!"

_"কই যাব ভাইয়া? কি বলবে এখানেই বল না!!"

বাগানের দিকে হেঁটে এসে শাফিন মিষ্টির হাত ছেড়ে বলল-
_"শুন!আমাদের ছেলেদের জন্য দুইটা ঘর দেওয়া হয়েছে!আজকে রাতের জন্য আমি অভ্র আর পৃথক মিলে আমার ঘরে নিচে বিছানা পেতে ঘুমিয়ে পড়বো।মাহিদের ঘর ছেড়ে দিচ্ছি! তুশিকে একটু ম্যানেজ করে তুই পাঠাবি!দুজনের মান অভিমান চলছে সেটা তো জানিস?!

মিষ্টি হা করে তাকিয়ে আছে!পুরো ব্যাপারটা মাথায় প্রসেস হতে কিছু সময় লাগলো।বুঝতে পেরে পোগ্রাসে মাথা দোলালো।শাফিন হেসে বোন কে আলতো করে জড়িয়ে ধরলো। দু ভাই বোন ভিতরের দিকে হাটা ধরলো। মিষ্টির মাথায় অন্য একটা প্ল্যান ঘুরতেছে।সেটা কিভাবে করা যায় এখন সেটাই চিন্তার বিষয়!! "

বাড়িতে আসার পর সবাই ভীষণ ক্লান্ত!ভ্যানু থেকে খেয়ে আসার কারণে এখন খাওয়া নিয়ে আর বাড়তি ঝামেলা নাই!ছোট দের কে ফ্রেশ হয়ে ঘুমের কথা বলে বড়রা রুমের দিকে গেল।কালকে আবার সকাল সকাল উঠতে হবে।কত কাজ!
রুমে এসে সবাই ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমে ঢুকলো।তুশির পালা আসতেই কাধের দোপাট্টা রেখে একটা গেঞ্জি আর প্লাজু নিল পড়ার জন্য। মিষ্টি দৌড়ে গিয়ে এগুলা নিয়ে একটা পেটিকোট আর ব্লাউজ ধরিয়ে দিল!তুশি তো আহাম্মক বনে গেল-
_" আশ্চর্য!! এগুলা কেন দিচ্ছিস? আমি কি এগুলা পড়ে ঘুমোবো নাকি!!"

মিষ্টি গাম্ভীর্য বজায় রাখার চেষ্টায় অটল! কোন ভাবেই নরম হওয়া যাবে না-
_"বাড়ির বউয়ের শাড়ি পড়া নিয়েও কথা উঠেছে! আমি চাইনা আর কোন সমস্যা দেখা দিক!!"

_"সে ঠিক আছে! তাহলে আমি সকালে শাড়ি পড়বো!এখন এটা পড়ে কিভাবে ঘুমোবো!!"

মিষ্টির চোখ মুখ শক্ত রাখার চেষ্টা করলো।এই মেয়েকে রাগ না দেখালে রাজি করানো যাবে না!সে কিছু্টা রাগ দেখিয়ে বলল-
_"সকালে উঠে তুই টাইম পাস? এত কথার দরকার নাই যা এগুলা পড়ে আয়! আমি শাড়ি পড়িয়ে দিচ্ছি!!"

হঠাৎ এত রাগের কারণ তুশি বুঝতে পারছেনা।পরবর্তীতে সকালের ঘটনার কথা মনে পড়তেই সে আর কিছু বলল না।মিষ্টি তাকে নিয়ে কতটা পসেসিভ সেটা তো সে ভালো করেই জানে! তাই আর কিছু না বলে সে ওয়ারুমে চলে গেল।বাকিরা এখনো আহাম্মক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।মিষ্টি থে্মে নাই।একটা শপিং এ একটা থ্রি পিজ যাবতীয় জিনিস পত্র ঘুচিয়ে এক পাশে রেখে দিয়েছে।তুষিকা এসে বলল-
_"এসব কি করছিস তুই? মাথায় কি চলছে সত্যি করে বল!!"

মিষ্টি তুষিকাকে ধরে বলল-
_"আপু এখন কিছু জিজ্ঞেস করবেনা!তুশিকে দাদা ভাইয়ার কাছে পাঠাবো!শাড়ি টা পড়ানোর পর তুমি একটু সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে !!"
আর অহশি তুই শুন-
_"দাদা ভাইয়ার রুম অবধি কি করে যাওয়া যায়,আইডিয়া বের কর!!"

এর মধ্যেই তুশি গজরাতে গজরাতে বেরিয়ে আসলো-
_"এটা কি ব্লাউজ দিলি তুই? পুরো পিঠ খালি! এটা পড়ে কাল আমি বাইরে কি করে যাব?"

মিষ্টি কিছু একটা সাফাই গাইবে তার আগেই তুহিকা এসে বলল-
_"বাহ! ব্লাউজ টাও বেশ মানিয়েছে তোমাই বৌমনি! আচ্ছা পরে চেঞ্জ করবে! আগে তোমায় একটা শাড়ি পড়িয়ে দেখি কেমন লাগে!!"

তুশি কিছু বলার চেষ্টা করেও ধোপে টিকলো না।পাতলা একটা শাড়ি বের করে তুহিকা আর অহশি ধরে তুশিকে ততক্ষণে পড়িয়ে দিয়েছে! কি অপরুপ লাগছে তুশিকে!মিষ্টি অস্পষ্ট স্বরে আওড়ালো-
_"মাশাল্লাহ!!"
ধরে বেধে একটু সাজিয়ে ও ফেলেছে!এর ফাকে মিষ্টি শাফিনকে মেসেজ করে দিয়েছে!তুষিকা আস্তে করে বাহিরে গিয়ে ওই দিকের পরিস্থিতি বুঝে দরজা থেকে পিছনে দু কদম হেটে দৌড়ে এসে বলল-
_"মিষ্টি মাহিদ ভাইয়ের পা কেটে গেছে!!"

এতক্ষনের বিরক্তি তুশির এবার আতঙ্কে পরিনত হল।নিজের অবস্থা ভুলে শাড়ির আচল কাধে মেলে সে মাহিদের ঘরের দিকে দৌড় দিল।পিছন পিছন মিষ্টি শপিং ব্যাগটা নিয়ে দৌড়ে গিয়ে মাহিদের রুমে উপস্থিত হল! মাহিদ রুমে নাই!তুশির পিছনে ঢুকে টেবিলের উপরে ব্যাগ টা রেখেই মিষ্টি বের হয়ে দরজার বাহিরে দিয়ে চিটকিনি মেরে দিল!!ভাইয়ের সামনে পড়ার আগেই বোনেরা সব পগাড় পাড় হয়ে গেল!!"

রুমে এসে সব গুলা খাটের উপরে ধাম করে পড়লো।তার পর একে অপরের দিকে তাকিয়ে অট্টহাসিতে ফেঁটে পড়লো!! "
___

বাকিদের এমন তাড়াহুড়ো করে বেরিয়ে যেতে দেখে তুশি আহাম্মক বনে গেল! কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থেকে যখন হুস ফিরলো ততক্ষণে দরজার কাছে গিয়ে দেখলো,দরজা বাইরে থেকে লক করা!রুমে মাহিদ ও নাই।দুইয়ে দুইয়ে চার মিলিয়ে সে বুঝে ফেলেছে আসল কাহিনী! রাগের থেকেও এখন তো তার বেশি লজ্জা লাগতেছে।এই সাজে সে মাহিদের সামনে যাবে কি করে?"

_"ভাই তুমি টাকা না দিলে তোমায় তো রুমে যেতে দেওয়া যাবে না!!"

মাহিদ এত অনুনয় করেও লাভ হল না-
_"বিশ্বাস কর ভাই আমি সিরিয়াসলি নি নাই তোর কথা! আমি সত্যিই ভাবি নাই তোরা এমন কিছু করবি!!"

অভ্র উত্তরে বলল-
_"এখন এমন বললে তো হবে না! আমরা তোরে আগেই টাকার কথা বলছি!!"

মাহিদ ফোঁস করে নিশ্বাস ফেলল -
_"আচ্ছা আমি সকালে সব টাকা দিয়ে দিব।এখন এক টাকাও নাই আমার কাছে!!"

শাফিন নাখোস হয়ে বলল-
_"বাকির নাম ফাঁকি! হবেনা! আচ্ছা তুই কার্ড দিয়ে দে!!"

অগত্যা মাহিদ কে কার্ড দিয়ে দিতে হল!তারপর শাফিন চোখ টিপ দিয়ে মাহিদের রুমের দরজার ইশারা করে দুষ্ট হেসে বলল-
_"যাহ মাহিদ ভাই যাহ!! জিলে আপনে জিন্দেগি!!"

মাহিদ চোখ গরম করতে গিয়ে হেসে ফেললো! তারপর রুমের দিকে হাটা ধরলো।চারপাশে একবার নজর ভুলিয়ে দরজা খুলে টুপ করে ভিতরে ঢুকে চিটকিনি দিয়ে দিল।কিন্তু সে পিছন ফিরে আহাম্মক বলে গেল_

কোথায় তুশি? বাথরুম বারান্দা সব খুজেও তুশির কোন হদিস মাহিদ পেল না।কিন্তু ওরা যে বলল তুশি রুমে!হুট করেই মনে হল তুশি এই রুমে আছে!মিষ্টি একটা ঘ্রান সে পাচ্ছে!!আশেপাশে চোখ ঘুরিয়ে জানালার পর্দায় মাহিদের চোখ আটকে গেল!সে ঠোঁট বাকিয়ে হেসে ফেললো!

আস্তে আস্তে দু কদম হেটে পর্দা সরিয়ে হাত টেনে তুশিকে টান দিয়ে কোমড় সমেত জড়িয়ে ধরল!তুশি চোখ মুখ খিচে রইলো! প্রথমে হাসলেও তুশি এই অবস্থায় দেখে মাহিদের হুস উড়ে গেল!!সে আস্তে করে ছেড়ে দিয়ে দু-কদম পিছনে গিয়ে দাড়ালো।পা থেকে মাথা অবধি দেখে কন্ঠে নেশা ঢেলে বলল-
_"আ-আমার জন্য সেজেছো?"

ঝগড়া করার হাজার কারণ মনে থাকলে গলা থেকে একটা শব্দ ও বের করতে পারলো না তুশি! গলায় মনে হচ্ছে কথা সব আটকে গেছে!চোখ খুলে মাহিদের এমন চাহনি দেখে তুশি লজ্জায় পিছনে ফিরে গেল!!"

এবার মনে হয় মাহিদের অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে! চুলের আশেপাশে খোলা পিঠ যেন মাহিদ উকি দিয়ে ডাকছে!দু কদম হেটে এসে চুল গুলো কাধের একপাশ দিয়ে দিলে পুরো পিঠ এবার উন্মুক্ত!! মাহিদ বড়সড় একটা ঢোক গিলল!! দরদর করে ঘেমে যাচ্ছে সে!তুশি দুহাত দিয়ে পড়নের শাড়ি খামছে ধরেছে!বড় বড় করে নেওয়া নিশ্বাসের শব্দ মাহিদের কান অবধি অনায়াসেই চলে যাচ্ছে! কাধে গরম নিশ্বাসের ভাপ বুঝতে পেরে তুশির ধম আটকে এলো! মাহিদ খোলা গাঢ়ে আলতো করে একটা চুমু খেল! ব্লাউজটার পুরো পিঠ খালি! কোমড়ের কাছ সরু দুইটা পিতা দিয়ে গিট দেওয়া!এক টান দিলেই ব্লাউজ টা পুরো খসে পড়বে!!

ঠোঁটের স্পর্শে তুশি উল্টো ঘুরে মাহিদকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো-
_"আ-আমার এ-এখনো র-রাগ

আর কিছু বলা হল না! মাহিদ থুতনিটা তুলে গাঢ় নজরে তাকালো! বড় বড় নিশ্বাস নিয়ে বলল-
_"সব কালকের জন্য তোলা থাক? এই রাতের এই মুহূর্তের জন্য গুনে গুনে পঞ্চাশ হাজার খরচা করতে হয়েছে!!"

তুশি বড় বড় করে তাকালো! তার মানে এই সব কিছু প্ল্যান করে করা!তাই মিষ্টি এত ধরে বেধে সাজিয়েছে!কি ফাজিল এরা!!

_"হলুদিয়া!!"

_"হুম!
তুশি ঘোরের মধ্যেই জবাব দিল! স্বামীর এমন নজর চাইলেই কোন স্ত্রী এড়িয়ে যেতে পারেনা!

_"আজ একটু অসভ্য হই?" তোমার এই রুপে আজ ডুবতে বড় ইচ্ছে করছে!!"

এমন সরাসরি প্রস্তাবে তুশির মরন হওয়ার উপক্রম! সে লজ্জায় চোখ মুখ খিচে মাহিদের পড়নের পাঞ্জাবী টা খামছে ধরলো!মাহিদ ভালোই বুঝলো তার হলুদিয়া লজ্জা পাচ্ছে! যত সময় যাচ্ছে মাহিদের মাথা রীতিমতো ঝিমঝিম করছে! কাপাকাপা ঠোঁট গুলো তাকে চুম্বকের মত টানছে!!

_"আ-আম উম

আর বলা হলো না!ঠোঁটের দখল মাহিদ ততক্ষণে নিয়ে নিয়েছে!তুশির ঠোঁট গুলো মাহিদ আশ্লেষে চুষে যাচ্ছে!এক হাত চুলের গোড়ায়া আরেক হাত কোমড়ে!তুশি হাতড়ে মাহিদের পাঞ্জাবি খামছে ধরলো।পা দুটো যেন অবশ হয়ে গেছে! টলে যাওয়ার পূর্ব মুহুর্তেই মাহিদ দুহাতে শক্ত করে ধরে ফেললো!ঠোঁট ছেড়ে দিয়ে কপালে কপাল ঠেকিয়ে দুজনেই বড় বড় নিশ্বাস ফেলল -

_"হলুদিয়া! মে আই!!"

তুশি তড়াক করেই চোখ খুলে ফেললো! তার কানে এখনো শব্দ দুটি ঝংকার তুলে চলেছে! মাহিদের উত্তরের আশায় অসহায়ের মতন তাকিয়ে রইল!স্বামীর এরুপ চাহনি তুশি উপেক্ষা করতে পারলো না!চোখ বন্ধ করেই মাহিদের বুকে মুখ লুকিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো!মাহিদের মনে হলো সে ট্রফি জিতে গেছে!!তুশিকে পাজাকোলে করে তুলে নিয়ে বিছানাই সুইয়ে দিল!

কপালে খুব সময় নিয়ে উষ্ণ স্পর্শ দিল!তুশির চোখের কোন দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়লো! সুখের বোধহয়!!মাহিদ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো মন হরণ করা রমনির দিকে-

_"তাকাও হলুদিয়া! চোখ জুড়িয়ে দেখতে চাই তোমায়!!"

তুশি আস্তে করে চোখ খুলল!মাহিদের ঠোঁটের কোনায় মুচকি হাসি ফুটে উঠলো!দু গালে হাত খুব শব্দ করে ঠোঁট ডুবিয়ে চুমু খেল-
_"ভীষণ ভালোবাসি আপনাকে ম্যাডাম!!নিজের থেকেও বেশি!!"

তুশি হেঁসে ফেললো মাহিদের পাগলামি দেখে-
_"কতটা ভালোবাসো?

এক শীতল স্রোত ভয়ে গেল মন আঙিনায়! এই মাত্র কি তুশি তুমি করে বলল? বলল বোধহয়!!মাহিদ নেশা ভরা চাহনিতে বলল-
_"প্রতিভোরে সদ্য প্রস্ফুটিত গোলাপে উজ্জল ভাবে জ্বলজ্বল করা শিশির বিন্দুর মত"
ওই গোলাপটা তুমি,আর আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা শিশির বিন্দুটা আমি"

আবেশে চোখের পাতা বন্ধ হয়ে এলো তুশির-
_"তাহলে আজ আষ্ঠেপৃষ্ঠে জড়িয়ে রাখো!!"

তুশির আহবানে এই মুহুর্তটা মনে হলো অনেক বেশি বিশেষ!! মাহিদ আর অপেক্ষা করলো না! আরও একবার ওই রাঙা ঠোঁটে ডুব দিল! হাতের অবাধ্য বিচরন সারা অঙ্গে!!ঠোঁট ছেড়ে গলায় মুখ ডাবিয়ে ছোট ছোট চুমু খেল!এক হাতে শাড়ি সরিয়ে আরেক হাত পিঠের নিচ দিয়ে ব্লাউজের পিতায় টান দিলে গা থেকে ব্লাউজ এক লহমায় খসে পড়েছে!

তুশির যেন মরনের উপক্রম!বিছানার চাদর হাতে খামছে ধরে বড় করে নিশ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে!মাহিদের হুস নেই! গলা থেকে বুক অবধি কখন নেমে এসেছে বলা মুসকিল!যত নিচে নামছে মধুর গাঢ়ত্ব তত বেশি মনে হচ্ছে!!

একে একে দুজনের গায়ের বস্ত্রের স্থান হল রুমের এক কোনায়! তুশির গোঙানির আর মাহিদের বড় বড় নিশ্বাসের আওয়াজ ভেসে আসছে শুধু!এত এত অপেক্ষার পর দুটি আত্মা ,দুটি শরীর ,দুটি মন আজ মিলেমিশে একাকার!!

_"আহ! মাহিদ মরে যাচ্ছি!!"

_"জান আর একটু!একটু সহ্য কর!
তুশিকে যত্নে দুহাতে আগলে নিল মাহিদ!চোখে মুখে অজস্র চুমু দিয়ে সান্ত্বনা দিতে চাইলো!কিন্তু শেষ মুহুর্তে তুশি আর পারলো না,হু হু করে কেদে উঠলো!মাহিদ ব্যাকুল হয়ে গেল! মাথায় হাত ভুলিয়ে আদর করে ঝাপটে ধরলো!!আজ মাহিদ বোধহয় একটু বেশিই অবাধ্য হলো!সারারাত অত্যাচার শেষে ,শেষ রাতের দিকে দুজন চোখ বুঝলো!!"

চলবে.......?
Olpo Olpo Golpo Kotha

ক্ষুধার্ত পেটের কাছে গিলে খেয়েছি কবিতা প্রেমের কাছে ১৬ বয়সের নারী। এখন আর কবিতা হয়না হতাশার দুই চোখে এক মুঠো ভাত পেলেই ...
08/02/2026

ক্ষুধার্ত পেটের কাছে গিলে খেয়েছি কবিতা
প্রেমের কাছে ১৬ বয়সের নারী।

এখন আর কবিতা হয়না হতাশার দুই চোখে
এক মুঠো ভাত পেলেই বলে দিতে পারি
হাজারো কবিতা মস্তিষ্ক ব্যথার মাইগ্রেনে
বলে দিতে পারি তোমাদের নূন্যতম চোখ দেখে প্রেমের বয়স আর কত।

তুমি- তো বলবেই প্রেমিক
দেখোনি এর ক্ষত।
শূন্য পকেটে অন্তত দুই দিনের সময় হবে
প্রেম খিদা মিটে গেলেই হবে সমাপ্ত।

আমিও প্রেমিক ছিলাম প্রেমিকা
কারও দিঘল কালো লম্বা চুলের "
কারও একগাল হাসি মাখাই"
হেঁসে উঠতো সমস্ত ভুবনটা।
আমিও তার প্রতিজ্ঞাই বলে নিতাম সর্বদাই যেনো সুখ পাই তোমার এই হাসিটা

অথচ সে পরের ঘরে
আমাকে দেয়নি তারা "দেয়নি শূন্য পকেটের অভাব বলে।

দেখো দিব্য হেঁসে-খেলেই মাতাচ্ছে প্রিয়া
একটা পর-পরুষকে আপন করে নিয়ে বুকে।

অথচ তার প্রেমের কাছেই বার বার
জীবিত হয়ে ওঠে আমার মৃত শব্দরা।
লাল"নীল"দুঃখের রংধনুর মতো করে

তাই ভুলে যাই ক্ষুধার্ত পেটের কাছে
আমার সেই কবিতা।
ভুলে যাই প্রেম-ময় নারী মিথ্যে বলে।

কবিতা -ক্ষুধার্ত পেটের কাছে ভুলে যাই
কবিতা
ছবি সংগ্রহিত
লেখা কাব্য আহমেদ হৃদয়


#কবিতা

কবি মির্জা গালিব একটানা ৫৬ বছর ভাড়া বাসায় থেকেছেন। শেষ নিঃশ্বাসও ত্যাগ করেছেন দিল্লির একটি ভাড়া বাসাতেই। নিজের জন্য কোনো...
01/02/2026

কবি মির্জা গালিব একটানা ৫৬ বছর ভাড়া বাসায় থেকেছেন। শেষ নিঃশ্বাসও ত্যাগ করেছেন দিল্লির একটি ভাড়া বাসাতেই। নিজের জন্য কোনো বাড়ি তিনি তৈরি করেননি।
অথচ তিনিই বলেছিলেন— ‘‘আমার আত্মসম্মানবোধ এতো প্রখর যে স্বর্গের দরজা আমার জন্য যদি নিজেই না খুলে যায় তবে সেখান থেকে আমি নির্দ্বিধায় ফিরে আসব।’’

তাঁর ব্যক্তিত্ববোধ এতটাই প্রবল যে তিনি মনে করেন, যদি সেখানে তাঁর স্থান নির্ধারিত থাকে তবে দরজা খোলাই থাকবে, আর না থাকলে তিনি সম্মানের সাথে ফিরে আসাই শ্রেয় মনে করেন।

কবি তাঁর এই আত্মমর্যাদাবোধকে নিজের প্রাণশক্তি মনে করতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, তাঁর কাছে টাকা না থাকতে পারে, কিন্তু তাঁর বংশের আভিজাত্য আর কবিতার সম্পদ কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।

একবার ১৮৪২ সালের দিকে দিল্লির তৎকালীন ‘’দিল্লি কলেজ’’-এ ফারসি শিক্ষকের একটি পদ খালি হয়। ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে মির্জা গালিবকে এই চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। গালিব যখন ইন্টারভিউ দিতে যান, তখন তিনি পালকিতে করে কলেজের গেটে পৌঁছালে দেখা যায় সরকারের পক্ষ থেকে কেউ তাকে অভ্যর্থনা জানাতে আসেননি। ​সে সময় নিয়ম ছিল, কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তি আসলে কলেজের সেক্রেটারি বা প্রিন্সিপাল গেটে এসে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাবেন। কিন্তু সেদিন কলেজের সেক্রেটারি মি. টমাস তাঁকে নিতে গেটে আসেননি। গালিব পালকি থেকে না নেমে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করছিলেন। তিনি পালকি থেকে নামছিলেন না বলে ভেতরে খবর পাঠানো হলে মি. টমাস বেরিয়ে আসেন।

মি. টমাস বাইরে এসে গালিবকে ভেতরে আসার অনুরোধ করেন। কিন্তু গালিব তখন পাল্টা প্রশ্ন করেন যে গেটে তাঁকে কেন প্রথা অনুযায়ী অভ্যর্থনা জানানো হলো না।

তখন মি. টমাস বলেন, ‘‘আপনি যখন সম্রাটের দরবারে যান, তখন রাজকীয় প্রথা অনুযায়ী আপনাকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। কিন্তু এখানে আপনি এসেছেন একজন চাকরিপ্রার্থী হিসেবে, তাই দরবারের প্রথা এখানে খাটবে না।’’

​পরে মির্জা গালিব বলেছিলেন— ‘‘আমি চাকরি করতে চেয়েছিলাম আমার মর্যাদা বাড়ানোর জন্য, নিজের বর্তমান মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে চাকরি করতে নয়।’’

মির্জা গালিবের জীবন ছিল বৈপরীত্যে ভরা এক মহাকাব্য। একদিকে তাঁর বংশীয় আভিজাত্য ও প্রবল অহংকার, অন্যদিকে চরম দারিদ্র্য আর ঋণের বোঝা—এই দুইয়ের সংমিশ্রণই তাঁর জীবনকে করে তুলেছিল বর্ণিল ও রহস্যময়।

প্রকৃত অর্থে, তিনি এমন এক মানুষ ছিলেন যিনি অভাবের আঁধারে থেকেও নিজের ব্যক্তিত্ববোধের আলোতেই ছিলেন উদ্ভাসিত।

প্রিয় কবির বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি!

মির্জা গালিব, এক অনন্ত শব্দের জাদুকর।যখন তিনি বলেন—“যখনই দেখেছি তাকে আমি অন্য কারো সাথেতখনই বুঝেছি খোদা শিরক কেন ক্ষমা ক...
29/01/2026

মির্জা গালিব, এক অনন্ত শব্দের জাদুকর।

যখন তিনি বলেন—
“যখনই দেখেছি তাকে আমি অন্য কারো সাথে
তখনই বুঝেছি খোদা শিরক কেন ক্ষমা করেন না”
আমি স্তব্ধ হয়ে যাই। যেন হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন একসাথে স্থির হয়ে গেছে। তখনই তাঁর প্রেমে পড়ি।

আবার যখন বলেন—
“তুমিও তো গালিব ভারি চমৎকার;
সব দাবী, চাওয়া পাওয়া তোমার কেবল মানুষের কাছে,
আর অভিযোগ জানাও আল্লাহর কাছে।”
আমি আবারও তাঁর প্রেমে পড়ি। যেন তাঁর প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি পংক্তি আমাকে নতুন করে বন্দী করে রাখে।

তাঁকে জানার পর থেকে যেন আমি এক চক্রের মধ্যে আটকে গেছি—তাঁর কাব্যের গভীরতায়, তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির বিস্ময়ে। এক অদ্ভুত নেশা, যা থেকে বের হতে মন কখনোই চায় না।

গালিব, যার হৃদয় হয়তো ভাঙা ছিল, তবুও শব্দেরা তাকে পূর্ণ করেছে। তাঁর কাব্যে প্রতিফলিত হয়েছে জীবনের অপূর্ণতার সৌন্দর্য। বৈরাগ্য, প্রতারণা, আর দূরত্বের মিশ্রণে তিনি সৃষ্টি করেছেন এমন এক জগৎ, যা একইসঙ্গে বিষাদময় আর মোহনীয়।

তাঁকে চেনা যায়, আবার চেনা যায় না। তিনি অলঙ্ঘ্য এক প্রাচীর, যার অন্তর্দৃষ্টি অতলান্তিকের গভীরে লুকানো।

তাঁর কবিতা এক নিরন্তর দ্বৈততার গান—দুঃখ আর আনন্দের, বিশ্বাস আর সংশয়ের, প্রেম আর বেদনার।

অপূর্ণতার যে অসীম দুঃখ, তা তো কবিতার জন্য অবশ্যম্ভাবী। আর সেই দুঃখই যেন গালিবের কাব্যকে করেছে চিরস্থায়ী, চিরসুন্দর।

তিনি আমাদের শিখিয়েছেন—
সুন্দর মানেই দূরত্ব, আর সেই দূরত্বই তো আমাদের আকাঙ্ক্ষার রসদ।
তাঁর কাব্য যেন আমাদের হৃদয়-চিরে বলছে,
‘আমাকে জানো, কিন্তু পুরোপুরি চেনার চেষ্টা করো না। আমি নিজেই এক রহস্য।’

গালিব—তিনি আমাদের ছুঁয়ে যান, আবার আমাদের থেকে দূরেও থাকেন। তাঁর শব্দশৈলী আমাদের তৃষ্ণার্ত রাখে, তাঁর প্রেম আমাদের হৃদয়ে এক অনির্বাণ আগুন জ্বালিয়ে রাখে।
Olpo Olpo Golpo Kotha

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Olpo Olpo Golpo Kotha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share