কথক প্রকাশন

কথক প্রকাশন একটি বই, একটি ইতিহাস

আবুল হাসান: নিঃসঙ্গতার দীপ্ত কবি, যিনি আজও আমাদের সমকাল৪ আগস্ট বাংলা কবিতার এক উজ্জ্বল অথচ ক্ষণজন্মা নক্ষত্রের জন্মদিন। ...
04/08/2026

আবুল হাসান: নিঃসঙ্গতার দীপ্ত কবি, যিনি আজও আমাদের সমকাল

৪ আগস্ট বাংলা কবিতার এক উজ্জ্বল অথচ ক্ষণজন্মা নক্ষত্রের জন্মদিন। ১৯৪৭ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গীপাড়ার বর্ণি গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন কবি ও সাংবাদিক আবুল হাসান। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামে। পিতা আলতাফ হোসেন মিয়া ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা। জন্মনাম ছিল আবুল হোসেন মিয়া, কিন্তু বাংলা সাহিত্য তাঁকে চিরকাল মনে রাখবে আবুল হাসান নামেই।

মাত্র আটাশ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবন। অথচ এই অল্প সময়েই তিনি বাংলা কবিতায় এমন এক স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর নির্মাণ করেন, যা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর কবিতায় নিঃসঙ্গতা, প্রেম, মৃত্যু, অস্তিত্বের সংকট, ব্যক্তিমানুষের ভাঙন এবং মুক্তিযুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশের স্বপ্নভঙ্গ এক অনন্য কাব্যভাষায় প্রকাশ পেয়েছে। তাই আবুল হাসান কেবল একজন কবি নন; তিনি এক প্রজন্মের বেদনা, আশা ও আত্মসংকটের শিল্পিত ভাষ্যকার।

ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে এসএসসি এবং বরিশালের বিএম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু সাহিত্য ও সাংবাদিকতার টানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই ১৯৬৯ সালে দৈনিক ইত্তেফাক-এর বার্তা বিভাগে যোগ দেন। পরে গণবাংলা ও দৈনিক জনপদ-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

সাংবাদিকতা ছিল তাঁর পেশা, কিন্তু কবিতাই ছিল তাঁর আত্মপরিচয়।

১৯৭০ সালে এশীয় কবিতা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জনের মধ্য দিয়ে তাঁর প্রতিভা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করে। স্বাধীনতার পরপরই প্রকাশিত ‘রাজা যায় রাজা আসে’ (১৯৭২), ‘যে তুমি হরণ করো’ (১৯৭৪) এবং মৃত্যুর অল্প আগে প্রকাশিত ‘পৃথক পালঙ্ক’ (১৯৭৫) বাংলা কাব্যের ইতিহাসে স্থায়ী আসন লাভ করেছে। মৃত্যুর পর প্রকাশিত ‘ওরা কয়েকজন’ (কাব্যনাট্য) এবং ‘আবুল হাসান গল্প-সংগ্রহ’ তাঁর বহুমাত্রিক সাহিত্যপ্রতিভার সাক্ষ্য বহন করে।

আবুল হাসানের কবিতার অন্যতম শক্তি তাঁর আত্মজৈবনিক বেদনা। তিনি ব্যক্তিগত নিঃসঙ্গতাকে জাতীয় অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে দিতে পেরেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত পঙ্ক্তি—

"ঝিনুক নীরবে সহো, ঝিনুক নীরবে সহে যাও / ভিতরে বিষের বালি, মুখ বুঁজে মুক্তা ফলাও।"

—শুধু ব্যক্তিগত সহিষ্ণুতার কথা বলে না; এটি যেন এক সংগ্রামী জাতিরও প্রতীক, যারা যন্ত্রণা ধারণ করেও সৌন্দর্যের জন্ম দেয়।

আবার ‘কালো কৃষকের গান’-এ তিনি লিখেছেন—

"দুঃখের এক ইঞ্চি জমিও আমি অনাবাদী রাখবো না আর আমার ভেতর।"

এই উচ্চারণ তাঁর কবিসত্তারই পরিচয়—যেখানে দুঃখ পরাজয় নয়; বরং সৃজনের উর্বর ভূমি।

শেষ দিনগুলোর আলো-আঁধারি

জীবনের শেষ পর্যায়ে যক্ষ্মা তাঁকে ক্রমশ গ্রাস করছিল। তাঁর চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বার্লিনে পাঠিয়েছিল—তৎকালীন সময়ে একজন কবির জন্য এমন উদ্যোগ ছিল বিরল এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সাহিত্যিকের প্রতি এক অসাধারণ সম্মান।

কিন্তু সুস্থ হয়ে ওঠার আশাটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দেশে ফিরে আবার অসুস্থ হয়ে তিনি পিজি হাসপাতালে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) ভর্তি হন। চিকিৎসকেরা যখন প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছেন, তখনও একজন মানুষ তাঁর পাশে অটল ছিলেন—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক, কবি ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সুরাইয়া খানম।

সুরাইয়া খানমের স্মৃতিতে আবুল হাসান

লেখক মুহম্মদ জুবায়ের তাঁর স্মৃতিচারণে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য তুলে ধরেছেন। ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর সকালে আবুল হাসানের মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনি হাসপাতালে পৌঁছে দেখেন—সুরাইয়া খানম কবির নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন, গভীর শোক ও অসহায়তায় ভেঙে পড়া এক মানুষ।

সেই মুহূর্তে সুরাইয়া খানমের একমাত্র আকুতি ছিল, কবির শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী যেন তাঁর সমাধি ঢাকায় হয়। তিনি বলেছিলেন, হাসান চেয়েছিলেন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাশে শায়িত হতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি; পরিবারের সিদ্ধান্তে তাঁকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।

মুহম্মদ জুবায়ের লিখেছেন, মানুষের জীবনে এমন কিছু দৃশ্য থাকে, যা কখনো বিস্মৃত হয় না। সুরাইয়া খানমের সেই অসহায় মুখ তাঁর কাছে আজও তেমনই এক অবিস্মরণীয় স্মৃতি।

সুরাইয়া খানম: মেধা, সৌন্দর্য ও মানবিকতার এক বিরল সমন্বয়

সুরাইয়া খানম শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না; তিনি ছিলেন কবি, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং সাহিত্যানুরাগী এক অসাধারণ মানুষ। ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং বিজয়ের পর লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের গৌরব অর্জন করেন।

মুহম্মদ জুবায়ের তাঁর স্মৃতিচারণে লিখেছেন, সুরাইয়া খানমের মধ্যে মেধা, সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বের যে সমন্বয় ছিল, তা বিরল। কিন্তু তাঁর সৌন্দর্য নিয়ে যত আলোচনা হয়েছে, শিক্ষক, কবি ও মুক্তিযুদ্ধের কর্মী হিসেবে তাঁর অবদান ততটা আলোচিত হয়নি।

বাংলা কবিতার এক অনন্ত উপস্থিতি

আবুল হাসান চলে গেছেন ১৯৭৫ সালের ২৬ নভেম্বর। কিন্তু তাঁর কবিতা আজও সমান জীবন্ত। আধুনিক বাংলা কবিতায় নিঃসঙ্গতার যে গভীরতম ভাষা তিনি নির্মাণ করেছেন, তা আজও নতুন প্রজন্মকে আলোড়িত করে।

তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত বেদনা কখনো সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়; প্রেম কখনো কেবল ব্যক্তিগত নয়; মৃত্যু কখনো শেষ নয়। তাই তাঁর কাব্য আমাদের শেখায়—দুঃখও সৃজনের শক্তি হতে পারে, নিঃসঙ্গতাও হয়ে উঠতে পারে ইতিহাসের ভাষা।

জন্মদিনে এই অসামান্য কবিকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি। তাঁর কবিতার মতোই তিনি বাংলা সাহিত্যে চিরজাগরুক—

"দুঃখের এক ইঞ্চি জমিও আমি অনাবাদী রাখবো না আর আমার ভেতর।"

বাংলা কবিতার ইতিহাসে এই উচ্চারণ চিরকাল অনুরণিত হবে।

তথ্যসূত্র:
শহিদুল ইসলাম, বাংলাপিডিয়া; মুহম্মদ জুবায়ের, আমাদের সুরাইয়া খানম; আবুল হাসানের প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থসমূহ।

🚨 HSC English Version (National Curriculum) শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুখবর! 📚আপনার HSC Chemistry প্রস্তুতিকে আরও সহজ, গো...
01/08/2026

🚨 HSC English Version (National Curriculum) শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুখবর! 📚

আপনার HSC Chemistry প্রস্তুতিকে আরও সহজ, গোছানো ও সফল করতে জনপ্রিয় রসায়ন শিক্ষক নিজাম স্যার-এর Chemistry First Paper বইটি এখন সারা বাংলাদেশে Cash on Delivery (COD)-এ পাওয়া যাচ্ছে।

💰 প্রচ্ছদমূল্য: ৳৬৯০ (কোনো ডেলিভারি চার্জ নেই)

🎉 কোনো ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই প্রচ্ছদমূল্যে বইটি সংগ্রহ করুন!

✨ কেন এই বইটি নেবেন?

✅ সর্বশেষ NCTB HSC English Version সিলেবাস অনুযায়ী রচিত।
✅ A Specialised Chemistry Textbook for HSC English Version Students.
✅ সহজ, সাবলীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব ইংরেজিতে প্রতিটি বিষয়ের ব্যাখ্যা।
✅ Concept-based ও পরীক্ষামুখী উপস্থাপনা।
✅ প্রতিটি অধ্যায়ের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা।
✅ ২০১৫ সাল থেকে সর্বশেষ পর্যন্ত সকল বোর্ড প্রশ্ন সংযোজন।
✅ সকল বোর্ডের সকল বছরের MCQ-এর উত্তর সংযোজিত।
✅ অধ্যায়ভিত্তিক MCQ ও CQ অনুশীলন।
✅ গুরুত্বপূর্ণ নোট, শর্টকাট ও পরীক্ষায় ভালো করার কার্যকর টিপস।
✅ মানসম্মত চিত্র, ডায়াগ্রাম, টেবিল ও রাসায়নিক সমীকরণ।
✅ মুখস্থ নয়, ধারণাভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব।
✅ প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে দ্রুত রিভিশনের জন্য সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ।
✅ গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক বিষয় সহজবোধ্য টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন।
✅ পরীক্ষায় সহজে আঁকা যায়—এমনভাবে সকল চিত্র ও ডায়াগ্রাম সাজানো হয়েছে।
✅ HSC Board Examination, Admission Test এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
✅ HSC Chemistry-তে A+ অর্জনের লক্ষ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য সহায়ক গ্রন্থ।

📦 অর্ডার করতে WhatsApp-এ নিচের তথ্যগুলো পাঠান:

◑ বইয়ের সংখ্যা:
◑ নাম:
◑ মোবাইল নম্বর:
◑ বিকল্প মোবাইল নম্বর (যদি থাকে):
◑ সম্পূর্ণ ঠিকানা:

📲 WhatsApp-এ অর্ডার করুন:
👉 https://wa.me/8801991955607

অথবা সরাসরি WhatsApp করুন:
📞 01991-955607

⏳ আজই অর্ডার করুন!
🚚 কোনো ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই Cash on Delivery (COD)-এ সারা বাংলাদেশে আপনার ঠিকানায় বইটি পৌঁছে যাবে, ইনশাআল্লাহ।

📚 সরাসরি নিম্নোক্ত লাইব্রেরি থেকেও সংগ্রহ করতে পারবেন

📖 নন্দন বইঘর, কাটাবন, ঢাকা
📞 01719-289111

📖 এস এস স্টেশনারি, ২ নং গেইট, চট্টগ্রাম
📞 01642-776417

📖 সিদ্দিক লাইব্রেরি, ও. আর. নিজাম রোড, জিইসি, চট্টগ্রাম
📞 01827-900843

📚 বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুখবর!কথক প্রকাশন নিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক বই, যা বিজ্ঞান ...
01/08/2026

📚 বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুখবর!
কথক প্রকাশন নিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিক বই, যা বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাকে করবে আরও সহজ, কার্যকর ও আত্মবিশ্বাসী।
🌟 বিশেষ আকর্ষণ:
✅ ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী
✅ পাঠ্যক্রমভিত্তিক ও সহজবোধ্য উপস্থাপনা
✅ পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কার্যকর সহায়ক
✅ নির্ভুল তথ্য, আধুনিক বিন্যাস ও মানসম্মত প্রকাশনা
একটি ভালো বই শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলের পথই দেখায় না, বরং ভবিষ্যতের সাফল্যের ভিত্তিও গড়ে তোলে।
কথক প্রকাশন—জ্ঞান, মান এবং আস্থার নির্ভরযোগ্য ঠিকানা।
📖 আজই সংগ্রহ করুন আপনার কপি এবং এগিয়ে থাকুন সবার আগে।

📚 **শিশুর হাসি, আনন্দ আর শিক্ষার রঙে রঙিন এক অনন্য ছড়ার বই!** 🌈**সুসেন কান্তি দাশ**-এর লেখা ***রসে ভরা ছড়ার বড়া***—শিশু-...
31/07/2026

📚 **শিশুর হাসি, আনন্দ আর শিক্ষার রঙে রঙিন এক অনন্য ছড়ার বই!** 🌈

**সুসেন কান্তি দাশ**-এর লেখা ***রসে ভরা ছড়ার বড়া***—শিশু-কিশোরদের জন্য এক অসাধারণ ছড়ার সম্ভার।

এই বইয়ের প্রতিটি ছড়ায় আছে নির্মল আনন্দ, সহজ ভাষা, কল্পনার ডানা আর জীবনের ছোট ছোট সুন্দর শিক্ষা। ছন্দের মাধুর্যে ভরপুর প্রতিটি পৃষ্ঠা শিশুদের পাঠাভ্যাস গড়ে তুলবে, ভাষার সৌন্দর্য চিনতে শেখাবে এবং আনন্দময় শৈশবকে আরও রঙিন করে তুলবে।

✨ বইটির বিশেষত্ব:
📖 সহজ, সাবলীল ও ছন্দময় ভাষা
🎈 হাসি, মজা ও কল্পনার অপূর্ব সমন্বয়
🌼 শিশুদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনে সহায়ক
👨‍👩‍👧‍👦 পরিবারে একসঙ্গে পড়ার জন্য উপযোগী

শিশুর হাতে দিন এমন একটি বই, যা তাকে শুধু আনন্দই দেবে না, ভাষা ও সাহিত্যের প্রতিও গড়ে তুলবে ভালোবাসা।

***রসে ভরা ছড়ার বড়া***—প্রতিটি শিশুর বুকশেলফে থাকার মতো একটি আনন্দের বই।

📚 **সংগ্রহ করুন আজই এবং উপহার দিন আপনার প্রিয় শিশুকে আনন্দে ভরা ছড়ার এক অনন্য জগৎ।**

#রসে_ভরা_ছড়ার_বড় #সুসেন_কান্তি_দাশ #শিশুসাহিত্য #ছড়ারবই #বইপড়ি #শিশুপাঠ #বাংলাশিশুসাহিত্য

আলহামদুলিল্লাহ। এইচএসসি ইংরেজি ভার্সন শিক্ষার্থীদের জন্য আমার রচিত "Chemistry First Paper" (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) বইটি ...
30/07/2026

আলহামদুলিল্লাহ। এইচএসসি ইংরেজি ভার্সন শিক্ষার্থীদের জন্য আমার রচিত "Chemistry First Paper" (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি) বইটি কথক প্রকাশন, ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

সর্বশেষ NCTB সিলেবাস অনুসরণ করে বইটি প্রণয়ন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য রসায়নকে সহজ, বোধগম্য ও আকর্ষণীয় করে তুলতে এতে সংযোজন করা হয়েছে সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় ব্যাখ্যা, মানসম্মত চিত্র, ডায়াগ্রাম, ফ্লোচার্ট এবং ধারণাভিত্তিক আলোচনা।

✨ বইটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য

✅ সর্বশেষ NCTB HSC English Version সিলেবাস অনুযায়ী রচিত।
✅ A Specialised Chemistry Textbook for HSC English Version Students.
✅ প্রতিটি বিষয় সহজ, সাবলীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব ইংরেজিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
✅ দ্রুত বোঝার সুবিধার্থে পয়েন্টভিত্তিক ও পরীক্ষামুখী উপস্থাপনা।
✅ প্রতিটি অধ্যায়ের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা এবং ধারণাভিত্তিক (Concept-based) ব্যাখ্যা।
✅ ২০১৫ সাল হতে সকল বোর্ড প্রশ্ন সংযোজন করা হয়েছে।
✅ অধ্যায়ভিত্তিক MCQ ও CQ অনুশীলনের সুব্যবস্থা।
✅ গুরুত্বপূর্ণ নোট, শর্টকাট ও পরীক্ষায় ভালো করার কার্যকর টিপস সংযোজিত।
✅ সহজে বোঝার জন্য মানসম্মত চিত্র, ডায়াগ্রাম, টেবিল ও রাসায়নিক সমীকরণ।
✅ মুখস্থনির্ভর নয়, বরং ধারণাভিত্তিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।
✅ প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ দ্রুত রিভিশনের জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
✅ গুরুত্বপূর্ণ তুলনামূলক বিষয়গুলো সহজবোধ্য টেবিলের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে।
✅ পরীক্ষায় সহজে আঁকা যায়—এমনভাবে সকল চিত্র ও ডায়াগ্রাম উপস্থাপন করা হয়েছে।
✅ HSC Board Examination, University Admission Test এবং অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
✅ এইচএসসি রসায়নে A+ অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভরযোগ্য সহায়ক গ্রন্থ।

আশা করি, বইটি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবক—সবার জন্যই একটি কার্যকর ও বিশ্বস্ত সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

📚 বইটি দেশের স্বনামধন্য লাইব্রেরিগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।

📞 ডিসকাউন্টসহ বইটি সংগ্রহ করতে যোগাযোগ করুন:

📖 নন্দন বইঘর, কাটাবন, ঢাকা-01719-289111
📖 এস এস স্টেশনারি: 01642-776417
📖 সিদ্দিক লাইব্রেরি: 01827-900843

এছাড়াও, আমার সাথেও সরাসরি যোগাযোগ করে বইটি সংগ্রহ করতে পারেন।

আপনাদের আন্তরিক দোয়া, ভালোবাসা ও মূল্যবান মতামত একান্তভাবে কাম্য।

ধন্যবাদান্তে
মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন

আল পাচিনো (জন্ম ২৫ এপ্রিল, ১৯৪০) একজন কিংবদন্তি আমেরিকান মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা, যিনি তার তীব্র এবং বিস্ফোরক অভিনয়ের ...
25/04/2026

আল পাচিনো (জন্ম ২৫ এপ্রিল, ১৯৪০) একজন কিংবদন্তি আমেরিকান মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা, যিনি তার তীব্র এবং বিস্ফোরক অভিনয়ের জন্য পরিচিত । ১৯৭২ সালে দ্য গডফাদার চলচ্চিত্রে মাইকেল কর্লিওন চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন । দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি স্কারফেস, সার্পিকো, ডগ ডে আফটারনুন এবং সেন্ট অফ আ ওম্যান (সেরা অভিনেতা অস্কার বিজয়ী) এর মতো ক্লাসিক চলচ্চিত্র উপহার দিয়েছেন। জন্ম: ২৫ এপ্রিল, ১৯৪০, নিউ ইয়র্ক সিটি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র । পুরো নাম: আলফ্রেডো জেমস পাচিনো । কর্মজীবন শুরু: ১৯৬০-এর দশকে মঞ্চ নাটকের মাধ্যমে, এবং ১৯৬৯ সালে চলচ্চিত্র (Me, Natalie) । বিখ্যাত চলচ্চিত্র: দ্য গডফাদার (ত্রয়ী), সার্পিকো, ডগ ডে আফটারনুন, স্কারফেস, সেন্ট অফ আ ওম্যান, হিট । পুরস্কার: সেন্ট অফ আ ওম্যান (১৯৯২) ছবির জন্য সেরা অভিনেতার একাডেমি পুরস্কার (অস্কার) জয় । এছাড়াও তিনি টনি এবং এমি পুরস্কার জিতে "ট্রিপল ক্রাউন অফ অ্যাক্টিং" অর্জন করেছেন । অভিনয় শৈলী: তিনি মেথড অ্যাক্টিং-এর জন্য পরিচিত, যা তার চরিত্রে চরম তীব্রতা ও শক্তি নিয়ে আসে । তিনি চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে বিবেচিত হন

বাংলা সাহিত্যে ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় এক অনন্য এবং উজ্জ্বল একটি নাম। তিনি একাধারে একজন খ্যাতনামা বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক ও...
25/04/2026

বাংলা সাহিত্যে ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় এক অনন্য এবং উজ্জ্বল একটি নাম। তিনি একাধারে একজন খ্যাতনামা বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক ও সম্পাদক। তাঁর লেখা উপন্যাস পড়ে সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন অনেকেই। ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় নামটা দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম উনি মেয়ে হবেন। এই ভুলটা বহুদিন ধরে ছিলো। আসলে এটি তাঁর ছদ্মনাম। তাঁর আসল নাম তারাপদ। পাঠকসৃষ্টিতে তাঁর ভূমিকা অনন্য। 'শাপমোচন' ও 'চিতা বহ্নিমান' তাঁর বিখ্যাত দুইটি উপন্যাস। এই দুই উপন্যাসের জনপ্রিয়তা এখনও তেমনই আছে। এছাড়া তাঁর সৃষ্ট অন্যান্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে-'আকাশ বনানী জাগে', 'আশার ছলনে ভুলি', 'বহ্নিকন্যা', 'ভাগীরথী বহে ধীরে', 'মন ও ময়ূরী', 'জলে জাগে ঢেউ', 'মীরার বধূয়া', 'স্বাক্ষর', 'চরণ দিলাম রাঙায়ে', 'ফুলশয্যার রাত', 'বধূ' বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া প্রকাশিত হয় তার রচিত দুটি কাব্যগ্রন্থ হিঙ্গুল নদীর কূলে ও কাশবনের কন্যা। তাঁর উপন্যাসের জনপ্রিয়তা এতটাই ছিল যে চলচ্চিত্রের কাহিনী হিসেবেও সেগুলো সমাদৃত হয়েছিল। ১৯৫৫ সালে তাঁর রচিত 'শাপমোচন' উপন্যাস অবলম্বনে কলকাতার পরিচালক সুধীর মুখার্জি উত্তম কুমার-সুচিত্রা সেন জুটিকে নিয়ে একই নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। এছাড়া ২০০৯ সালে দুর্গা পূজা উপলক্ষ্যে বাংলাদেশী নাট্য নির্মাতা এসএম দুলাল একই নামে একটি টেলিফিল্ম নির্মাণ করেন। আহসান হাবীব নাসিম ও মেহবুবা মাহনুর চাঁদনী অভিনীত টেলিফিল্মটি এনটিভিতে প্রচারিত হয়। ১৯৭৫ সালের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। খ্যাতনামা বাঙালি লেখক, ঔপন্যাসিক ও সম্পাদক ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় ১৯০৪ সালের ৭ মার্চ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার খয়রাশোলের নাকড়াকোন্দা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার নামে ২০০৭ সালে এই গ্রামের একটি পাড়ার নামকরণ করা হয় 'ফাল্গুনী পল্লি'। হেতমপুর কলেজে আই.এ. পড়ার সময়ই রাজরোষে পড়েন। পরে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বি.এ পাশ করেন। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন বঙ্গলক্ষী মাসিকপত্রের সম্পাদক। সেখান থেকে্ই তার সাহিত্য জীবন শুরু হয়। তার রচিত অন্যতম এবং বহুপঠিত দুটি উপন্যাস চিতা বহ্নিমান ও শাপমোচন। এছাড়াও তার অন্যান্য উপন্যা্স গুলো হলোঃ আকাশ বনানী জাগে (১৯৪৩), ২। আশার ছলনে ভুলি (১৯৫০), ৩। বহ্নিকন্যা (১৯৫১), ৪। ভাগীরথী বহে ধীরে (১৯৫১), ৫। মন ও ময়ূরী (১৯৫২), ৬। জলে জাগে ঢেউ (১৯৫৪), ৭। মীরার বধূয়া (১৯৫৬), ৮। স্বাক্ষর (১৯৫৭), ৯। চরণ দিলাম রাঙায়ে (১৯৬৬), ১০। বধূ, ১১। ফুলশয্যার রাত, ১২। ফাল্গুনী অমনিবাস। ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়ের লেখা কাব্যগ্রন্থগুলোর নামঃ ১। হিঙ্গুল নদীর কূলে (১৯৩৫) ও কাশবনের কন্যা (১৯৩৮)

প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল সারা বিশ্বে ‘বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস’ বা ‘বিশ্ব বই দিবস’ পালন করা হয়। বই পড়া, প্রকাশনা এবং কপিরাইট ব...
25/04/2026

প্রতি বছর ২৩ এপ্রিল সারা বিশ্বে ‘বিশ্ব বই ও কপিরাইট দিবস’ বা ‘বিশ্ব বই দিবস’ পালন করা হয়। বই পড়া, প্রকাশনা এবং কপিরাইট বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে ১৯৯৫ সাল থেকে ইউনেস্কোর (UNESCO) উদ্যোগে এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

দিবসটির গুরুত্ব ও ইতিহাস:
প্রতিষ্ঠা: ১৯৯৫ সালের ২৩ এপ্রিল ইউনেস্কো প্যারিসে অনুষ্ঠিত তাদের সাধারণ সম্মেলনে প্রথমবার এই দিনটিকে বিশ্ব বই দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
উদ্দেশ্য: বিশ্বজুড়ে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং লেখক ও প্রকাশকদের অধিকার রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বিশেষত্ব: ২৩ এপ্রিল তারিখটি বেছে নেওয়ার একটি বিশেষ কারণ রয়েছে। দিনটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক উইলিয়াম শেক্সপিয়র, মিগেল দে থের্ভান্তেস এবং ইনকা গার্সিলাসো দে লা ভেগার মতো কালজয়ী লেখকদের মৃত্যুবার্ষিকী।
ভিন্নতা: যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে এই দিবসটি মার্চ মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার ভিন্নভাবে পালিত হয়।

২০২৬ সালের বিশ্ব বই দিবসের প্রতিপাদ্য ও আয়োজন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে ইউনেস্কোর অফিসিয়াল সাইট ভিজিট করতে পারেন।
আপনার পছন্দের কোন লেখকের বই আপনার সবচেয়ে বেশি প্রিয়?

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ছিল ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সংঘটিত সূর্য সেন-এর নেতৃত্বে কয়েকজন স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীর ব্রিটিশ...
22/04/2026

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ছিল ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সংঘটিত সূর্য সেন-এর নেতৃত্বে কয়েকজন স্বাধীনতাকামী বিপ্লবীর ব্রিটিশ পুলিশ ও সহায়ক বাহিনীর চট্টগ্রামে অবস্থিত অস্ত্রাগার দখলের প্রয়াস।

বিপ্লবীরা
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের সাথে জড়িত ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন পরাধীন ভারতের স্বাধীনতাকামী অসীমসাহসী বিপ্লবীরা। এই বিপ্লবীদের নেতৃত্বে ছিলেন মাষ্টারদা সূর্য সেন। সূর্য সেন ছাড়াও এই দলে ছিলেন গণেশ ঘোষ, লোকনাথ বল, নির্মল সেন, অনন্ত সিং,অপূর্ব সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, নরেশ রায়, ত্রিপুরা সেনগুপ্ত, বিধুভূষণ ভট্টাচার্য, শশাঙ্কশেখর দত্ত, অর্ধেন্দু দস্তিদার, হরিগোপাল বল, প্রভাসচন্দ্র বল, তারকেশ্বর দস্তিদার, মতিলাল কানুনগো, জীবন ঘোষাল, আনন্দ গুপ্ত, নির্মল লালা, জিতেন দাসগুপ্ত, মধুসূদন দত্ত, পুলিনচন্দ্র ঘোষ, সুবোধ দে, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং কল্পনা দত্ত। এদের সাথে সুবোধ রায় নামক ১৪ বছরের এক বালকও ছিলেন।

পরিকল্পনা
সূর্য সেনের পরিকল্পনা ছিল চট্টগ্রাম শহরের অস্ত্রাগার দুটো দখল করা, এরপর টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ অফিস ধ্বংস করা এবং এরপর সরকারি ও সামরিক বাহিনীর অফিসারদের ক্লাব ইউরোপিয়ান ক্লাবে হামলা চালানো। এই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিলো ব্রিটিশদের অস্ত্রশস্ত্র লুট করা এবং রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া।

অস্ত্রাগার দখল
অভিযান শুরু হয় ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল, রাত দশটায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গণেশ ঘোষের নেতৃত্বে একদল বিপ্লবী পুলিশ অস্ত্রাগারের এবং লোকনাথ বলের নেতৃত্বে দশজনের একটি দল সাহায্যকারী বাহিনীর অস্ত্রাগারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা গোলাবারুদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। বিপ্লবীরা সফলভাবে টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সক্ষম হন এবং রেল চলাচল বন্ধ করে দেন। ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখা - এই নামের অধীনে সর্বমোট ৬৫ জন বিপ্লবী এই বিপ্লবে অংশ নেন। সফল বিপ্লবের পর বিপ্লবী দলটি পুলিশ অস্ত্রাগারে সমবেত হন এবং সেখানে মাস্টারদা সূর্য সেনকে মিলিটারি স্যালুট প্রদান করা হয়। সূর্য সেন জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং অস্থায়ী বিপ্লবী সরকার ঘোষণা করেন। ভোর হবার পূর্বেই বিপ্লবীরা চট্টগ্রাম শহর ত্যাগ করেন এবং নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে যাত্রা করেন। এ‍‍বং পাহাড়ের গায়ে আশ্রয় গ্রহণ করেন।।

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের সাথে জড়িত ছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন পরাধীন ভারতের স্বাধীনতাকামী অসীমসাহসী বিপ্লবীরা। এই বিপ্লবীদের নেতৃত্বে ছিলেন মাষ্টারদা সূর্য সেন। সূর্য সেন ছাড়াও এই দলে ছিলেন গণেশ ঘোষ, লোকনাথ বল, নির্মল সেন, অনন্ত সিং, অপূর্ব সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী, নরেশ রায়, ত্রিপুরা সেনগুপ্ত, বিধুভূষণ ভট্টাচার্য, শশাঙ্কশেখর দত্ত, অর্ধেন্দু দস্তিদার, হরিগোপাল বল, প্রভাসচন্দ্র বল, তারকেশ্বর দস্তিদার, মতিলাল কানুনগো, জীবন ঘোষাল, আনন্দ গুপ্ত, নির্মল লালা, জিতেন দাশগুপ্ত, মধুসূদন দত্ত, পুলিনচন্দ্র ঘোষ, সুবোধ দে, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার এবং কল্পনা দত্ত। এদের সাথে সুবোধ রায় নামক ১৪ বছরের এক বালকও ছিলেন।

ফলাফল
কয়েক দিন পরে, পুলিশ বিপ্লবীদের অবস্থান চিহ্নিত করে। চট্টগ্রাম সেনানিবাস সংলগ্ন জালালাবাদ পাহাড়ে আশ্রয় নেওয়া বিপ্লবীদের কয়েক হাজার সৈন্য ঘিরে ফেলে ২২ এপ্রিল ১৯৩০ সালে।

চট্টগ্রামের জালালাবাদ যুদ্ধের শহীদবৃন্দ
দুই ঘণ্টার প্রচন্ড যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর ৭০ থেকে ১০০ জন এবং বিপ্লবী বাহিনীর ১২ জন শহীদ হন।[১] এঁরা হচ্ছেন, নরেশ রায়, ত্রিপুরা সেনগুপ্ত, বিধুভূষণ ভট্টাচার্য, হরিগোপাল বল, মতিলাল কানুনগো, প্রভাসচন্দ্র বল, শশাঙ্কশেখর দত্ত, নির্মল লালা, জিতেন দাশগুপ্ত, মধুসূদন দত্ত, পুলিনচন্দ্র ঘোষ, এবং অর্ধেন্দু দস্তিদার।[২] জালালাবাদ পাহাড়ের যুদ্ধে অংশ নিয়ে পলায়ন করতে সক্ষম হলেও পরবর্তীকালে পুলিসের আক্রমণে দুজন শহীদ হন, এঁরা হচ্ছেন অপূর্ব সেন এবং জীবন ঘোষাল।

সূর্য সেন ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে তার লোকজনকে পার্শ্ববর্তী গ্রামে লুকিয়ে রাখে এবং বিপ্লবীরা পালাতে সক্ষম হয়। কলকাতা পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন গ্রেফতার হয়। কয়েকজন বিপ্লবী পুনরায় সংগঠিত হয়। ৫ ই মে, দেবপ্রসাদ গুপ্ত, মনোরঞ্জন সেন, রজতকুমার সেন, স্বদেশরঞ্জন রায়, ফণিভূষণ নন্দী এবং সুবোধ চৌধুরী চট্টগ্রামের ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করার চেষ্টা করে, কিন্ত ব্যর্থ হয়। পুলিশ তাদের অনুসরণ করে এবং কালারপোলের খণ্ডযুদ্ধে (৬ই মে ১৯৩০) দেবপ্রসাদ,মনোরঞ্জন,রজত ও স্বদেশ নিহত হয়। ফণিভূষণ এবং সুবোধ আহত হন এবং ধরা পড়েন। পরবর্তীকালে ১৯৩২ সালের ২৪ শে সেপ্টেম্বর প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ করেন এবং শহীদ হন। ১৯৩০ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত ২২ কর্মকর্তা ২২০ জন বিপ্লবী দ্বারা নিহত হয়। দেবপ্রসাদ গুপ্তের ভাই আনন্দপ্রসাদ গুপ্তকে বিচারের মাধ্যমে নির্বাসন দেয়া হয়।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন]

১৯৩৩ সালে মাস্টারদা সূর্যসেন এবং তারকেশ্বর দস্তিদারের মৃত্যুদণ্ডের প্রতিশোধ গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম যুব বিপ্লবী দলের চার জন সদস্য ইউরোপীয় ক্লাব (পল্টন) মাঠে ইংরেজদের ক্রিকেট খেলার সময় ৭ জানুয়ারি, ১৯৩৪ তারিখে বোমা ও রিভলভারের সাহায্যে কয়েকজন অফিসারকে আক্রমণ করেন। এতে পুলিস সুপার পিটার ক্লিয়ারি নিহত হয় এবং কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ আহত হন। মিলিটারির পাল্টা আক্রমণে ঘটনাস্থলে নিত্যরঞ্জন সেন এবং হিমাংশুবিমল চক্রবর্তী নিহত হন। কৃষ্ণকুমার চৌধুরী এবং হরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী গ্রেপ্তার হন।[৩] বিচারে দুজনেরই ফাঁসি হয় এবং ১৯৩৪ সনের ৭ জানুয়ারি কৃষ্ণকুমার চৌধুরীর ফাঁসি বহরমপুর জেলে কার্যকর করা হয়। একই দিন হরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণ করেন।

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল মামলায় যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত
চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখল মামলায় অনন্ত সিং, লোকনাথ বল, গণেশ ঘোষ, লালমোহন সেন, সুবোধ চৌধুরী, ফণিভূষণ নন্দী, আনন্দ গুপ্ত, ফকির সেন, সহায়রাম দাস, বনবীর দাসগুপ্ত, সুবোধ রায় এবং সুখেন্দু দস্তিদারের যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর দণ্ড হয়।[২] এই মামলায় অভিযুক্ত সকল বিপ্লবীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার পাশাপাশি 'বিস্ফোরক পদার্থ আইন, ১৯০৮'-এর ৪বি ধারা এবং 'ভারতীয় অস্ত্র আইন, ১৮৭৮'-এর ১৯এফ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। মামলায় বিপ্লবীদের পক্ষে মামলা লড়েছিলেন শরৎচন্দ্র বসু, সন্তোষকুমার বসু এবং বীরেন্দ্রনাথ শাসমল।

বিচার
হামলায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিচার সমাপ্ত হয় ১ জানুয়ারি ১৯৩২ সালে এবং রায় ঘোষণা করা হয় ১ মার্চ ১৯৩২ সালে। আসামীদের মধ্যে ১২ জনকে নির্বাসন, ২ জনকে তিন বছরের জেল এবং বাকি ৩২ জনকে খালাস দেয়া হয়।

গ্রেপ্তার ও সূর্য সেনের মৃত্যু

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে সূর্য সেনের ফাঁসির মঞ্চ। বাংলাদেশ সরকার এটি একটি স্মৃতিস্তম্ভ হিসাবে সংরক্ষণ করেছে।

সূর্য সেন গৈরলা গ্রামে ক্ষীরোদপ্রভা বিশ্বাসের বাড়িতে আত্মগোপন করে ছিলেন। ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩ সালে, রাতে সেখানে বৈঠক করছিলেন কল্পনা দত্ত, শান্তি চক্রবর্তী, মণি দত্ত, ব্রজেন সেন আর সুশীল দাসগুপ্ত। পুরস্কার টাকা বা ঈর্ষা, বা উভয়ের জন্য, ব্রজেন সেনের সহোদর নেত্র সেন সূর্য সেনের উপস্থিতির খবর পুলিশকে জানিয়ে দেয়।[৪] সেখানে অস্ত্রসহ সূর্য সেন এবং ব্রজেন সেন ধরা পড়েন। ধরা পড়ার সময় পুলিশ অফিসার মি: হিকস মাস্টারদাকে বলে, " I shall hang you "

হিকস সদলবলে চলে যাবার পর মাস্টারদা ব্রজেনকে বললেন -

"আমিও ফাঁসি চাই। আমার ফাঁসি হবে। তোমরা রইলে। জেল থেকে বেরিয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করবে। ধলঘাটের বিশ্বাসঘাতকতা নিরক্ষর গ্ৰাম্য লোকের দ্বারা হয়েছিল বলে ক্ষমা করেছি। এবারের বিশ্বাসঘাতকতা যেন কিছুতেই ক্ষমা না পায়। আমাদের দুর্বলতা যেন প্রকাশ না পায়। এতে বিপ্লবী কাজের খুব ক্ষতি হবে। "

প্রধানত মাস্টারদার নির্দেশেই হত্যা করা হয় নেত্র সেনকে। [৫]নেত্র টাকা পাবার আশায় আনন্দে দিন গুনতে থাকে। কিন্তু টাকা পাওয়ার আগেই কিরণ সেন নামক এক বিপ্লবী (কাকতালীয়ভাবে কিরণ সেনের নেত্রর বাড়িতে যাতায়াত ছিল, ব্রজেন সেনের বন্ধু হিসেবে)র হাতে তার মুণ্ডচ্ছেদ হয় ৯ই জানুয়ারি ১৯৩৪ সালে (মাস্টারদার ফাঁসির মাত্র তিন দিন পূর্বে)। কিরণময় সেনের সাথে ছিলেন আরেক বিপ্লবী রবীন্দ্র (খোকা) নন্দী।

১২ জানুয়ারি ১৯৩৪ সালে তারকেশ্বর দস্তিদারসহ সূর্য সেনকে ব্রিটিশ সরকার ফাঁসি কার্যকর করে।

হরিগোপাল বল, বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদ বিপ্লবী।
মধুসূদন দত্ত, বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদ বিপ্লবী।
পুলিনচন্দ্র ঘোষ,বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদ বিপ্লবী।
নির্মল লালা, বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদ বিপ্লবী।
ত্রিপুরা সেনগুপ্ত, বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামী ও শহীদ বিপ্লবী।

বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক।

Address

Concord Emporium Shopping Complex, 253-254 Elephant Road, Katabon
Dhaka
1205

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when কথক প্রকাশন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share