Sumon Morol

Sumon Morol খারাপ ঈশ্বরের দূত

মাগরেবের আসমান পৃথিবীর পরে— নীলাভ-কোমল তোমার হৃদয়ের মতো, মিস জয়তী
12/09/2025

মাগরেবের আসমান পৃথিবীর পরে— নীলাভ-কোমল তোমার হৃদয়ের মতো, মিস জয়তী

ছবির ভদ্রমহিলার নাম কিউ জিন। চীনের নারী আন্দোলনের প্রবক্তাদের একজন। একাধারে কবি, রাজনীতিবিদ ও এক্টিভিস্ট। মাও সে তুং-পূর...
15/07/2025

ছবির ভদ্রমহিলার নাম কিউ জিন। চীনের নারী আন্দোলনের প্রবক্তাদের একজন। একাধারে কবি, রাজনীতিবিদ ও এক্টিভিস্ট। মাও সে তুং-পূর্ব চীনে যাঁদেরকে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তক-মনীষী মনে করা হয় কিউ জিন তাঁদের অগ্রগামী। চীনে যে সময় নারীদের কোনো অধিকার নেই, শিক্ষার সুযোগ নেই— সে সময় থেকেই তিনি নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় সরব ছিলেন। বাবার অনুপ্রেরণায় তৎকালীন চীনের সংরক্ষিত একমাত্র বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে কিউ জিন জাপানে উচ্চশিক্ষা নিতে যান। জাপানের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা-সংস্কৃতি কিউ জিনকে বিপ্লবী করে তোলে। চীনে ফিরে তিনি বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে যোগদান করেন। পুরুষতান্ত্রিক চীনে নারীদের জন্য লেখালিখি ও গণসংযোগ শুরু করেন— নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করতে থাকেন।

কিউ জিনের কর্মকাণ্ড নজর এড়ায় না চীনা সরকারের। ‘স্বাধীনতা ও নারীর সম-অধিকার’ নামক তাঁর প্রকাশিত পত্রিকাটি জব্দ এবং বাজেয়াপ্ত করে সরকার। আত্মগোপনে চলে গেলেও শেষ পর্যন্ত চীনা সামরিক পুলিশ কিউ জিনকে গ্রেফতার করে। ১৯০৭ সালের আজকের দিনে ৩২ বছর বয়সী কবি ও বিপ্লবী কিউ জিনকে শিরোশূলে চড়িয়ে ফাঁসি দেয় চীনা সরকার।

ফল ভালো হয়নি তার। যে পাটাতনের ওপর দাঁড়িয়ে চীনের বিপ্লব সংঘটিত হলো, সেই পাটাতন তৈরির কারিগরদের একজন ছিলেন কিউ জিন।

মৃত্যুর আগে কবিতায় তিনি লিখেছেন— “দৃশ্যের মতো তবুও সরল, সোনালী আকাশ দেখেছি;
যদিও এখন আমি হারিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু মনে রেখো— আমি একজন নারী, লড়াইয়ের পথে বেঁচে থাকব।”

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে একবার বলেছিলেন, “বিড়াল ইমোশনালি একশ ভাগ সৎ।” মানুষ সম্পূর্ণ তার বিপরীত। প্রয়োজন কিংবা ভয়ের কথা চিন্তা ...
14/07/2025

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে একবার বলেছিলেন, “বিড়াল ইমোশনালি একশ ভাগ সৎ।” মানুষ সম্পূর্ণ তার বিপরীত। প্রয়োজন কিংবা ভয়ের কথা চিন্তা করে মানুষ নিজের অনুভূতি সুকৌশলে লুকিয়ে ফেলতে পারে— বিড়াল তা করে না। বিড়ালের স্বভাবে কোনো ভান করা নেই, কোনো মিথ্যা নেই; তার অনুভবের সবটুকু আচরণে প্রকাশ পায়— হোক সেটি আরাম, বিরক্তি, আদর কিংবা নিরাসক্তি।

স্বাধীনচেতা বিড়াল চলে নিজের মতো— আর সে কেবল সত্যের প্রতি অনুগত। এ কারণে সে কখনো কারো অধীনস্থ হয় না; কেউ তাকে নিজের বলে দাবিও করতে পারে না। শব্দ ছাড়াই সে সবকিছু প্রকাশ করতে পারে।

হেমিংওয়ের এই মন্তব্য আসলে বিড়ালের প্রশংসা নয়— বরং মানুষের ভিতরকার বাস্তবতাকে দেখিয়ে দেয়। নিজেকে খুশি করার জন্য বিড়াল নিজেকে বদলে ফেলে না আর নিজের সঙ্গে সে প্রতারণাও করে না। বিড়ালের উপস্থিতি আমাদের জীবনের সেই সত্যকে দেখিয়ে দেয়, সঙ্গোপনে যেখানে কারো মুখোশ নেই।

জানুয়ারি ২০২৫ | মোহাম্মদপুর, ঢাকা

14/07/2025

মিটিংয়ের বাহানায় পার হয়ে যেতেছে ভাতঘুমের দুপুর এক—

আজ শেলি’র প্রয়াণদিবস। কিটস ও বায়রনের পর সবচেয়ে প্রভাবশালী ইংরেজ কবি পারসি বিশি শেলি ১৮২২ সালের আজকের দিনে ইতালির উপকূলে ...
08/07/2025

আজ শেলি’র প্রয়াণদিবস। কিটস ও বায়রনের পর সবচেয়ে প্রভাবশালী ইংরেজ কবি পারসি বিশি শেলি ১৮২২ সালের আজকের দিনে ইতালির উপকূলে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারান। শেলির মৃত্যু বেশ রহস্যজনক যদিও The Romantic Curse হিসাবে স্বল্প বয়সে কবিদের মৃত্যু সাহিত্যের দুনিয়ায় আলাদা আগ্রহের বিষয়। বায়রনের সঙ্গে জার্নাল প্রকাশের বিষয়ে সাক্ষাতের জন্য শেলি নিজের প্রিয় পালতোলা নৌকা Don Juan নিয়ে রওনা হলে তাদের নৌকা ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়। সঙ্গী ক্যাপ্টেন উইলিয়ামস, নাবিক চার্লসসহ তিনজনেরই সলিল সমাধি ঘটে। ১০ দিন পর ইতালির উপকূলে যখন তাদের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায় মুখমণ্ডল ও হাত খসে পড়ছিল। শেলিকে নিয়ে আমাদের আশ্চর্যের বিষয়— প্রয়াণের কিছুদিন আগে শেলি স্বপ্ন দেখেছিলেন, জাহাজডুবিতে তার মৃত্যু হয়েছে। হলোও তাই। মৃতদেহ দাহ করার সময় দেখা যায়, শেলির সমস্ত দেহ আগুনে পুড়লেও হৃদয় পুরোটাই অক্ষত রয়ে গেছে। স্ত্রী মেরি শেলি হৃদয়টি দ্বিতীয়বার পোড়াতে মানা করেন এবং রুমালে পেঁচিয়ে সেটি নিজের কাছে রেখে দেন। জানা যায়, শেলির অক্ষত হৃদয় স্ত্রী মেরি শেলি আমৃত্যু নিজের লেখার টেবিল ও বেডরুমে, সবসময় নিজের কাছে রাখতেন।

জীবদ্দশায় খ্যাতির বিপরীতে বিস্তর সমালোচনা জুটিয়ে নেওয়া শেলির প্রথম স্ত্রী হ্যারিয়েট ওয়েস্টব্রুককে ভালোবাসার ফাঁদে পালিয়ে বিয়ে করেছিলেন। দুটি সন্তানেরও জন্ম হয় সেখানে। কিন্তু সে দাম্পত্য টেকেনি বেশিদিন। ‘ফ্রাংকেনস্টাইন’এর লেখক মেরি গর্ডনের সাথে পরিচয়ের কিছুদিনের মধ্যেই প্রথম স্ত্রীকে ফেলে রেখে গর্ডনকে নিয়ে সুইজার‌্যলান্ডে পালিয়ে যান। স্বামীর পরকিয়া ও বিয়ের খবরে ওয়েস্টব্রুক টেমস নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। প্রচুর সমালোচনা ও ঘেন্না জুটলেও সেসবের তোয়াক্কা করেননি শেলি। গর্ডনই আমৃত্যু শেলির স্ত্রী হিসাবে থেকে যান এবং নিজের নাম বদলে রাখেন মেরি শেলি।
রোমান্টিক কবি হিসাবে শেলির ব্যাপক পরিচিতি থাকলেও রাজনীতি, ধর্ম, সমাজব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান ও লেখালিখি ছিল স্পষ্ট। বন্ধু থমাসকে সঙ্গে নিয়ে ‘নাস্তিকতার জরুরত’ নামে পুস্তিকা প্রকাশের জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ছাত্রত্ব বাতিল করে; থমাস ও শেলিকে বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

শোনা যায়, মৃত্যুর সময় কবির পকেটে পাওয়া গিয়েছিল কিটসের কবিতা। মাত্র ২৬ বছর বয়সে ১৮২১ সনে দেহত্যাগ করা কিটস এবং পরবর্তীতে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ১৮২৪ সনে বায়রনের মৃত্যুর পর সাহিত্যের দুনিয়ার The Romantic Curse বিষয়টি বেশ রোমান্টিক বিষয় হিসাবে হাজির হয়। এঁদের তিনজনকে একইসাথে ইংরেজ সাহিত্যের রোমান্টিক মুভমেন্টের প্রধান হিসাবে বিবেচনা করা হতে থাকে।

শেলির সবচেয়ে কম পরিচিতি পাওয়া কবিতার মধ্যে পাওয়া যায় Mutability এবং Ozymandias-এর নাম।

“We are as clouds that veil the midnight moon;
How restlessly they speed, and gleam, and quiver...”
Mutability কবিতায় কী নিপুণভাবে মানবজীবনের ক্ষণস্থায়িত্বকে কবি তুলনা করছেন রাতের আকাশে ভাসমান মেঘের সাথে। মানুষের অনুভূতি, স্বপ্ন ও চিন্তা কিছুই চিরস্থায়ী নয় তো! আজ যা সুখ— কাল তাই-ই যে দুঃখের কারণ হবে না তা কেন বুঝতে পারে না মানুষ! রোমান্টিক শেলির কবিতার এই দৃশ্যপট আজ স্পষ্ট। যেন এক চিরকালিন আবেদন কবিতার। শেলিকে পাঠ করলে টের পাওয়া যায় Philosophical Melancholy, Existential Anxiety— আমাদের মতো নির্বোধরা যাকে বলি World Pain. জীবন ও অস্তিত্বের উদ্দেশ্যহীনতা, অর্থহীনতা কবিতার এক অনন্য উপাদান শেলির।

Ozymandias কবিতায় শেলি বলছেন—
“Look on my Works, ye Mighty, and despair!
Nothing beside remains...”

১৪ শতকের প্রাচীন মিশরের রাজা রামেসেস ওজিম্যান্ডিয়াস নিজের ক্ষমতার দম্ভে নিজেকে ‘কিং অব কিংস’ হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে একসময় টিকে থাকে কেবল রাজার একটি ভগ্ন মূর্তি— এক বন্ধুর নিকট শরীর ও মুখমণ্ডল খসে পড়া সেই মূর্তির বিবরণ শুনে শেলি লেখেন— “Nothing beside remains...”

কিছুই অবশিষ্ট থাকে না— একদিন সবকিছু ম্লান হয়ে যায়। “…The lone and level sands stretch far away.” সময়ের চিরন্তনে একদিন আমরাও এভাবে ফুরিয়ে যাব। আমাদের প্রেমও ফুরিয়ে যাবে।

প্রয়াণদিবসে আপাকে স্মরণ করছি, বয়সে দুই বছরের ছোট প্রিয় কবি, পারসি বিশি শেলি। কবিতা চিরন্তন। প্রেম ও জীবন ক্ষণস্থায়ী।

একবার আরবের মরুভূমিতে একজন পথিক পথ হারিয়ে ফেলেন। দুদিন ধরে মরুভূমির মধ্যে দিকভ্রান্ত ঘোরাঘুরি শেষে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি...
07/07/2025

একবার আরবের মরুভূমিতে একজন পথিক পথ হারিয়ে ফেলেন। দুদিন ধরে মরুভূমির মধ্যে দিকভ্রান্ত ঘোরাঘুরি শেষে ক্লান্ত হয়ে পড়েন তিনি। ইতোমধ্যে সঙ্গে থাকা অবশিষ্ট খাবার ও পানি শেষ হয়ে যাওয়ায় শুরু হয় পানির জন্য তীব্র হাহাকার। তিনি জানতেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে খাবার পানি না পেলে মৃত্যুবরণ করতে পারেন। তবু ক্ষীণ আশা নিয়ে বুকে পানির সন্ধান করে চলছিলেন। বিরান মরুভূমির বুকে তবু আশা হারালেন না— কোথাও না কোথাও পানি মিলবেই। খুঁজতে খুঁজতে তার চোখে পড়ল দূরে একটি কুঁড়েঘর। প্রথমে নিজের চোখকে বিশ্বাস হচ্ছিল না তার— মরুভূমিতে এর আগেও আশাভঙ্গ হয়েছে। তবু, এবার তিনি বিশ্বাস করলেন। আর কোনো আশা অবশিষ্ট ছিল না। নিজের সমস্ত শক্তি জড়ো করে তিনি কুঁড়েঘরটির দিকে হাঁটা শুরু করলেন। ঘরটির দিকে এগোন, আর আশা বাড়তে থাকে। কাছাকাছি যেয়ে বুঝলেন ভাগ্যও তার সহায়— কুঁড়েঘরটি সত্যিই ছিল।

কিন্তু সেখানে পৌঁছে দেখলেন, ঘরটি দীর্ঘকাল ধরে পরিত্যক্ত। কেউ থাকে না সেখানে। বহু বছর ধরে কারো পা পড়েনি। তবু আশা নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেন, যদি কিছু পাওয়া যায়। ঘরে প্রবেশের পর বৃদ্ধ সত্যিই অবাক হলেন। সেখানে পড়ে ছিল একটি হ্যান্ড পাম্প। প্রচণ্ড উচ্ছ্বাসে তিনি পাম্পের কাছে গেলেন এবং হাতলটি চাপ দিলেন। পানি তোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেন। পাম্পটি একেবারে শুকনো অবস্থায় পড়ে ছিল সেখানে। দেখে মনে হচ্ছিল, বহুদিন ধরে সেটি কেউ ব্যবহার করেনি। পড়ে থাকা পাম্পটির অবস্থা দেখে তিনি বুঝলেন, আর কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই। প্রচণ্ড হতাশ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন তিনি— পানির অভাবে এবার তার মৃত্যু নিশ্চিত বলে ভেবে নিলেন মনে মনে। মাটিতে গড়াগড়ির সময় তার চোখে পড়ল ঘরটির ছাদের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা একটি বোতল। কষ্ট করে বোতলটি নামালেন। ছিপি খুলে পান করবেন ভেবে দেখলেন, বোতলের গায়ে একটি চিরকুট সাঁটানো। তাতে লেখা— “পাম্প চালুর জন্য বোতলের পানি ব্যবহার করো। এবং পরবর্তী পিপাসার্ত-তৃষ্ণার্ত আগন্তুকের জন্য বোতলটি পুনরায় পরিপূর্ণ করে রাখো।”

চিরকুট পড়ে বৃদ্ধ ধাঁধায় পড়ে গেলেন। তিনি কি বোতলের পানি পান করে আগে নিজের তৃষ্ণা মেটাবেন? না কি পাম্পে ঢেলে পানি তোলার চেষ্টা করে দেখবেন যে, এটি কাজ করে কি না!

মনে নানা প্রশ্ন ভিড় করতে থাকল বৃদ্ধের। পাম্পে পানি ঢালার পর যদি তা না চলে? যদি চিরকুটের লেখা ভুল হয়? যদি ভূগর্ভে আর পানি না পাওয়া যায়? কিংবা যদি পাম্প কাজ করে এবং প্রচুর পানি পাওয়া যায়?

বৃদ্ধ শেষমেষ সিদ্ধান্ত নিলেন, তিনি চিরকুটের কথায় বিশ্বাস করবেন। কাঁপা-কাঁপা হাতে তিনি পাম্পে বোতলের সমস্ত পানি ঢাললেন। তারপর বুকভরা আশা নিয়ে তিনি পাম্প চালাতে থাকলেন। কিছু সময় চেষ্টার পর সত্যিই পাম্প থেকে পানি উঠল। ঠান্ডা, পরিষ্কার পানি। বৃদ্ধ যত খুশি পান করলেন। তার মন শান্ত হলো। তিনি স্থির হলেন। পানি পান শেষে বৃদ্ধ বোতলটি পুনরায় পানিপূর্ণ করলেন। এবং আগের জায়গায় চিরকুটসহ একইভাবে বেঁধে রাখলেন। এ সময় তার চোখে পড়ল আরেকটি কাচের বোতল, যার ভিতরে ছিল একটি পেন্সিল ও মরুভূমি থেকে বের হবার মানচিত্র। মানচিত্র দেখে বৃদ্ধ মরুভূমি থেকে বের হবার পথ মুখস্থ করে নিলেন এবং মানচিত্রটি বোতলে ভরে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে দিলেন। নিজের ঝোলা গুছিয়ে বৃদ্ধ যাত্রার জন্য তৈরি হলেন।

কিছুদূর যাবার পর বৃদ্ধ থমকে দাঁড়ালেন। কী যেন ভাবলেন ঘরটির দিকে ফিরে। তারপর ঘরে ফিরে এলেন এবং মানচিত্রের বোতলটি নিয়ে পেন্সিল বের করে চিরকুটে লিখলেন— “বিশ্বাস করো, এই হ্যান্ড পাম্প সত্যিই কাজ করে।”

গল্পটি আরব্য দর্শনের লোককাহিনিতে প্রচলিত। এটি জীবনের গল্প বলে। এটি শেখায়, জীবনে যত খারাপ সময়ই আসুক না কেন, কখনো আশা হারাতে নেই। গল্পটি আমাদের আরও শেখায়, কিছু পাওয়ার আগে নিজের দিক থেকেও যা দেবার, তা দিতে কার্পণ্য করতে নেই। যেমন, ‍বৃদ্ধ লোকটি হাতে থাকা বোতলের পানিটুকু পাম্পে ঢেলেছিলেন। এই গল্পে পানি জীবনের মূল্যবান জিনিসগুলোর প্রতীক— যেমন, জ্ঞান, ভালোবাসা, অর্থ বা বিশ্বাস। এসব পেতে আগে আমাদেরকে সময়, শ্রম বা সাহস দিতে হয় জীবনের নামে হ্যান্ড পাম্পে পানি ঢালার মতো। এর বিনিময়ে আমাদের সমস্ত প্রাপ্তি। এটি আরও শেখায়— মানুষের ভালো কাজ কীভাবে অপরের মঙ্গল বয়ে আনে, একটি ছোট্ট পদক্ষেপ কীভাবে গোটা পৃথিবীকে একটু একটু করে বদলে দিতে পারে।

গল্পটির প্রকৃত উৎস অজানা। ইংরেজি থেকে অনুবাদ করেছেন সুমন মোড়ল।

ফ্রিদা কাহলোর জন্মদিন আজ। প্রেমের ব্যথায় জর্জরিত দুনিয়ার সকল নারীকে মনে হয়, নিজেরই ছোট বোন। অপরের ব্যথা টের পাবার মতন ম...
06/07/2025

ফ্রিদা কাহলোর জন্মদিন আজ। প্রেমের ব্যথায় জর্জরিত দুনিয়ার সকল নারীকে মনে হয়, নিজেরই ছোট বোন। অপরের ব্যথা টের পাবার মতন মহান নই তবু জানি, মন ভাঙার বেদনা কত গভীর। কমরেড ফ্রিদা কাহলো— পেইন্টিংয়ে যিনি এঁকেছেন আত্মপ্রকৃতি, বেদনা, অস্থিরতার ছবি। নারীর জীবন ও বেদনাকে ফ্রিদা যেভাবে চিত্রায়িত করেছেন তার তুলনা নেই। ফ্রিদা নিজের কাজ দিয়ে যেমন খ্যাতি পেয়েছেন, তেমনি ব্যক্তি জীবন আধুনিক দুনিয়ার প্রধানতম সংঘাত প্রেমের এক স্বরূপ হাজির করে। সবুটুকু প্রেম নিবেদনের পরেও যে হৃদয় ব্যথা পায় সেই হৃদয়ের ভার কতখানি, তা টের পাওয়া যায় ফ্রিদার কাজেই।

মেক্সিকান আরেক বিখ্যাত ম্যুরাল শিল্পী ডিয়োগো রিভেরাকে নিজের আঁকা ছবি দেখাতে গেলে ভদ্রলোক ফ্রিদার প্রতি গভীর মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। নিজের চাইতে কুড়ি বছরের বড় কুখ্যাত প্লেবয় ডিয়োগোকে পরিচয়ের পরের বছরেই বিয়ে করেন ফ্রিদা। টের পান নারীর সাথে শুয়ে বেড়ানোই ডিয়োগের প্রধান কাজ। এমনকি ফ্রিদার নিজের ছোটবোনের সাথেও শুয়ে পড়েন ডিয়োগো। ছাড়াছাড়ি হয়। পরের বছর পুনরায় বিয়েও হয় আবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেখানে থিতু হতে পারেননি ফ্রিদা।

সম্পর্কের টানাপোড়েন, বিশ্বাসঘাতকতা, আর নারীর বেদনাহত হৃদয়ের চেহারাই পরবর্তীকালে হয়ে ওঠে ফ্রিদার শিল্পের প্রধান উপজীব্য।
প্রেমের অদ্ভুত এক্সিস্টেন্সি টের পাওয়া যায় ফ্রিদা-ডিয়েগোর সম্পর্কের ভেতর। প্রতারিত হবার পর ফ্রিদা নিজেও একাধিক পুরুষ ও নারীদের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন কিন্তু ডিয়োগোর প্রতি অনুভব করতেন মানসিক ও আ্যধাত্মিক টান। ডিয়েগোও শেষ জীবনে স্বীকার করেছিলেন, ফ্রিদার প্রতি তার অনুভবের কথা। কিন্তু প্রতারণার পর আর কথা থাকতে পারে না। আমাদের জীবন যেহেতু শিল্পীর নয়— একমুখী প্রেম প্রবণতাই আমাদের নিকট পূজনীয়।

তবু ব্যক্তিজীবন ছাপিয়ে আমরা ফ্রিদাকে স্মরণ করি, তাঁর কাজের জন্য। সমকালীন জীবনের প্রতিচ্ছবি তিনি যেভাবে এঁকেছেন তার জন্যই ফ্রিদা আমাদের স্মরণ ও প্রশংসায় থাকবেন। নিপীড়িত মানুষের বন্ধু, ফ্রিদা— কমরেড ফ্রিদা কাহলো, জন্মদিনে আপনাকে স্মরণ করছি।

ছবিতে ফ্রিদার A Few Small Nips (1935)— এক প্রেমঘাতক পুরুষ দ্বারা হত্যাকৃত নারীর অনুপ্রেরণায় আঁকা, যা তার প্রেমে আঘাতের প্রতিচ্ছবি।

“কাফকাস্ক”: আধুনিক জীবনের দুঃস্বপ্নে কাফকার ছায়াগতকাল ৩রা জুন ছিল ফ্রানৎস কাফকার একশো একতম প্রয়াণদিবস। বিমা কোম্পানির চা...
04/07/2025

“কাফকাস্ক”: আধুনিক জীবনের দুঃস্বপ্নে কাফকার ছায়া

গতকাল ৩রা জুন ছিল ফ্রানৎস কাফকার একশো একতম প্রয়াণদিবস। বিমা কোম্পানির চাকরি তাঁর জীবিকার উৎস থাকলেও মনেপ্রাণে ছিলেন কেবল লেখক। যদ্দুর জানা যায়, ব্যক্তিজীবনে যথেষ্ট হাস্যরসিক মানুষ থাকলেও তাঁর সাহিত্য বলে ভিন্ন কথা। মাত্র চল্লিশ বছর বয়সে যক্ষ্মারোগের কাছে ধরাশায়ী হয়ে প্রয়াত হওয়া কাফকা মৃত্যুর পর প্রিয় বন্ধুকে সব লেখা ধ্বংসের কথা বলে গেলেও, বন্ধুটি তা করেননি। আমাদের সৌভাগ্য বটে, মিস্টার ম্যাক্স ব্রড বন্ধুর লেখা পুড়িয়ে ফেলেননি। নাহলে নিঃসঙ্গতা, একাকীত্ব ও অস্তিত্ব নিয়ে এত গভীরভাবে আমরা নিজেদের ভেতরটাকেই-বা কীভাবে জানতাম!

চল্লিশের দশকের পর কাফকার সাহিত্যধারা এত বেশি প্রভাব তৈরি করে যে, “Kafkaesque” নামে একটি ধারা উৎপত্তি লাভ করে। কেবল সাহিত্যের ধারা হিসাবেই নয়, এটি হয়ে উঠেছে আধুনিক জীবন ও রাষ্ট্রিক নাগরিক ভোগান্তি তথা সিস্টেমের অপর নাম। কাফকার লেখার মূল উপজীব্য থেকে শব্দটির উৎপত্তি— অথরিটির বিরুদ্ধে ইনডিভিজুয়ালের দ্বন্দ্ব, স্টেট ফাংশনের বিপক্ষে নাগরিকের লড়াই, মানুষের মধ্যকার বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদির নিরিখে শব্দটি একটি ‘ধারণা’ হিসাবে ৪০-৫০-এর দশকে বিকাশ লাভ করে পরবর্তীতে সাহিত্য, রাজনীতি ও ব্যুরোক্রেসির পাঠ-প্রয়োগে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

কাফকার সবচেয়ে বিখ্যাত তিনটি উপন্যাস— The Trial, The Castle এবং The Metamorphosis— ধারণাটির প্রকৃষ্ট উদাহরণ—
The Trial-এ আমরা দেখতে পাই, একজন সাধারণ ব্যক্তি— জোসেফকে হঠাৎ করে এক অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়, অথচ সে জানেই না, কী তার অপরাধ। বিচার চলে, কিন্তু কোনো ব্যাখ্যা নেই, কোনো বিচারক নেই, কোনো শেষ নেই। ব্যুরোক্রেসির ভয়ংকর অবোধ্য শক্তি কীভাবে সাধারণ মানুষের জীবনে দানব হয়ে হাজির হয় তার উদাহরণ এটি।

The Castle-এর চরিত্রটি দুর্গে ঢুকতে চায়, কিন্তু কখনোই সেখানে পৌঁছাতে পারে না। প্রত্যেকবারই নতুন নিয়ম, নতুন বাধা। যেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন— প্রতিটি টেবিল এক অদৃশ্য ভূত, যে ভয় দেখায়— ভোগান্তি না চাইলে খালুকে ডাকো, নয়তো টাকা দাও।

The Metamorphosis-এ গ্রেগর সামসা এক সকালে জেগে উঠে দেখে সে এক অজানা প্রাণীতে পরিণত হয়েছে, অথচ পরিবার ও সমাজ কেবল তার উপার্জন ক্ষমতা নিয়েই চিন্তিত। পরিচয়হীনতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি সামসাই হলো “কাফকাস্ক”।

ব্যক্তি জীবনের সমস্ত সংকটের একটি মাত্র নাম “কাফকাস্ক”। রাষ্ট্র, বিধান, আমলাতন্ত্রের যাঁতাকলের নাম “কাফকাস্ক”।

আজকের দিনে এটি কেবল সাহিত্যের অনুভূতিই নয়, বাস্তব জীবনেও এই গ্যাঁড়াকলে পিষ্ট হই আমরা। পিজি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া, বিআরটিএতে মোটরগাড়ির লাইসেন্স ইস্যু, আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়া— কোথাও সুস্পষ্ট নিয়ম নেই, কোনো সাহায্য নেই— আপনি-আমি, আমরা সকলে পার করছি “কাফকাস্ক” এক্সপেরিয়েন্স।

নাগরিক হিসাবে আমরা বুঝে উঠতে পারি না, কেন রাষ্ট্রের নিয়মসমূহ এত জটিল, অদৃশ্য আর আমাদের ভুলটাই-বা কী! সিস্টেমের মুখে থুথু দিতে যেয়ে দেখবেন, সিস্টেমের মুখই হাওয়া। শেষমেষ নিজের অপরাধের কারণ খুঁজে বেড়ানো অথচ কেউ কিছুই বলছে না। ক্ষমতাকাঠামোর অদৃশ্যতা— কে যে মহাপরাক্রমশালী, তা বুঝতে না পারা অথচ সকলেই আমরা সেই সিদ্ধান্তের স্বীকার; আত্মদ্বন্দ্ব ও অপরাধবোধ— আমি কি কোনো ভুল করেছি?; পরিচয়হীনতা, নিঃসঙ্গতা, অর্থহীনতা ও জটিলতা— নিয়ম আছে তবু কেন বিচ্ছিন্নতা নিয়ম থেকে, কেন এসব ব্যাখ্যাতীত ও অসংগঠিত, কিছুই বুঝতে না পারা; আর নিয়ন্ত্রণহীন নিয়ন্ত্রণ— কে আসলে পরিচালনা করছে আমার জীবন, ঈশ্বর তো নয়, তা নিশ্চিত, কে তাহলে?— আধুনিক দুনিয়ায় “কাফকাস্ক”-এর উদাহরণ ভুরি ভুরি।

প্রয়াণের শত-এক বছর পরেও মনে হয়— কাফকা জীবিত, আমাদের ভেতরেই। ব্যক্তি কাফকা অনুপস্থিত কিন্তু “কাফকাস্ক” জীবনের নানা স্তরে উপস্থিত জোরালোভাবে— ঠেলে সরিয়ে ফেলা যায় না। কাফকা কেবল সাহিত্যিক নন— একজন জ্যোতিষ, একজন ভবিষ্যৎদ্রষ্টা, যিনি মানুষের বিচ্ছিন্নতা, একাকীত্ব, হায়ারার্কির নিষ্পেষণ আর আত্মপরিচয়ের সংকট টের পেয়েছিলেন আগেই। আজ তাই, “Kafkaesque” শুধু একটি ভাবধারা নয়, এক সতর্কবার্তা— যেখানে মানুষ হারিয়ে যেতে পারে, নিজের অজান্তেই।

শত-একতম প্রয়াণদিবসের একদিন পর আজ ৪ঠা জুন— শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি, প্রিয় কাফকা, প্রিয় বন্ধু আমাদের।

১ মিনিটে তুমি ভেঙে পড়তে পারো। ২য় মিনিটে তোমার পেয়ালা পূর্ণ হতে পারে আনন্দে। বিশ্বাস হারিয়ে ফেলো না, বাপধন। খোদা এভাবেই ব...
20/06/2025

১ মিনিটে তুমি ভেঙে পড়তে পারো। ২য় মিনিটে তোমার পেয়ালা পূর্ণ হতে পারে আনন্দে। বিশ্বাস হারিয়ে ফেলো না, বাপধন। খোদা এভাবেই বান্দার পাশে থাকে।

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sumon Morol posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share